শুক্রবার ৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯, ২০ মে ২০২২ ঢাকা, বাংলাদেশ
প্রচ্ছদ
অনলাইন
আজকের পত্রিকা
সর্বশেষ

চীনা মুদ্রা ইউয়ানের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি

  • ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীর

দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের পর ১৯৪৫ সালের ২৭ ডিসেম্বর ২৯টি সদস্য দেশসহ আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল বা আইএমএফ প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রখ্যাত ব্রিটেনউডস চুক্তির আওতায় প্রণীত সনদ অনুযায়ী আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল বা আইএমএফের ৪টি লক্ষ্য নির্দিষ্ট হয়; (১) আন্তর্জাতিক মুদ্রাভিত্তিক সহযোগিতা প্রসারণ, (২) আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বিস্তারকরণ এবং (৩) সদস্য দেশসমূহের সাময়িক বৈদেশিক দেনা পাওনার হিসাবে দৃষ্ট অসুবিধা বা ঘাটতি দূরীকরণে ঋণ সম্পদ প্রযুক্তকরণ। এই লক্ষ্যগুলো প্রেক্ষিত হিসাবে বিবেচনা করে প্রতিষ্ঠাকরণের পর থেকে আইএমএফ বাণিজ্যরত সদস্য দেশসমূহের মধ্যে নির্দিষ্ট বিনিময়হারভিত্তিক দায়দেনার পরিশোধন তত্ত্বাবধান করে আসছে। জাতীয় সরকারদিগকে তাদের দেশের মুদ্রার সঙ্গে বিদেশী মুদ্রার বিনিময় হার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মাধ্যমে প্রশাসিত করে অর্থনৈতিক উন্নয়নের লক্ষ্যে যথাযথ পদক্ষেপ এবং বৈদেশিক দেনা-পাওনার ক্ষেত্রে সমায়ন্তরিক অসুবিধা দূরীকরণে স্বল্পকালীন মূলধন দিয়ে ঋণ সহায়তা দেয়াও তার প্রধান দায়িত্ব হিসেবে পালিত হয়েছে। একটি নির্ধারিত সূত্র অনুযায়ী আইএমএফের মূলধন হিসেবে সদস্য দেশ থেকে প্রাথমিক পর্যায়ে (আইএমএফ কর্তৃক স্বীকৃত) সংরক্ষিত মুদ্রা, দেশীয় মুদ্রা ও স্বর্ণ গচ্ছিত রাখা হয়। এই পরিমাণ গচ্ছিত অর্থ সংশ্লিষ্ট সদস্য দেশের ‘কোটা’ হিসাবে আখ্যায়িত। সংশ্লিষ্ট দেশ বিদেশী দেনা-পাওনার হিসাবে ঘাটতি পূরণে এই কোটার সমপরিমাণ সংরক্ষিত মুদ্রা আইএমএফ থেকে যে কোন সময়ে বিনা শর্তে ধার হিসেবে নেয়। এ ছাড়া এই কোটা আইএমএফ পরিচালনায় সংশ্লিষ্ট দেশের মূল ভোটের সংখ্যা নির্ধারণ করে। এর ভিত্তিতে সকল সদস্য দেশ আইএমএফের সিদ্ধান্তায়ন প্রক্রিয়ায় ভোট প্রযুক্ত করে। সমকালে এরূপ মূল ভোট সকল সদস্যদের ভোটের ৫.৫২%। এর বাইরে পরে মূলত উন্নয়শীল দেশসমূহের প্রয়োজনের আলোকে ভোট সংখ্যা বাড়ানো এবং সংশ্লিষ্ট দেশসমূহকে তাদের প্রদত্ত প্রাথমিক মূলধনের (বা কোটার) চেয়ে বেশি পরিমাণ সংরক্ষিত মুদ্রা ব্যবহারকরণে সক্ষমতা দেয়ার লক্ষ্যে বিশেষ উত্তোলন অধিকার বা স্পেশাল ড্রইং রাইটস (এসডিআর) প্রবর্তিত হয়। এই বিশেষ উত্তোলন অধিকারের মাত্রা অনুযায়ী কোটার অতিরিক্ত সংরক্ষিত মুদ্রা উত্তোলন অর্থাৎ ধার করার সীমা বিশ্ব বাণিজ্য প্রসারের সঙ্গে তাল রেখে সংশ্লিষ্ট দেশসমূহকে দেয়া হয়। সদস্য দেশসমূহের আইএমএফ তহবিলে শেয়ারের সংখ্যা এসডিআরের এককে বিবৃত। আইএমএফের পরিচালনায় ভোটের পরিমাণ বা ক্ষমতা সদস্য দেশ বিশেষের অনুকূলে মঞ্জুরকৃত কোটা ও এসডিআরের পরিমাণ অনুযায়ী নির্ধারিত থাকে। এই বিশেষ উত্তোলন ক্ষমতাকে আর্থিক হাতিয়ার ও এর কার্যকরণের দৃষ্টিকোণ থেকে বিশেষ প্রতিশ্রুতি পত্র বলে বিবেচনা করা যায়। এই প্রতিশ্রুতি পত্র যে সদস্য দেশের অনুকূলে দেয়া হয় বা যে সদস্য দেশ আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল থেকে নিয়ে থাকে, সেদেশ সেই পরিমাণ আমদানি বা সংশ্লিষ্ট খাতে ব্যবহার্য বা দাবিকৃত অর্থ পরিশোধনে আইএমএফ কর্তৃক স্বীকৃত সংরক্ষিত মুদ্রা দেয়ার প্রতিশ্রুতি পত্র হিসেবে ব্যবহার করে। ১৯৭১ সাল পর্যন্ত সদস্য দেশসমূহের মধ্যে নির্দিষ্ট বিনিময়হার বিদ্যমান থাকার ও প্রশাসিত হওয়ার পরে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের ভূমিকার মৌলিক পরিবর্তন ঘটে। তখন থেকে আইএমএফ সদস্য দেশসমূহের অর্থনৈতিক নীতি ও কার্যক্রম, তত্ত্বাবধান এবং ভাসমান বিনিময় হার প্রশাসিতকরণের প্রক্রিয়ায় শর্তযুক্ত সমায়ন্তরিক সহায়তা দিয়ে আসছে। এসব শর্ত মূলত ঋণ গ্রহীতা দেশের সামষ্টিক অর্থনীতির সংস্কার বা পরিবর্তনমূলক। আইএমএফ সদস্য দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মাধ্যমে তার কার্যক্রম প্রশাসিত করে থাকে। আইএমএফের সমকালীন সদস্য সংখ্যা ১৮৯। এর সমকালীন মূলধনের পরিমাণ ৪৭৭ বিলিয়ন বিশেষ উত্তোলন অধিকার বা এসডিআর।

আইএমএফ কর্তৃক স্বীকৃত সংরক্ষিত মুদ্রা ৩০ নবেম্বর ২০১৫ পর্যন্ত ছিল ৫টি যথা : (১) মার্কিন ডলার, (২) ব্রিটিশ পাউন্ড, (৩) জাপানী ইয়েন, (৪) সুইস ফ্রাংক এবং (৫) কানাডিয়ান ডলার। ২০১৫-এর ৩০ নবেম্বর আইএমএফ চীনা ইউয়ানকে সংরক্ষিত বা রিজার্ভ মুদ্রার স্বীকৃতি দিয়েছে। এই স্বীকৃতি অনুযায়ী আইএমএফের তহবিল বা স্পেশাল ড্রইং রাইটস আখ্যায়িত মুদ্রা তহবিলে ইউয়ান শতকরা ১০.৯২ ভাগ অংশ পেয়েছে। বর্তমানে এসডিআর আইএমএফের তহবিলের হিসাবের ইউনিট। আইএমএফ কর্তৃক নির্ধারিত ও ব্যবহৃত সংরক্ষিত মুদ্রার মধ্যে মার্কিন ডলার সবচেয়ে বেশি মাত্রায় স্বীকৃত ও প্রচলিত। এই বছরের অক্টোবর থেকে এসডিআর এর ঝুড়িতে ডলারের অংশ শতকরা ৪১.৭৩ ভাগ। যুক্তরাষ্ট্রের প্রদত্ত চাঁদা (ডলার+এসডিআর) এর হিসাব তার আইএমএফ এ ভোটাধিকার সবচাইতে বেশি- শতকরা ১৭.৬৮ ভাগ। এসডিআরের ঝুড়িতে দ্বিতীয় স্থান দখল করে রেখেছে ইউরো- শতকরা ৩০.৯৩ ভাগ। ২০১৫ সালের ৩০ নবেম্বর চীনা ইউয়ানকে সংরক্ষিত মুদ্রা হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া ও গ্রহণ করার ফলে আইএমএফ এ মার্কিন ডলার ও অন্যান্য সংরক্ষিত মুদ্রার প্রাধান্য কিয়দংশে হ্রাস পেয়েছে। বর্তমানে এসডিআর ঝুড়িতে চীনা ইউয়ানের পরিমাণ শতকরা ১০.৯২ ভাগ, জাপানী ইয়েনের পরিমাণ শতকরা ৮.৩৩ ভাগ এবং ব্রিটিশ পাউন্ডের পরিমাণ শতকরা ৮.০৯ ভাগ।

যুগ প্রেক্ষিতে বৈদেশিক দেনা-পাওনার সমস্যার বাইরে সদস্য দেশের বিশেষ প্রয়োজন বা বৈশিষ্ট্যের আলোকে আইএমএফ তার তরফ থেকে দেয়া ঋণের পরিমাণ বেড়ে গেছে। ১৯৭৪ সালে প্রতিষ্ঠিত প্রসারিত তহবিল সুবিধার আওতায় সদস্য দেশ বিশেষের বিশেষ প্রয়োজনে তাদের অনুকূলে প্রদত্ত কোটার শতকরা ১৪০ ভাগ পরিমাণ ঋণ দেয়ার ব্যবস্থা করা হয়। ১৯৮৬ সালে মূলত অনুন্নত ও উন্নয়নশীল দেশের মধ্য-মেয়াদী সামষ্টিক অর্থনৈতিক ও কাঠামোগত সমস্যা নিরসনের জন্য কাঠামোগত সমন্বয়করণ সুবিধার আওতায় উপরোক্ত সুযোগ বাড়ানো হয়। এ সবের পরে প্রদত্ত অন্যান্য সুবিধাদি দেশ বিশেষকে তাদের কোটার শতকরা ২০০ ভাগ পর্যন্ত ঋণ সহায়তার নিশ্চয়তা দেয়। আইএমএফ প্রতিষ্ঠিত করার প্রথম ২০ বছর পর্যন্ত তার প্রদত্ত ঋণের ৫০ ভাগেরও বেশি শিল্পায়িত দেশসমূহ ব্যবহার করে এসেছে। ১৯৮০ থেকে অনুন্নত ও উন্নয়নশীল দেশসমূহ আইএমএফের সম্পদের বেশিরভাগ আইএমএফের দেয়া সূত্র অনুযায়ী সামষ্টিক অর্থনৈতিক সাযুজ্যকরণের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সংস্কারকরণের শর্তে দেয়া হয়ে আসছে। এতদসত্ত্বেও বলা চলে যে (১) আইএমএফ যে হারে বিশ্ব বাণিজ্য বেড়েছে এবং অনুন্নত দেশসমূহের শিল্পায়ন প্রচেষ্টা প্রযুক্ত হয়েছে সে হারে তার দেয়া স্বল্প ও মধ্য মেয়াদী ঋণ সুবিধাদির মাত্রা বাড়ায়নি; (২) আইএমএফ সদস্য দেশসমূহের সঙ্গে স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেনা পাওনা তথা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সংরক্ষিত মুদ্রার প্রবাহ দ্রুত তাদের উন্নয়নের প্রয়োজনের সঙ্গে সাযুজ্য রেখে প্রসারিত করেনি। (৩) আইএমএফের অতি খবরদারি এড়ানোর জন্য ২০১০ থেকে চীন, রাশিয়া, ভারত, তুরস্ক, ব্রাজিল, ভেনিজুয়েলা এবং অন্যান্য তেল উৎপাদনকারী দেশ তাদের মধ্যকার বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সংক্রান্ত সকল লেনদেন তাদের নিজস্ব মুদ্রায় নির্বাহ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

পরিচালনায় উপরোক্ত ব্যত্যয়ের বাইরে বিশ্বব্যাপী আর্থিক লেনদেন ও বাণিজ্যের দেনা-পাওনা শোধ করার প্রক্রিয়ায় আইএমএফের একচ্ছত্র অবস্থান বিভিন্ন সময় ও প্রেক্ষিতে সমালোচনার সামনে দাঁড়িয়েছে। আইএমএফ পরিচালনায় বৃহৎ অর্থনৈতিক শক্তি, বিশেষত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রাধান্য, আন্তর্জাতিক লেনদেনের মাধ্যম হিসেবে ডলারের আধিপত্য, উন্নয়নশীল দেশসমূহের বিশেষ প্রয়োজন সম্পর্কে যথার্থ সংবেদনশীলতার অনুপস্থিতি এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য প্রসারণের সঙ্গে আইএমএফ প্রদত্ত দেনা-পাওনার ভারসাম্য সাযুজ্যকরণে শ্লথতা বিভিন্ন সময়ে আইএমএফকে সমালোচনার কারণ হিসেবে প্রতিভাত করেছে। আইএমএফের বিকল্প আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে ২০১১ সালে আফ্রিকান মুদ্রা তহবিল গঠন করার প্রস্তাব উত্থাপিত হয়েছে। কিছু দেশের মধ্যে বিদ্যমান বার্টার বাণিজ্য ব্যবস্থা এবং আঞ্চলিক পর্যায়ে নিকাশ ইউনিয়ন, উদাহরণত, এশীয় নিকাশ ইউনিয়ন স্থাপন ও পরিচালনা আইএমএফের আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আনুষ্ঠানিক লেনদেনের একচ্ছত্র তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে ভূমিকাকে সীমিত করেছে। এসব সীমাবদ্ধতার বিপরীতে আইএমএফ বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে তার তৎপরতা সমন্বয় করে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে লেনদেনের নিকাশ কেন্দ্র হিসেবে নিজকে সংরক্ষণ ও সম্প্রসারণের চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। এই চেষ্টার মধ্যে স্থান পেয়েছে সম্প্রতি আইএমএফ থেকে উন্নয়নশীল সদস্য দেশসমূহের অনুকূলে স্বল্পমেয়াদী ঋণ সহায়তার বাইরে মধ্য-মেয়াদী উন্নয়নমূলক ঋণ প্রদান।

আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাণিজ্য ও লেনদেনের ক্ষেত্রে সমকালে কতিপয় চ্যালেঞ্জের উপকরণ অর্থনীতিবিদদের দৃষ্টিতে এসেছে। আমদানি ও রফতানির প্রকৃতি ও মাত্রা উৎসারিত বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময়হার নিয়ন্ত্রণ, সদস্য দেশসমূহের বাণিজ্য সম্পর্কিত বিনিয়োগ কার্যক্রম, আঁতেল সম্পদ সম্পর্কিত বিধি নিষেধাদি, বাণিজ্যের শুল্ক বহির্ভূত বাধাবিঘœ, বহুজাতিক শিল্প-বাণিজ্য সংস্থার শেয়ারের বিভিন্ন মুদ্রায় বেচাকেনা ও ভবিষ্যত বাজারের কার্যক্রম, বহুজাতিক বিনিয়োগ ও বিনিয়োগ উৎসারিত আয় ও লাভের ব্যবস্থাপনা একদিকে যেমন প্রথাগত ক্ষেত্র থেকে আইএমএফকে নতুনতর দায়িত্ব নেয়ার প্রয়োজন দেখিয়ে যাচ্ছে ঠিক তেমনি অন্যান্য আঞ্চলিক ও বিশেষায়িত আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও চুক্তিবদ্ধ কার্যক্রমের পরিচালনার কেন্দ্রের এর সঙ্গে আইএমএফের নীতি ও কার্যাবলী সমন্বয় করার প্রয়োজন সংশ্লিষ্ট সকলের সামনে তুলে ধরেছে। যেহেতু এসব ক্ষেত্রে কর্মরত সকল প্রতিষ্ঠানের আপেক্ষিকতায় আইএমএফই একমাত্র জাতিসংঘ সংশ্লিষ্ট বা উৎসারিত প্রতিষ্ঠান সেহেতু প্রয়োজনীয় সমন্বয় সাধন ও বিস্তারণের জন্যে আইএমএফকেই এসব ক্ষেত্রে সারথির ভূমিকা পালন করতে হবে। গত কয়েক যুগ ধরে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বন্ড এর সর্ববৃহৎ ক্রেতা হিসাবে চীনের ভূমিকা, মার্কিন ডলারের বাস্তবতা পুনর্মূল্যায়নের অনুকল্পিত সীমা, বিশ্ব বাণিজ্যের সমাহারে চীন, ভারত, ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা ও অন্যান্য উন্নয়নশীল দেশের ক্রমবর্ধমান অংশ, বহুজাতিক বেসরকারী প্রতিষ্ঠানের রাষ্ট্রীয় সীমাবহির্ভূত বিনিয়োগ ও লেনদেন আইএমএফের কার্যক্রমকে অধিকতর সুবিন্যস্ত ও প্রসারণের পরিধি বাড়িয়েছে। এসব ক্ষেত্রে আইএমএফ এখনও তেমন কোন কার্যক্রম শনাক্ত ও অনুসরণ করতে পারেনি। চীনা ইউয়ানের সংরক্ষিত মুদ্রা হিসেবে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি আন্তর্জাতিক বাণিজ্য উৎসারিত লেনদেনের ক্ষেত্রে আরও দ্রুততার সঙ্গে যথা প্রয়োজন কার্যক্রম গ্রহণের প্রয়োজন আইএমএফের সামনে দাঁড় করিয়েছে।

২০১৪ সালে ব্রিক্স (ইৎরপং) জোটভুক্ত দেশসমূহ যথা- ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চীন, ও দক্ষিণ আফ্রিকা প্রাথমিকভাবে মার্কিন ১০০ বিলিয়ন ডলার সংবলিত অনিয়ত মজুদ ব্যবস্থা গঠনের ঘোষণা করেছে। একই সালে চীনের নেতৃত্বে ডলারে মূলধন অভিহিত করে এশিয়ান অবকাঠামো বিনিয়োগ ব্যাংক প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এর পরে ৩০ নবেম্বর ২০১৫-এ চীনা ইউয়ানের আইএমএফের সংরক্ষিত মুদ্রা হিসেবে গ্রহণ অর্থনৈতিক পরাশক্তি হিসেবে চীনের উত্থানকে স্বীকৃতি দিয়েছে।

বর্তমানে আন্তর্জাতিক সকল পরিশোধনের শতকরা ৪০% ডলারে সম্পাদিত হয়। আর চীনা ইউয়ানে সম্পাদিত হয় শতকরা ৩ ভাগের চাইতেও কম। সংরক্ষিত মুদ্রা হিসেবে ইউয়ানের স্বীকৃতির ফলে ইউয়ানে দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় পরিশোধনের মাত্রা নিশ্চিতভাবে বাড়বে। বিশেষত চীন অন্যান্য দেশে বৃহদাকারে অবকাঠামোমূলক প্রকল্প অর্থায়ন ও বাস্তবায়নে অগ্রসর হওয়ার ফলে ইউয়ানে লেনদেনের পরিমাণ বাড়তে থাকবে। এশিয়ান অবকাঠামো বিনিয়োগ ব্যাংক ইউয়ানে অভিহিত বন্ড শীঘ্রই আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ভাসাবে বলে ওয়াকিফহাল মহলের ধারণা। চীন বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের নিষ্পত্তিমূলক পরিশোধন বা নিকাশকরণে ইউয়ান ব্যবহার করে চলছে। ২০২০ সালের মধ্যে এই ধরনের ইউয়ানে পরিশোধন চীনের আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের শতকরা ৫০ ভাগের ক্ষেত্রে হবে বলে প্রক্ষেপণ করা হয়েছে। এই অক্টোবরে চীন প্রথম বারের মতো লন্ডন শেয়ারবাজারে ইউয়ানে অভিহিত বন্ড ভাসিয়েছে। ইউয়ানে অভিহিত আর্থিক হাতিয়ার ভাসানো ও কেনাবেচার জন্য লন্ডনকে কেন্দ্র হিসেবে চীন উত্তরোত্তর ব্যবহার করবে বলে মনে হচ্ছে। আগামী বছর রাশিয়া ইউয়ানে অভিহিত বন্ড বাজারে ছাড়বে বলে শোনা যাচ্ছে। ২০১০ সালে জাতিসংঘের বাণিজ্য ও উন্নয়ন সম্মিলনী এক প্রতিবেদনে ডলারকে একচ্ছত্র বিশিষ্ট আন্তর্জাতিক সংরক্ষিত মুদ্রা হিসেবে ত্যাগ করার প্রয়োজন তুলে ধরেছিল। এ সম্মিলনীর প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল যে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নতুন সংরক্ষিত মুদ্রা ব্যবস্থাপনা-যাতে একটি বা গুটিকয়েক মুদ্রার প্রাধান্য থাকবে না- প্রতিষ্ঠিত করে অধিকতর স্থিতিশীল গোলকায়িত আর্থিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত করা প্রয়োজন। প্রায় একই সময়ে রাশিয়ার পক্ষ থেকে ডলারকে বাদ দিয়ে নতুন সংরক্ষিত মুদ্রা সৃষ্টি ও চালু করার প্রস্তাব দেয়া হয়েছিল। আইএমএফ কর্তৃক চীনা ইউয়ানকে সংরক্ষিত মুদ্রার মর্যাদা দেয়ায় এসব ক্ষেত্রে আইএমএফের আধিপত্য কমিয়ে দেয়ার দাবিকে সামনে নিয়ে এসেছে। আগামী ৫ বছরে দেখা যাবে এই দাবি অনুযায়ী (১) আইএমএফ পরিচালনায় কি সংস্কার সাধিত হয়, (২) বিশ্ব বাণিজ্য প্রসারণে সংরক্ষিত মুদ্রার প্রাধান্য কি পরিমাণে থাকে এবং (৩) আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ পদ্ধতিতে কি ধরনের পরিবর্তন ও সংস্কার প্রয়োজন হবে।

লেখক : সংসদ সদস্য, সাবেক মন্ত্রী

শীর্ষ সংবাদ:
শনিবার গ্যাস থাকবে না রাজধানীর যেসব এলাকায়         আজ দ্বিতীয় ধাপের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত         সারাদেশে চলছে ভোটার তালিকার হালনাগাদ         দৌলতখানে বাবা-ছেলে চেয়ারম্যান প্রার্থী         আফগানিস্তানে নারী উপস্থাপকদের অবশ্যই মুখ ঢাকতে হবে, নির্দেশ তালিবানের         শাহজালালে ৯৩ লাখ টাকার স্বর্ণসহ যাত্রী আটক         আগামী ২৯ মে চালু হচ্ছে বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে যাত্রীবাহী ট্রেন         যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, ইউরোপে ছড়িয়ে পড়ছে বিরল যে রোগ!         কৃষিজমি ৬০ বিঘার বেশি হলে সিজ করবে সরকার         ‘মুজিব’ বায়োপিকের ট্রেলার প্রকাশ         সিলেটে উজানের ঢলে ভাঙলো ৩ নদীর মোহনার ডাইক         পাকিস্তানি মুদ্রার ১ ডলার কিনতে লাগছে ২শ রুপি         জড়িত ৮৪ রাঘববোয়াল ॥ পি কে হালদারের অর্থপাচার         স্বপ্নের পদ্মা সেতুর নাম পরিবর্তন হবে না         এবার উল্টো পথে ডলার ॥ ৯৬ টাকায় নেমেছে         কোরানে হাফেজ হয়েও পেশা চুরি !         সিলেটে ২০ লাখ মানুষ পানিবন্দী দুর্ভোগ চরমে         চট্টগ্রামে ড্র করেই সন্তুষ্ট মুমিনুলরা         গ্যাসের দাম বৃদ্ধির ঘোষণা আসতে পারে এ মাসেই