মঙ্গলবার ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯, ২৪ মে ২০২২ ঢাকা, বাংলাদেশ
প্রচ্ছদ
অনলাইন
আজকের পত্রিকা
সর্বশেষ

পর্যটকবান্ধব পরিবেশ ও সুবিধা

  • রেহানা আক্তার

আমাদের দেশে বিদেশী পর্যটকরা কেন আসতে চায় না, তার কারণ বহুবিধ। প্রথমত, নিরাপত্তা ব্যবস্থা। যে কোন পর্যটক কোথায় বেড়াতে গেলে প্রথমেই মনে করে সে নিরাপদ কোন অঞ্চলে ঘুরতে যাচ্ছে তো? নাকি তাকে প্রতি পদে পদে বিড়ম্বনার মধ্যে পড়তে হবে! বাংলাদেশে পর্যটকদের জন্য যেটুকু নিরাপত্তার ব্যবস্থা আছে তা পর্যাপ্ত নয়। কক্সবাজার বা কুয়াকাটার সমুদ্র সৈকতে গেলে আপনারা দেখতে পাবেন স্থানীয় ভবঘুরে কিশোর হতে শুরু করে দোকানদার পর্যন্ত বিদেশীদের বিভিন্ন বিড়ম্বনার মধ্যে ফেলে। ফলে তিনি আর দ্বিতীয়বারটি বাংলাদেশের সৌন্দর্য দেখতে আসেন না। তিন পার্বত্যে আমি কিছুদিন কাজ করেছিলাম, কাজ করতে গিয়ে বহু বিষয় পর্যবেক্ষণ করেছি, তার মধ্যে ছিল পর্যটন শিল্প। আমার কাছে মনে হয়েছে সত্যিই তো বিদেশীরা কি আমাদের দেশে পর্যটক হিসেবে আসবে শুধুমাত্র মামের বোতলের পানি খেতে? প্রাকৃতিক নৈসর্গিক সৌন্দর্যের পাশাপাশি আরও কিছু আধুনিক পদ্ধতি সংযোজন করে প্রতিটি স্পটে নিরাপত্তা নিশ্চিতের মাধ্যমে থাকার ব্যবস্থা, দেশীয় খাবারের পাশাপাশি বিদেশী খাবারের সুবিধা থাকা, নিজের দেশের সংস্কৃতি তুলে ধরা, যানবাহনের সুব্যবস্থা, ইংরেজীতে অনর্গল কথা বলতে পারা স্মার্ট গাইড নিয়োগÑ এভাবে পর্যটকবান্ধব পরিবেশ গড়ে তোলা সম্ভব। দৃষ্টান্তস্বরূপ চীনের কুনমিং-এর স্টোন ফরেস্টের কথা বলা যায়। বাইরের অনেক দেশেই আমরা এমনটা দেখতে পাই, তার মধ্যে মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড, ব্যাংকক, চীন, জাপান, সিঙ্গাপুর, নেপাল অন্যতম। এসব দেশ পর্যটন খাতেই আয় করছে কোটি কোটি টাকা। যা বাংলাদেশও অনায়াসে পারে।

আমাদের রয়েছে পর্যটন মন্ত্রণালয়, যার মাধ্যমে আমরা বাংলাদেশের পর্যটন শিল্পে ঘটাতে পারি বিপ্লব। শুধুমাত্র দিবস পালন করা ছাড়া এই মন্ত্রণালয়ের তেমন কোন জোরালো কাজ কি আমরা দেখতে পাই? অগণতি জনবল কাজ করছে এই মন্ত্রণালয়ে, কিন্তু ফলাফল আশানুরূপ নয়। তাই পর্যটন শিল্পে পরিবর্তন আনতে হলে বিশ্বপরিস্থিতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে অত্যন্ত সুন্দরভাবে পরিকল্পনা করে এই শিল্পকে সাজাতে হবে। পাশাপাশি মিডিয়ার মাধ্যমে জোরালো প্রচারণা চালাতে হবে দেশী এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে। এখানে সম্পৃক্ত করতে হবে সৃজনশীল মানুষদের, যাদের দেখার আর বোঝার মনটি দেশীয় ধাঁচের কিন্তু আধুনিক। গতানুগতিক কর্মী দিয়ে এই শিল্পের পরিবর্তন আনা কখনই সম্ভব নয়। আমাদের দেশে যে জিনিসটি আমরা দেখতে পাই তা হলো যে যেটার যোগ্য তিনি কিন্তু ওই চেয়ারে নেই, আছে অন্যতর মানুষ। ফলে অগ্রগতি হচ্ছে না সেই সেক্টরের।

এদেশে বহু বিদেশী কাজ করছেন, কিন্তু দুই দিনের সাপ্তাহিক ছুটিটা তারা কাটিয়ে আসেন থাইল্যান্ড, ব্যাংকক বা ইন্দোনেশিয়াতে গিয়ে। কারণ কিন্তু ওই একটিই। তাদের জন্য কোন সেফ জোন বা নিরাপদ অঞ্চল আমাদের দেশে নেই, যেখানে গিয়ে তারা স্বাচ্ছন্দ্যে তাদের পরিবার বা প্রিয় মানুষটিকে নিয়ে সময় কাটাতে পারে। প্রতি সপ্তাহে এসব বিদেশী মোটা অঙ্কের একটি অর্থ খরচ করছে অন্য দেশে গিয়ে। আজ যদি আমাদের পর্যটন আধুনিক ও যুগোপযোগী হতো তা হলে তো এই অর্থ স্বদেশেই থেকে যেত। আর এই একটি খাতের অর্থ দিয়েই বাংলাদেশ দারিদ্র্য দূরীকরণে সহায়ক ভূমিকা রাখা সম্ভব হতো।

স্টামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা থেকে

শীর্ষ সংবাদ:
রিজার্ভ বাড়াতে মরিয়া ॥ নানামুখী কৌশল সরকারের         আঞ্চলিক সঙ্কট মোকাবেলায় প্রধানমন্ত্রীর পাঁচ প্রস্তাব         শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে দুই সেঞ্চুরিতে বাংলাদেশের দিন         রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন দুঃস্বপ্ন         দুর্নীতির মামলায় কারাগারে ওসি প্রদীপের স্ত্রী         একগুচ্ছ প্রণোদনায় ঘুরে দাঁড়াল শেয়ারবাজার         প্রভাবশালীদের দখলে উত্তরবঙ্গের অর্ধেক খাস জমি         সিলেটে বন্যাকবলিত এলাকায় খাবার পানির তীব্র সঙ্কট         মাঙ্কিপক্স নিয়ে সব বিমানবন্দরে সতর্ক অবস্থা         গম নিয়ে রাশিয়ার সঙ্গে বোঝাপড়ায় আগ্রহী আমদানিকারকরা         পদ্মা সেতু নিয়ে বড়াই করা উচিত নয় ॥ ফখরুল         শিক্ষক ও বিমানবাহিনীর সদস্যসহ সড়কে প্রাণ গেল ১৫ জনের         প্রমাণ ছাড়া স্বাস্থ্যকর পুষ্টিকর বলে প্রচার করা যাবে না         ফখরুলের বক্তব্য নতুন ষড়যন্ত্রের বহির্প্রকাশ ॥ কাদের         প্রস্তুত স্বপ্নের পদ্মা সেতু         পাম তেল রপ্তানিতে ইন্দোনেশিয়ার নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার         বাংলাদেশের কাছে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল বিক্রি করতে চায় রাশিয়া         রাজধানীতে ট্রাকে পণ্য বিক্রি করবে না টিসিবি         জাফরুল্লাহ চৌধুরীর ‘জাতীয় সরকার’ প্রস্তাবে বিব্রত বিএনপি         মঙ্গলবার আত্মসমর্পণ করে জামিন চাইবেন সম্রাট