ঢাকা, বাংলাদেশ   শনিবার ২০ আগস্ট ২০২২, ৫ ভাদ্র ১৪২৯

পরীক্ষামূলক

ফিরে দেখা

প্রকাশিত: ০৩:৩৪, ২০ অক্টোবর ২০১৭

ফিরে দেখা

বিএনপির সমালোচনার জবাব তৌহিদুর রহমান ॥ রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সমালোচনার জবাব দিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী। গত ১০ অক্টোবর রাজধানীর বিস মিলনায়তনে মির্জা ফখরুলের একটি জাতীয় দৈনিকে দেয়া সাক্ষাতকার পড়ে শোনান পররাষ্ট্রমন্ত্রী। সেই সাক্ষাতকারে প্রশ্ন করা হয়, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে রোহিঙ্গা সঙ্কট সমাধানে কি করবেন। সে সময় ফখরুল ইসলাম বেশ কয়েকটি পদক্ষেপের কথা বলেন। তবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফখরুলের সেসব পদক্ষেপের বিষয়ে জবাব দিয়ে বলেন, মির্জা ফখরুল যেসব পদক্ষেপের কথা বলেছেন, তার সবই সরকার থেকে করা হয়েছে। কোনটাই বাদ দেয়া হয়নি। তার দেয়া প্রস্তাবের চেয়েও আরও অনেক পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে বলে জানান পররাষ্ট্র মন্ত্রী। এ সময় হল ভর্তি দর্শক-শ্রোতারা সমস্বরে হেসে ওঠেন। খালেদার চেয়ে তারেক বড়! শরীফুল ইসলাম ॥ ১৮ অক্টোবর বেলা আড়াইটা। তিন মাস পর লন্ডন থেকে দেশে ফিরে আসা বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়াকে স্বাগত জানাতে কুড়িল ফ্লাইওভারের কাছে একটি ব্যানারসহ অপেক্ষা করছেন স্থানীয় ক’জন দলীয় কর্মী। ব্যানারে খালেদা জিয়ার চেয়ে তারেক রহমানের ডাবল সাইজের ছবি। এর কারণ জিজ্ঞেস করতেই এক বিএনপি কর্মী বলেন, তারেক রহমান আমাদের ভবিষ্যত নেতা তাই তাঁর ছবি বড়। তাহলে খালেদা জিয়া কি আপনাদের দলের প্রধান নেতা নন? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, হ্যাঁ অবশ্যই খালেদা জিয়া আমাদের দলের চেয়ারপার্সন, তিনিতো আছেনই। তারেক রহমানও একদিন দেশে ফিরে আসবেন এবং তিনিই দলের হাল ধরবেন। তারেক রহমানের প্রতি দলের নেতাকর্মীদের আশা-আকাক্সক্ষা একটু বেশি তাই আমরা তাঁর ছবিটি বেশি বড় করেছি। বিব্রত হেফাজত কর্মী! রুমেল খান ॥ ২০১৩ সালের ৫ মে। যেদিন হেফাজত ইসলাম শাপলা চত্বরে এসে মহাসমাবেশ করে, সবকিছু ভাঙচুর করে তুলকালাম কা- করে এবং ওই রাতেই পুলিশের ‘দশ মিনিটের দাবড়ানি’ খেয়ে লেজ গুটিয়ে পালালো ঢাকা ছেড়ে, সেদিনের ঘটনা এটি। ওইদিন সকালে দুলাভাই এনামুল হাসান আরিফের জরুরী ফোন পেয়ে যেতে হলো মতিঝিলে। তাকে কিছু শেয়ার সংক্রান্ত কাগজপত্র পৌঁছে দিতে হবে। গিয়েই দেখি রাস্তায়, মোড়ে, গলিতে, দোকানেÑ সর্বত্র পঙ্গপালের মতো লাঠিসোটা হাতে নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে বিভিন্ন বয়সের হেফাজত কর্মীরা। ক্রুদ্ধ ও উগ্র তাদের ভঙ্গি, চোখে সন্দেহের দৃষ্টি। আমার দিকে কয়েকবার তাকাল। তবে কপালগুণে কোন ঝামেলায় পড়লাম না। দেখলাম এক টোকাই শিশুকন্যাকে এক হেফাজত কর্মী শাসাচ্ছে মেয়ে হয়ে ঘরে না থেকে এখানে কেন এলো বলে। বেচারি ভয়ে কাঁদছে। কিন্তু কোন দয়ামায়া না দেখিয়ে চড়-থাপ্পড় দিয়ে মেয়েটিকে গলির ভেতরে পাঠিয়ে দিল হেফাজত কর্মীটি। এদিকে জরুরী কাজ সেরে বাসায় ফেরার জন্য মুগদাপাড়াগামী একটি ম্যাক্সিতে চড়ে বসলাম। একজন যাত্রীর কমতি। হেলপার হাঁক দিচ্ছে, ‘আর একজন মুগদা...’ অবশেষে একজন যাত্রী উঠতেই গাড়ি ছাড়ল। সেই যাত্রীটর দিকে তাকাতেই চক্ষু চড়কগাছ! একটু আগে টোকাই মেয়েশিশুকে যে মেরেছিল, এ সেই যুবক হেফাজত কর্মী! কপালে হেফাজত লেখা সংবলিত ব্যান্ড পরা। ম্যাক্সির যাত্রীরা একটু আগেই হেফাজতের বাড়াবাড়ি নিয়ে যে আলোচনা করছিলেন, সেটা থেমে গেল। হেফাজত কর্মী সিটে বসতে গিয়ে দারুণ বিব্রতবোধ করল। কেননা, তার পাশে বসা দুই চাকরিজীবী মহিলা! তারা তো মেয়েদের চাকরি করে জীবিকা অর্জনকে মোটেও সমর্থন করে না। যাহোক, তার এমন ‘কাচুমাচু’ অবস্থা দেখে অন্যান্য যাত্রীরা মুচকি মুচকি হাসতে লাগলেন।