ঢাকা, বাংলাদেশ   শনিবার ২০ জুলাই ২০২৪, ৫ শ্রাবণ ১৪৩১

ফ্লোর প্রাইস আপাতত উঠবে না

শেয়ারবাজারে বড় দরপতন

অর্থনৈতিক রিপোর্টার

প্রকাশিত: ০০:৪৪, ১১ অক্টোবর ২০২২; আপডেট: ১২:১০, ১১ অক্টোবর ২০২২

শেয়ারবাজারে বড় দরপতন

সরকারী বন্ডের লেনদেন শুরুর দিনে দেশের শেয়ারবাজারে ভয় জাগানো দরপতন ঘটেছে

সরকারী বন্ডের লেনদেন শুরুর দিনে দেশের শেয়ারবাজারে ভয় জাগানো দরপতন ঘটেছে। আগামী বছরে বাংলাদেশসহ সারাবিশ্বে অর্থনৈতিক মন্দাবস্থা বিরাজ করবে বিশ্বব্যাংকসহ বিভিন্ন সংস্থার সতর্কবাণীতে উভয় শেয়ারবাজারে সব ধরনের সূচক কমেছে প্রায় দুই শতাংশ। অর্থনৈতিক সূচকগুলোর নেতিবাচক খবর ও ফ্লোর প্রাইজ উঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে এমন গুজবে আতঙ্ক বেড়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা বলছেন। তবে শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা থেকে বলা হয়েছে আপাতত ফ্লোর প্রাইজ উঠিয়ে দেওয়ার কোন সম্ভাবনা নেই।

প্রসঙ্গত, দেশের শেয়ারবাজারে প্রথমবারের মতো ২৫০টি সরকারী সিকিউরিটিজ বা ট্রেজারি বন্ডের লেনদেন শুরু হয়েছে। যার বাজার মূলধন ৩ লাখ ১৬ হাজার ৮০৮ কোটি টাকা। সোমবার সকাল সাড়ে ৯টায় দেশের দুই শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) একসঙ্গে এ লেনদেনের যাত্রা শুরু হয়েছে। তবে দিনটিতে আনুষ্ঠানিকভাবে কোন বন্ডের লেনদেন হয়নি।

বাজার পর্যালোচনায় দেখা গেছে, তিনদিনের বন্ধের পর গতকাল শেয়ারবাজার খুলতেই সব ধরনের সূচক বেড়ে যায়। কিন্তু বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিক্রির আদেশ বাড়ায় ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ১১৯.৮৭ পয়েন্ট বা ১.৮২ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ছয় হাজার ৪৪৯.৬৩ পয়েন্টে। ডিএসইর অপর সূচকগুলোর মধ্যে শরিয়াহ সূচক ২৭.৬১ বা ১.৯১ শতাংশ এবং ডিএসই-৩০ সূচক ৪৭.৪৩ পয়েন্ট বা ২ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে যথাক্রমে এক হাজার ৪১৫.৮৫ পয়েন্টে এবং দুই হাজার ৩১৪.১৩ পয়েন্টে।

ডিএসইতে এক হাজার ৪১৭ কোটি ৫২ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে। যা আগের কার্যদিবস থেকে ২৪৭ কোটি ৬৯ লাখ টাকা বেশি। আগের কার্যদিবস লেনদেন হয়েছিল এক হাজার ১৬৯ কোটি ৮৩ লাখ টাকার।

ডিএসইতে ৩৬৮টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে শেয়ার দর বেড়েছে ১৯টির বা ৫.১৬ শতাংশের, শেয়ার দর কমেছে ১৬৭টির বা ৪৫.৩৮ শতাংশের এবং ১৮২টির বা ৪৯.৪৬ শতাংশের শেয়ার ও ইউনিট দর অপরিবর্তিত রয়েছে। অধিকাংশ শেয়ারের দর না কমলেও বড় মূলধনী কোম্পানিতে আতঙ্ক দেখা দেয়ায় সূচক কমে যায়।

ফ্লোর প্রাইজ উঠছে না ॥ ফ্লোর প্রাইস (দর পতনের সর্বনিম্ন সীমা) তুলে দেওয়ার দাবিতে গত কয়েকদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা হচ্ছে। যা তুললে বাজারে বড় পতন হবে বলে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। যার প্রভাব সোমবার লেনদেনের শুরুতেই পড়েছে। তবে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ এ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) ফ্লোর প্রাইস তুলে দেওয়া নিয়ে কোন ধরনের চিন্তা-ভাবনা করছে না।

এ বিষয়ে বিএসইসির কমিশনার অধ্যাপক ড. শেখ সামসুদ্দিন আহমেদ বলেন, কমিশন সবার আগে বিনিয়োগকারীদের বিনিয়োগের সুরক্ষার কথা ভাবে। সেই কমিশন এই মুহূর্তে ফ্লোর প্রাইস তুলে দিয়ে তা ক্ষতিগ্রস্ত করবে না নিশ্চিত। তাই কমিশন এই মুহূর্তে ফ্লোর প্রাইস তুলে দেওয়া নিয়ে কোন ধরনের চিন্তা-ভাবনা করছে না।

বন্ডের লেনদেনের বিষয়ে ডিএসইর ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সাইফুর রহমান মজুমদার বলেন, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীর পর এবার সাধারণ বিনিয়োগকারীদের স্বার্থে সরকারী সিকিউরিটিজের লেনদেন শুরু হয়েছে। এখানে ব্যক্তি বিনিয়োগকারীরা বন্ড কেনা-বেচা করতে পারবেন। তবে গতকাল কোন বন্ডের লেনদেন হয়নি।

তিনি বলেন, ডিএসইতে বন্ডগুলোর লেনদেনের ফলে এর বাজার মূলধন ৫ লাখ ২১ হাজার কোটি টাকা থেকে বেড়ে ৮ লাখ ৩৮ হাজার ৪৮৪ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। পাশাপাশি জিডিপিতে শেয়ারবাজারের অবদান ১৩-১৪ থেকে শতাংশ বেড়ে ২০ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। লেনদেনের প্রথম দিকে বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ কম থাকলেও ধীরে ধীরে শেয়ারের চেয়ে বন্ড মার্কেট বেশি জনপ্রিয় হবে বলেও জানান তিনি।

×