ঢাকা, বাংলাদেশ   বৃহস্পতিবার ০৮ ডিসেম্বর ২০২২, ২৪ অগ্রাহায়ণ ১৪২৯

monarchmart
monarchmart

আইসোলেশনে ৪০

আরও তিন করোনা রোগী শনাক্ত মোট আক্রান্ত ২৭

প্রকাশিত: ১০:২১, ২৩ মার্চ ২০২০

  আরও তিন করোনা রোগী শনাক্ত  মোট আক্রান্ত ২৭

নিখিল মানখিন ॥ দেশে নতুন করে আরও তিনজন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে করোনায় মোট আক্রান্তের সংখা দাঁড়াল ২৭ জনে। চিকিৎসাধীন রোগীদের আরও দু’জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন এবং এ নিয়ে সুস্থ হওয়া মোট রোগীর সংখ্যা ৫। বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছে ২০ জন। মৃতের সংখ্যা ২ জনই রয়ে গেছে। করোনা রোগী সন্দেহে আইসোলেশনে রয়েছে ৪০ জন। সিলেটে করোনা উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যাওয়া এক রোগীর নমুনা পরীক্ষা করে মৃত্যুর কারণ জানিয়ে দেয়া হবে বলে জানিয়েছে আইইডিসিআর। হাসপাতালে দর্শনার্থী প্রবেশ নিষিদ্ধ করেছে স্বাস্থ্য অধিদফতর। স্বাস্থ্য বাতায়নে বাড়ছে করোনা বিষয়ক কল। করোনা সংক্রমণের চারটি স্তরের মধ্যে বাংলাদেশ বর্তমানে দ্বিতীয় স্তরে (স্থানীয় সংক্রমণ) রয়েছে। করোনা সংক্রমণের পরবর্তী স্তর ‘কমিউনিটি ট্রান্সমিশন’, যা শুরু হলে দেশে করোনা প্রতিরোধ খুব কষ্টসাধ্য হয়ে দাঁড়াবে। তাই আগামী দু’ সপ্তাহ বাংলাদেশের জন্য খুব ‘বিশেষ সময়’ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধি ও রোগী মৃত্যুর ঘটনায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে দেশের মানুষ। করোনা প্রতিরোধ কমিটি গঠন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ, জনসমাগমে নিষেধাজ্ঞা, সচেতনতামূলক কার্যক্রম, হাসপাতালগুলোতে করোনা ইউনিট স্থাপন, নমুনা পরীক্ষাসহ দেশব্যাপী করোনা প্রতিরোধে নানা কর্মসূচী গ্রহণেও আশঙ্কামুক্ত থাকতে পারছে না সাধারণ মানুষ। বিদেশফেরতরাই এখন পর্যন্ত দেশে করোনা রোগী সংক্রমণের একমাত্র বাহক এবং তাদের বড় অংশ কোয়ারেন্টাইনের বাইরে থাকায় দেশবাসীর উদ্বিগ্ন হওয়ার প্রধান কারণ। এদিকে করোনা সংক্রমণের বিভিন্ন স্তর উল্লেখ করে বিশেষজ্ঞরা জানান, এই রোগ সংক্রমণের চারটি স্তর রয়েছে। প্রথম পর্যায় বিদেশ থেকে রোগের সংক্রমণ। এখানে সংক্রামিত দেশগুলো থেকে এই ধরনের রোগী দেশে প্রবেশ করে। এক্ষেত্রে যারা বিদেশ ভ্রমণ করেছেন কেবল তাদেরই ইতিবাচক পরীক্ষা করানো হয়। দ্বিতীয় পর্যায় স্থানীয় সংক্রমণ। এখানে আক্রান্ত ব্যক্তি থেকে স্থানীয়ভাবে সংক্রমণ হয়। উদাহরণস্বরূপ, যারা বিদেশ ভ্রমণ করেছেন তাদের আত্মীয় বা পরিচিতজনের মাধ্যমে এই রোগ ছড়ায়। স্থানীয় সংক্রমণে কম লোক আক্রান্ত হয়। কেননা ততক্ষণে ভাইরাসটির উৎস জানা যায়। ফলে এর সঙ্গে লড়াইটা অনেকটা সহজ হয়ে যায়। তৃতীয় পর্যায় কমিউনিটি সংক্রমণ। এই স্তরে রোগ কোনও সম্প্রদায়গতভাবে ছড়িয়ে পড়ে এবং বৃহত্তর অঞ্চলের মানুষ সংক্রামিত হয়। সম্প্রদায়ের সংক্রমণ তখনই হয় যখন কোন রোগী কোনও সংক্রামিত ব্যক্তির সংস্পর্শে না আসা সত্তে¡ও বা আক্রান্ত দেশগুলোর মধ্যে কোন একটি দেশে সফর না করা সত্তে¡ও তার শরীরে ওই রোগের সংক্রমণ ঘটেছে। এই পর্যায়ে, সংক্রামিতদের শরীরে কোথা থেকে এই ভাইরাস এসেছে তা শনাক্ত করা সম্ভব হয় না। যেমন, ইতালি এবং স্পেন রয়েছে তৃতীয় স্তরে। চতুর্থ পর্যায় যখন মহামারী। এটি সবচেয়ে খারাপ পর্যায়, যখন এই রোগটি কোন স্পষ্ট কারণ ছাড়াই মহামারীর আকার ধারণ করে। চীনেও এই ঘটনাই ঘটেছে। বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত কমিউনিটি ট্রান্সমিশন বা সম্প্রদায়গতভাবে সংক্রমণের ঘটনা ঘটেনি জানিয়ে স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডাঃ আবুল কালাম আজাদ বলেন, দেশে করোনা সংক্রমণের পরিস্থিতি প্রতি মুহূর্তে পর্যালোচনা করে দেখা হচ্ছে। পরিস্থিতি অনুযায়ী করোনা প্রতিরোধ কমিটির কর্মপরিকল্পনাতেও পরিবর্তন আসছে। তবে সামগ্রিকভাবে করোনা মোকাবেলায় পর্যাপ্ত প্রস্তুতি রয়েছে বাংলাদেশের। চীনে আক্রান্ত হওয়ার প্রাথমিক পর্যায় থেকেই অভিজ্ঞতা অর্জন করে নানা উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। এখন পরিস্থিতি অনুযায়ী সেগুলো প্রয়োগ করছি। সম্প্রদায়গতভাবে সংক্রমণ(অনির্দিষ্ট বাহক দ্বারা সংক্রামিত) যাতে না ঘটে, তা মোকাবেলা করতে নানামুখী পদক্ষেপ নিচ্ছে সরকার। তবে দেশের প্রত্যেক নাগরিকের আন্তরিক অংশগ্রহণ থাকলে করোনা সংক্রমণের যে কোন স্তরের পরিস্থিতি মোকাবেলা করা সম্ভব হবে বলে জানান মহাপরিচালক। আইইডিসিআর’র ব্রিফিং ॥ রবিবার রাজধানীর মহাখালীর বাংলাদেশ কলেজ অব ফিজিসিয়ানস এ্যান্ড সার্জনস (বিসিপিএস) মিলনায়তনে করোনাভাইরাস নিয়ে নিয়মিত ব্রিফিংয়ের আয়োজন করে আইইডিসিআর। এ সময় করোনা পরিস্থিতি তুলে ধরে জাতীয় রোগতত্ত¡, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) পরিচালক অধ্যাপক ডাঃ মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা। অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্যসচিব মোঃ আসাদুল ইসলাম, স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডাঃ আবুল কালাম আজাদ। অধ্যাপক ডাঃ সেব্রিনা ফ্লোরা বলেন, নতুন আক্রান্ত তিনজনের মধ্যে দু’জন পুরুষ এবং একজন নারী। তাদের মধ্যে দু’জন বিদেশফেরত এবং অন্য একজন বিদেশফেরত ব্যক্তির সংস্পর্শে গিয়ে সংক্রমিত হয়েছেন। আক্রান্তদের বয়স ৪০, ৩০ ও ২০ বছর। আক্রান্ত তিনজনের মধ্যে একজনের ডায়াবেটিস আছে। তবে তিনজনের মৃদু উপসর্গ আছে। অধ্যাপক ডাঃ ফ্লোরা আরও জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় সন্দেহজনক করোনা রোগী হিসেবে ৬৫ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে এবং এ পর্যন্ত মোট নমুনার সংখ্যা দাঁড়াল ৫৬৪টি। দেশে এখন পর্যন্ত করোনার সংক্রমণের কমিউনিটি ট্রান্সমিশন হয়নি বলে জানিয়েছে আইইডিসিআর। মিরপুরের টোলারবাগে যে রোগীকে করোনা আক্রান্ত বলে জানানোর পর তিনি মারা গেলেন। তিনি কোন প্রবাসী বা বিদেশীর সংস্পর্শে আসেননি। তাহলে তার ক্ষেত্রে সংক্রমিত হওয়ার উৎস কী ? সেক্ষেত্রে কি বলা যাবে দেশে করোনার কমিউনিটি ট্রান্সমিশন শুরু হয়েছে কি না - সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের উত্তরে অধ্যাপক ডাঃ সেব্রিনা ফ্লোরা বলেন, আমরা কমিউনিটি ট্রান্সমিশন বলার জন্য আরেকটু সময় নিচ্ছি। আমরা বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করছি। যে রোগীর কথা বলছেন (টোলারবাগে মৃত রোগী) তার ক্ষেত্রে আমরা তাদের পাশে বিদেশ থেকে এসেছেন এমন দুই ব্যক্তির সন্ধান পেয়েছি। আমরা তাদের নমুনা সংগ্রহ করেছি। আমরা দেখতে চাই তাদের সংক্রমণ ছিল কি না, ওই ব্যক্তির করোনা সংক্রমণ এদের কাছ থেকে এসেছে কি না। তাদের একজনের ক্ষেত্রে আমরা সমস্ত তথ্য সংগ্রহ করছি। আমরা ব্যাপকভাবে তাদের তথ্য সংগ্রহ করছি। অন্যজনেরও করছি। অন্য ক্ষেত্রে আমরা যেমন কন্টাক্টফেসিং করি, লক্ষণ উপসর্গ হওয়ার চার দিন আগে থেকে করি। ১৪ দিন আগে থেকে লক্ষণ উপসর্গ হয়। তাই এখানে ১৪ দিন আগে থেকে করছি। প্রত্যেকটা ক্ষেত্রেই আমরা চাই যে সোর্স অব ইনফেকশন কন্টাক্ট শনাক্ত করতে। কারণ, কমিউনিটি ট্রান্সমিশনের বিষয়টা হচ্ছে যখন সংক্রমণের বাহকের উৎস শনাক্ত করতে পারছি না। তথ্য সংগ্রহ শেষ করে পরীক্ষা-নিরীক্ষায় চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বের হলেই জানিয়ে দেয়া হবে দেশে কমিউনিটি ট্রান্সমিশন হয়েছে কিনা। হাসপাতালগুলোতে ভেন্টিলেশনের ব্যবস্থা থাকার বিষয়ে অধ্যাপক ডাঃ ফ্লোরা বলেন, সরকার ভেন্টিলেশন সাপোর্ট চালু রেখেছে। কুয়েত-মৈত্রী হাসপাতালে এই সাপোর্ট চালু রাখা হয়েছে। আরও কিছু হাসপাতালে এই সাপোর্ট চালু প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। তিনি আরও বলেন, আগে যাদের লক্ষণ উপসর্গ দেখে এবং বিদেশ থেকে আসা দেখে আমরা লক্ষণ উপসর্গ যাচাই করতাম এখন আমরা সেটা করছি না। এখন বিদেশ থেকে আসা দেখেই আমরা নমুনা সংগ্রহ করছি না। আমাদের কাছে যাদের প্রবল সন্দেহজনক মনে হয় তখনই আমরা তার নমুনা সংগ্রহ করি। চিকিৎসা না পাওয়ার অভিযোগ সাধারণ জ্বরে আক্রান্তদের ॥ দেশে করোনা রোগী শনাক্ত হওয়ার পর থেকেই সাধারণ মানুষের পাশাপাশি চিকিৎসা সেক্টরের চিকিৎসক, নার্স ও অন্য স্বাস্থ্যকর্মীদের মধ্যেও আতঙ্ক বিরাজ করছে। চিকিৎসা সুরক্ষা উপকরণ না থাকার অভিযোগ তুলে আসছেন চিকিৎসাসেবার সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা। করোনার কিছু উপসর্গের সঙ্গে দেশের সাধারণ রোগের উপসর্গ সর্দি-কাশি, জ্বর ও শ্বাসকষ্ট এর বেশ মিল থাকায় রোগী দেখতে ভয় পাচ্ছেন চিকিৎসক ও নার্সরা। কয়েকদিন মিরপুরের ডেল্টা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যাওয়া রোগীটি ‘ করোনা রোগী ’ হিসেবে নিশ্চিত হওয়ার পর চিকিৎসক নার্সদের আতঙ্কের মাত্রা যেন কয়েকগুণ বেড়ে গেছে। সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, জ্বর, সর্দি-কাশি ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে প্রতিদিনই রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতালে ভিড় করছে রোগীরা। সাধারণ জ্বর, সর্দি বা শ্বাসকষ্টের রোগীদের হাসপাতালে চিকিৎসা না দিয়ে, কোভিড-১৯ পরীক্ষার জন্য আইইডিসিআরে পাঠিয়ে দেয়া হচ্ছে। এখানেও পড়তে হচ্ছে নানা বিড়ম্বনায়। বিদেশফেরত বা এ ধরনের কারও সংস্পর্শে না আসাদের পরীক্ষা করছেন না তারাও। ব্যক্তিগত সুরক্ষার উপকরণ বা পিপিই না থাকায় অনেক চিকিৎসকই আতঙ্কে আছেন। তবে জ্বর-সর্দি হলেই আইইডিসিআর-এ না যাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা। পাশাপাশি চিকিৎসকদেরও আতঙ্কিত না হয়ে সতর্ক থেকে স্বাস্থ্যসেবা দেয়ার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। করোনা শনাক্ত করতে কিট সঙ্কটের কারণে হয়রানির শিকার হচ্ছেন সন্দেহভাজন রোগীরা। আবার কেউ সর্দি ও জ্বর নিয়ে হাসপাতালে গেলে, কোন হাসপাতাল তাকে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করাচ্ছেন না। বেসরকারী হাসপাতালগুলোতে এমন রোগী গেলে তাদের কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল, উত্তরা সরকারী কুয়েত মৈত্রী হাসপাতাল, মুগদা জেনারেল হাসপাতাল, মহানগর জেনারেল হাসপাতাল ও সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। এ নিয়ে করোনা রোগী নয়, এমন রোগীরা হয়রানির শিকার হচ্ছেন। এদিকে, গত ১৮ মার্চ ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের চার ডাক্তার করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ায় তাদের ‘হোম কোয়ারেন্টাইনে’ রাখা হয়। এ ঘটনায় সাধারণ মানুষের মতো আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে ডাক্তার ও স্বাস্থ্যকর্মীদের মধ্যেও। ফলে দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন জ্বর-সর্দি বা শ্বাসকষ্টের রোগীরা। চিকিৎসা নিতে গেলে বিভিন্ন হাসপাতাল থেকে করোনা আতঙ্কে রোগীদের ফিরিয়ে দেয়া হচ্ছে। হাসপাতালে দর্শনার্থী নিষিদ্ধ ॥ করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে দেশের হাসপাতালগুলোতে দর্শনার্থীদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করছে স্বাস্থ্য অধিদফতর। স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডাঃ নাসিমা সুলতানা স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। স্বাস্থ্য অধিদফতর সূত্রে জানা যায়, সকল বিশেষায়িত ইনস্টিটিউট, মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, জেলা সদর হাসপাতাল, সিভিল সার্জনসহ সংশ্লিষ্টদের এ সংক্রান্ত নির্দেশনার একটি চিঠি দেয়া হয়েছে। চিকিৎসা দেয়া সম্ভব রোগীদের সেবাদানের নির্দেশ বিএসএমএমইউ কর্তৃপক্ষের ॥ করোনাভাইরাস সংক্রমণজনিত উদ্ভূত পরিস্থিতি বিবেচনায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের বহির্বিভাগে আগত রোগীদের মধ্যে যাদেরকে আউটডোর ভিত্তিক চিকিৎসা দেয়া সম্ভব তাদেরকে সেভাবে চিকিৎসাসেবা প্রদান এবং গুরুতর অসুস্থ রোগীদেরকে জরুরী ভিত্তিতে হাসপাতালে ভর্তির নির্দেশ দিয়েছে অত্র বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। রবিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ডাঃ এ বি এম আব্দুল হান্নান স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট আবাসিক সার্জন ও আবাসিক চিকিৎসকদের প্রতি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের নির্দেশক্রমে এই নির্দেশ প্রদান করেছেন। এর আগে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপাচার্য অধ্যাপক ডাঃ কনক কান্তি বড়ুয়ার সভাপতিত্বে তার কার্যালয়ে এই বিষয়ে একটি জরুরী সভা অনুষ্ঠিত হয়। অফিস আদেশে আরও বলা হয়েছে, করোনাভাইরাস সংক্রমণজনিত উদ্ভূত পরিস্থিতি বিবেচনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের হাসপাতালে কর্মরত সকল চিকিৎসক, নার্স ও কর্মচারীদের জন্য কর্তৃপক্ষ পর্যাপ্ত সংখ্যক পারসোনাল প্রোটেকশন ইক্যুইপমেন্ট, মাস্ক, গ্লোভস, হ্যান্ড স্যানিটাইজারের ব্যবস্থা করেছে। বহির্বিভাগে আগত রোগী ও রোগীর স্বজনদের জন্য পর্যাপ্ত হ্যান্ড স্যানিটাইজার এবং হ্যান্ডওয়াশ-এর ব্যবস্থা করেছে। এমতাবস্থায় বহির্বিভাগে আগত রোগীদের মধ্যে যাদের আউটডোর ভিত্তিক চিকিৎসা দেয়া সম্ভব তাদের সেভাবে চিকিৎসা দিতে অনুরোধ করা হচ্ছে এবং গুরুতর অসুস্থ রোগীদের জরুরী ভিত্তিতে হাসপাতালে ভর্তির নির্দেশ দেয়া হলো। সোমবার থেকে জুম লাইন এ্যাপের মাধ্যমে প্রেস ব্রিফিং করবে আইইডিসিআর ॥ সোমবার থেকে জুম অনলাইন এ্যাপের মাধ্যমে ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহার করে করোনাভাইরাস নিয়ে নিয়মিত প্রেস ব্রিফিং করবে সরকারের রোগতত্ত¡, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর)। রবিবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে বাংলাদেশ কলেজ অব ফিজিশিয়ান এ্যান্ড সার্জনসে (বিসিপিএস) প্রতিদিনের ব্রিফিং শেষে স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডাঃ আবুল কালাম আজাদ এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, প্রতিদিনের মতোই বেলা ১২টায় এ ব্রিফিং হবে। ব্রিফিংয়ে অংশগ্রহণের জন্য ই-মেলে আমন্ত্রণপত্রও পাঠানো হবে। তখন আপনারা এই এ্যাপের মাধ্যমে ব্রিফিংয়ে অংশগ্রহণ করবেন। করোনা সন্দেহে সিলেটে এক রোগীর মৃত্যু ॥ স্টাফ রিপোর্টার সিলেট অফিস থেকে জানান, সিলেট শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত সন্দেহে মৃত্যুবরণকারী নারীর দাফন সম্পন্ন হয়েছে। রবিবার দুপুর দেড়টায় নগরীর মানিকপীর (র.) মাজার সংলগ্ন কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। সিলেটের সিভিল সার্জনসহ প্রশাসনের কর্মকর্তা ও মৃত মহিলার একজন স্বজন উপস্থিত ছিলেন। কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা হিসেবে মৃতদেহের কাছে কাউকে ঘেঁষতে দেয়া হয়নি। রবিবার রাত ৩টার দিকে লন্ডন ফেরত এই নারী নগরীর সিলেট শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে আইসোলেশনে ইউনিটে মারা যান। ৬১ বছর বয়স্ক ওই নারী গত ৪ মার্চ লন্ডন থেকে সিলেট আসেন। এরপর ১০ দিন ধরে জ্বর, সর্দি, কাশি ও শ্বাসকষ্টে ভুগছিলেন । গত ২০ মার্চ শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে তাকে ভর্তি করা হয়। অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় তাকে আইসোলেশনে রেখেছিলেন চিকিৎসকরা। রবিবার আইইডিসিআরের প্রতিনিধিদল সিলেটে এসে তার রক্তের নমুনা সংগ্রহ করার কথা ছিল বলে জানিয়েছেন সিলেটের সিভিল সার্জন প্রেমানন্দ মÐল। নোভেল করোনাভাইরাসে আক্রান্ত কি না তা নিশ্চিত হতে দাফনের আগে মৃত ব্যক্তির মুখের লালার নমুনা সংগ্রহ করা হয়। স্বামীর সঙ্গে দেশে এসেছেন তিনি। তাদের সন্তানরা যুক্তরাজ্যে রয়েছেন। এই বাসায় তাদের নাতি সম্পর্কিত আরেকজন স্বজন থাকেন। দেশে আসার পর এদিকে মৃত্যুবরণকারী ওই মহিলার পরিবারের ৩ সদস্যকে হাসপাতালে কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে। তবে তাদের শরীরে করোনাভাইরাসের কোন লক্ষণ দেখা যায়নি বলে দৈনিক জনকণ্ঠের স্টাফ রিপোর্টার সিলেট অফিস থেকে এসব তথ্য জানিয়েছেন। এদিকে, রবিবার রাজধানীর মহাখালীর বাংলাদেশ কলেজ অব ফিজিসিয়ানস এ্যান্ড সার্জনস (বিসিপিএস) মিলনায়তনে করোনাভাইরাস নিয়ে নিয়মিত ব্রিফিংয়ে সিলেটে করোনা সন্দেহে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রোগী মারা যাওয়ার বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর অধ্যাপক ডাঃ ফ্লোরা বলেন, আপনারা আরেক রোগীর কথা বলছেন, তার নমুনা এখনও আমাদের হাতে আসেনি। কিন্তু, যখনই আমরা সন্দেহ করি, তখনই করোনা ধরে নিয়েই আমরা সমস্ত ব্যবস্থা নেই। মৃত ওই রোগীর সৎকার করার ক্ষেত্রে করোনা রোগীর যেভাবে সৎকার করা হয় সেভাবেই করা হয়েছে। তবে তার নমুনা পরীক্ষার ফল এখনও আমাদের হাতে এসে পৌঁছায়নি।
monarchmart
monarchmart