ঢাকা, বাংলাদেশ   বৃহস্পতিবার ২০ জুন ২০২৪, ৬ আষাঢ় ১৪৩১

হেনরি ওয়ার্ডসওয়ার্থ লংফেলোর কবিতা

ভূমিকা ও অনুবাদ: তূয়া নূর

প্রকাশিত: ২২:৪৩, ১৬ নভেম্বর ২০২৩

হেনরি ওয়ার্ডসওয়ার্থ লংফেলোর কবিতা

হেনরি ওয়াডসওয়ার্থ লংফেলো

উনিশ শতকের জনপ্রিয় আমেরিকান কবিদের মধ্যে অন্যতম একজন হেনরি ওয়াডসওয়ার্থ লংফেলো (১৮০৭-১৮৮২)। তিনি জাতীয় গণ্ডি পেরিয়ে বাইরের জগতেও সমান খ্যাতি অর্জন করেছিলেন। বাংলা ভাষীদের কাছেও সমানভাবে পরিচিত। 
লংফেলো প্রাইভেট স্কুল এবং পোর্টল্যান্ড একাডেমিতে পড়াশোনা করেছেন। তিনি ১৮২৫ সালে বোডইন কলেজ থেকে স্নাতক হন। কলেজে তিনি বিশেষ করে স্যার ওয়াল্টার স্কটের রোম্যান্স এবং ওয়াশিংটন আরভিংয়ের স্কেচ বুকের প্রতি আকৃষ্ট হন। তিনি অনুবাদে এতটাই সাবলীল ছিলেন যে স্নাতক হওয়ার পর তাকে আধুনিক ভাষায় অধ্যাপক হওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। তবে শর্ত ছিল যে তিনি প্রথমে ইউরোপে শিক্ষা সফরে যাবেন। 
ইউরোপ ঘুরতে এলেন তিনি। ফরাসি, স্প্যানিশ এবং ইতালীয় ভাষা শিখেছিলেন। ১৮২৯ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে আসেন। তিনি পাঠ্যপুস্তক লিখেছেন এবং সম্পাদনা করেছেন, কবিতা এবং গদ্য অনুবাদ করেছেন এবং ফরাসি, স্প্যানিশ এবং ইতালীয় সাহিত্যের ওপর প্রবন্ধ লিখেন। 
তার কবিতা প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের পাঠ্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।  
তাকে হার্ভার্ডে অধ্যাপনার প্রস্তাব দেওয়া হয়, বিদেশে যাওয়ার আরেকটি সুযোগ তিনি গ্রহণ করেন এবং ১৮৩৫ সালে জার্মানির উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন। এই সফরে তিনি ইংল্যান্ড, সুইডেন এবং নেদারল্যান্ড সফর করেন। 
এই যাত্রায় লংফেলোর লক্ষ্য ছিল জার্মান ভাষা এবং সাহিত্যের ওপর তার দখল আরও শক্তি করা ও স্ক্যান্ডিনেভিয়ান ভাষাগুলোর সঙ্গে নিজেকে পরিচিত করা। লন্ডন সফরে এবং লংফেলোর টমাস কার্লাইলের সঙ্গে পরিচয় হয়। ১৮৩৫ সালে তার প্রথম মারা গেলে তিনি চলে আসেন হাইডেলবার্গে। পড়তে শুরু করলেন গ্যেথে, শিলার, লুডউইগসহ অন্যান্য জার্মান কবি ও লেখকদের লেখা। এরপর আমেরিকাতে ফিরে এসে নতুন উদ্যোমে কবিতা লিখতে শুরু করেন। 
 শেষ বার তিনি ইউরোপে এসেছিলেন ১৮৪২ সালে। জার্মান কবি ফার্দিনান্দ ফ্রেলিগ্রাথ ও ব্রিটিশ কবি চার্লস ডিকেন্সের সঙ্গে তার সখ্য গড়ে ওঠে। 
তার দ্বিতীয় স্ত্রী, ফ্রান্সিস অ্যাপলটন ১৮৬১ সালে। তার মৃত্যুর পর, লংফেলো কিছু সময়ের জন্য কবিতা লিখতে অসুবিধায় পড়েন এবং বিদেশী ভাষা থেকে কাজ অনুবাদ করার দিকে মনোনিবেশ করেন। এ সময়ে তার বড় কাজ হলো দি পোয়েটস অ্যান্ড পোয়েট্রি অফ ইউরোপ (১৮৪৫)
তার মূল রচনাগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘পল রেভারের রাইড’, ‘দ্য সং অফ হিয়াওয়াথা’ এবং ‘ইভাঞ্জেলাইন’ কবিতাসমূহ। তাঁর প্রধান কবিতা সংকলনগুলো হলো ভয়েস অফ দ্য নাইট (১৮৪৯) এবং ব্যালাডস অ্যান্ড আদার পোয়েমস (১৮৪১)। তিনিই প্রথম আমেরিকান যিনি দান্তে আলিঘিয়েরির ডিভাইন কমেডি সম্পূর্ণরূপে অনুবাদ করেন। লংফেলো ১৮৮২ সালে মারা যান।

তীর ও সংগীত

আকাশে তীর কবে কখন দিয়েছিলাম ছুঁড়ে,
জানি না সে কোথায় গিয়ে পড়ে ছিল দূরে। 
এতো জোরে উড়ে গিয়ে আড়াল হলো হায়রে,
নেই নিশানা উধাও হলো চোখের দেখার বাইরে। 

মাঠের ভেতর বাতাস তখন- কোন এক গান গাই,
জানি না সেই গানের কথা কোথায় নিলো ঠাঁই। 
যায় না দেখা কোথায় গিয়ে গানগুলো হয় হাওয়া,
দৃষ্টি এমন নয়তো কারও, করতে পারে ধাওয়া। 

অনেক দিনের পরে দেখি একটার ওকের গাছে,
বহাল তবিয়তে সেই তীর আজও বিঁধে আছে। 
আর সেই গানের পুরো কথার শুরু থেকে শেষ,
পেলাম আবার বন্ধুর বুকে তার রয়েছে রেশ।

×