ঢাকা, বাংলাদেশ   শুক্রবার ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১৫ আশ্বিন ১৪২৯

নিয়ামত হোসেন

চক্ষু মেলিয়া

প্রকাশিত: ০৬:০৬, ৩০ ডিসেম্বর ২০১৬

চক্ষু মেলিয়া

প্যারিসে ইঁদুর আর ইঁদুর!... ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিস ভরে গেছে ইঁদুরে। শহরজুড়ে ইঁদুর। এখানে-সেখানে, ইঁদুর। লোকের বাড়িতে বাড়িতে, দোকান পাটে, এ এলাকায়, সে এলাকায়- সবখানে ইঁদুর। লোকজন অনেকদিন ধরে ইঁদুরের জ্বালায় অতিষ্ঠ। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অনেকবার দরখাস্ত করেছে। দরখাস্ত অর্থাৎ ইঁদুর মারার জন্য তগিদ দিয়ে আবেদন। বহু আবেদন এরইমধ্যে জমা পড়েছে সেখানে। সেখানকার অভিজাত এলাকা লা মারে। সেখানেও লোকজন অতিষ্ঠ। আবেদন সেখান থেকেও গেছে। উৎপাতটা চলছে অনেকদিন ধরে মাঝে মাঝে ইঁদুর মারার জন্য বেশকিছু অভিযান চালানো হয়েছে। তাতে ফল পাওয়া গেছে সামান্য। ক’দিন যেতেই আবার সেই একই অত্যাচার। ইঁদুরের জ্বালাতন। কর্তৃপক্ষ নাকি এখন খুঁজছেন দীর্ঘমেয়াদী বা স্থায়ী সমাধান। প্রকাশিত এক তথ্যে জানা গেল এসব কথা। প্যারিসে ইঁদুর বরাবরই ছিল। আগে ছিল অল্পস্বল্প। ঝোপে ঝাড়ে, ড্রেনে দেখা যেত ইঁদুর। কিন্তু ওদের বংশবিস্তার অতি দ্রুত এমনভাবে ঘটবে তা কেউ ধারণা করেনি। এখন নাকি ওই শহরের নানা স্থানে নানা জায়গায় ইঁদুরের রাজত্ব। ধেড়ে, নেংটি- জাতের ইঁদুর এখন মিলবে সেখানে। এটা কাটছে, ওটা নষ্ট করছে। লোক দেখলেই সঙ্গে সঙ্গে আত্মগোপন, লোকজন চলে গেলেই সঙ্গে সঙ্গে আত্মপ্রকাশ। দিনে বিভিন্ন এলাকায় অবস্থা ওই রকমই। আর রাতে তো কথাই নেই। বিভিন্ন এলাকায়, বাড়িতে গভীর রাতে শুরু হয় ইঁদুরদের উৎপাত! ইঁদুরের ব্যবহার তথা স্বাভাব ভাল নয়। ঠিক উইপোকার মতো এ নিয়ে এক বিখ্যাত কবিতা রয়েছে। যাতে বলা হয়েছে : ‘উই আর ইঁদুরের দেখ ব্যবহার/যাহা পায় তাহা কেটে করে ছারখার/ কাঠ কাটে/ বস্ত্র কাটে/ কাটে সমুদয়/সুন্দর সুন্দর দ্রব্য কেটে করে ক্ষয়।’ ধারণা হয় ইঁদুরেরা টিকে আছে যুগ যুগ ধরে। প্রায় আরশোলা অর্থাৎ তেলাপোকার মতো। কত ইঁদুর যুগে যুগে মারা হয়েছে, ধরা হয়েছে, তবু ওরা যেন শেষ হয়নি। আবার ফিরে এসেছে মাঠে, ঘাটে, বাড়িতে লোকালয়ে। ওদের পিটিয়ে মারা হচ্ছে, ধরে ধরে লেজ কাটা হচ্ছে। নানা ধরনের কল পেতে ফাঁদে ফেলে ওদের ধরা হচ্ছে সেই কত কাল থেকে। কিন্তু ইঁদুরের সংখ্যা কত! রূপকথা উপন্যাসেও ইঁদুরের ঘটনা পাওয়া গেছে। হ্যামিলনের বাঁশিওয়ালার মোহনীয় বাঁশির সুর বাজিয়ে গোটা এলাকা থেকে ইঁদুর তাড়ানোর গল্পও শোনা গেছে। কিন্তু কোথায় নেই ইঁদুর! যেমন এশিয়ায়, তেমনি ইউরোপে। কোন দেশ যখন ওদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে পড়ে তখনই ওদের উৎপাত নিয়ে খবর হয়। এমন জ্বালাতনকারী ক্ষুদ্র এই প্রাণীটি কারও যে কোন কাজে লাগে না তা বলা যাবে না। বিজ্ঞানী মহলে কিন্তু এদের দাম আছে। অনেক বিজ্ঞানী ইঁদুর নিয়ে নানা পরীক্ষা চালান। সেটা অবশ্য ইঁদুরের কল্যাণের জন্য নয়, মানুষের কল্যাণের জন্য। কোনকিছু পরীক্ষা করা কোন ওষুধ পরীক্ষা করাÑ এসব কাজে ইঁদুর বিজ্ঞানীদের তথা মানুষকে সাহায্য করে। খানিটা হলেও উপকার তো হয় ওদের দিয়ে! যাই হোক, তারপরও তারা অচ্ছুত, পরিত্যাজ্য। কারণ ওদের দ্বারা ক্ষতির পরিমাণ অনেক বেশি! প্যারিসে ইঁদুরের, জ্বালা এমন বেড়েছে যা নিধনে বহু চেষ্টা চালাচ্ছেন সেখানকার কর্তৃপক্ষ। কিন্তু কাজ হচ্ছে না! এখন দেখা যাক শেষ পর্যন্ত তাঁরা কী করেন। এ ব্যাপারে যদি কখনও আন্তর্জাতিক সাহায্য-সহযোগিতা চাওয়ার কথা ভাবা হয়, তখন কোন দেশ বেশকিছু হুলো বিড়াল পাঠানোর কথা হয়ত ভাববে! এসব কল্পনার কথা। আসলে দেখা যাক ওরা কোন পদ্ধতি ব্যবহার করে! হ্যামিলনের বাঁশিওলার যুগ থাকলে না হয় ছিল অন্য কথা! পাকা চোর অতিশয়! আমেরিকার টেনেসি অঙ্গরাজ্য। সেখানকার এক শহরে মেমফিস। সেদিন সেখানে এক ব্যাংক ডাকাতির ঘটনা ঘটল অদ্ভুতভাবে। শহরের একটি ব্যাংকে কাজকর্ম চলছে। লোকজন যাচ্ছে, আসছে। এক সময় দেখা গেল, ব্যাংকে ঢুকছে অদ্ভুত পোশাকধারী এক লোক। দেখা মাত্র সবাই তাকে চিনলÑ আরে আরে এ-যে সাধারণ কেউ নয়! সান্তা ক্লজ। সান্তা ক্লজের কথা কে না জানে এই এক ধরনের লম্বা পোশাক, কাঁধে ঝোলা, মুখে মিষ্টিহাসি। ওদের কাউকে বলতে হবে না কে সান্তা ক্লজ! ব্যাংকে ঢোকামাত্র সবাই যেন খুশি। সান্তা ক্লজ একজনের কাছ থেকে আরেক জনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। সবার হাতে তুলে দিচ্ছে ক্যান্ডি অর্থাৎ লজেন্স, চকোলেট জাতীয় নানা উপহার। সবাই সেসব পেয়ে মহাখুশি। চলছে বড়দিনের আমেজ। এভাবে ক্যান্ডি দিতে দিতে এগিয়ে যায় লোকটি। চলে যায় ক্যাশ কাউন্টারে। তারপর-ই অস্ত্র প্রদর্শন! টাকা অর্থাৎ ওদেশের মুদ্রা ডলার লুট! নিমেষে বেশ কয়েক মুঠো ডলার নিয়ে অস্ত্র উঁচিয়ে মুহুূর্তেই যেন বেরিয়ে গেল ব্যাংক থেকে। তারপর নিমেষে চম্পট! ব্যাংকের লোকজন হতভম্ভ! চোখের সামনে একী হয়ে গেল সবাইকে বোকা বানিয়ে চলে গেল লোকটা! মুহূর্ত কয়েক যেন কাটল হতভম্ভের মতো! তারপর সবার সম্বিত যখন ফিরে এলো ততক্ষণে কম্ম সাবাড়, লোকটি ততক্ষণে পগার পার! ঘটনাটির খবর হয়েছে। শুধু এটুকই জানা গেছে যে, লোকটিকে খোঁজা হচ্ছে। হয়ত ধরাও পড়বে একসময়। উৎসবের সময় বুঝে, লোকজনের মনের অবস্থা বুঝে অপরাধীরা অপরাধ করে থাকে। এজন্য প্রয়োজন সব সময় সাবধানতা। ব্যাংকটির যে ক্ষতি হয়ে গেছে তা-তো ওই কয়েকটা লজেন্স চকোলেট দিয়ে পোষাবে না! লোকটাকে ধরতেই হবে। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যা করার করবেন। অন্যদের কিছু বলার নেই। আমরা শুধু কবির ভাষায় বলতে পারি : ‘ব্যাটা সাধুবেশে পাকা চোর অতিশয়।’