সোমবার ১৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৮, ২৯ নভেম্বর ২০২১ ঢাকা, বাংলাদেশ
প্রচ্ছদ
অনলাইন
আজকের পত্রিকা
সর্বশেষ

কামার বাড়ির খবর

  • কোরবানির ঈদে ছুরি আর চাপাতি বেশি চলে। হুজুররা গরু জবাইয়ের জন্য ১৮ ইঞ্চি ছুরি ব্যবহার করেন

কারও কথা বলার সময় নেই। কেউ আগুনে তেতে ওঠা লোহার ওপর পাঁচ কেজি ওজনের হাতুড়ি দিয়ে পেটাচ্ছেন। দিচ্ছেন দা, বটি আর চাকু চাপাতির আকৃতি। কেউ বা কয়লার আগুনে হাপর দিয়ে বাতাস দিচ্ছেন। ঈদুল আযহাকে সামনে রেখে কর্মকাররা এখন খুবই ব্যস্ত সময় পার করছেন। এখন দিনরাত খেটে কাজ করতে হচ্ছে। প্রস্তুতি চলছে নতুন সাজে। নতুন বঁটি, চাকু, চাপাতি যেমন বিক্রি হচ্ছে; তেমনি পুরনোগুলোর শান দিতে আসছেন অনেকেই।

ক্রেতারা ধরে দেখছেন। কেউ আবার দেখেই শেষ নয়। কিনছেন কিংবা ফরমায়েশ দিচ্ছেন। দোকানি কৃষ্ণ কর্মকার জানান, কোরবানির ঈদে ছুরি আর চাপাতি বেশি চলে। হুজুররা গরু জবাইয়ের জন্য ১৮ ইঞ্চি ছুরি ব্যবহার করেন। এ সময় এটাও বেশ ভাল চলে। মজুরিসহ এর দাম পড়বে ৩০০ থেকে ৪০০ টাকার কিছু বেশি। বঁটি ও চাপাতি এক কেজি ওজনের মজুরিসহ ৪০০ থেকে ৬০০ টাকা। চামড়া আলাদা করার ছোট ছুরি ৪০ থেকে ৬০ টাকা। শান ৭০ থেকে ১৩০ টাকা লাগবে। গত বছরের ঈদের চেয়ে এবার চাপাতি আর ছুরির দাম একটু বেশি। এগুলোর দাম এবার প্রায় ৬০ থেকে ১০০ টাকা বেশি লাগছে।

কৃষ্ণ কর্মকার জানালেন, সবকিছুর দাম বেশি। ঈদের সময় তো একটু বাড়তি আয় করব। এ ছাড়া ৪৫ কেজি ওজনের এক বস্তা কয়লা এখন সাড়ে ৬০০ টাকায় কিনতে হয়। গত বছরের চেয়ে কয়লার দাম একটু বেড়েছে। লোহা দুই ধরনের। নরম লোহা ৫৫ থেকে ৭৫ টাকা দরে এবং শক্তটা ১২৫ থেকে ১৮০ টাকা দরে কিনতে হয়। আর এর সঙ্গে মজুরি রয়েছে। পুরানা এই বাজারের পাশের দোকানের কর্মকার সুধী সুন্দর দাসের সঙ্গেও কথা হয়। তিনি জানান, ঈদ উপলক্ষে ফরমায়েশ আসছে। বাড়তি প্রস্তুতিও রয়েছে তাদের। পুরান ঢাকার ঐতিহ্যের সঙ্গে কোরবানির ঈদের আয়োজনটা যেন এখানে এলে টের পাওয়া যায়। ঈদের বেশ আগে থেকেই এর প্রস্তুতিও শুরু হয়ে যায়। ঘরের কোনা থেকে চাপাতি চাকু খুঁজে বের করে কামারবাড়িতে শাণ দিতে পাঠানো হয় কিংবা নতুন করে তৈরি করতেও কামারবাড়িতে যেতে হয়। তাই পুরান ঢাকার কামারবাড়ির ব্যস্ততা এ সময় বেশিই থাকে।

এদিকে ব্যস্ততার কমতি নেই কারওয়ান বাজারের কামারের দোকানগুলোতেও। এখানে পাশাপাশি প্রায় ২৪টি দোকান রয়েছে। কর্মকার সেলিম তার হাতের কাজটা শেষ করে জানান, সারা বছরই কাজ থাকে। তবে প্রতিবছর কোরবানির আগে কাজের চাপটা বেশি থাকে। বিভিন্ন আকারের বঁটি, ছুরি ও চাপাতির চাহিদা এখন বেশি। কেউ লোহা কিনে তা দিয়ে তৈরি করান। কেউ আবার প্রস্তুত করা জিনিসই কিনে নিয়ে যান। ফরমায়েশি জিনিস একটু ভাল হয়। ফরমায়েশ দেয়ার আগে চাইলে নিজেই লোহা কিনে দিতে পারেন। এ ক্ষেত্রে লোহাটা দেখে কেনা উচিত। কারণ যে আকারের দা-বঁটি-চাকু বানানো হচ্ছে তার সাইজে আন্দাজেই লোহাটা কিনতে হবে। নরম লোহা হলে তার সঙ্গে পটাশ মিশিয়ে নিতে হয়। তবে শক্ত লোহা দিয়ে দা, বঁটি ও চাপাতি ভাল হয় বলে তিনি জানান। আকার ভেদে একটা বঁটি ১০০ থেকে ৪০০ টাকায় বিক্রি করছেন তিনি। ছোট ছুরি কিনতে ৪০ থেকে ২০০ টাকা লাগবে। শাণ দিতে বঁটি ও চাপাতি ৫৫ থেকে ৬০ টাকা, ছুরি ২০ থেকে ৩০ টাকা নিচ্ছেন তারা। তিনি জানান, ঈদ উপলক্ষে ফরমায়েশ ভালই আসছে।

যাপিত ডেস্ক

শীর্ষ সংবাদ:
দেশ এগিয়ে যাচ্ছে, এগিয়ে যাবে         ব্যাটিং ব্যর্থতায় ম্লান বোলিং সাফল্য         মিল্কি ওয়ের প্রথম ‘পালক’         সরকারী কাস্টডিতে নেই খালেদা, তিনি মুক্ত         ঢাকায় বিশ্ব শান্তি সম্মেলন ৪ ডিসেম্বর শুরু         ওমিক্রন প্রতিরোধে সতর্ক অবস্থায় সারাদেশ         সাদা পোশাকে দেশে সবার ওপরে মুশফিক         সাগরে জলদস্যুতায় যাবজ্জীবন দন্ড         গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশন, ৪১ বছর পূর্তির আয়োজন         কুয়েতে পাপুলের সাত বছরের কারাদন্ড         পাকি প্রেম দূরে রাখুন         বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরিতে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ         ‘মোকাবেলা করে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে ’         তৃতীয় ধাপের সহিংসতাহীন নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে দাবি ইসির         করোনা : গত ২৪ ঘন্টায় মৃত্যু ৩         করোনার নতুন ভ্যারিয়েন্ট ওমিক্রন নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদফতরের সতর্কবার্তা         পরিবহন সেক্টর কার নিয়ন্ত্রণে : জি এম কাদের         সংসদে নির্বাচন কমিশন গঠনে আইন আনা হচ্ছে শিগগিরই ॥ আইনমন্ত্রী         বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহী সৌদির ৩০ কোম্পানি         আগামী ১ ডিসেম্বর থেকে নগর পরিবহন চালু সম্ভব নয় : মেয়র তাপস