ঢাকা, বাংলাদেশ   মঙ্গলবার ০৯ আগস্ট ২০২২, ২৫ শ্রাবণ ১৪২৯

পরীক্ষামূলক

মলিু শামস

পানি সম্মলেন ॥ ব্যবস্থাপনার নতুন পরকিল্পনা

প্রকাশিত: ০৫:২২, ২ আগস্ট ২০১৭

পানি সম্মলেন ॥ ব্যবস্থাপনার নতুন পরকিল্পনা

এক শ’ বছর ময়োদী সমন্বতি এক পানি ব্যবস্থাপনা পরকিল্পনা গ্রহণরে মধ্য দয়িে গতকাল শষে হলো তনি দনিরে পানি সম্মলেন। আগামী এক শ’ বছরে পানরি প্রাপ্যতা, ব্যবহার এবং প্রতবিশেগত বষিয়সহ ভূ-প্রাকৃতকি বচৈত্র্যি ও পানরি বশৈষ্ট্যিরে ভন্নিতা ববিচেনায় নয়ো হয়ছেে এ পরকিল্পনায়। সমতল, পাহাড় ও উপকূলীয় এলাকাকে আলাদা গুরুত্ব নয়িে গোটা দশেকে ছ’টি জোনে ভাগ করা হয়ছে।ে রাজধানী ঢাকাকে রক্ষা করতে নতুন খাল খনন, পুরনো খাল সংস্কার, জলাধার সংরক্ষণ ইত্যাদি পদক্ষপে নয়ো হয়ছে।ে ২০২১ সাল থকেে সরকারী উদ্যোগে ভূ-র্গভরে পানরি ব্যবহার কময়িে বভিাগীয় সদরে ভূ-উপরভিাগরে নরিাপদ পানি সরবরাহরে পরকিল্পনাও রয়ছে।ে ক’দনি আগে টানা বৃষ্টতিে জলাবদ্ধতায় ঢাকা শহররে যে অবস্থা হয়ছেলি তার প্রক্ষেতিে এ সময়ে এ সম্মলেন বশিষেভাবে প্রাসঙ্গকি। এমনতিইে সারা পৃথবিীতে ভূ-পৃষ্ঠরে পানরি স্তর ক্রমশ নমেে যাওয়ায় ভয়াবহ প্রাকৃতকি সঙ্কটরে সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়ছে।ে সম্মলেনে যে পরকিল্পনা নয়ো হয়ছেে তা খুবই যৌক্তকি, এর সঠকি বাস্তবায়ন হলইে ভাল। এ ভূ-খ-রে জনজীবনকে পানি প্রতনিয়িত প্রভাবতি করছে;ে কন্তিু পানরি ওপর মানুষ সভোবে নজিরে নয়িন্ত্রণ প্রতষ্ঠিা করতে পারনে।ি নদীকে ভক্তি করছে।ে তার ধ্বংসযজ্ঞে ভীত হয়ে দবেীর আসনে বসয়িে পূূজা করছে।ে কন্তিু বন্যা সমস্যা সমাধানরে যৌক্তকি কারণ খােঁজনে।ি গঙ্গা, যুমনা, সরস্বতী নয়িে বহু পৌরাণকি কাহনিী রচতি হয়ছে;ে কন্তিু ‘দ্য হস্টিোরসি’-এর মতো বই লখো হয়ন।ি খ্রস্টিরে জন্মরে প্রায় পাঁচ শ’ বছর আগে গ্রীক র্দাশনকি হরেোডোটাস এ বইয়ে নীলনদরে বন্যার কারণ, তার গত-িপ্রকৃতরি যৌক্তকি ব্যাখ্যা খুঁজছেনে। অথচ প্রাচীন ভারতরে মতো প্রাচীন গ্রীসরে সংস্কৃতওি মথিনর্ভির। গ্রীসরে র্দাশনকি বা জ্ঞানীরা সইে সুদূরকালওে ছলিনে নগররাষ্ট্ররে নাগরকি আর আঠারো শতক র্পযন্ত ভারতর্বষরে জনজীবন আর্বততি হয়ছেে সমাজকে কন্দ্রে কর।ে এ সমাজে যাঁরা জ্ঞান র্চচা করতনে তাঁরা অন্ত্যজ বা শ্রমজীবী শ্রণেীর শ্রমরে ওপর বঁেচে থাকলওে উৎপাদনরে সঙ্গে সরাসরি জড়তি এ মানুষগুলোর সঙ্গে তাঁদরে দূরত্ব ছলি সীমাহীন। শক্ষিার অধকিারবঞ্চতি মাটলিগ্ন এ মানুষরা খাল কটেে শস্যক্ষতেে পানি আনার কৌশল রপ্ত করছেলিনে। কূল ছাপয়িে নদীর পানি যাতে ফসলরে ক্ষতে ভাসয়িে না নয়ে সজেন্য বাঁধ দতিে শখিছেলিনে। দঘিি খুঁড়ে পানি মজুদ রাখার ব্যবস্থা করতনে। এসব করার প্রযুক্তি বাস্তব অভজ্ঞিতা দয়িে তাঁরা নজিরোই উদ্ভাবন করছেলিনে। কন্তিু পানি ব্যবস্থাপনার এ বাস্তব জ্ঞান ও প্রযুক্তি জ্ঞানর্চচার সঙ্গে যুক্ত হতে পারনে।ি পানি ব্যবস্থাপনা সর্ম্পকে ব্রটিশি সচে বশিষেজ্ঞ উইলয়িাম উইলকক্সরে লখো থকেে জানা যায়, গঙ্গা ও দামোদর নদীর র্উবর বন্যার পানি এবং প্রচুর পরমিাণ মৌসুমি বৃষ্টি হলওে জমরি র্উবরতা বাড়ানোর জন্য যথষ্টে ছলি না। র্উবরতা বাড়াতে সচেরে প্রচলন করা হয়। খালরে পাড় কটেে সচেরে ব্যবস্থা করা হতো। বন্যা শষে হলে সগেুলো বন্ধ করা হতো। খাল কাটার পর পানি বণ্টনরে দায়ত্বি পড়ত কৃষকদরে ওপর। প্রতটিি ক্ষতেে ঠকিমতো পানি পৗেঁছাল কনিা, তারা তা তদারক করতনে। র্পযাপ্ত পানি পতেনে কৃষকরা, যা অনকে সময় প্রয়োজন ছাপয়িে যতে। উইলকক্সরে মতে প্রাচীন বাংলার জনগণরে মধ্যে পারস্পরকি সহযোগতিার মনোভাব তরৈি হয়ছেলি এই পানি বতিরণরে মধ্য দয়িইে; কন্তিু পানি ব্যবস্থাপনা সর্ম্পকে সামগ্রকি ধারণা এতে পাওয়া যায় না। ড. নীহার রঞ্জন রায় বলছনে, প্রাচীন বাংলার পানি ব্যবস্থাপনার ক্ষত্রেে উৎপাদনরে সঙ্গে সরাসরি জড়তি ইতহিাসরে অর্কীততি জনগণরে ভূমকিা স্পষ্ট হয়; কন্তিু জনগণরে এই সৃজনশীলতার সঙ্গে সংসার থকেে দূরে অবস্থানরত মঠবাসী বৌদ্ধ সন্ন্যাসী আর শুদ্ধ-িসচতেন ব্রাহ্মণদরে জ্ঞানর্চচা যুক্ত হতে পারনে।ি ফলে প্রাচীন বাংলার তথা ভারতর্বষরে জ্ঞান ও প্রযুক্তি ইতহিাসরে প্রথম যুগে বকিাশরে সম্ভাবনা দখো গলেওে পরর্বতীকালে তা নর্জিীব হয়ে পড়।ে এ নর্জিীবতার কারণ সম্বন্ধে ঐতহিাসকি উপাদানরে অভাবে পঞ্চম শতকরে আগে নশ্চিতি কছিু বলা প্রায় অসম্ভব। যে কারণইে নর্জিীব হোক জ্ঞান ও রাষ্ট্র পরচিালনার অভজ্ঞিতা উচ্চশ্রণেীর একটি গোষ্ঠীর কাছে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ায় জ্ঞান-বজ্ঞিান ও প্রযুক্তরি বকিাশ থমেে গলে। এ তো গলে প্রাচীন ভারত বা বাংলার কথা। বজ্ঞিান-প্রযুক্তরি চরম বকিাশরে এই সময়ে এসওে পানি সম্পদরে সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা সম্ভব হয়ন।ি যা হয়ছেে তাতে সুবধিাভোগী গোষ্ঠীরই ভাগ্যরে পরর্বিতন হয়ছে,ে তার চয়েে বশেি তমেন কছিু হয়ন।ি নজিস্ব প্রযুক্তরি স্বাভাবকি বকিাশ না হওয়ায় বন্যা নয়িন্ত্রণ ও পানি ব্যবস্থাপনার পুরো বষিয়টি আজও পরনর্ভিরশীল হয়ে আছ।ে একটু পছেন ফরিে দখো যাক। উনশি শ’ চুয়ান্ন সালরে বন্যার পর ক্রুগ মশিন র্পূব পাকস্তিান সফর করে পানি ও বদ্যিুত উন্নয়ন র্কতৃপক্ষ (ওয়াপদা) গঠনরে সুপারশি কর।ে উনশি শ’ ঊনষাট সালে ওয়াপদা গঠতি হয়। একই সঙ্গে বন্যা নয়িন্ত্রণ ও সচে প্রকল্প নয়ো হয় অনকে। এর পাঁচ বছর পর পানসিম্পদ উন্নয়নে বশি বছর ময়োদী একটি মাস্টার প্ল্যানরে কাজ শুরু হয়। ওয়াপদাকে বন্যা, সচে নয়িন্ত্রণরে দায়ত্বি দয়োর সময় বাংলাদশে কৃষি উন্নয়ন র্কপােরশেন (বএিডসি)িকে উফশী ধানরে বীজ, রাসায়নকি সার, কীটনাশক বতিরণ জনপ্রয়ি ও বাজারজাতকরণরে দায়ত্বি দয়ো হয়। কাজগুলো ষাট দশকে ঢাক-ঢোল পটোনো ‘সবুজ বপ্লিব’-এর আওতায়ভুক্ত ছলি। বলার অপক্ষো রাখে না, এসবই হচ্ছলি বশ্বিব্যাংকরে পরার্মশ মতো। স্বাধীনতার পর এসব প্রকল্পরে মূল্যায়নরে তমেন কোন উদ্যোগ কোন সরকারই নয়েন,ি বরং একে সর্মথন দয়িে এগয়িে নয়িছে।ে বন্যা নয়িন্ত্রণ, পানি নষ্কিাশন এবং সচে প্রকল্পরে উদ্যোগ ও র্কাযপ্রণালী র্বণনার দললিদস্তাবজে রচতি হয়ছেে প্রচুর। কন্তিু ময়োদ শষেে এসব কি সুফল বয়ে এনছেে তা নয়িে মূল্যায়ন হয়ছেে খুব কম। বশ্বিব্যাংক এবং এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক এর পর পানি উন্নয়ন র্বোডরে আওতায় ভূমরি উপররে পানি প্রকল্প এবং বএিডসিরি আওতায় ভূ-র্গভরে পানি প্রকল্পরে প্রতি মনোযোগী হয়। পানি সংক্রান্ত এসব প্রকল্পরে শতকরা সত্তর ভাগ আশরি দশকরে প্রথমভাগ র্পযন্ত এ সংস্থা দুটোর অধীনে ছলি। পরে তা প্রায় আশি ভাগে উন্নীত হয়। কন্তিু এসব প্রকল্পরে ‘প্রকল্প সমাপ্ত’ি মূল্যায়ন হয়ছেে একবোরে কম। র্অথাৎ প্রকল্পরে প্রকল্প নয়ো হয়ছেে তার জন্য প্রচুর ফান্ড এসছে;ে কন্তিু কাজ হয়ছেে অশ্বডম্বি। উনশি শ’ আটাশি সালে এ্যালনে সি লন্ডিকুইস্ট কছিু বড় প্রকল্পরে তরিশি বছররে প্রকল্প সমীক্ষা করতে গয়িে বড় বড় শুভঙ্কররে ফাঁকি দখেতে পান। তাঁর নরিীক্ষায় বরেয়িে আসÑে ঢাকার এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক অফসি পানসিম্পদ উন্নয়ন বষিয়ক একটি প্রকল্পরেও সমাপ্তি রপর্িোট দখোতে পারনে।ি বশেরিভাগ ক্ষত্রেে প্রকল্পরে র্অথনতৈকি লাভরে ওপর নর্ভির করে প্রকল্পরে বন্যিাস হয়ছে।ে মঘেনা-ধনাগোদা সচে প্রকল্প এবং বরশিাল সচে প্রকল্পরে মতো বড় দুটো প্রকল্পে খরচরে ব্যাপক তারতম্য দখেতে পান তনি।ি এ দুটো প্রকল্পরে খরচ হক্টেরপ্রতি যথাক্রমে চার হাজার র্মাকনি ডলার এবং তনি শ’ ষাট র্মাকনি ডলার। সাহায্যনর্ভির এসব প্রকল্পে দাতারা তাদরে পছন্দমতো কনসালট্যান্ট নয়িোগ দয়ে। যোগ্যতা মুখ্য নয়, দাতাদরে পছন্দই এখানে শষে কথা। প্রকল্প ব্যয়রে বড় একটি অংশ কনসালট্যান্টদরে ফি হসিবেে দয়ো হতো। এ ক্ষত্রেে স্থানীয় কনসালট্যান্টদরে তুলনায় বদিশেী কনসালট্যান্টদরে ব্যয় পঁচশি গুণ বশে।ি পানসিম্পদ ব্যবস্থাপনার নামে এ ধরনরে সাহায্যনর্ভির প্রকল্পরে প্রতি কনসালট্যান্ট, আমলা, প্রকৌশলী সবার লোভনীয় দৃষ্টি থাক।ে পানি ব্যবস্থাপনা ও বন্যা নয়িন্ত্রণরে নামে স্বাধীনতার আগ-েপররে উদ্যোগে এ ধরনরে ধারাবাহকিতাই চলছ।ে বশ্বিব্যাংক বন্যা সমস্যার দাওয়াই হসিবেে সব সময়ই খুব ব্যয়বহুল কাঠামোগত সমাধান সুপারশি করে আসছে এবং বলতইে হয় এ ধরনরে সুপারশিরে টোপ গলোর জন্য দশেী-বদিশেী সুযোগসন্ধানীরা আগ্রহভরে অপক্ষো করে থাকনে। পঞ্চাশরে দশক থকেে শুরু করা পানসিম্পদ রক্ষা ও বন্যা নয়িন্ত্রণরে প্রচাররে ঢাক-ঢোল উনশি শ’ সাতাশি ও আটাশি সালরে ব্যাপক বন্যার হাত থকেে দশেকে রক্ষা করতে পারনে।ি অথচ মলিয়িন মলিয়িন ডলার খরচ হয়ছেে এ খাত।ে আশরি দশকরে ওই বন্যার পর করতির্কমা বশ্বিব্যাংক আবার নড়চেড়ে বস।ে ‘বন্যা নয়িন্ত্রণ’ এবং পানি ব্যবস্থাপনা নয়িে ব্যাপক তোড়জোড় শুরু হয়। দশেী-বদিশেী বশিষেজ্ঞরা নউিইর্য়ক, ওয়াশংিটন, লন্ডনে একাধকি বঠৈকে মলিতি হন। গুরুত্বর্পূণ নানান আলোচনা, গুরুগম্ভীর র্পযালোচনা শষেে বাংলাদশেরে বন্যা নয়িন্ত্রণরে জন্য যুগান্তকারী দাওয়াই ফ্লাড এ্যাকশন প্ল্যান (ফ্যাপ) প্রণয়ন করনে এবং অল্প সময়ে প্রকৃতি ও পরবিশেরে ক্ষতকির প্রভাব বরেয়িে পড়ায় দশে-েবদিশেে ব্যাপক সমালোচনার মুখে ফ্লাড এ্যাকশন প্ল্যান বাতলি করা হয়। অবশ্য এর বদলে যা গ্রহণ করা হয় তা নতুন আঙ্গকিে ওই ফ্যাপরেই ভন্নি সংস্করণ। সুতরাং বন্যা নয়িন্ত্রণে কাজ কি হয়ছেে তা সহজইে অনুমান করা যায়। এখন এই এক শ’ বছর ময়োদী পরকিল্পনা ধাপে ধাপে বাস্তবায়তি হোক এটাই সবার কাম্য।
ডিজিটাল বাংলাদেশ পুরস্কার ২০২২
ডিজিটাল বাংলাদেশ পুরস্কার ২০২২