ঢাকা, বাংলাদেশ   মঙ্গলবার ০৯ আগস্ট ২০২২, ২৫ শ্রাবণ ১৪২৯

পরীক্ষামূলক

ওবামার সময়ে গৃহীত আইন রদ

যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হতে চলেছে মার্কিন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো

প্রকাশিত: ০৬:৩০, ২৮ মার্চ ২০১৮

যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হতে চলেছে মার্কিন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো

আমেরিকার স্কুলগুলোতে বর্ণবৈষম্য কমাতে সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ২০১৪ সালে শিক্ষা ও বিচার বিভাগের জারি করা একটি আইন বাতিল করেছে বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। চলতি গ্রীষ্মেই এটি কার্যকরের পরিকল্পনা করছে ট্রাম্প প্রশাসন। ওবামার সময় জারি করা আইনে সন্দেহভাজন শিক্ষার্থীদের বহিষ্কার বা গ্রেফতারের বিধান রাখা হয়েছিল। তুলনামূলকভাবে কঠোর হলেও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এরকম আইন প্রয়োজন ছিল। নিউইয়র্ক পোস্ট। সমালোচকরা বলছেন, ওই আইন বাতিল করার পর এখন বাজে আচরণকারীদের বিরুদ্ধে চোখ বন্ধ নীতি গ্রহণ করতে বাধ্য হবেন শিক্ষকরা এবং মার্কিন স্কুলগুলোর প্রশাসন ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়বে। প্রশাসন থেকে দেশটির সকল স্কুলকে এই মর্মে সতর্ক করা হয়েছে যে, বর্ণবাদজনিত অসাম্য নিয়ন্ত্রণে আনতে না পারলে স্কুলের বিরুদ্ধে তদন্ত ফেডারেল সহায়তা বন্ধ করে দেয়া হবে। পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রে স্কুলগুলো থেকে সাদা শিক্ষার্থীদের তুলনায় কালো শিক্ষার্থীরা গড়ে তিনগুণ বেশি বহিষ্কৃত হয়। সতর্কবার্তায় শিক্ষার্থীদের গ্রেফতারে অনুৎসাহিত করা হয়েছে এবং এ ধরনের কোন ঘটনা ঘটলে তার জন্য স্কুলের রিসোর্স অফিসার বা অন্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যদের দায়ী করা হবে বলে হুঁশিয়ার করা হয়েছে। সবাইকে এক ছাতার নিচে নিয়ে আসা ফেডারেল নীতিতে গ্রুপ কাউন্সিলিং সেশন এবং অন্য সব বিকল্প ঐতিহ্যবাহী নিয়মানুবর্তিতা অনুশীলনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের নিয়ন্ত্রণে রাখার নীতি নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। এরই মাঝে নিউইয়র্কসহ বিভিন্ন রাজ্যের ৩শ’টিরও বেশি স্কুলের উপর ফেডারেল তদন্ত চলছে। ম্যানহাটন ইনস্টিটিউটের শিক্ষা নীতি বিশেষজ্ঞ এবং সিনিয়র সহকারী ম্যাক্স এডেন বলেন, এর প্রতিক্রিয়া শ্বাসরুদ্ধকর। তিনি বলেন, জরিপে দেখা গেছে, শাসন ও শৃঙ্খলা ভেঙ্গে পড়াজনিত কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয় সংখ্যালঘু শিক্ষার্থীদের। সাধারণত শহরকেন্দ্রিক শিক্ষাঙ্গনগুলোতে হিংস্রতা ও বিশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে। নিউইয়র্কে শিক্ষার্থীদের স্কুল সাসপেনশন হ্রাস করার ফলে নগরীর পাবলিক বিদ্যালয়গুলোতে এমনসব অপরাধ, যেমন ডাকাতি এবং অগ্নিসংযোগ আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে। ২০ বছরের মধ্যে এই প্রথম ব্রুকসের একটি হাই স্কুলে ছুরিকাঘাতে হত্যার মতো ঘটনা ঘটেছে। ১৫ বছরের মধ্যে এই প্রথম একটি স্কুলে গুলি চালানোর মতো ঘটনা ঘটেছে। রাজ্য শিক্ষা বিভাগের পরিসংখ্যানে আরও দেখা গেছে, ২০০৭ সালের পরবর্তী যে কোন সময়ের তুলনায় ২০১৭ এবং ২০১৮ সালে নিউইয়র্কের পাবলিক স্কুলগুলোতে ধর্ষণ এবং যৌন অপরাধ বহুগুণ বেড়েছে। গবেষণায় দেখা গেছে, শিক্ষার্থীদের শাস্তির বিধিবিধান শিথিল করায় যুক্তরাষ্ট্র জুড়ে বিভিন্ন রাজ্যের ৫০টিরও স্কুলে সহিংস আচরণে একই ধরনের ভয়াবহতা দেখা দিয়েছে। বাফোলো, ডেনভার, সিরাকস, ফিলাডেলফিয়ার মতো রাজ্যের শিক্ষকদের বৃহৎ একটি অংশ বলছেন শিক্ষার্থীরা ফ্যাকাল্টি এবং স্টাফদের শারীরিকভাবে আক্রমণ করায় তারা এখন অনিরাপদ বোধ করছে। গত সপ্তাহে, বাল্টিমোরে শিক্ষার্থীদের বাবা-মা, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, পুলিশ এবং কমপক্ষে একটি স্কুল বোর্ড সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল মার্কিন শিক্ষা বিভাগের কর্মীদের সঙ্গে ভয়ঙ্কর ঘটনাগুলো নিয়ে আলোচনা করেন। তারা বলেন, ফেডারেল নির্দেশিকা কিভাবে স্কুলগুলোতে শিক্ষার্থীদের নানা ধরনের হিংসাত্মক কার্যকলাপ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর কোন পদক্ষেপ নেয়ার বিরুদ্ধে স্কুল প্রশাসক ও পুলিশকে আষ্টেপৃষ্ঠে বেঁধে ফেলা হয়েছে। নিকোল ল্যান্ডার নামে এক অভিভাবক বলেছেন, এই নীতিগুলো অত্যন্ত বিপজ্জনক, তারা আমাদের স্কুলগুলোকে যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত করছে।
ডিজিটাল বাংলাদেশ পুরস্কার ২০২২
ডিজিটাল বাংলাদেশ পুরস্কার ২০২২