ঢাকা, বাংলাদেশ   বুধবার ২৪ জুলাই ২০২৪, ৯ শ্রাবণ ১৪৩১

বায়ান্ন বাজার তপ্পিান্ন গলি

মোরসালিন মিজান

প্রকাশিত: ০০:০৮, ১৪ জুন ২০২৪

বায়ান্ন বাজার তপ্পিান্ন গলি

সামনে ঈদ। দম ফেলার সময় নেই কামারদের। বৃহস্পতিবার কাওরান বাজার থেকে তোলা

আরও একটি ঈদ সামনে। সামনে বলতে, আগামী সোমবার। কোরবানির ঈদ যেহেতু, ব্যস্ততাও অন্যরকম। এরই মধ্যে রাজধানী শহরের পুরোটাজুড়ে বিরাট গরু ছাগলের হাট বসে গেছে। সামর্থ্য অনুযায়ী পশু কিনছেন ক্রেতারা। ঈদের দিন এসব পশু কোরবানি দেওয়া হবে। তা তো হবেই।

কিন্তু আত্মশুদ্ধি এবং আত্মত্যাগের যে শিক্ষা এই ঈদ থেকে নেওয়ার কথা, সেটির কী হবে? কেউ কি আমরা নিচ্ছি শিক্ষাটা? নেব? সমাজে এত দুর্নীতি, বৈষম্য, ক্ষয়Ñ আশা ধরে রাখা সত্যি কঠিন। টেলিভিশনে হাতির মতো বিশাল গরুগুলোর ছবিই শুধু দেখানো হচ্ছে। প্রতিযোগিতা করে গরু কেনার, উট কেনার খবর আসছে পত্রিকার পাতায়।

ফেসবুকে প্রচার চলছে। অন্যদিকে, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির এই সময়ে চিড়ে চ্যাপ্টা হচ্ছেন সীমিত আয়ের মানুষ। ফলে ঈদের আনন্দ সব ঘরে সমানভাবে পৌঁছবে তেমনটি ভাবার কোনো সুযোগ নেই। তার পরও ঈদ বলে কথা। সারাদেশের মানুষের মতো রাজধানীবাসীও প্রস্তুতি নিচ্ছেন। প্রস্তুতির নানা চিত্র চোখে পড়ছে এখন। 
ব্যস্ত কামারশালা ॥ কোরবানির ঈদ সামনে রেখে ঢাকার কামারশালাগুলো এখন যারপরনাই ব্যস্ত। পশু কোরবানি দিতে ছুরি চাকু দা, বঁটির দরকার হবে। তাই দিনরাত কাজ হচ্ছে কামারশালায়। কাওরান বাজারের কামারশালাগুলোতে অহর্নিশ লোহা পেটানোর শব্দ।

কয়লার আগুন। স্ফুলিঙ্গ। হাঁপরের আওয়াজ। অর্থাৎ চোখে পড়ার মতো কর্মচাঞ্চল্য। গত প্রায় চল্লিশ বছর ধরে এখানে দা-বঁটি, ছুরি, চাকু ইত্যাদি তৈরি ও বিক্রি হচ্ছে। সিটি করপোরেশনের অনুমোদিত কামারশালা আছে এক ডজনের মতো। আর সব মিলিয়ে প্রায় ৩০টি দোকান। সবগুলো দোকান পাশাপাশি। সামনের দিকে ছুরি চাকু
চাপাতির মতো ভয়ংকর সব অস্ত্র সাজিয়ে রাখা হয়েছে।

হঠাৎ দেখে পিলে চমকে যায়। আর এর ঠিক পেছনে কামারশালা। সেখানে কয়লা দিয়ে ছোট ও নিয়ন্ত্রিত আগুন জ্বালানো হচ্ছে। দীর্ঘ সময় আগুনে পুড়ে  লোহা কিছুটা নমনীয় হতেই তাতে হাতুড়ি দিয়ে পেটানো হচ্ছে। এভাবে পুড়ে পিটিয়ে বাঁকা করে সোজা করে তৈরি করা হচ্ছে কোরবানির ছুরি, চাকু। পরে পানিতে চুবিয়ে নিয়ে সেগুলো তোলা হচ্ছে দোকানের সামনের অংশে।

বেজায়  ভদ্রলোকটিও সেখানে গিয়ে ছুরি চাকুর খোঁজ করছেন। অবলীলায় হাতে তুলে নিচ্ছেন চাপাতি, চাইনিজ কোরাল! আঙুল দিয়ে দেশীয় অস্ত্রের ধার পরীক্ষা করছেন তারা। অন্য সময় এমন দৃশ্য দেখলে হৈচৈ পড়ে যেত। কিন্তু এখন তেমন কোনো প্রতিক্রিয়া নেই। যেন খুব স্বাভাবিক ছবি! কিন্তু এক্ষেত্রেও প্রশ্ন থেকে যায়, ধারালো ছুরি, চাকু দিয়ে গরু কাটা হবে, মনের পশুকে জবাই করতে পারবেন কজন? 
ফাঁকা হওয়ার পথে ঢাকা ॥ ঈদ উপলক্ষে প্রতিবার বিপুল সংখ্যক মানুষ রাজধানী ছেড়ে যান। এবারও ছেড়ে যাচ্ছেন। সরকারি হিসাবে বৃহস্পতিবার ছিল শেষ কর্মদিবস ছিল। এদিন বড় একটি অংশ গ্রামের বাড়ির উদ্দেশে শহর ছেড়ে গেছে। আজ শুক্রবার আরও বেশি মানুষ আত্মীয় পরিজনের সঙ্গে ঈদ করতে ট্রেন, বাস, লঞ্চ ধরবেন।

বিমানে, এমনকি হেলিকপ্টারে যাত্রী হচ্ছেন কেউ কেউ। ফলে রাস্তা ফাঁকা হতে শুরু করেছে। ধারণা করা হচ্ছে, আজ শুক্রবার ফাঁকা হয়ে যাবে ঢাকা। বেশি দিনের জন্য না হলেও এই ফাঁকা ঢাকা উপভোগ করবেন রাজধানীতে  অবস্থান করা মানুষ।

×