রবিবার ১৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯, ২৯ মে ২০২২ ঢাকা, বাংলাদেশ
প্রচ্ছদ
অনলাইন
আজকের পত্রিকা

ঋণাত্মক হিসাবে শেয়ার কেনা-বেচার সুযোগ বাড়ানোর প্রস্তাব

অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ পুঁজিবাজারে ঋণাত্মক মূলধনধারী বিনিয়োগ হিসাবে শেয়ার কেনা-বেচা করার সুযোগ বাড়ানোর প্রস্তাব করেছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)। বাংলাদেশ মার্চেন্ট ব্যাংকার্স এ্যাসোসিয়েশন (বিএমবিএ) ও ডিএসই ব্রোকার্স এ্যাসোসিয়শনের (ডিবিএ) অনুরোধে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ এ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) কাছে এ প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। গত রবিবার প্রতিষ্ঠানটি বিএসইসিতে এই প্রস্তাব পাঠিয়েছে। ডিএসই সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে।

এদিকে বিএসইসি সূত্রে জানা গেছে, আজ মঙ্গলবার অনুষ্ঠিতব্য কমিশন বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হতে পারে। বিনিয়োগকারীদের নেগেটিভ ইক্যুইটির হিসাবে শেয়ার কেনাবেচার সুযোগ দিতে মার্জিন রুলস, ১৯৯৯ এর ৩ (৫) ধারার কার্যকারিতা আরও এক বছরের জন্য স্থগিত করা হতে পারে।

উল্লেখ্য, মার্জিন ঋণ হচ্ছে বিশেষ ধরনের ঋণ সুবিধা। শেয়ার কেনার জন্য ব্রোকারহাউস ও মার্চেন্ট ব্যাংক গ্রাহককে এই ঋণ দিয়ে থাকে। বিএসইসি প্রণীত মার্জিন রুলস,১৯৯৯ এর আওতায় এই ঋণ কার্যক্রম পরিচালিত হয়। ২০১০ সালের পর থেকে টানা দর পতনে অসংখ্য মার্জিন এ্যাকাউন্টে বিনিয়োগকারীর মূলধন ঋণাত্মক হয়ে পড়ে। ওই সব এ্যাকাউন্টে থাকা শেয়ার এবং মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিটের দাম এমন জায়গায় নেমে এসেছে যে, বিনিয়োগকারীর নিজস্ব মূলধন বলতে কিছু নেই। উল্টো গ্রাহকের কাছে টাকা পাবে ঋণদাতা প্রতিষ্ঠান। আইন অনুসারে এমন এ্যাকাউন্টে লেনদেন নিষিদ্ধ। ১৯৯৯ সালের মার্জিন রুলসের ৩ (৫) ধারায় উল্লেখ করা হয়েছে, কোন বিনিয়োগকারীর ডেবিট ব্যালেন্স ১৫০ শতাংশের নিচে নেমে গেলে ঋণদাতা প্রতিষ্ঠান তার কাছে নতুন করে মার্জিন চাইবে। এই মার্জিনের পরিমাণ এমন হবে যাতে তার ডেবিট ব্যালেন্স ১৫০ শতাংশের উপরে থাকে। নোটিস দেয়ার তিন কার্যদিবসের মধ্যে পর্যাপ্ত মার্জিন জমা দেয়া না হলে সংশ্লিষ্ট গ্রাহককে নতুন কোন লেনদেনের অনুমতি দিতে পারবে না ঋণদাতা প্রতিষ্ঠান।

বাজারে টানা দর পতনের পরিপ্রেক্ষিতে ঋণ নিয়ে টাকা খাটিয়ে লোকসানে পড়া বিনিয়োগকারীদের দাবি ও স্টক এক্সচেঞ্জের অনুরোধে ২০১৩ সালের এপ্রিলে মার্জিন রুলসের সংশ্লিষ্ট ধারাটির কার্যকারিতা স্থগিত করা হয়। এরপর দুইবার স্থগিতাদেশের মেয়াদ বাড়ানো হয়। প্রতিবারই স্টক এক্সচেঞ্জ কর্তৃপক্ষের অনুরোধে নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি আইন শিথিলের ওই নির্দেশনা জারি করে। কিন্তু গত বছর এ বিষয়ে স্টক এক্সচেঞ্জ কোন অনুরোধ না জানানোয় বিএসইসি এই বিষয়ে নতুন কোন নির্দেশনা জারি করেনি। ফলে স্থগিতাদেশের মেয়াদ গত ৩১ ডিসেম্বর শেষ হয়ে যায়।

বিএসইসির উর্ধতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, পুঁজিবাজারের স্বার্থে বিষয়টি কমিশন বিবেচনা করতে পারে। এটির বিষয়ে এখনও কোন সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে বিষয়টি নিয়ে ইতিবাচক অবস্থানে আছে কমিশন।

শীর্ষ সংবাদ: