রবিবার ২৩ ফাল্গুন ১৪২৭, ০৭ মার্চ ২০২১ ঢাকা, বাংলাদেশ
প্রচ্ছদ
অনলাইন
আজকের পত্রিকা
সর্বশেষ

সেচ ব্যবস্থার উন্নয়নে অভূতপূর্ব সাফল্য অর্জিত হয়েছে

  • সেমিনারে কৃষিমন্ত্রী ড. আবদুর রাজ্জাক

স্টাফ রিপোর্টার ॥ কৃষিবান্ধব বর্তমান সরকারের আমলে দেশে সেচ সুবিধা সম্প্রসারণ, সেচ খরচ হ্রাস ও সেচ ব্যবস্থার উন্নয়নে অভূতপূর্ব সাফল্য অর্জিত হয়েছে বলে জানিয়েছেন কৃষিমন্ত্রী ড. মোঃ আব্দুর রাজ্জাক। কৃষিমন্ত্রী আরও বলেন, বর্তমান সরকার সবসময়ই কৃষি ও কৃষকের কল্যাণে নিয়োজিত। স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধু কৃষি বিপ্লবের ওপর অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়েছিলেন। বঙ্গবন্ধু সেচের সম্প্রসারণ ও উন্নয়নে নিয়েছিলেন যুগান্তকারী পদক্ষেপ। তিনি নগদ ভর্তুকি ও সহজশর্তে ঋণ দিয়ে কৃষকের মাঝে সেচযন্ত্র বিক্রির ব্যবস্থা করেন। সে ধারা অনুসরণ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বর্তমান সরকারও সেচের আধুনিকায়নের মাধ্যমে সেচ সুবিধা সম্প্রসারণ ও সেচ খরচ কমাতে নিরলস কাজ করছে। ফলে, সেচের এলাকা সম্প্রসারণের পাশাপাশি কমে এসেছে সেচ খরচও। রবিবার রাজধানীর মানিক মিয়া এভিনিউয়ে বিএডিসি অডিটরিয়ামে ‘ভূগর্ভস্থ পানি মনিটরিং ডিজিটালাইজেশন’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন। বিএডিসি ‘ক্ষুদ্র সেচ উন্নয়নে জরিপ ও পরিবীক্ষণ ডিজিটালাইজেশন প্রকল্পের’ আওতায় এ সেমিনারের আয়োজন করে।

ড. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, বঙ্গবন্ধু কৃষির গুরুত্ব উপলব্ধি করে সেচের সম্প্রসারণ ও উন্নয়নে পদক্ষেপ নিয়েছিলেন। জার্মানি থেকে জরুরী ভিত্তিতে পানির পাম্প এনেছিলেন। ১৯৭১-৭২ সাল থেকে ১৯৭৪-৭৫ সাল- এই ৩ বছরে অগভীর নলকূপের সংখ্যা ৬৮৫টি থেকে বেড়ে ৪০২৯টি, গভীর নলকূপের সংখ্যা ৯০৬টি থেকে ২৯০০টি এবং পাওয়ার পাম্পের সংখ্যা ২৪,২৪৩টি থেকে ৪০,০০০টিতে দাঁড়ায়। সে ধারা অনুসরণ করে তারই সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বের সরকার কাজ করে যাচ্ছে। কৃষিমন্ত্রী আরও বলেন, পানির টেকসই ব্যবহার ও পানিসম্পদের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার জন্য ভূপরিস্থ পানির ব্যবহার বাড়াতে সরকার অত্যন্ত গুরুত্ব দিচ্ছে। নদী-খাল খনন ও পুনর্খনন, রাবার ড্যাম, জলাধার নির্মাণ, পানি সাশ্রয়ী পদ্ধতির ব্যবহারসহ অনেক উদ্যোগ বাস্তবায়ন করেছে। এর ফলে ভূপরিস্থ পানির ব্যবহার ক্রমান্বয়ে বাড়ছে এবং এই উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে। ইতোমধ্যে ফসল উৎপাদনে সেচের খরচ অনেক কমেছে। এটিকে আরও কমিয়ে আনতে উদ্যোগ অব্যাহত রয়েছে। সেচ দক্ষতাকে ৩৮% থেকে ৫০% উন্নীত করা হবে যাতে করে ভূপরিস্থ পানির ব্যবহার বাড়ে ও সেচ খরচ আরও কমে আসে।

বিএডিসির তথ্যে জানা যায়, বর্তমান সরকারের কৃষিবান্ধব নীতির ফলে গত ১০ বছরে সেচ এলাকা সম্প্রসারণ হয়েছে ১০.৫০ লাখ হেক্টও, খাল পুনর্খনন করা হয়েছে ৯৪৫৭ কি.মি, সেচনালা স্থাপন করা হয়েছে ১৩,৩৫১ কিমি এবং ১০টি রাবার ড্যাম ও ১টি হাইড্রলিক এলিভেটর ড্যাম নির্মাণ করা হয়েছে। ফলে, সেচ এলাকা ৫৬.২৭ লাখ হেক্টরে, সেচ দক্ষতা ৩৫% হতে ৩৮% এবং ভূপরিস্থ পানির ব্যবহার ২১% থেকে ২৭% এ উন্নীত করা সম্ভব হয়েছে। এবং সেচযোগ্য জমির ৭৩% সেচের আওতায় এসেছে। তাছাড়া, সেচের আধুনিকায়নে ভবিষ্যত পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে আগামী ২০৩০ সাল নাগাদ সরকারী ও বেসরকারী পর্যায়ে সেচকৃত এলাকা ৬০ লাখ হেক্টর, সেচ দক্ষতা ৩৮% হতে ৫০% এ উন্নীতকরণ, সেচকাজে ভূপরিস্থ পানির ব্যবহার ৩০% এ উন্নীত এবং ভূগর্ভস্থ পানির ব্যবহার ৭০% হ্রাস করা। সেমিনারে বিশেষ অতিথি ছিলেন কৃষি সচিব মোঃ মেসবাহুল ইসলাম। বিএডিসির চেয়ারম্যান মোঃ সায়েদুল ইসলামের সভাপতিত্বে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সেচ ও পানি বিভাগের অধ্যাপক ড. মোঃ আব্দুল মজিদ, সিইজিআইএসের নির্বাহী পরিচালক মালিক ফিদা আবদুল্লাহ খান, প্রকল্প পরিচালক মোঃ জাফর উল্লাহ ও বিএডিসির সদস্য পরিচালক (ক্ষুদ্র সেচ) মোঃ আরিফ বক্তৃতা করেন।

উল্লেখ্য, ভূগর্ভস্থ পানির স্তর পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে পানির টেকসই ব্যবহার ও সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার জন্য ১৯৬৭-৬৮ সালে বিএডিসি প্রাথমিক পর্যায়ে কন্ট্রাক গ্যাজের মাধ্যমে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর পরিমাপ কার্যক্রম শুরু করে। সম্প্রতি ‘ক্ষুদ্র সেচ উন্নয়নে জরিপ ও পরিবীক্ষণ ডিজিটালাইজেশনকরণ প্রকল্প’ এর আওতায় প্রতিটি উপজেলায় ১টি করে অর্থাৎ ৪৬টি ওয়াটার লেভেল ডাটা লগার স্থাপন করা হয়েছে। এর মাধ্যমে ভূগর্ভস্থ পানির অবস্থানচিত্র তৈরি এবং সময়ে সময়ে তা হালনাগাদ করা হচ্ছে। এছাড়া স্পেস টেকনোলজি ও রিমোট সেন্সিংয়ের মাধ্যমে নিয়মিত পর্যবেক্ষণ, তথ্য সংগ্রহ এবং জিআইএসের মাধ্যমে বিশ্লেষণ করে পানির স্তরের হালনাগাদ তথ্য দেয়া হচ্ছে। তাছাড়া সমুদ্র উপকূলবর্তী ৬০ টি উপজেলায় স্যালাইনিটি ডাটা লগার স্থাপনের মাধ্যমে ভূগর্ভস্থ লবণ পানি পর্যবেক্ষণ এবং অনুপ্রবেশ মনিটরিংয়ের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। তাই কৃষি, শিল্প ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের কাজে ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলন নিরুৎসাহিতকরণ, ভূগর্ভে পানির পুনর্ভরণ এবং ব্যবহার কমিয়ে এনে তার নিম্নগামিতা নিয়ন্ত্রণ করতে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর পরিবীক্ষণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

শীর্ষ সংবাদ:
বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা         ঐতিহাসিক ৭ মার্চ আজ         জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে সর্বস্তরের শ্রদ্ধা         কমনওয়েলথের শীর্ষ তিন মহিলা নেতার অন্যতম শেখ হাসিনা         বিএনপির ৭ মার্চ পালনের ঘোষণা রাজনৈতিক ভন্ডামি ॥ কাদের         যৌতুকমুক্ত সমাজ গড়তে সরকার বলিষ্ঠ পদক্ষেপ নিয়েছে ॥ তথ্যমন্ত্রী         বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ বিশ্বের শ্রেষ্ঠ ভাষণের মধ্যে অন্যতম ॥ আমু         সূত্রাপুরে হিযবুত তাহরীরের তিন সদস্য গ্রেফতার         গাছের সঙ্গে ধাক্কা লেগে মোটরবাইক আরোহী নিহত         ফেনীতে ভবনে বিস্ফোরণ, মা-মেয়েসহ তিনজন দগ্ধ         করোনায় আরও ১০ জনের মৃত্যু         নিষিদ্ধ হচ্ছে আরও সাত জঙ্গী সংগঠন         বেরোবির অনিয়মের নিরপেক্ষ তদন্ত হয়েছে : ইউজিসি         করোনা : ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু ১০, শনাক্ত ৫৪০         বিশ্ববাজারে দরপতনের আরও কমেছে স্বর্ণের দাম         বাংলাদেশের সাফল্যের প্রশংসায় ইতালির রাষ্ট্রপতি         বাংলাদেশ সব ক্ষেত্রেই অদম্য গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে ॥ পররাষ্ট্রমন্ত্রী         অনুপ্রেরণাদায়ী বিশ্বের তিন নারী নেতাদের একজন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা         “স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর ঐতিহাসিক ক্ষণে বিএনপি ষড়যন্ত্রের রাজনীতিতে ব্যস্ত”         “৭ মার্চ সারাদেশে নির্দিষ্ট সময়ে একযোগে প্রচার হবে বঙ্গবন্ধুর ভাষণ”