শনিবার ২৭ আষাঢ় ১৪২৭, ১১ জুলাই ২০২০ ঢাকা, বাংলাদেশ
প্রচ্ছদ
অনলাইন
আজকের পত্রিকা
সর্বশেষ

ছাত্র রাজনীতির অতীত

  • আসিফ আহমেদ

সম্প্রতি বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার হত্যাকা- দেশে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি করেছে। সোশ্যাল মিডিয়ার সুবাদে সবাই এমন ঘৃণ্য কাজের নিন্দা করছেন। আবরারের চলে যাওয়া শুধু তার পরিবার নয় বরং দেশেরও ক্ষতি। এই হত্যাকা-ের জন্য অনেকেই শুধু রাজনীতিকে একমাত্র কারণ মনে করছেন, অনেকেই আবার মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। ইতোমধ্যে বুয়েট প্রশাসন ছাত্র রাজনীতি বন্ধ করায় অনেকেই স্বস্তি ফেলছেন। প্রশ্ন হচ্ছে আদৌ কি এটা বস্তুনিষ্ঠ স্থায়ী কোন সমাধান?

এই লাল-সবুজ পতাকার পেছনে ছাত্র রাজনীতির অবদান অবিচ্ছেদ্য। কিন্তু কালপরিক্রমায় আদর্শিক রাজনৈতিক চর্চার সঙ্গে বর্তমান ছাত্র রাজনীতির দূরত্ব বিরাজমান। ছাত্র রাজনীতি হলো রাজনীতির চর্চা তথা নেতৃত্বের শিক্ষার উর্বর জায়গা। উন্নত সমাজ গঠনে অংশগ্রহণ যেখানে পাথেয় হওয়ার ছিল সেখানে আজ আমরা হয়ত পথভ্রষ্ট। আবরারকে শক্তিবলে নয় বরং নিজেদের আদর্শিক যুক্তিবলে পরাস্ত করতে পারলে বাহবা প্রাপ্য ছিল। সহনশীলতা প্রকাশ পেত। কলমের সঙ্গে যুদ্ধ করতে হয় কলম দিয়ে, স্টাম্প দিয়ে পিটিয়ে নয়। এমন কাপুরুষোচিত কর্মকা- দিয়ে কোন আদর্শকেই আলোকিত করা যায় না। কেননা রাজনৈতিক আদর্শ নিজগুণেই উজ্জ্বল ও সমুন্নত। তা উজ্জ্বল করতে না পারেন অন্তত কালিমা লেপন করা থেকে তো বিরত থাকুন। যে কোনভাবে নিজেকে ফোকাসে আনা বর্তমানে আমাদের সমাজে খুব সাধারণ একটা প্র্যাক্টিস। আমরা সমাজকে যে কোনভাবে নিজেদের কর্তৃত্ব দেখাতে বেশি মনোযোগী। এ ফর্মুলাতে আমরা এত সয়ে গেছি যে উদ্দেশ্য সাধনে আমরা যে কোন হিং¯্র কাজ করতেও দ্বিতীয়বার ভাবার দরকার মনে করি না। হাস্যকরভাবেই সমাজে এসবেরই একটা নীরব গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। আর উঠতি বয়সীদের মধ্যে এই তাড়না আরও বেশি বেগবান থাকে। নিজের কর্তৃত্ব ও ইমেজকে আলাদা করার জন্য তারা একে অপরের প্রতি দমনপীড়ন পদ্ধতি ব্যবহার করতে চায়। আমাদের সমাজে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও রাজনৈতিক মেধাচর্চার গুরুত্ব একদম তলানিতে। আর যে সমাজ অন্যকে শ্রদ্ধা করতে জানে না, সে সমাজের মুখে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা/পরাধীনতা নিয়ে কথা বলা মানায় না। আগে স্বাধীনতাচর্চা জানতে হবে, তারপর তা পাওয়ার অধিকারের প্রশ্ন তুলতে পারব। আমাদের এসব চলমান অপমানসিকতা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। ছাত্র রাজনীতিকে মেধাচর্চা ও মতাদর্শে আরও বলীয়ান হয়ে এ প্রজন্মের স্পিরিটের সঙ্গে চলতে হবে। বিপরীত মতাদর্শকে ভয়ের পরিবর্তে তাদের সামনে ব্যাখ্যা তুলে ধরার অভ্যাস থাকতে হবে। অধিকন্তু, শুধু মাঠপর্যায়ের রাজনীতি নয় বরং নীতিনির্ধারণী বিষয়ে ছাত্রনেতারা গঠনমূলক মতপ্রকাশ করে অবদান রাখতে পারেন। জেলা-উপজেলা পর্যায়ে অনেক সামাজিক কাজে স্বেচ্ছাশ্রমের আয়োজন করতে পারেন। সর্বোপরি ছাত্র রাজনীতির বিগত ঐতিহ্যকে পুনরুজ্জীবিত করার দায়িত্ব বর্তমান নেতা-কর্মীদেরই নিতে হবে। অন্যথায়, আগামী প্রজন্ম ছাত্র রাজনীতিকে র‌্যাগিং, হানাহানি, চাঁদাবাজি ইত্যাদি দিয়েই চিহ্নিত করবে।

ফতুল্লা, নারায়ণগঞ্জ থেকে

শীর্ষ সংবাদ:
ডিজিটাল পশুর হাট নতুন মাত্রা যুক্ত করেছে ॥ স্থানীয় সরকার মন্ত্রী         দাম্মাম থেকে ফিরলেন ৪১২ বাংলাদেশি         করোনা ভাইরাসে আরও ৩০ জনের মৃত্যু, নতুন শনাক্ত ২৬৮৬         অনলাইনে কোরবানির গরু কেনার কথা জানালেন বাণিজ্যমন্ত্রী         নেপালে ভূমিধসে ২২ জনের প্রাণহানি         সাহারা খাতুন ছিলেন একজন সংগ্রামী নেতা ॥ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী         স্বাস্থ্য মন্ত্রী ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডিজির অপসারণের দাবিতে মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের ৭২ ঘন্টার আলটিমেটাম         করোনা ভাইরাস ॥ ভারতে শনাক্ত ৮ লাখ ও মৃত্যু ২২ হাজার ছাড়াল         বাবার মৃত্যুর পরও লাপাত্তা সাহেদ         চিরনিদ্রায় শায়িত সাহারা খাতুন         নোয়াখালীতে ধর্ষণ মামলার আসামি ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত         আড়াই লাখের বেশি বাংলাদেশীকে ফেরত পাঠাতে পারে কুয়েত         সাবেক উপদেষ্টা রজার স্টোনের সাজা মওকুফ করলেন ট্রাম্প         করোনা ভাইরাসে উন্নয়নশীল দেশগুলোকে মানবিক হওয়ার আহ্বান         যুক্তরাষ্ট্রের বিদায়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান বিপাকে         সাহেদরাই আওয়ামী শাসনের নমুনা ॥ রিজভী         রাষ্ট্রপতির ভাই করোনায় আক্রান্ত ॥ ভর্তি সিএমএইচে         নতুন রোগ মাল্টিসিস্টেম ইনফ্লেমেটরি সিনড্রোম বাংলাদেশে         করোনা কেড়ে নিল আরডিএ মহাপরিচালকের প্রাণ         করোনায় ব্রাজিলে মৃত্যু ৭০ হাজার ছাড়াল        
//--BID Records