ঢাকা, বাংলাদেশ   বুধবার ১১ মার্চ ২০২৬, ২৭ ফাল্গুন ১৪৩২

তিস্তার চরের স্কুলটির খবর রাখেনি কেউ

প্রকাশিত: ২১:০১, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২১

তিস্তার চরের স্কুলটির খবর রাখেনি কেউ

স্টাফ রিপোর্টার, নীলফামারী ॥ প্রাথমিক বিদ্যালয়টি সরকারি হয়েছে ঠিকই। কিন্তু ওই স্কুলটির কোন খবর রাখেনি উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস! তিস্তার বন্যার পানি এখনও লুটোপুটো খাচ্ছে স্কুলটির চত্বরে। রবিবার (১২ সেপ্টেম্বর) স্কুল খুলছে। কিন্তু ওই স্কুলটির খোলার কোন প্রস্তুতি দেখা যায়নি। শনিবার নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার তিস্তা নদীর ছাতুনামা মধ্যপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এই হাল দেখা যায়। একটি লম্বা টিনের ঘর ছাড়া কিছুই নেই। না আছে চেয়ার-টেবিল, বসার বেঞ্চ, লেখার জন্য হোয়াইট কিংবা ব্ল্যাক বোর্ড। বিদ্যালয়ে আসার জন্য নেই কোনো পথঘাট। আব্দুল ওহাব নামের স্থানীয় একজন জানান, করোনার আগে চরের এ বিদ্যালয়টিতে ১৫০-২০০ শিক্ষার্থী মাটিতে পাটি বিছিয়ে পড়াশুনা করতো। দুই তিনজন শিক্ষকও ছিলেন। কিন্তু করোনার পর ক্লাস শুরুর মতো কোনো অবস্থা নেই। অভিযোগ মতে এই স্কুলের স্লিপের ও সংস্কারের অর্থ কোনদিন স্কুল কমিটি বা ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক চোখেও দেখিনি। স্থানীয়রা জানান, ২০১০ সালে ছাতুনামা মধ্যপাড়া বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি যাত্রা শুরু করে। এরপর সরকারি গেজেটের মাধ্যমে ২০১৪ সালের ১ জানুয়ারি বিদ্যালয়টি সরকারীকরণ করা হয়। সরকারি প্রাথমিক হিসেবে চালুর সাতবছর পেরিয়ে গেলেও এর উন্নয়নের কোনো অগ্রগতি নেই।স্থানীয় বাসিন্দা জাহেদুল ইসলাম বলেন, ১১ বছরে বিদ্যালয়টিতে কেউ এক মুঠো মাটিও দেয়নি। আমিনুর রহমান নামের আরেকজন বলেন, স্কুলটি সরকারি হয়েছে এটিও আমরা ঠিকমতো জানতে পারিনি। এখানে সরকারি বড় দালান হবে, আমরা চরের মানুষ প্রাকৃতিক দুর্যোগের এসব জায়গায় আশ্রয় নিতে পারবো। কিন্তু এ ১১ বছরে স্কুলটির কোনো উন্নয়ন চোখে পড়েনি। শুনেছি তিস্তাপাড়ে বন্যাত্বদের জন্য বেশ কিছু মুজিব কিল্লা তৈরী হবে। কিন্তু আমাদের এলাকায় এ জন্য কোন জরিপে কেউ আসেনি। স্কুলের জমিদাতা সুদির চন্দ্র রায় বলেন, জমি দিয়েছি স্কুল প্রতিষ্ঠার জন্য। এ এলাকার ছেলে-মেয়েরা শিক্ষিত হবে। কিন্তু স্কুলটি সরকারি হলেও বর্তমানে এ স্কুলে আসা যাওয়ার কোনো ব্যবস্থা নেই। সামান্য কিছু চেয়ার-টেবিল ছিলো তাও গেল বন্যায় শেষ। স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক লোপা আক্তার বলেন, স্কুলের কিছু চেয়ার-টেবিল আছে। বন্যার কারণে সেগুলো মানুষের বাসায় রেখেছি। তবে স্কুলটির উন্নয়ন হলে শিক্ষা কার্যক্রম আরও গতি পাবে। সেই সঙ্গে এ দুর্যোগপ্রবণ এলাকার মানুষও উপকৃত হবে। ডিমলা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা স্বপন কুমার দাস বলেন, স্কুলের ভেতরের এমন অবস্থা আমার জানা ছিলো না। কেউ বিষয়টি অবগত করেনি। দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করবো।
×