ঢাকা, বাংলাদেশ   বৃহস্পতিবার ২৫ জুলাই ২০২৪, ১০ শ্রাবণ ১৪৩১

সংস্কৃতি সংবাদ

শিল্পকলায় বর্ণিল আয়োজনে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী উৎসব

সংস্কৃতি প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৩:২৯, ১১ জুন ২০২৪

শিল্পকলায় বর্ণিল আয়োজনে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী উৎসব

শিল্পকলা একাডেমিতে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী উৎসবে নৃত্য পরিবেশন করেন শিল্পীরা

বাংলাদেশের বিভিন্ন ক্ষুদ্র জাতিসত্তার শিল্পীদের অংশগ্রহণে ‘ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী উৎসব ২০২৪’ অনুষ্ঠিত হয় রাজধানীর শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় চিত্রশালা মিলনায়তনে মঙ্গলবার বিকেলে। শিল্পকলা একাডেমির আয়োজনে এবং ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী সেলের ব্যবস্থাপনায় এ উৎসবে অংশগ্রহণ করেন দেশের ১৩টি সম্প্রদায়ের শিল্পীরা।

এরা হচ্ছে চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা, তঞ্চঙ্গ্যা, পাংখোয়া, খাসিয়া, লুসাই, রাখাইন, গারো, হাজং, সাঁওতাল, ওঁরাও এবং মনিপুরী শিল্পীরা। তারা তাদের নিজ নিজ সম্প্রদায়ের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য পরিবেশন করেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন গবেষক সঞ্জীব ড্রং। বিশেষ অতিথি ছিলেন সংস্কৃতি উপসচিব রাজিব কুমার সরকার।
শুরুতে চিত্রশালা চত্বরে ১৩ সম্প্রদায়ের অংশগ্রহণে ছিল উদ্বোধনী নৃত্য। পরে মঙ্গল প্রদীপ প্রজ্বালনের মধ্য দিয়ে উৎসবের উদ্বোধন করেন অতিথিরা। এরপর শুরু হয় সংক্ষিপ্ত আলোচনানুষ্ঠান। শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকীর সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন একাডেমির সচিব সালাহউদ্দিন আহম্মদ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সঞ্জিব ড্রং বলেন, আমরা যেন কোনো ভাষা বা সংস্কৃতিকে হারিয়ে যেতে না দেই, এই সংস্কৃতি লালনের জন্য আরও বেশি বরাদ্দ থাকা প্রয়োজন। ভিন্ন ভিন্ন ভাষার জাতিকে স্বীকৃতি না দিলে এ ভাষা হারিয়ে যায়, সম্প্রদাায় বিলুপ্ত হয়ে যায়। আমাদের প্রিয় বাংলাদেশ অনেক সুন্দর। এখানে ৫০টি জাতিসত্তা আছে। তার মধ্য দিয়ে আজ এই উৎসবে অংশ নিচ্ছে ১৩টি জাতিসত্তা।

বৈচিত্র্যতা হচ্ছে একটি দেশ বা পৃথিবীর শক্তি। যারা সংস্কৃতি লালন করেন, চর্চা করেন তারা মানুষকে ভালোবাসেন। মানুষের পরিচয় তার সংস্কৃতির মধ্য দিয়ে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে রাজিব কুমার সরকার বলেন, বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্তে যেসব নৃ-গোষ্ঠী বাস করে তাদের সংস্কৃতির ঐহিত্য আবহমান কালের। আমাদের দেশের সবার সংস্কৃতিকে লালন করতে হবে। আমরা সবাই চেষ্টা করব এই সংস্কৃতির বিকাশের জন্য কাজ করতে। এর মধ্যে দিয়ে আমরা যেন নতুন প্রজন্মকে প্রলুব্ধ করতে পারি।
এরপর শুরু মূল সাংস্কৃতিক পর্ব। এ পর্বের শুরুতেই কক্সবাজারের রাখাইন সম্প্রদায় প্রদীপ নৃত্য পরিবেশন করে। পরে ছিল ঢাকার চাকমা সম্প্রদায়ের মনোঘর শিল্পী গোষ্ঠীর নৃত্য। রাঙ্গামাটির ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের শিল্পীরা পরিবেশন করে হজাগিরি নৃত্য। মৌলভীবাজরের মনিপুরী সম্প্রদায়ের দলটি মন্দিরা নৃত্য পরিবেশন করে। রাঙ্গামাটির পাংখোয়া সম্প্রদায়ের শিল্পীরা পরিবেশন করে শিং নৃত্য।

নেত্রকোনার হাজং সম্প্রদায় পরিবেশন করে জীবন ধারা। মারমা সম্প্রদায় পরিবেশন করে উৎসব নৃত্য। তঞ্চঙ্গ্যা সম্প্রদায়ের পরিবেশনায় ছিল মাছ ধরা নৃত্য। সিলেটে বসবাসরত খাসিয়া সম্প্রদায়ের পরিবেশনায় ছিল একতাই বল। অনুষ্ঠানের সবশেষ পরিবেশনা ছিল গারো সম্প্রদায়ের নৃত্যদলের। তারা পরিবেশন করে নৃত্য প্রযোজনা ‘জীবন ও প্রকৃতি’।

×