ঢাকা, বাংলাদেশ   শনিবার ২০ আগস্ট ২০২২, ৫ ভাদ্র ১৪২৯

পরীক্ষামূলক

আত্মবিশ্বাসী অধিনায়ক ড্যারেন সামি

শিরোপা জিতে উৎসব করতে চায় ক্যারিবীয়রা

প্রকাশিত: ০৬:২৫, ৩ এপ্রিল ২০১৬

শিরোপা জিতে উৎসব করতে চায় ক্যারিবীয়রা

স্পোর্টস রিপোর্টার, কলকাতা থেকে ॥ সেমিফাইনালে ভারতকে হারানোর পর ফাইনালে ওঠা নিশ্চিত হতেই যে উৎসব করেছেন ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেটাররা, সেই ঘোর যেন এখনও কাটছে না। এখনও উৎসবের আমেজেই আছে সামিবাহিনীর। আজ যে টি২০ বিশ্বকাপের ফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে মুখোমুখি হবে ওয়েস্ট ইন্ডিজ, এর আগেও ক্যারিবীয় শিবিরে উৎসব উৎসব আমেজই লেগে আছে। সবাই হাসি, ঠাট্টা, তামাশাতেই ব্যতিব্যস্ত! সেই উৎসব তারা আবারও করতে চান। ইংলিশদের ফাইনালে হারিয়ে আবারও স্টেডিয়াম ‘নাচ-গানে’ ভরপুর করে রাখতে চান। যেমনটি মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে নাচের তালে সবাইকে মাতিয়েছে। মুম্বাইয়ে হোটেল ছাড়ার সময়ও নেচে গেয়ে সবাইকে মুগ্ধ করেছেন। কলকাতায় হোটেলে ওঠার আগেও নাচতে নাচতে নিজেদের রুমে গিয়েছেন। ইডেন গার্ডেনে ইংল্যান্ডকে হারিয়েও তা বজায় রাখতে চান। ওয়েস্ট ইন্ডিজ অধিনায়ক ড্যারেন সামিই তা বলেছেন, ‘উৎসব হয়েছে। নাচ-গানা হয়েছে। ফাইনালে জিতেও সেই রকম উৎসবই করতে চাই।’ সত্যিই কি তা করতে পারবেন ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেটাররা? সামি বললেন, ‘টি২০তে সবকিছুই সম্ভব। আবার কিছুই হয় না। দিনটিতে যারা ভাল খেলে তারাই জিতে। তবে আমরা যে সেমিফাইনাল জিতে আনন্দ করেছি, তা শিরোপা জিতেও করতে চাই। এখন দেখা যাক সেই কাজটি শেষ পর্যন্ত করতে পারি কিনা।’ এবার বিশ্বকাপ শুরুর আগে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে আসলে ফাইনালে ওঠার দল হিসেবেই ভাবা হয়নি। সেখানে দলটি এক এক করে গ্রুপ পর্বে তিনটি ম্যাচ জিতে, সেমিফাইনালে স্বাগতিক ভারতকে হারিয়ে, টি২০‘র এক নম্বর দলকে হারিয়ে ফাইনালে খেলছে। যেহেতু ২০১২ সালের টি২০ বিশ্বকাপের চ্যাম্পিয়নরা আবার ফাইনালে উঠে গেছে, শিরোপা জিতেই টুর্নামেন্ট শেষ করতে চায়। সামি যেমন বললেন, ‘আমাদের দলটা একটা ইউনিট হয়ে গেছে। ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেটে সাফল্যও মিলছে এখন। মেয়েরাও টি২০ বিশ্বকাপের ফাইনালে খেলবে। আর এ বছরই অনুর্ধ-১৯ বিশ্বকাপে যুবারা চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। আমরাও চ্যাম্পিয়ন হতে চাই।’ কিন্তু কিভাবে সম্ভব? ইংল্যান্ড দলটিতো আর দুর্বল নয়। হেলাফেলার দল নয় যে চাইলেই হারানো যাবে। সেমিফাইনাল ম্যাচ থেকে পাওয়া আত্মবিশ্বাসকেই সামনে তুলে ধরেছেন সামি, ‘চার্লস সেমিফাইনালে কি দারুণ ব্যাটিং করল। সেই সঙ্গে সিমন্সও অসাধারণ ব্যাটিং করেছে। আবার শেষে গিয়ে রাসেলতো দুর্দান্ত ব্যাটিং উপহার দিয়েছে। এমন অবস্থায় আমরা সেরা দলকেই (ভারতকে) হারিয়েছি। বড় ম্যাচ জিতেছি। তাতে আত্মবিশ্বাস তৈরি হয়েছে। ফাইনালে জেতার আত্মবিশ্বাস আছে। এখন আমাদের দলে ম্যাচ উইনারের সংখ্যা বেশি। এজন্যই ফাইনালে জেতার আশা বেশি। বিশ্বাস আছে আমরা শিরোপা জিততে পারব।’ ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিশ্বকাপ জেতার ইতিহাস সমৃদ্ধই। তবে ওয়ানডে বিশ্বকাপ সর্বশেষ ১৯৭৯ সালে জিতেছে। আর টি২০ বিশ্বকাপ জিতেছে প্রায় চার বছর আগেই। দলটি এ মুহূর্তে টি২০তে শক্তির দলও। আইপিএল খেলার সুবাদে ক্রিকেটাররা ভারতের মাটি এমনভাবে বুঝে গেছেন যে কোন উইকেটেই সমস্যা হয় না। ভারত যে হেরেছে, সেটাতে আইপিএলের ফলই ধরা হচ্ছে। আইপিএলে যে প্রতিবারই গেইলরা অংশ নেন। হোম এ্যান্ড এ্যাওয়ে পদ্ধতিতে খেলা হয় বলে সবকটি মাঠেই তাদের বিচরণ দেখা যায়। তাতে করে সব স্টেডিয়ামের উইকেট সম্পর্কেও আছে ধারণা। এ ধারণা থেকেই মুম্বাইয়ে ভারতকে হারিয়ে দিয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। এবার খেলা হবে ইডেন গার্ডেনে। যেখানেও ক্যারিবীয় ক্রিকেটারদের অবাধ বিচরণ রয়েছে। তাই ওয়েস্ট ইন্ডিজকে আসলে ফাইনালের ফেভারিট দল ভাবা হচ্ছে। ক্রিস গেইল সেমিফাইনালে নৈপুণ্য দেখাতে পারেননি। এবার যদি নৈপুণ্য দেখিয়ে দেন, তাহলেই হলো। গেইল কিছু না করতে পারলেও চার্লস, স্যামুয়েলস, সিমন্স, রাসেলরাতো আছেনই। যা মনে হচ্ছে, ইংল্যান্ড না আবার উড়ে যায়। তবে সামি একটি কথা মনে করিয়ে দিলেন, ‘এটি ফাইনাল ম্যাচ। কি হবে বোঝা মুশকিল। টি২০তে কোন দল জিতবে কেউ বলতে পারে না। একটি খারাপ দিনইতো যথেষ্ট। তবে আমরা আবারও উৎসব করতে প্রস্তুত।’ সেই উৎসব এখন ওয়েস্ট ইন্ডিজের কপালে জুটলেই হয়।