শুক্রবার ৭ মাঘ ১৪২৮, ২১ জানুয়ারী ২০২২ ঢাকা, বাংলাদেশ
প্রচ্ছদ
অনলাইন
আজকের পত্রিকা
সর্বশেষ

খবর জানার অধিকারে এগিয়ে যাচ্ছে দেশ

  • ’৩০ সালের মধ্যে ১৭ লক্ষ্য অর্জন

জনকণ্ঠ রিপোর্ট ॥ মানুষের তথ্য ক্ষুধা বেড়ে গিয়েছে। কারও সঙ্গে দেখা হলে এবং ফোনে কথার শুরুতে প্রথমেই কৌতূহল ‘কেমন আছেন’। তারপরই ‘কি খবর’। এই কি খবর হলো- সার্বিক খবরাখবর। দেশ মধ্যম আয়ের দেশের পথে যাত্রা শুরু করে দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। উন্নয়ন কর্মকা-ের ধারা বেড়ে গিয়েছে। সাধারণ মানুষকে তথ্য জানানোর ক্ষেত্রে অন্তত ৩০ হাজার ওয়েবসাইট সংবলিত বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ওয়েব পোর্টালের গর্বিত অধিকারী এই দেশ। তথ্য জানানোর অধিকারকে আরও শক্তিশালী করে জাতিসংঘ ঘোষিত সাসটেইনেবল ডেবলপমেন্ট গোল (এসডিজি) অর্জনে দেশ এগিয়ে চলেছে। এসডিজির ১৭টি লক্ষ্য অর্জন করতে হবে ২০৩০ সালের মধ্যে। এই অর্জনে বড় ভূমিকা পালন করছে খবর জানার অধিকার।

কে কত দ্রুততার সঙ্গে খবর পৌঁছাতে পারে তার অনেক রকমফের। সেল ফোন, অন্তর্জালের (ইন্টারনেট) মাধ্যমে তথ্য,খবর, খবরের স্থির ও চলমান ছবি সেকেন্ডেরও ক্ষুদ্র সময়ে গন্তব্যে পৌঁছানোর দ্রুততার পালায় এগিয়ে যাচ্ছে পৃথিবী। এখন শুধু মানুষের পেটের ক্ষুধা মেটানোই যথেষ্ট নয়। প্রযুক্তির অধিকতর অগ্রযাত্রায় ‘খবরাখবর’ না জানলে অতৃপ্ত রয়ে যায় দিনগুলো। দেশের মানুষ যেমন তথ্য জানতে পারছে সরকারও তেমনই দেশের মানুষের কাছ থেকে উন্নয়নে কোথায় ঘাটতি কোথায় ত্রুটি তা জেনে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারছে। মাঠ পর্যায়ের প্রশাসন, সরকারী সংস্থাগুলো সাধারণের কাছ থেকে অভিযোগ নিয়ে এবং সমস্যা সমাধানের দ্রুত তথ্য দেয়ার একাধিক ফ্রি হটলাইন চালু করেছে। কোভিড-১৯ কালে প্রতিটি এলাকার সার্বিক খবরাখবরে গুরুত্ব অনেক বেড়েছে। করোনা ভ্যাকসিন কোথায় কখন দেয়া হবে এই খবর দ্রুততার সঙ্গে পৌঁছে যাচ্ছে সাধারণের মধ্যে। করোনা প্রতিরোধে কী করণীয় তাও দ্রুত জেনে যাচ্ছে সাধারণ মানুষ। শিক্ষা স্বাস্থ্য নাগরিক জীবনের প্রতিটি গতিধারার সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে প্রযুক্তির তথ্য প্রবাহ।

সরকারের এ্যাকসেস টু ইনফরমেশন (এটুআই) প্রকল্পের আওতায় দেশের ৪ হাজার ৫শ’ ৫০টি ইউনিয়নে ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার (ইউডিসি) স্থাপিত হয়েছে। যেখানে সাধারণ মানুষ যাবতীয় তথ্য সেবা পাচ্ছেন। মানব উন্নয়নের সকল ক্ষেত্রে অন্তর্জালের অভিগম্যতা, মোবাইল ফোনের অপরিহার্যতা দেশের মানুষকে যে সচেতন করে তুলেছে তার প্রমাণ মেলে প্রযুক্তি ব্যবহারকারীর সংখ্যায়। বিটিআরসির সর্বশেষ রিপোর্টে বলা হয়েছে, দেশে মোবাইল ফোন ব্যবহারকারীর সংখ্যা প্রায় ১৪ কোটি এবং ইন্টারনেট ব্যবহারকারী অন্তত ৯ কোটি। যা ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার বড় সাফল্য।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এটুআই তৃণমূলের তথ্য বাতায়ন কর্মসূচীর আওতায় দেশের প্রতিটি ইউডিসি উদ্যোক্তা কর্মীদের প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে। তারা নিজেদের এলাকার উন্নয়নের ছবি খবরাখবর আপলোড করছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে। তারাও এখন তৃণমূল পর্যায়ের প্রতিনিধি। বিশ্বের কোথায় কি ঘটছে, আত্মীয়-স্বজনরা কোন দেশে কেমন আছে কি করছে তা জানাতে পারছে। কোন এলাকার জনভোগান্তি, বিভিন্ন ধরনের সমস্যা এবং এলাকার সার্বিক উন্নয়নের খবরগুলো সংগ্রহ করে দ্রুত পৌঁছে দিচ্ছে যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে। গ্রাম এলাকার উন্নয়ন ও মানুষের সাফল্যের কথা তুলে ধরে তৃণমূলের তথ্যপ্রবাহ নিশ্চিত করছে এই কেন্দ্রগুলো। স্মার্ট ফোনে নেট সুবিধা থাকায় গ্রামের মানুষও এ সুযোগকে কাজে লাগাতে পারছে। প্রত্যন্ত গ্রামের যে কোন স্থান থেকেই এখন বিশ্বের যে কোন স্থানের সঙ্গে যুক্ত হওয়া যাচ্ছে। এভাবে বিস্তৃতি পাচ্ছে সিটিজেন জার্নালিজম বা নাগরিক সাংবাদিকতা।

দেশের মানুষ এখন নিজেদের জীবন প্রবাহের খবরের সঙ্গে পাশের মানুষ, কাছের মানুষের খবরও জানতে চায়। এ থেকে উৎসারিত তথ্য ক্ষুধা মেটাতে তারা জানতে চায় দেশের তাবত খবর। রাজনীতিকরা কে কি বলছেন, কে কি করছেন, সরকার সার্বিক উন্নয়নে কতটা এগিয়ে যাচ্ছে, সরকারের উন্নয়নে কোথায় কি ঘাটতি তা জানার আগ্রহ নিয়ে তারা একে অপরের সঙ্গে নানা বিষয় ভাগাভাগি (শেয়ার) করে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কখনও যা ভাইরাল হয় তার সত্যতা যাচাইয়ের পালা শুরু হয়েছে। ভুল কিছু ভাইরাল করে পার পাওয়ার দিন ফুরিয়েছে। দ্রুত এই বিষয়গুলো নিয়ন্ত্রণের মধ্যে আসছে। নিয়ন্ত্রণে আইন হয়েছে। গণতন্ত্রে অবাধ তথ্য প্রবাহে গঠনমূলক সমালোচনার মধ্যেই ভালো কিছু এবং অনেক সৃষ্টিশীল ধারণা বের হয়ে আসে। এসডিজি অর্জনে দারিদ্র্য মোচন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, নারী উন্নয়ন, জেন্ডারে সমতা অর্জন, খাদ্য নিরাপত্তা, শিশু মৃত্যু ও মাতৃমৃত্যু হার কমানো, সম্পদের টেকসই ব্যবহার, সুশাসন শান্তিপূর্ণ অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রতিষ্ঠান বিনির্মাণে তথ্য বড় ভূমিকা রাখছে। সাধারণ মানুষের মৌলিক স্বাধীনতা, চিন্তা, বিবেক, বাক ও ভাব প্রকাশের স্বাধীনতা একীভূত হয়েছে অন্তর্জালের সহজলভ্যতায়।

পাশাপাশি প্রতিটি ইউডিসিকে আউটসোর্সিং ও ই-কমার্সের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার সুযোগ পাচ্ছে তারা। যেখানে উদ্যোক্তারা নিজেদের উদ্যোগে কোন ওয়েবসাইটে গিয়ে রোজগারের বিষয়গুলো সংগ্রহ করে ঘরে বসেই অর্থ রোজগার করতে পারছে। যারা শিক্ষিত তারা নিজেদের আপগ্রেড করে বিশ্ব বাতায়নের নতুন পথ খুঁজে নিতে পারছে। খোঁজখবর করে জানা যায় সফটওয়্যার তৈরিতে বড় একটি আসন করে নিয়েছে দেশের তরুণরা। সফটওয়্যার তৈরির পর দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশে রফতানি করতে পারছে। বিশ্বের উন্নত দেশগুলো এখন বাংলাদেশের সফটওয়্যার কিনছে।

শীর্ষ সংবাদ:
তিন পণ্য দ্রুত আমদানির পরামর্শ         শতবর্ষী কালুরঘাট সেতুর আরও বেহাল দশা         ঐক্য সুদৃঢ় আওয়ামী লীগের বিএনপি হতাশ         ইসি নিয়োগ আইন চলতি অধিবেশনেই পাসের চেষ্টা থাকবে         শান্তিরক্ষা মিশনে র‌্যাবকে বাদ দিতে ১২ সংগঠনের চিঠি         মাদকসেবীর সঙ্গে মাদকের বাজারও বাড়ছে         দেশে করোনা শনাক্তের সংখ্যা ১১ হাজার ছুঁই ছুঁই         বঙ্গবন্ধু জাতীয় আবৃত্তি উৎসব শুরু ২৭ জানুয়ারি         এবার কুমিল্লা ভার্সিটিতে রেজিস্ট্রার হটাও আন্দোলন         শাবিতে অনশনরতরা অসুস্থ হয়ে পড়ছেন, ৪ জন হাসপাতালে         ওয়ারীতে বাস থেকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে যাত্রী হত্যা         বিএনপি কখনও লবিস্ট নিয়োগের প্রয়োজন বোধ করেনি         অবশেষে চট্টগ্রামে হচ্ছে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিসৌধ, জাদুঘর         ২৪ ঘণ্টায় করোনায় মৃত্যু ৪, শনাক্ত ১০৮৮৮         দুর্নীতি রোধে ডিসিদের সহযোগিতা চাইলো দুদক         সন্ত্রাসীরা অস্ত্র তুললেই ফায়ারিং-এনকাউন্টারের ঘটনা ঘটে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী         সামাজিক অনুষ্ঠান বন্ধে ডিসিদের নির্দেশ         ব্যাংকারদের বেতন বেধে দিলো বাংলাদেশ ব্যাংক         মগবাজারে দুই বাসের প্রতিযোগিতায় প্রাণ গেল কিশোরের         জমির ক্ষেত্রে পাওয়ার অব অ্যাটর্নি বন্ধ হচ্ছে