বৃহস্পতিবার ৭ মাঘ ১৪২৮, ২০ জানুয়ারী ২০২২ ঢাকা, বাংলাদেশ
প্রচ্ছদ
অনলাইন
আজকের পত্রিকা
সর্বশেষ

বিশ্বব্যাপী ওমিক্রনের তীব্র সংক্রমণ ॥ বাংলাদেশেও সতর্কতা

  • সৈয়দ ফারুক হোসেন

ওমিক্রন আতঙ্কে আজ সমগ্র বিশ্ব। নতুন করে উদ্বেগ বাড়িয়েছে করোনাভাইরাসের নতুন এই ধরনটি। বিশ্বব্যাপী এটি নতুন আরেক আতঙ্ক। এটি একটি অভিশাপ হয়ে যেভাবে এসেছে তাতে পৃথিবী আগের তুলনায় চারগুণ বেশি ক্ষতি হতে পারে বলে বিশেষজ্ঞদের ধারণা। করোনার দুষ্টু বলয় থেকে বিশ্ব যেন সহজে ছাড় পাচ্ছে না। কোভিড-১৯ আক্রান্তের প্রায় দুই বছর হতে চলল। ২০১৯ সালের ডিসেম্বর মাসে চীনের উহান শহর থেকে ছড়িয়ে পড়া গুরুতর তীব্র শ্বাসযন্ত্রীয় রোগলক্ষণ সৃষ্টিকারী করোনাভাইরাসটির জন্মলগ্ন থেকে আজ অবধি সময়ের ব্যবধানে জিন পরিব্যাপ্তি বা মিউটেশনের মাধ্যমে অসংখ্যবার রূপ বদলিয়েছে। সর্বশেষ ভয়াবহ রূপটিকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা উদ্বেগজনক প্রকরণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে এবং গ্রীক বর্ণ ‘ওমিক্রন’ অনুযায়ী এটির নামকরণ করেছে। দ্রুত ছড়াচ্ছে করোনাভাইরাসের নতুন এ রূপটি। ধনী-গরিব কোন রাষ্ট্রই রেহাই পায়নি এর ছোবল থেকে। আক্রান্তের সংখ্যা কোটি কোটি, মৃত্যুর সংখ্যাও কম নয়। নতুন ভ্যারিয়েন্ট ওমিক্রনের স্পাইক প্রোটিনে কমপক্ষে ৩০ থেকে ৫০ বার অভিযোজন বা মিউটেশন (জিনগত পরিবর্তন) হতে পারে। এর মধ্যে কিছু মিউটেশন খুবই উদ্বেগজনক। সে কারণে বিশ্ববাসীকে নতুন করে সতর্ক থাকতে পরামর্শ দিয়েছে জাতিসংঘ। এই নতুন ভ্যারিয়েন্ট মহামারীর গতিপথ বদলে ফের মানবসভ্যতার ওপর আছড়ে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। শনাক্ত হওয়া বিপজ্জনক নতুন ওমিক্রন বি ১.১.২৫৯ ভ্যারিয়েন্ট নিয়ে বাংলাদেশ সরকারের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় কিছু নির্দেশনা দিয়েছে।

ইউরোপ-আমেরিকার বিভিন্ন দেশে করোনার ওমিক্রন ভ্যারিয়েন্ট উদ্বেগজনকভাবে প্রতিদিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। ইউরোপের দেশগুলো এখন এই ভয়ে অনেক আতঙ্কে রয়েছে। বাংলাদেশেও কিছু রোগী ইতোমধ্যে শনাক্ত হয়েছে। আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতেও এর বিস্তার লাভ করছে দ্রুত। আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দিন দিন দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা সতর্ক করেছে যে, নতুন ওমিক্রন ভ্যারিয়েন্ট থেকে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বৃদ্ধির জন্য যেন সব দেশ প্রস্তুত থাকে। বিভিন্ন দেশ থেকে কোভিড-১৯-এর ওমিক্রন ভ্যারিয়েন্টে আক্রান্তের সংখ্যা প্রতিদিন বাড়ছে। প্রতিটি দেশ যেন তাদের নিজস্ব ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে বর্তমান পদক্ষেপগুলো জোরদার করে, যেমন : মাস্ক পরা, দূরত্ব বজায় রাখা, হাত ধোয়া, জনসমাগম এড়িয়ে চলা, সংক্রমিতদের ট্রেস করা, আক্রান্তদের আইসোলেশনে রাখা এবং টিকাদান অব্যাহত রাখা। প্রাথমিকভাবে পরিস্থিতি সামাল দিতে আফ্রিকার সাত দেশসহ নানাবিদ নিষেধারোপের ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, যুক্তরাজ্য, ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ ২৭টি দেশ। ৭ দেশের কথা বলা থাকলেও এই ভ্যারিয়েন্ট শতাধিক দেশে শনাক্ত হওয়ার আভাস পাওয়া গেছে, যা সত্যিই দুঃখজনক। ভৌগোলিকভাবে তা ইতোমধ্যেই অনেক বেশি ছড়িয়ে গেছে।

ওমিক্রন ভ্যারিয়েন্ট থেকে করোনা সংক্রমণের নতুন ঢেউ আসার সম্ভাবনার জন্য সব দেশকে তৈরি থাকতে হবে। করোনাভাইরাস সংক্রমণের উর্ধগতি এবং দেশে ওমিক্রন ভ্যারিয়েন্টে আক্রান্ত রোগী পাওয়া যাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে সরকারের পক্ষ থেকে সিদ্ধান্ত নেয়া হয় মাস্ক না পরলে জরিমানা, টিকা সনদ লাগবে রেস্টুরেন্টে খেতে। করোনাভাইরাস সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় এবং দেশে নতুন ধরন ওমিক্রনে আক্রান্ত রোগী পাওয়া যাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে প্রতিরোধে কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। মাত্র কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই ওমিক্রনের সংক্রমণ চূড়ায় পৌঁছাতে পারে। আমরা অবশ্যই সংক্রমণের একটি মারাত্মক ঢেউয়ের মধ্যে রয়েছি। যারা টিকা নিয়েছেন তারা স্বাভাবিক কাজকর্ম করে যেতে পারবেন। যারা টিকা নেননি নানা ক্ষেত্রে তাদের পড়তে হবে বিপত্তিতে। যেমন রেস্টুরেন্টে খেতে গেলে সঙ্গে নিতে হবে টিকার সনদ। না হলে রেস্টুরেন্টে খাওয়া যাবে না। আর টিকা নেননি এমন ব্যক্তিকে রেস্টুরেন্টে খাবার পরিবেশন করলে ব্যবস্থা নেয়া হবে ওই রেস্টুরেন্টের বিরুদ্ধে। করোনা বাড়লে ব্যবসা-বাণিজ্যসহ সব ক্ষেত্রেই নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে, যেটা আমরা কেউই চাই না। এটা নিয়ন্ত্রণে রাখতে কিছু পদক্ষেপের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। সরকারের পক্ষ হতে ল্যান্ডপোর্ট, সি-পোর্ট, এয়ারপোর্টে স্ক্রিনিংয়ের সংখ্যা অলরেডি বাড়ানো হয়েছে। এ্যান্টিজেন টেস্ট করা হচ্ছে। পিসিআর টেস্টও হচ্ছে। কোয়ারেন্টাইনের আরও বেশি তাগিদ দেয়া হয়েছে। সামাজিক, রাজনৈতিক, ধর্মীয় অনুষ্ঠানগুলোয় যাতে অংশগ্রহণের সংখ্যা সীমিত রাখা হয় এ বিষয়ে তাগিদ দেয়া হয়েছে। পরিবহন সেক্টরে বলা হয়েছে, যে সিট ক্যাপাসিটি আছে তা কমিয়ে চালাতে। সার্বিক প্রস্তুতির মধ্যে হাসপাতালগুলো প্রস্তুত আছে। অক্সিজেন আছে। সেন্ট্রাল অক্সিজেন লাইন ১২০ ফুট স্থাপন করা আছে। টিকা কার্যক্রম চলমান। ২০ হাজার বেড রাখা হয়েছে। এখন ডাক্তাররা প্রশিক্ষিত। তারা জানেন কিভাবে করোনার চিকিৎসা করতে হয়। দেশবাসীও বিষয়টি জানেন। কিন্তু আশঙ্কার বিষয় হলো, করোনা বাড়ছে। মৃত্যুহার যদিও এখন কম আছে। এটাকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। করোনা নিয়ন্ত্রণে না থাকলে আবারও সেই লকডাউনের কথা চলে আসবে।

ওমিক্রন ভ্যারিয়েন্টের গতি-প্রকৃতি বুঝতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বিশাল সংখ্যক গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বর্তমানে একযোগে কাজ করছে। তবে এখনও পর্যন্ত তারা এমন কোন তথ্য পায়নি, যার জন্য এই মহামারী মোকাবেলায় এই মুহূর্তে নতুন দিক নির্দেশনার প্রয়োজন রয়েছে। জাতিসংঘের স্বাস্থ্য সংস্থা ১৯৪টি সদস্য দেশকে সংক্রমণের ঢেউ থামাতে বিশেষ গ্রুপের মানুষের মধ্যে টিকাদানের হার বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছে। অপরিহার্য স্বাস্থ্যসেবা ঠিক রাখতে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণের পরিকল্পনার যথার্থতাও নিশ্চিত করতে বলেছে ডব্লিউএইচও। আক্রান্ত দেশ থেকে আগত যাত্রীদের বন্দরসমূহে স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও স্ক্রিনিং জোরদার করতে হবে। সকল ধরনের সামাজিক, রাজনৈতিক, ধর্মীয় ও অন্যান্য জনসমাগম নিরুৎসাহিত করতে হবে। প্রয়োজনে প্রত্যেক ব্যক্তিকে বাড়ির বাইরে সর্বদা সঠিকভাবে নাক-মুখ ঢেকে মাস্ক পরাসহ সকল স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা নিশ্চিত করতে হবে। রেস্তরাঁতে বসে খাওয়ার ব্যবস্থা ধারণক্ষমতার অর্ধেক বা তার কম করতে হবে। সকল প্রকার জনসমাবেশ পর্যটন স্থান, বিনোদন কেন্দ্রের কমিউনিটি সেন্টার, সিনেমা হল, থিয়েটার হল ও সামাজিক অনুষ্ঠানে (বিয়ে, বৌ-ভাত, জন্মদিন, পিকনিক পার্টি, সভা-সেমিনার ইত্যাদি) ধারণক্ষমতার অর্ধেক বা তার কম সংখ্যক লোক অংশগ্রহণ করতে পারবে। মসজিদসহ সকল উপাসনালয়ে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা নিশ্চিত করতে হবে। গণপরিবহনে স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করতে হবে। আক্রান্ত দেশসমূহ থেকে আগত যাত্রীদের ১৪ দিন কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিত করতে হবে। সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মাদ্রাসা, প্রাক-প্রাথমিক, প্রাথমিক, মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বিশ্ববিদ্যালয় ও কোচিং সেন্টারে স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করতে হবে। সকল স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের সেবা গ্রহীতা, সেবা প্রদানকারী ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সর্বদা সঠিকভাবে নাক-মুখ ঢেকে মাস্ক পরাসহ সকল স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা নিশ্চিত করতে হবে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে ভ্যাকসিন কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে। করোনা উপসর্গ লক্ষণযুক্ত, সন্দেহজনক, নিশ্চিত করোনা, রোগীর আইসোলেশন ও করোনা পজিটিভ রোগীর ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শে আসা অন্যদের কোয়ারেন্টাইনের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। কোভিড-১৯-এর লক্ষণযুক্ত ব্যক্তিকে আইসোলেশনে রাখা এবং তার নমুনা পরীক্ষার জন্য স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে সহায়তা করা যেতে পারে। অফিসে প্রবেশ এবং অবস্থানকালীন বাধ্যতামূলকভাবে নাক-মুখ ঢেকে মাস্ক পরা নিশ্চিত করতে হবে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা দাফতরিকভাবে নিশ্চিত করতে হবে। কোভিড-১৯ রোগ নিয়ন্ত্রণ ও হ্রাস করার নিমিত্তে কমিউনিটি পর্যায়ে মাস্ক পরাসহ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার সচেতনতা তৈরির জন্য মাইকিং ও প্রচার চালানো যেতে পারে। এক্ষেত্রে প্রয়োজনে মসজিদ, মন্দির, গির্জা, প্যাগোডাসহ উপাসনা কেন্দ্রে মাইক ব্যবহার করা যেতে পারে এবং ওয়ার্ড কাউন্সিলর, ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের সম্পৃক্ত করা যেতে পারে। কোনভাবেই যেন অবহেলা না হয় সেদিকে সজাগ দৃষ্টি রেখে দেশের প্রত্যেক নাগরিক স্ব স্ব স্থান থেকে দায়িত্ব পালন করে, সচেতনতা সৃষ্টি করে, নিজে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চললে নিজেও সুস্থ থাকতে পারবে, অপরকেও সুস্থ নিরাপদে রাখা যাবে।

আমাদের স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। মাস্ক পরতে হবে। আমরা দেখছি সকালবেলায় খবরের কাগজে, টেলিভিশনে, পাইকারি সবজির বাজারে, মাছের বাজারে অনেকের মুখে মাস্ক নেই। ফুটপাথে অনেকে মাস্ক ছাড়া হাঁটছে, গণপরিবহনের যারা যাত্রী তাদের মধ্যেও সচেতনতার অভাব। এর পরিবর্তন হতে হবে। সবাইকে মাস্ক পরার বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। একইভাবে ব্যক্তিগত বা সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে হবে। আমাদের এখন করণীয় ওমিক্রন পজিটিভ নিয়ে কেউ যেন দেশে ঢুকতে না পারে সেজন্য বিমানবন্দরগুলোতে করোনা পরীক্ষার ব্যবস্থা, কোয়ারেন্টাইন ও আইসোলেশনের ব্যবস্থা বাড়াতে হবে। এই করোনায় আমরা অপ্রত্যাশিতভাবে হারিয়েছি স্বজন, বন্ধু, কাছের মানুষ। লকডাউনে তখন থমকে গিয়েছিল মানবজীবন। দীর্ঘদিন এভাবে বন্দী আর আতঙ্কগ্রস্ত থাকায় মানসিক স্বাস্থ্যেরও ঘটছে অবনতি। পর্যটন কেন্দ্র, বিশেষ করে কক্সবাজারে যা দেখছি তাতে স্বাস্থ্যবিধি মানার ক্ষেত্রে উদাসীনতা। আমাদের মনে রাখতে হবে, ওমিক্রনই শেষ নয়, এরপরও ঝুঁকিপূর্ণ নতুন ভ্যারিয়েন্ট আসতে পারে। সে ঝুঁকি মোকাবেলায় আমাদের প্রস্তুতি থাকতে হবে। আমাদের যা করণীয় তা করতেই হবে। স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষা আমাদের জন্য বিপদ ডেকে আনতে পারে।

বিশ্বব্যাপী করোনার টিকা সরবরাহের বৈষম্য এখনও বিদ্যমান। এ কারণেও করোনার নতুন ধরন তৈরি হচ্ছে। যেসব জায়গায় টিকা পৌঁছায়নি সেখানে বাধাহীনভাবে সংক্রমণ ছড়ানোর কারণে প্রতিনিয়ত নতুন ধরন সৃষ্টি করছে এই ভাইরাস। যেভাবে সারাবিশ্বে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা বাড়ছে, আমরা সতর্ক না হলে এর ফল হবে ভয়াবহ। মনে রাখতে হবে- আমি আক্রান্ত হলে আমার পরিবারের অন্যরাও আক্রান্ত হতে পারে। এমনকি মৃত্যুঝুঁকিও রয়েছে। আমরা স্বাস্থ্যবিধি না মানলে এই মহামারী ঠেকানোর সাধ্য সরকারের থাকবে না। আমাদের অনবধানতার জন্যই আজ করোনার এত বিস্তার। মানুষকে বুঝতে হবে স্বাস্থ্যবিধি মানার বিষয়টি, সরকারকে তার সক্ষমতা প্রমাণ করতে হবে স্বাস্থ্যবিধি যথাযথভাবে মানানোর মাধ্যমে। বেশিরভাগ হাটবাজারে স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষিত। জোর করেও তাদের মাস্ক পরানো যায় না। জনসমাগম এড়িয়ে চলার নির্দেশনাও বাস্তবায়ন হয় না। নানাভাবে ভয়ভীতি দেখিয়েও তেমন কাজ হয় না। ব্যাংকসহ বিভিন্ন সেবা প্রতিষ্ঠান এবং অফিসে ‘নো মাস্ক নো সার্ভিস’ লেখা এবং তা কার্যকর করা। বড় বড় বিপণিবিতানেও এটা উপেক্ষা করা হয়। বিপণিবিতানগুলোতে এ বিষয়ে নজরদারি বাড়াতে হবে। দেশে ওমিক্রন ছড়ানো শুরু হলে নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হবে। এদিকে সতর্ক থাকলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করা লাগবে না। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা দেশগুলোকে স্বাস্থ্যসেবা এবং জনগণের টিকার পরিধি বাড়ানোর আহ্বান জানিয়ে আরও বলেছে, সঠিক পদক্ষেপ হলো প্রস্তুতি নেয়া।

দেশে করোনাভাইরাস শনাক্তের ব্যবস্থা আছে। এ ব্যবস্থায় যারা পজিটিভ শনাক্ত হয় তাদের নমুনা সিকোয়েন্স করে ওমিক্রন না ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট সেটা দেখা হয়। তবে এ ব্যবস্থা আরও বাড়াতে হবে। অন্যান্য দেশের মতো আমাদের দেশেও ওমিক্রন সংক্রমণ বাড়তে পারে এমন আশঙ্কা বিবেচনায় রেখে পরীক্ষার সক্ষমতা বাড়াতে হবে। এর একটা খারাপ দিক আমরা জেনেছি, এতে শিশুরা আক্রান্ত ও তাদের মৃত্যু হচ্ছে। এসব শিশু এখনও টিকার আওতায় আসেনি। ওমিক্রন আমাদের সকলের জন্য খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। এই ভাইরাসের চরিত্র সম্পর্কে এখনও খুব বেশি তথ্য আমাদের সামনে এসে পৌঁছায়নি। তাই আমাদের আগেই থেকে অনেক বেশি সজাগ থাকতে হবে এবং অপরকে সজাগ রাখতে হবে। করোনা অতিমারীর গতিপথ পরিবর্তন করতে পারে ওমিক্রন এই সতর্কবার্তা জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। করোনাভাইরাসের মতো সংক্রামক একটি ভাইরাস, যা বিশ্বব্যাপী ইতোমধ্যে বায়ান্ন লাখ মানুষের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে; সেখানে যদি আবার কোন নতুন প্রকরণ ডেল্টার চেয়েও বেশি সংক্রমণযোগ্য হয় তাহলে তা মহামারী থেকে পুনরুদ্ধারের পথ জটিল করে তুলবে। তাই বিশ্বের সমস্ত দেশকে টিকাকরণের গতি বাড়িয়ে দেয়ার পরামর্শ দেয় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। পাশাপাশি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা সংক্রমণ থেকে মানুষকে রক্ষা করার জন্য বিধিনিষেধ মেনে চলার আর্জি জানিয়েছে। ওমিক্রনে সংক্রমণ এবং রোগের তীব্রতা বেড়ে বিশেষ করে বাংলাদেশসহ তৃতীয় বিশ্বের স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থায় প্রচন্ড চাপ সৃষ্টি করতে পারে। কম টিকা দেয়া দেশগুলোতে ওমিক্রন প্রকরণটি মারাত্মক রূপ নিতে পারে এবং খুবই ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। অতএব, এ ব্যাপারে আমাদের সচেতন হওয়া প্রয়োজন।

লেখক : ডেপুটি রেজিস্ট্রার, জাগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়

শীর্ষ সংবাদ:
২৪ ঘণ্টায় করোনায় মৃত্যু ৪, শনাক্ত ১০৮৮৮         ব্যাংকারদের বেতন বেধে দিলো বাংলাদেশ ব্যাংক         সন্ত্রাসীরা অস্ত্র তুললেই ফায়ারিং-এনকাউন্টারের ঘটনা ঘটে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী         ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা হলেই সাংবাদিককে গ্রেফতার নয়, ডিসিদের আইনমন্ত্রী         সামাজিক অনুষ্ঠান বন্ধে ডিসিদের নির্দেশ         শাজাহান খানের মেয়েকে বিয়ে করলেন এমপি ছোট মনির         ৪৩তম বিসিএস প্রিলির ফল প্রকাশ         শান্তিরক্ষা মিশনে র‍্যাবকে বাদ দিতে জাতিসংঘে চিঠি         আইপিটিভি-ইউটিউবে সংবাদ পরিবেশন করা যাবে না ॥ তথ্যমন্ত্রী         মগবাজারে দুই বাসের প্রতিযোগিতায় প্রাণ গেল কিশোরের         নদীদূষণ ও দখলরোধে ডিসিদের আরও তৎপর হতে নির্দেশ         হাইকোর্টে আগাম জামিন পেলেন তাহসান         ‘সামরিক-বেসামরিক প্রশাসনের একসঙ্গে কাজ করার বিকল্প নেই’         ঠিকাদারি কাজে এফবিআই’র সাজাপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান!         এক সপ্তাহে করোনা রোগী বেড়েছে ২২৮ শতাংশ         যুক্তরাষ্ট্রে ফেডারেল কোর্টের প্রথম মুসলিম বিচারক হচ্ছেন বাংলাদেশি নুসরাত         সস্ত্রীক করোনা আক্রান্ত প্রধান বিচারপতি, হাসপাতালে ভর্তি         আইসিসি বর্ষসেরা ওয়ানডে দলে টাইগারদের দাপট         ‘স্বাধীনতা আন্দোলনের ইতিহাসে শহীদ আসাদ একটি অমর নাম’         ‘শহীদ আসাদের আত্মত্যাগ সবসময় প্রেরণা জোগাবে’