ঢাকা, বাংলাদেশ   সোমবার ০৩ অক্টোবর ২০২২, ১৮ আশ্বিন ১৪২৯

শুভেচ্ছা দূতের আহ্বান

প্রকাশিত: ০৩:৩৮, ২৭ মে ২০১৮

শুভেচ্ছা দূতের আহ্বান

ইউনিসেফের শুভেচ্ছা দূত হিসেবে বাংলাদেশের রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করতে এসেছিলেন বলিউড তারকা প্রিয়াঙ্কা চোপড়া। কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের ৫টি রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করেছেন সাবেক এই বিশ্বসুন্দরী। তার এই আগমনে কিছুটা সময়ের জন্য হলেও রোহিঙ্গা ক্যাম্পে শিশুদের মধ্যে আনন্দের তরঙ্গ উঠেছিল। এই সফরের অপর তাৎপর্যপূর্ণ দিক হচ্ছে বাংলাদেশের মানবকিতাকে তিনি বিশ্বের দরবারে প্রশংসাপূর্ণভাবে তুলে ধরেছেন। এর পাশাপাশি বিশ্ববাসীর কাছে আন্তরিক আহ্বানও রেখেছেন। বলেছেন, কিভাবে দুস্থ মানবতার পাশে দাঁড়াতে হয় সে ব্যাপারে বাংলাদেশের কাছ থেকে বিশ্বের শিক্ষা নেয়া উচিত। প্রায় ১১ লাখ বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাকে আশ্রয় প্রদানে বাংলাদেশের বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রশংসাকালে তিনি এমন বলিষ্ঠ উচ্চারণ করেন। এ বলিউড তারকা রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শনকালে সেখানে শিশুদের যে ভোগান্তি দেখেছেন সে সম্পর্কে তার অভিজ্ঞতা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিনিময় করেন। গত বছরের ২৫ আগস্টের পরে রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে আসার পর থেকেই ইস্যুটি সারাবিশ্বে আলোড়ন তুলেছে। বিশ্ব ইতিহাসের অন্যতম বড় এই ঘটনা নিয়ে সোচ্চার বিভিন্ন মহল। রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে মিয়ানমারের ওপর চাপ প্রয়োগ ও নানা কূটনীতিক তৎপরতার সঙ্গে সঙ্গে প্রায় ১১ লাখ রোহিঙ্গাকে মানবিক কারণে আশ্রয় ও সার্বিক সহায়তা করছে বাংলাদেশ। একটি দেশের জন্য বড় চাপ হলেও বাংলাদেশ সে দায়িত্ব সূচারুভাবে পালন করছে। সীমিত সম্পদ ও অবস্থার বিবেচনায় জাতিসংঘসহ বিশ্বের ছোট-বড় বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা তাদের সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছে। আগত রোহিঙ্গাদের বেশিরভাগই নারী ও শিশু, তাছাড়া বাংলাদেশে আসার পর জন্ম নিয়েছে অনেক রোহিঙ্গা শিশু। বলিউড অভিনেত্রী প্রিয়াঙ্কা চোপড়ার আন্তরিক আহ্বান হৃদয় স্পর্শ করার মতোই। তিনি বলেছেন, ‘ফেলে আসা দুঃসহ স্মৃতি রোহিঙ্গা শিশুদের বাকি জীবন বয়ে বেড়াতে হবে। শারীরিক ও মানসিকভাবে তারা সবসময় দুর্বল থাকবে। অনেক রোহিঙ্গা শিশু ভয় নিয়েই বেড়ে উঠবে। এদের ভবিষ্যত বিনির্মাণে সবার সহযোগিতা দরকার। আমাদের সবার সহযোগিতায় বদলে যেতে পারে রোহিঙ্গা শিশুদের জীবন। আসুন, হাতে হাত রেখে, কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে সবাই একসঙ্গে তাদের জীবন পাল্টে দিতে কাজ করি।’ বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়েছিলেন প্রিয়াঙ্কা চোপড়া। ইউনিসেফের উদ্যোগের কথা তুলে ধরতে গিয়ে তার বক্তব্য ছিলÑ শিশুদের সহায়তা ও সুরক্ষা প্রদানে ইউনিসেফ ও তার অংশীদারের পক্ষে যতটুকু করা সম্ভব তার সবটুকুই তারা করেছে। তিনি যথার্থই অনুধাবনে সক্ষম হয়েছেন যে এটিও যথেষ্ট নয়। তাই আরও অনেক কিছু করার তাগিদ দিয়েছেন তিনি। শরণার্থীদের জন্য আরও বেশি তহবিল গড়ে তোলার বিষয়টি স্পষ্টভাবে উচ্চারণ করেছেন। সেটিই এই মুহূর্তে সবচেয়ে দরকারি। তাহলে তাদের জীবনটা আরেকটু সহজ হবে। আশ্রয়কেন্দ্রে মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত এই শিশুদের যতœ নেয়া এখন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দায়িত্ব। বিশ্ব সেই দায়িত্ব পালনে এগিয়ে না এলে রোহিঙ্গাদের একটি প্রজন্ম পুরোপুরি হারিয়ে যেতে পারে বলে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে সতর্ক করেছেন তিনি। ইউনিসেফের শুভেচ্ছা দূত প্রিয়াঙ্কা চোপড়ার এই সতর্কতামূলক উচ্চারণ ও রোহিঙ্গা শিশুদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় কিভাবে সাড়া দেয় এখন তারই অপেক্ষা। আমরা আশা করতে পারি, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের ওপর যে অত্যাচার হয়েছে তার বিরুদ্ধে বিশ্ববাসী নতুন করে সোচ্চার হবে। বিশ্বনেতৃবৃন্দও রোহিঙ্গাদের, বিশেষ করে শিশুদের বর্তমান ও ভবিষ্যত সুন্দর করতে আশু কার্যকর পদক্ষেপ নেবেন।