ঢাকা, বাংলাদেশ   মঙ্গলবার ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ২৫ মাঘ ১৪২৯

monarchmart
monarchmart

পাঁচ দফা প্রস্তাব দিলেন এরশাদ

নির্বাচন কমিশন গঠনে আইনী কাঠামো চাই

প্রকাশিত: ০৫:০৫, ২৭ নভেম্বর ২০১৬

নির্বাচন কমিশন গঠনে আইনী কাঠামো চাই

স্টাফ রিপোর্টার ॥ নতুন নির্বাচন কমিশন গঠনে পাঁচ দফা প্রস্তাব তুলে ধরেছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। কমিশন গঠনে বর্তমান সংসদেই আইন পাস করার দাবি জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর এই বিশেষ দূত। একই সঙ্গে তিনি বর্তমান নির্বাচন-পদ্ধতির পরিবর্তন করে দলভিত্তিক ভোটের আনুপাতিক হারে সংসদ নির্বাচনের দাবি পুনর্ব্যক্ত করেন। শনিবার সকালে রাজধানীর গুলশানে একটি মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনে এইচএম এরশাদ এ দাবির পাশাপাশি নির্বাচন কমিশন গঠন ও নির্বাচন-পদ্ধতি সংস্কারে দলের পক্ষ থেকে প্রস্তাব উপস্থাপন করেন। গত ১৯ নবেম্বর বিএনপির চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়াও সংবাদ সম্মেলন করে নতুন নির্বাচন কমিশন গঠনে ১৩ দফা প্রস্তাব দেন। এরপর বিভিন্ন মহল থেকে প্রশ্ন ওঠে যে বিএনপি নির্বাচন কমিশন (ইসি) গঠনে আইন চায় না কেন? এর জবাবে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, বর্তমান সংসদের ১৫৪ জন সাংসদ বিনা ভোটে নির্বাচিত এবং বাকি ১৪৬ জন নির্বাচিত হয়েছেন মাত্র ৫ শতাংশ ভোটারের অংশগ্রহণের মাধ্যমে। এই অনির্বাচিত সংসদ যদি কোন আইন বা বিধি প্রণয়ন করে, তার নৈতিক ভিত্তি হবে খুবই দুর্বল এবং তা অনেক রাজনৈতিক দলসহ দেশবাসীর কাছে অগ্রহণযোগ্য হয়ে যেতে পারে। ২৩ নবেম্বর সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি মহাসচিব বলেন, সব নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল সমঝোতা ও ঐকমত্যের ভিত্তিতে নির্বাচন কমিশন গঠন আইন প্রণীত হলে তারা অভিনন্দন জানাবেন। এরপর নতুন করে নির্বাচন কমিশন গঠনের ব্যাপারে দলের পক্ষ থেকে প্রস্তাব দিয়েছেন বিএনপির সাবেক মন্ত্রী নাজমুল হুদা। যদিও রাজনীতিতে সবচেয়ে বেশি দলের সমন্বয়ে গঠিত রাজনৈতিক জোটের নেতার প্রস্তাবে কোন আলোচনা নেই। সংবাদ সম্মেলনে এরশাদ বলেন, সংবিধানে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও নির্বাচন কমিশন নিয়োগ সংক্রান্ত আইন প্রণয়নের কথা বলা থাকলেও এ সংক্রান্ত কোন আইন নেই। তিনি আরও বলেন, সংবিধান অনুসারে নির্বাচন কমিশন নিয়োগে আইনী কাঠামো প্রণয়ন করতে হবে এবং বর্তমান সংসদেই এ আইন পাস করতে হবে। নির্বাচন কমিশন নিয়োগ-প্রক্রিয়াকে যদি আমরা একটি আইনী কাঠামোর মধ্যে নিয়ে আসতে পারি, তাহলেই কেবল কমিশন নিয়োগ বিতর্কমুক্ত হতে পারে। বর্তমান নির্বাচন-পদ্ধতির পরিবর্তন চেয়ে জাপার চেয়ারম্যান বলেন, আমরা চলমান নির্বাচন পদ্ধতির পরিবর্তন চাই। নির্বাচন-পদ্ধতির সংস্কার ছাড়া দেশে সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচন আশা করা যায় না। এ পদ্ধতির কারণে হয় অর্থের দাপট নতুবা মস্তানের দাপট জয়ী হয়, পরাস্ত হয় সততা ও যোগ্যতা। এর ফলে সংসদে সৎ, বিজ্ঞ এবং ত্যাগী রাজনৈতিক নেতাকর্মীরা জনপ্রতিনিধি হিসেবে আসতে পারছেন না। বর্তমানে ব্যবসায়ীদের হার এখন ৬০-৬৫ ভাগে পৌঁছে গেছে। ভোটের আনুপাতিক হারে আসন বণ্টন ॥ এরশাদ বলেন, সংসদীয় পদ্ধতির সরকারে রাষ্ট্র পরিচালনা হয় দলীয় শাসন ব্যবস্থায়। তাই সংসদ নির্বাচনও দলের ভিত্তিতে হতে পারে। অর্থাৎ সংসদীয় আসনের ভিত্তিতেই নির্বাচন হবে এবং ভোটাররা সরাসরি দলকে ভোট দেবেন। কোন প্রার্থীকে নয়। প্রতিটি দল প্রাপ্ত ভোটের আনুপাতিক হারে আসন পাবে। তবে এ ক্ষেত্রে রাজনৈতিক দলের কাস্টিং ভোটের মধ্যে ন্যূনতম ভোট পাওয়ার সীমা থাকবে। প্রস্তাবে বলা হয়, প্রতিটি দল নির্বাচনে তাদের প্রার্থী তালিকা তৈরি করে নির্বাচন কমিশনে জমা দেবে। নির্বাচনী ইশতেহারের মতো এই প্রার্থী তালিকা তারা দেশবাসীর কাছে উপস্থাপন করবে। তারপর দলগুলো নিজস্ব প্রতীকে নির্বাচনে অংশ নেবে। সারাদেশে যে দল বেশি ভোট পাবে, সে দল বেশি সাংসদ পাবে। এরপর রাজনৈতিক দলগুলো জমা দেয়া প্রার্থী তালিকা থেকে ক্রমিক অনুসারে অথবা দলীয় সিদ্ধান্ত অনুসারে সাংসদ মনোনীত করবে। যদি কোন দল কাস্টিং ভোটের ৫০ ভাগ পেয়ে যায়, তাহলে তারা ১৫০ আসন পাবে। আবার যদি কোন দল কাস্টিং ভোটের ১ ভাগ ভোট পায়, তাহলে সে দল তিনজন সাংসদ পাবে। প্রাপ্ত ভোটের ভগ্নাংশের সুবিধা পাবে সর্বাধিক ভোটপ্রাপ্ত দল। এ পদ্ধতিতে স্বতন্ত্র প্রার্থীরাও নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন। সে ক্ষেত্রে ওই আসনের মোট কাস্টিং ভোটের ৫০ শতাংশের চেয়ে ১ ভোট বেশি পেলেই স্বতন্ত্র সদস্য নির্বাচিত হতে পারবেন। প্রস্তাবে আরও বলা হয়, এ পদ্ধতিতে নির্বাচন হলে উপনির্বাচনের প্রয়োজন হবে না। কোন দলের সাংসদ পদত্যাগ বা মৃত্যুবরণ করলে ওই দলের প্যানেল থেকেই দল শূন্য আসনে প্রার্থী মনোনীত করবে। বর্তমানে বেলজিয়াম, ডেনমার্ক, নেদারল্যান্ডস, সুইডেন, গ্রিস, নরওয়ে, আয়ারল্যান্ড, ফ্রান্স, জাপান, জার্মানিতে সমানুপাতিক হারে প্রতিনিধি নির্বাচিত করার বিধান আছে। এর আগে এরশাদ ২০১১ সালের মে মাসে ভোটের আনুপাতিক হারে আসন বণ্টনের প্রস্তাব করেছিলেন। সংবাদ সম্মেলনে এরশাদ বলেন, আমি উপলব্ধি করেছি, বর্তমানে যে পদ্ধতিতে নির্বাচন হচ্ছে, তাতে সুষ্ঠু নিরপেক্ষ ও বিতর্কহীনভাবে নির্বাচন হওয়া অসম্ভব। দিন দিন পরিস্থিতি খারাপের দিকে যাচ্ছে। সব মহল যদি মুক্ত মনে এ প্রস্তাব গ্রহণ করে, তাহলে হয়তো আমরা আশার আলো দেখতে পাব।
monarchmart
monarchmart