
ছবি: সংগৃহীত
কিডনি আমাদের দেহের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলোর একটি। এটি রক্ত পরিশোধন, বিষাক্ত পদার্থ অপসারণ এবং দেহে তরল ভারসাম্য রক্ষা করে। তাই কিডনির সুস্থতা বজায় রাখতে চাইলে খাদ্যাভ্যাসে আনা দরকার কিছু পরিবর্তন। বিশেষজ্ঞদের মতে, কিছু নির্দিষ্ট সুপারফুড নিয়মিত খেলে প্রাকৃতিকভাবেই কিডনির কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। চলুন জেনে নেওয়া যাক এমন ১০টি উপকারী খাবারের কথা—
হলুদ: হলুদে থাকা কারকিউমিন প্রাকৃতিক অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। এটি কিডনির প্রদাহ কমাতে এবং ফাইব্রোসিস রোধে সহায়তা করে, ফলে এটি কিডনি সুস্থ রাখতে অত্যন্ত উপকারী একটি মসলা।
আমলকী: ভিটামিন সি ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে ভরপুর আমলা শরীর থেকে টক্সিন বের করতে সহায়তা করে। এটি রক্তে শর্করার পরিমাণ নিয়ন্ত্রণেও সহায়ক, যা ডায়াবেটিসজনিত কিডনি সমস্যার ঝুঁকি কমায়।
ফুলকপি: ভিটামিন সি, ফলেট ও ফাইবারে সমৃদ্ধ ফুলকপি লিভার থেকে টক্সিন দূর করতে সাহায্য করে। কম পটাশিয়ামযুক্ত হওয়ায় এটি কিডনির জন্য নিরাপদ সবজির তালিকায় পড়ে।
রসুন: রসুনে আছে অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি ও অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল উপাদান। এতে রয়েছে ম্যাঙ্গানিজ, ভিটামিন বি৬ এবং সালফার যৌগ যা কিডনির ওপর চাপ কমাতে সহায়তা করে।
লাল শিমলা মরিচ: এই সবজিতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন এ, সি, বি৬ এবং ফলিক অ্যাসিড। এতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট কিডনিকে সুরক্ষিত রাখে এবং কোষের ক্ষয় রোধ করে।
বাঁধাকপি: বাঁধাকপিতে রয়েছে নানা ধরনের ফাইটো কেমিক্যাল, যা কিডনি থেকে বিষাক্ত পদার্থ বের করে দেয়। এটি পটাশিয়াম-মুক্ত এবং ভিটামিন কে ও সি সমৃদ্ধ, ফলে এটি কিডনির প্রাকৃতিক সুরক্ষায় সহায়ক।
আপেল: আপেল ফাইবার ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সরবরাহ করে, যা রক্তে শর্করা ও কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে। কম পটাশিয়ামযুক্ত হওয়ায় এটি কিডনির জন্য নিরাপদ এবং প্রদাহ কমাতেও সাহায্য করে।
পেঁয়াজ: পেঁয়াজে থাকা ফ্ল্যাভোনয়েড ও সালফার যৌগ কিডনি ডিটক্সে সহায়তা করে। এটি কম পটাশিয়ামযুক্ত এবং রন্ধনপ্রণালিতে লবণ ছাড়াও স্বাদ আনে, যা হৃদরোগের ঝুঁকি কমিয়ে কিডনির উপকার করে।
অলিভ অয়েল: স্বাস্থ্যকর চর্বি ও অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি উপাদানে ভরপুর অলিভ অয়েল কিডনির ওপর অক্সিডেটিভ চাপ কমায়। এটি কিডনি-বান্ধব রান্নার জন্য উপযুক্ত তেল।
ফ্যাটি ফিশ: স্যামন, ম্যাকারেল ও সারডিনের মতো তেলে ভাজা মাছ ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিডে সমৃদ্ধ। এটি রক্তচাপ ও প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে, যা কিডনির সুস্থতার জন্য অত্যন্ত উপকারী।
এই খাবারগুলো নিয়মিত খাদ্যতালিকায় রাখলে প্রাকৃতিকভাবেই কিডনিকে সক্রিয় ও সুস্থ রাখা সম্ভব। তবে যেকোনো রোগ বা উপসর্গ থাকলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে খাদ্য পরিকল্পনা করুন।
সূত্র: https://shorturl.at/QKqFK
মিরাজ খান