ঢাকা, বাংলাদেশ   রোববার ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১২ ফাল্গুন ১৪৩০

শ্রেণিকক্ষ দখল করে পরিবার নিয়ে শিক্ষকের বসবাস

স্টাফ রিপোর্টার, বরিশাল 

প্রকাশিত: ১৪:৫৩, ২ ডিসেম্বর ২০২৩

শ্রেণিকক্ষ দখল করে পরিবার নিয়ে শিক্ষকের বসবাস

শ্রেণিকক্ষ। ছবি: জনকণ্ঠ

বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষ দখল করে স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে দীর্ঘদিন থেকে বসবাস করছেন এক সহকারি শিক্ষক। বিষয়টি জানতে পেরে সংবাদকর্মীরা ঘটনাস্থলে গেলে ওই শিক্ষক সাংবাদিকদের ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেন। ঘটনাটি বরিশাল জেলার আগৈলঝাড়া উপজেলার রাজিহার ইউনিয়নের রামানন্দের আঁক মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের।

স্থানীয়দের অভিযোগে জানা গেছে, ওই বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে পরিবার নিয়ে বিগত কয়েক বছর ধরে বসবাস করে আসছেন ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের সহকারি শিক্ষক তন্ময় বৈদ্য। ওই শিক্ষকের বাড়ি একই উপজেলার বাগধা ইউনিয়নের আস্কর গ্রামে। তিনি বিদ্যালয়টির পূর্ব পাশের একতলা নতুন ভবনের একটি শ্রেণিকক্ষ দখল করে তার স্ত্রী ও দুই সন্তান নিয়ে বসবাস করে আসছেন। বসবাসরত কক্ষের পাশের রুমে চলছে পাঠদান।

চরম ক্ষোভ প্রকাশ করে স্থানীয় একাধিক অভিভাবকরা জানিয়েছেন, বিদ্যালয়ের টেবিল ও বেঞ্চ দিয়ে ওই শিক্ষক তার থাকার রুমে তৈরি করেছেন খাবার টেবিল। বিদ্যুৎ ব্যবহারের বিল পরিশোধ করতে হয় বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকেই। 

একাধিক শিক্ষার্থীরা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ক্লাস রুমের সাথে স্ত্রী ও সন্তান নিয়ে বসবাস করায় তাদের পড়াশোনায় সমস্যা হচ্ছে। ক্লাস চলাকালে রান্না করায় তাদের চোখ জ্বলে এবং হাঁচি-কাশি হচ্ছে।

বিদ্যালয়ের সহকারি প্রধান শিক্ষক কার্তিক চন্দ্র বাড়ৈ বলেন, শিক্ষক তন্ময় বৈদ্যর আবেদনের প্রেক্ষিতেই তাকে বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে থাকতে দেওয়া হয়েছে। ম্যানেজিং কমিটি বিষয়টি ভালো জানেন। 

অভিযুক্ত শিক্ষক তন্ময় বৈদ্য বলেন, এ বিষয়ে আমি সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে রাজি না। 

আগৈলঝাড়া উপজেলা মাধ্যমিক অফিসার মাহাবুবর রহমান বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। খোঁজ নিয়ে অভিযোগের সত্যতা পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। 

বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি নিত্যনন্দ মজুমদার বলেন, আমরা তাকে থাকতে দিয়েছি এটা সত্য কিন্তু ক্লাশ চলাকালে রান্না করলে শিক্ষার্থীদের সমস্যা হয় তা আমার জানা ছিলো না।

আগৈলঝাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাখাওয়াত হোসেন বলেন, বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষ দখল করে থাকার কোনো সুযোগ নেই। বিষয়টি আমি জানতে পেয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে সরেজমিন তদন্ত করে ব্যবস্থা নিতে বলেছি।
 

 এসআর

×