৫ এপ্রিল ২০২০, ২২ চৈত্র ১৪২৬, রবিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
 
সর্বশেষ

চীনের উহান ‘জম্বি যুগের’ কথা মনে করিয়ে দেয়

প্রকাশিত : ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২০, ১০:৫৮ এ. এম.
চীনের উহান ‘জম্বি যুগের’ কথা মনে করিয়ে দেয়

অনলাইন ডেস্ক ॥ করোনাভাইরাস সংক্রমণের কারণে চীনের হুবেই প্রদেশের রাজধানী উহান যেন পরিণত হয়েছে বিরান ভূমিতে। প্রায় এক কোটি মানুষের শহরটিতে হাসপাতাল ছাড়া আর কোথাও লোকজন চোখে পড়ে না বললেই চলে। এমনকি, শহরটির যে বিমানবন্দর দিয়ে গত বছরও দুই কোটি মানুষ যাতায়াত করেছে, খাঁ খাঁ করছে সেটিও। যে দুয়েকজন কর্মী বাধ্য হয়ে বসে আছেন, তাদের শরীরেও স্পেসস্যুট-জাতীয় ভারী পোশাক। এ দৃশ্য দেখলে যে কারোরই মনে হবে, সিনেমা বা গেমের মতো কোনও জম্বি যুগে চলে এসেছি হয়তো!

একই অনুভূতি হয়েছিল ভারতীয় পাইলট ক্যাপ্টেন কামাল মোহনের। গত মাসে উহানে আটকে পড়া ভারতীয়দের ফেরাতে পাঠানো বিশেষ বিমানে ছিলেন তিনি। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে মোহন জানিয়েছেন সেই ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা।

তিনি বলেন, এটা ছিল রীতিমতো ভীতিকর। কল্পনা করুন তো, বিশাল বিমানবন্দরে একটা প্রেতাত্মাও দেখা যাচ্ছে না। ভাববেন, এই বুঝি কোনও জায়গা থেকে একটা জম্বি চলে এলো।

গত ৩১ জানুয়ারি ও ১ ফেব্রুয়ারি উহানে আটকে পড়া ৬০০ ভারতীয়কে ফেরাতে দুটি বোয়িং ৭৪৭ বিমান পাঠিয়েছিল ভারত সরকার। বিমান দুটিতে আটজন পাইলট, ৩০ জন কেবিন ক্রু এবং আরও ১০ কর্মকর্তা ছিলেন। কেবিন ক্রু প্রধান চন্দ্র প্রকাশ জানান, আটকে পড়াদের ফেরানোর প্রক্রিয়া সারতে মাত্র তিনজন কর্মকর্তা নিচে ছিলেন। তিনি বলেন, করোনাভাইরাস সংক্রমণ এড়াতে এয়ার ইন্ডিয়ার ক্রুদের তিন জোড়া হ্যান্ডগ্লাভস পরতে হয়েছিল। আর পরনের ভারী পোশাকগুলো ছিল অনেকটা স্পেসস্যুটের মতো। সেগুলো পরার ও খোলার জন্য বিশেষ পদ্ধতি অনুসরণ করতে হয়েছিল, যেন কেউ ভাইরাস আক্রান্ত না হন। ক্যাপ্টেন অমিতাভ সিং জানান, তাদের সঙ্গে ভারত থেকে কয়েকজন চিকিৎসকও গিয়েছিলেন। তিনি বলেন, আমরা এমন একটি জায়গায় যাচ্ছিলাম, যেখানে নেমে কী পাবো সে সম্পর্কে কোনও ধারণাই ছিল না। এ কারণে নিজেদের চিকিৎসক নিয়ে যেতে হয়েছিল। যারা যাত্রীদের শরীরের তাপমাত্রা মাপছিলেন, তারা মাস্ক বদল করছিলেন, হাত ধুচ্ছিলেন বারবার।

গত ৩১ ডিসেম্বর সংক্রমণ শুরুর পর থেকে বিশ্বজুড়ে প্রতিদিনই বাড়ছে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা। মঙ্গলবার চীনে করোনা-আক্রান্ত রোগী মারা গেছেন ১৩৬ জন আর আক্রান্ত হয়েছেন আরও ১ হাজার ৭৪৯ জন। এ নিয়ে দেশটির মূল ভূখণ্ডে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৪ জন। আক্রান্ত হয়েছেন অন্তত ৭৪ হাজার ১৮৫ জন। এদিন হুবেই প্রদেশে নতুন করে আরও ১ হাজার ৬৯৩ জনের শরীরে ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে, মারা গেছেন ১৩২ জন। একই দিন ভাইরাসমুক্ত হয়ে বাড়িতে ফিরেছেন ১ হাজার ৮২৪ জন। করোনাভাইরাসের উৎস উহানে গতকাল নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন ১ হাজার ৬৬০ জন এবং প্রাণ হারিয়েছেন ১১৬ জন।

সরকারি তথ্যমতে, হুবেই প্রদেশে এখন পর্যন্ত করোনা আক্রান্ত হয়েছেন অন্তত ৬১ হাজার ৬৮২ জন আর সুস্থ হয়ে বাসায় ফিরেছেন ৯ হাজার ১০০ জন। চিকিৎসাধীন ১১ হাজার ২০০ জনের অবস্থা এখনও আশঙ্কাজনক।

সূত্র: ব্লুমবার্গ, সিজিটিএন

প্রকাশিত : ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২০, ১০:৫৮ এ. এম.

১৯/০২/২০২০ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


শীর্ষ সংবাদ: