ঢাকা, বাংলাদেশ   মঙ্গলবার ১৭ মার্চ ২০২৬, ৩ চৈত্র ১৪৩২

ভোগান্তির আরেক নাম ময়মনসিংহ পাটগুদাম ব্রিজ মোড়

প্রকাশিত: ২০:৪৩, ২৮ আগস্ট ২০২১

ভোগান্তির আরেক নাম ময়মনসিংহ পাটগুদাম ব্রিজ মোড়

বাবুল হোসেন, ময়মনসিংহ ॥ অসহনীয় ভোগান্তির আরেক নাম-ময়মনসিংহের পাটগুদাম ব্রহ্মপুত্র ব্রিজ মোড়। ময়মনসিংহের প্রবেশদ্বার এই ব্রিজ মোড়ে তীব্র যানজটের কবলে আটকা পড়ে প্রতিদিন চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন দূরপাল্লার যাত্রী ও ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা প্রসূতিসহ জরুরী রোগী ও তার স্বজনেরা। পাটগুদাম ব্রিজ মোড়কেন্দ্রিক আন্তঃজেলা বাস টার্মিনাল ও এর আশপাশে অনুমোদন ছাড়া গড়ে ওঠা ট্রাক স্ট্যান্ড ও সিএনজি অটোরিক্সা স্ট্যান্ডের কারণেই এই ভোগান্তি বলে দাবি ভুক্তভোগীদের। নানা প্রয়োজনে ময়মনসিংহ শহরে আসা নানা শ্রেণী পেশার মানুষও এই ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। অথচ এটি দেখার কেউ নেই! দাবি উঠেছে নগরীর ভেতর থেকে পাটগুদাম ব্রহ্মপুত্র ব্রিজ মোড়ের এই বাস টার্মিনালটি অন্যত্র সরিয়ে নেয়ার। বৃহত্তর ময়মনসিংহের শেরপুর, নেত্রকোনা, কিশোরগঞ্জ, হালুয়াঘাট, ভৈরব, সিলেট ও চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন রুটের দূরপাল্লার যারবাহন এই পাটগুদাম ব্রহ্মপুত্র ব্রিজ পার হয়েই রাজধানী ঢাকাসহ উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গে যাতায়াত করে আসছে। নেত্রকোনা থেকে বালুবাহী ও হালুয়াঘাট থেকে কয়লাবাহী শত শত ট্রাকের যাতায়াত এই ভোগান্তিকে আরও বাড়িয়ে তুলছে। বিকল্প না থাকায় তীব্র যানজটে এই পথে প্রতিদিন ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকা পড়ছেন নানা শ্রেণী পেশার মানুষ। মাত্র ১০ মিনিটের পথ পাড়ি দিতে চলে যাচ্ছে কয়েক ঘণ্টা। ময়মনসিংহ জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির নিয়মিত মাসিক সভাতেও একাধিকার বিষয়টি ক্ষোভের সঙ্গে তুলে ধরেছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিগণ। ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ইকরামুল হক টিটু মানুষের ভোগান্তির কথা স্বীকার করে জানান, পাটগুদাম ব্রিজ মোড়ের বাস টার্মিনালটি অন্যত্র সরিয়ে নিতে কাজ করছে সিটি কর্পোরেশন। বাস টার্মিনালটি অন্যত্র সরিয়ে নিতে ইতোমধ্যে একটি প্রস্তাবনা স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। এই প্রস্তাবনায় বাস টার্মিনালটি নগরীর ভেতর থেকে সরিয়ে চরকালিবাড়ি এলাকায় ও ট্রাক স্ট্যান্ড নগরীর শিকারীকান্দা এলাকায় নিয়ে যাওয়ার কথা বলা হয়েছে। বাস স্ট্যান্ডের জন্য সাত একর ও ট্রাক স্ট্যান্ডের জন্য ১২ একর জমি অধিগ্রহণের প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রায় এক বছর আগে পাঠানো এই প্রস্তাবটি পাস ও প্রয়োজনীয় বরাদ্দ পেলেই তা সরিয়ে নেয়া হবে বলে জানান সিটি মেয়র। এদিকে ময়মনসিংহ নাগরিক আন্দোলনের সভাপতি এ্যাডভোকেট এএইচএম খালেকুজ্জামান ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, বহুদিন ধরেই বাস টার্মিনালটি অন্যত্র সরিয়ে নেয়ার এমন কথা শোনা যাচ্ছে। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না। জনদুর্ভোগ লাঘবে অতিদ্রুত বাস টার্মিনালটি অন্যত্র সরিয়ে নেয়ার দাবি জানিয়েছেন এই নাগরিক নেতা। ময়মনসিংহের পুলিশ সুপার আহমার উজ্জামান জানান, আধুনিক কোন নগরের ভেতর এরকম বাস টার্মিনাল থাকতে পারে না। পাটগুদাম বাস টার্মিনালকেন্দ্রিক ভয়াবহ যানজট থেকে মানুষকে মুক্তি দিতে এটি সরিয়ে নেয়া ছাড়া কোন বিকল্প নেই বলে মনে করছেন এই পুলিশ কর্মকর্তা। আর ময়মনসিংহের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ এনামুল হক জানালেন, সিটি মেয়রের সঙ্গে আলোচনা করে সমস্যা সমাধানে উদ্যোগ নেয়া হবে। স্থানীয় ভুক্তভোগী সূত্রগুলো জানায়, বৃহত্তর ময়মনসিংহের শেরপুর, নেত্রকোনা, কিশোরগঞ্জ, হালুয়াঘাট, ভৈরব, সিলেট ও চট্টগ্রামসহ আশপাশের বিভিন্ন জেলা এবং উপজেলা থেকে দূরপাল্লা ও আন্তঃজেলার বাসগুলোকে ময়মনসিংহ হয়ে রাজধানী ঢাকা ও উত্তরবঙ্গসহ দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলে যেতে পাটগুদাম মোড়ের ব্রহ্মপুত্র ব্রিজ পার হতে হচ্ছে। ময়মনসিংহের প্রবেশদ্বার পাটগুদাম মোড়ে আন্তঃজেলা বাস টার্মিনালসহ আশপাশে ট্রাক স্ট্যান্ড ও সিএনজি অটোরিক্সার স্ট্যান্ড গড়ে উঠায় সার্বক্ষণিক যানজট লেগেই থাকছে। সড়ক বিভাগের জায়গায় গড়ে উঠা বাস টার্মিনালটি সিটি কর্পোরেশন পরিচালনা করে আসলেও মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতিস্তম্ভের জায়গায় ট্রাক স্ট্যান্ড ও প্রধান সড়কের ওপর সিএনজি স্ট্যান্ড গড়ে উঠেছে অনুমোদন ছাড়াই। দূরপাল্লার বাস সার্ভিসগুলো এই মোড়ের প্রধান সড়কে দাঁড় করিয়ে যাত্রী ওঠানামা করে থাকে। ফলে পাটগুদাম মোড়ে সার্বক্ষণিক যানজট লেগে থাকছে এবং প্রতিদিন এই যানজট পাটগুদাম মোড় থেকে ব্রহ্মপুত্র ব্রিজ ছাড়িয়ে চায়না মোড় ও শম্ভূগঞ্জ বাজার পর্যন্ত প্রায় ছয়-সাত কিলোমিটার দীর্ঘ হচ্ছে। এ সময় দূরপাল্লার যাত্রীদের ভোগান্তির সীমা থাকছে না। যানজটে আটকা পড়ে সময়মতো গন্তব্যে পৌঁছাতে পারছেন না কেউই। এ সময় সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে আসা রোগী ও তার স্বজনেরা। বিশেষ করে প্রসূতি মায়েদের এই ভোগান্তি অবর্ণনীয়। প্রতিটি ঈদের আগে ও পরে এই ভোগান্তি থাকে অসহনীয়। কর্তব্যরত ট্রাফিক পুলিশকে এ নিয়ে প্রতিনিয়ত হিমশিম খেতে দেখা যায়। পাটগুদামের এই যানজট কমাতে ময়মনসিংহ সড়ক বিভাগ কয়েক দফায় কয়েক কোটি টাকা ব্যয়ে ব্রিজের পাশের জায়গা সম্প্রসারণ ও উন্নয়ন করে। কিন্তু পরবর্তীতে সম্প্রসারিত জায়গায় রাতারাতি গড়ে ওঠে অনুমোদনহীন সিএনজি অটোরিক্সা, মাহিন্দ্র ও পিকআপ স্ট্যান্ড। ফলে সড়ক সম্প্রসারণের কোন সুফল পায়নি ভুক্তভোগীরা। এরকম পরিস্থিতিতে পাটগুদাম ব্রহ্মপুত্র ব্রিজ মোড়ে যানবাহনের নৈরাজ্য ও যানজট স্থায়ী রূপ পায়। দীর্ঘদিনের এই যানজট নিরসনে সিটি কর্তৃপক্ষসহ স্থানীয় প্রশাসনের দৃশ্যমান কোন উদ্যোগ না থাকায় এই রুটে যাতায়াতকারী মানুষের ক্ষোভ বাড়ছে।
×