ঢাকা, বাংলাদেশ   শনিবার ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১১ ফাল্গুন ১৪৩০

রানার গল্প

সোহেল রানা

প্রকাশিত: ০০:৫৬, ৩০ নভেম্বর ২০২৩; আপডেট: ১২:২৩, ৩০ নভেম্বর ২০২৩

রানার গল্প

মোখলেসুর রহমান রানা

‘ওগো বৈশাখী তুমি এলে নব প্রভাতে। মন ভরে গেছে,  তোমার দেখা পাওয়াতে-’৯০ দশকে এমন কথার গান দিয়ে বাজিমাত করেন কণ্ঠশিল্পী মোখলেসুর রহমান রানা। তার ‘সঙ্গিনী’ অ্যালবামের প্রথম গান এটি।  ১৯৯৫ সালের ১৫ অক্টোবর এটি প্রকাশ হয়। কিন্তু প্রথম অ্যালবামে তিনি সাড়া ফেললেও এরপর কয়েক বছর তার আর কোনো গান প্রকাশ হয়নি। জীবিকার তাগিদে তাকে দেশের বাইরে থাকতে হয়।

তিনি জানান, ‘ প্রথম অ্যালবামটি প্রকাশের ২২ দিন পরেই দেশ ছাড়েন। তার কিছুদিন পর বাবার চিঠির মাধ্যমে তখন জানতে পারেন এটি সারাদেশে আলোড়ন তুলেছে।’ পরবর্তীতে ‘ভালোবেসে হলাম অপরাধী, (২০০০), ‘একটা দারুণ কষ্ট, ‘বড় ব্যথা দিল অঞ্জনা, (২০০২), ‘তোমারই কসম’ (২০০৩), ‘কোথায় আমার অঞ্জনা’ (২০০৪), মন ভেঙেছো কেন (২০০৫) অ্যালবামগুলো তার প্রকাশ হয়।

রানা বাংলাদেশ টেলিভিশনের তালিকাভুক্ত শিল্পী। ছায়ানটে তালিম নিয়েছেন নজরুল সংগীতে। ছোট বেলা থেকেই গানের সঙ্গে সখ্য তার। তিনি বলেন, ‘গানের পরিবারই আমার জন্ম। গানের প্রথম পাঠ মায়ের কাছেই। বাবা ও মামা দুজনেই বেতারের শিল্পী ছিলেন। মাও টুকটাক গান করতেন।

মোহাম্মদপুরের নুরজাহান রোডে বড় চাচার বাড়িতে অনেক শিল্পী আড্ডা দিতেন। ছোট বেলা থেকেই এ পরিবেশ দেখে অভ্যস্ত। মামা সকালে রেওয়াজ করার সময় আমাকে হারমোনিয়ামের পাশে বসিয়ে রাখতেন। তাই গানের প্রতি প্রচ- মোহ ছোটবেলা থেকেই।’ ‘সঙ্গীনি’খ্যাত এ গায়ক দ্বিতীয়বারের মতো নতুন গান প্রকাশে বিরতি টানেন জনপ্রিয়তার মাঝপথে।

এরমধ্যে লম্বা সময় তিনি ফের দেশের বাইরে কাটিয়ে দেন। তবে এখন আবার গানে নিয়মিত হয়েছেন বলে জানান। সম্প্রতি প্রকাশ করেছেন ‘খোলা প্রান্তরে’ শিরোনামের একটি গান। নতুন বছরেও নতুন গান প্রকাশের প্রস্তুতি নিচ্ছেন তিনি। গান নিয়ে এ সময়ের পরিকল্পনার কথা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি দেশের বাইরে থাকলেও গান চর্চা থেকে দূরে ছিলাম না। এখন যেহেতু দেশেই থাকছি তাই নিয়মিত গান প্রকাশে সিদ্ধান্ত নিয়েছি। বেশ কিছু গানের কাজ হচ্ছে। এক একটা করে এগুলো প্রকাশ করব।’ এ শিল্পী সংগীতের নানা বিষয় নিয়ে কথা বলেন।

তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ওপেন কনসার্ট। আগের তুলনায় ওপেন কনসার্ট অনেক কমে গেছে। কিন্তু কেন?  তিনি বলেন, ‘আগে গান শোনার জন্য, গানের অনুষ্ঠান আয়োজন করার জন্য পৃষ্ঠপোষক ছিল।

যারা পৃষ্ঠপোষক ছিলেন তাদের মধ্যে গানের অনুষ্ঠান করার মানসিকতা ছিল। গানের আয়োজন করলে বিভিন্ন জায়গা থেকে মানুষ আসত। সেই সময়টায় রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীরাও পৃষ্ঠপোষকতা করতেন। এখন মানুষের চিন্তাভাবনা সেই জায়গা থেকে সরে অস্থিরতা পর্যায়ে চলে গেছে।

এজন্য গানের অনুষ্ঠানের দিকে মনোযোগ কম। এখন মানুষের হাতে টাকা আছে ঠিকই। তবে সেই চিন্তাভাবনা সম্পন্ন পৃষ্ঠপোষক কম। যার কারণে আমাদের সংস্কৃতির এই অবস্থা।’

×