২ এপ্রিল ২০২০, ১৯ চৈত্র ১৪২৬, বৃহস্পতিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
 
সর্বশেষ

পুরান ঢাকার রাসায়নিক গুদাম যাচ্ছে টঙ্গীর কাঠালদিয়ায়

প্রকাশিত : ১৪ মার্চ ২০২০, ০৯:৪৫ পি. এম.
পুরান ঢাকার রাসায়নিক গুদাম যাচ্ছে টঙ্গীর কাঠালদিয়ায়

অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ রাজধানীবাসীর দীর্ঘ দিনের প্রাণের দাবি পূরণ হতে যাচ্ছে। নিমতলী বা চুড়িহাট্টায় অগ্নিকান্ডের সেই ভয়াবহতা থেকে মুক্তি দিতে পুরান ঢাকার রাসায়নিক কেমিক্যাল গুদাম নিয়ে যাওয়া হচ্ছে টঙ্গীর কাঠালদিয়া মৌজায়।

সেখানে নির্মাণ করা হচ্ছে অস্থায়ী কেমিক্যাল গুদাম। শনিবার টঙ্গীর কাঠালদিয়ায় রাসায়নিক গুদাম নির্মাণ প্রকল্পের উদ্বোধন করা হয়। শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন, প্রতিমন্ত্রী কামাল আহমেদ মজুমদার, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল মিলে এই প্রকল্পের নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করেন। শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব আবদুল হালিমের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশ ইস্পাত ও প্রকৌশল করপোরেশন (বিএসইসি)’র চেয়ারম্যান রইছ উদ্দিন, প্রকল্প পরিচালক মনিরুজ্জামান খান প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, সম্পূর্ণ সরকারি অর্থায়নে গাজীপুর জেলায় টঙ্গীর কাঠালদিয়া মৌজায় বিএসইসি’র নিজস্ব ৬ একর জায়গার ওপর প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। প্রকল্পের প্রাক্কলিত ব্যয় ৯১ কোটি ৭৪ লাখ ৪৬ হাজার। তারমধ্যে ২০১৯-২০ অর্থ বছরে পরিকল্পনা কমিশন বিশেষ থোক বরাদ্দ থেকে প্রকল্পের অনুকূলে ১৭ কোটি ১৪ লাখ বরাদ্দ দিয়েছে। নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ডকইয়ার্ড এ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কস লিমিটেড প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। এই অস্থায়ী রাসায়নিক গুদাম চলতি বছর ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ হবে। কেমিক্যাল গুদাম স্থানান্তরের জন্য ৫৩টি শেড নির্মাণ করা হবে। প্রত্যেক শেড হবে ৩৫ ফুট চওড়া ও লম্বা। উচ্চতা হবে ১৫ ফুট। এ ছাড়া আলাদা দুটি ভবনে প্রত্যেক গুদামের জন্য অফিস থাকবে। বিএসইসির ব্যবহারের জন্য একটি অফিস ভবন থাকবে। এক লাখ গ্যালন পানির ধারণ ক্ষমতার ওভারহেড পানির ট্যাংক ও এক লাখ গ্যালন ধারণ ক্ষমতার আন্ডারগ্রাউন্ড পানির ট্যাংক থাকবে। এ ছাড়া বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম, ট্রান্সফরমার, জেনারেটর, ফায়ার হাইড্র্যানন্টসহ স্বয়ংক্রিয় অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হবে।

সংযোগ রাস্তার আরসিসি ড্রেন ও সীমানা প্রাচীর নির্মাণসহ আনুসঙ্গিক কাজ করা হবে। থাকবে সিসি ক্যামেরা, অনলাইন মনিটরিং পদ্ধতি, স্বয়ংক্রিয় অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা, ড্রেন, রাস্তা ও সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করা হবে।

অনুষ্ঠানে শিল্পমন্ত্রী বলেন, রাজধানীর জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার সাময়িকভাবে রাসায়নিক দ্রব্য সংরক্ষণের জন্য প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে। এর স্থায়ী সমাধানের জন্য মুন্সিগঞ্জে বিসিক কেমিক্যাল শিল্পনগরী গড়ে তোলা হচ্ছে। তিনি বলেন, এ শিল্পনগরী স্থাপনের পরপরই অস্থায়ী গুদাম থেকে রাসায়ানিক দ্রব্যের ব্যবসায়িদেরকে স্থায়ীভাবে সরিয়ে মুন্সিগঞ্জে নিয়ে যাওয়া হবে। তখন কাঠালদিয়ার এই অস্থায়ী গুদাম ও স্থাপনা বিএসইসি’র অঙ্গ প্রতিষ্ঠান ঢাকা স্টিল ওয়ার্কস লিমিটেড ব্যবহার করবে। এ প্রকল্প বাস্তবায়নের ফলে পুরান ঢাকার জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে।

প্রকাশিত : ১৪ মার্চ ২০২০, ০৯:৪৫ পি. এম.

১৪/০৩/২০২০ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


শীর্ষ সংবাদ: