ঢাকা, বাংলাদেশ   বৃহস্পতিবার ২৩ মে ২০২৪, ৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১

বগুড়ায় ঐতিহ্যবাহী আয়োজন

রমজানে প্রতিদিন ৬শ’ রোজাদারের ইফতার চলছে ১৭ বছর ধরে

সমুদ্র হক

প্রকাশিত: ২২:৩২, ৩১ মার্চ ২০২৩

রমজানে প্রতিদিন ৬শ’  রোজাদারের ইফতার  চলছে ১৭ বছর ধরে

বগুড়ার বায়তুর রহমান সেন্ট্রাল মসজিদে প্রতিদিনের ইফতার

প্রতিদিন অন্তত ৬শ রোজাদার ইফতার করে বগুড়া শহরের স্টেশন রোডের ধারে বায়তুর রহমান সেন্ট্রাল মসজিদে। উদ্বোধনের পর ১৭ বছর ধরে এই রেওয়াজ চালু রয়েছে। মসজিদের আশপাশের রোজাদার দোকানি কর্মচারী এবং ইফতারের সময় যাত্রাপথের পথচারী রিক্সাওয়ালা ভ্রাম্যমাণ হকার প্রত্যেকেই শরিক হয় ইফতার মাহফিলে। ইফতারে থাকে আইটেম। কোনোদিন বেশিও থাকে। কমিটির লোকজন জানালেন গত বছর প্রতিদিন মাংস দিয়ে খিচুড়ি বানানো হতো। জিনিসপত্রের দাম বেশি হওয়ায় সপ্তাহে একদিন এই আয়োজনের চেষ্টা চলছে। রোজাদারদের ইফতার খাওয়ানোর জন্য অনেকে আগ্রহ প্রকাশ করেন। কমিটির কথা : তারা প্রতিবছর এই আয়োজন করছে। আগ্রহ প্রকাশকারীরা নিজেদের উদ্যোগে আলাদাভাবে আয়োজন করলে আরও অনেকে উপকৃত হবে। ছিন্নমূল রোজাদারদের ইফতারে হাতবাড়ানোর আহ্বান জানানো হয়।

বগুড়া বায়তুর রহমান সেন্ট্রাল মসজিদ ২৫ হাজার ৬শ বর্গফুট আয়তনের। দোতলায় হাজার ২শ বর্গফুট অংশেও নামাজ হয়। নিচতলায় পাঠাগার মাহফিলের স্থান এবং মহিলাদের নামাজের আলাদা জায়গা রয়েছে। ১৭ বছর আগে এক শুক্রবার জুমার নামাজের মাধ্যমে মসজিদে নামাজ শুরু হয়। একই বছর স্টেশন রোডের ধারের জন ফল ব্যবসায়ী রমজান মাসে রোজাদারদের ইফতারের আয়োজন করে। একটি কমিটির মাধ্যমে রমজানে প্রতিদিন ইফতার মাহফিল হয়। কমিটির মধ্যে উল্লেখযোগ্যরা হলেন মুকুল হোসেন, মনসুর রহমান, বাহার আলী, আব্দুল গফুর প্রমুখ। রমজান মাসের এই ইফতারের জন্য একটি বাজেট ধার্য করা হয়। কমিটির সদস্যগণ এই অর্থের জোগান দেন।

বছর রমজানে প্রতিদিন ৪০ কেজি চাল, কেজি মুগ মসুরের ডাল, কেজি বুন্দিয়া, ১০ কেজি বুট, ১৫ কেজি চিনি এক বস্তা খেজুর, তরমুজ শরবতের ব্যবস্থা থাকে। চাল ডাল দিয়ে খিচুড়ি রান্না করা হয়। বুট বুন্দিয়া আলাদা বানানো হয়। মসজিদের সংলগ্ন এলাকায় রান্নার আয়োজন থাকে। প্রতিটি স্টিলের বড় ডিশে চারজন রোজদারের ইফতার রাখা হয়। ইফতারের আগের সময়ে রোজাদাররা জড়ো হতে থাকে। অজু করে পাকসাফ হয়ে ইফতার নামাজের প্রস্তুতি নেয়া হয়।

এই মসজিদের পাশেই বগুড়া প্রেসক্লাব। বিকেলের পর রোজাদার সাংবাদিক যারা প্রেসক্লাবে থাকেন তাদের জন্য মসজিদ থেকে ইফতার পাঠানো হয়। প্রেসক্লাবের অফিস সহকারী আব্দুল হান্নান জানালেন আশপাশের অনেক অফিসের পিয়ন মসজিদের ইফতারে শরিক হন। মসজিদের সামনের আতর টুপি সুরমা জায়নামাজ বিক্রেতরা ইফতারে শামিল হন। মসজিদের কাছাকাছি স্থানে আছে হকার্স মার্কেট ভাঙ্গাড়ি লোহালক্কড়ের মার্কেট। সামনের রাস্তায় আছে ভাসমান দোকানি। দোকানি কর্মচারিরা জানে এই ইফতারের কথা। রাস্তার ধারে থাকা অনেক রিক্সাচালক, ইজি বাইকের চালক এবং ছিন্নমূল মানুষ ইফতারের সময় হলে শরিক হন। তাদের একজন জানালেন, অনেক বছর ধরে এই আয়োজন দেখছেন। শহরে রিক্সাভ্যান চালান তিনি। রমজানের সময় এই রাস্তায় পণ্য পরিবহনের পর কিছুটা জুড়িয়ে নিয়ে অপেক্ষায় থাকেন ইফতারের। মসজিদকে ঘিরে এলাকার লোক এমন ইফতারের আয়োজন করায় রোজাদার অনেক শ্রমিকের উপকার হয়। তারা আজান শুনে ইফতারের পর মাগরিবের নামাজ শেষে ফের কাজে বের হন। এই মসজিদের ইফতারে ধরনের অনেক রোজাদার শ্রমিক আসেন। কমিটির সদস্য মকুল হোসেন জানালেন, প্রতিবছর রমজানে এই ইফতারের আয়োজন করতে পেরে তারা মানসিক প্রশান্তি পান। তিনি বলেন, শহরে অনেক ধনাঢ্য ব্যক্তি আছেন। তারাও ইচ্ছা করলে এমন আয়োজন করতে পারেন। জানালেন বগুড়া শহরের শুধু এই মসজিদে (বায়তুর রহমান সেন্ট্রাল মসজিদ) প্রতিবছর রমজানে এমন ইফতারের আয়োজন করা হয়। করোনার সময় বন্ধ ছিল। করোনা শিথিল হওয়ার পর চালু হয়। মুকুল হোসেন বলেন, তারা রমজানের পবিত্রতায় যে ধারা তৈরি করেন গেলেন উত্তরসূরিরা তা বহাল রাখবেন।

×