২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২০, ১৫ ফাল্গুন ১৪২৬, বৃহস্পতিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
 
সর্বশেষ

সামনে বহুমুখী চ্যালেঞ্জ

প্রকাশিত : ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০২০
  • অলোক আচার্য

রাজধানীর দুই সিটির নির্বাচন শেষ হয়েছে। নতুন মেয়র পেয়েছে রাজধানীবাসী। নানা সমস্যার আবর্তে থাকা রাজধানীকে সমস্যা থেকে বের করে আনা তাদের সর্বপ্রথম প্রধান চ্যালেঞ্জ হবে। ভোটাররা তাদের সমস্যা সমাধানের আশা করেই ভোট দিয়ে মেয়র নির্বাচিত করেছে। কিন্তু সমস্যা থেকে তারা মুক্ত হতে পারছে না। বরং আরও বেশি সমস্যার ভেতর প্রবেশ করছে। কারণ রাজধানী ঢাকা এখন বহুমুখী সমস্যায় ঘুরপাক খাচ্ছে। এসব সমস্যা সমাধানে বার বার উদ্যোগ গ্রহণ করা হলেও কোনটারই সুষ্ঠু বাস্তবায়ন না হওয়ায় সমস্যাগুলো এখন মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। এগুলোর তালিকা তৈরি করলে অনেক লম্বা হবে। নির্বাচিত প্রার্থীরা নিশ্চিত করবেন কোন সমস্যাটির সমাধান আগে করা প্রয়োজন। এসব সমস্যা কার্যত এই শহরটাকে অকার্যকর করে ফেলছে। এই যান্ত্রিক শহরে প্রাণ ফেরানোটাই হবে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। ঢাকার মানুষের জন্য বড় ঝুঁকি হলো দূষিত বায়ু। বায়ু দূষণে ঢাকার অবস্থা সঙ্কটজনক। ঢাকাকে সবুজ করতে হবে। সেই সবুজায়ন কিভাবে করা সম্ভব তার পরিকল্পনা করতে হবে। এই কাজটিও আমাদেরই করতে হবে। কারণ গাছ কেটে সবুজ দেশটাকে আমরাই গাছশূন্য করে ফেলেছি। আজ যখন এই দূষণ ঠেকাতে সবুজায়ন অত্যন্ত প্রয়োজন তখন আমাদের সবাইকেই এগিয়ে আসতে হবে। সরকারী পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সহযোগিতার সঙ্গে সঙ্গে প্রতিটি বাড়িতে সবুজায়নের পদক্ষেপ নিতে হবে। প্রতিটি রাস্তায় পরিকল্পিতভাবে বৃক্ষরোপণ করতে হবে। সেই বৃক্ষের যতœও করতে হবে। যদি প্রতিটি বাড়িকে আমরা সবুজে পূর্ণ করতে পারি এবং রাস্তায় বায়ু দূষণ কমাতে পারি তাহলে দ্রুতই ঢাকাকে বিশুদ্ধ বাতাসের নগরী হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব। কারণ ঢাকার বাতাসে মাত্রারিক্ত ক্ষতিকর পদার্থ রয়েছে যা নিঃশ^াসের সঙ্গে দেহের অভ্যন্তরে পৌঁছে নানা রোগের জন্ম দিচ্ছে। অথচ প্রতিদিন ঘর থেকে বের হয়েই বিষাক্ত বাতাস টানতে হচ্ছে এ শহরের মানুষকে। তাই শহরকে দূষণমুক্ত করতে হলে আমাদের সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।

বাতাসের পর নিরাপদ পানির কথা বলতে হয়। পানি মানুষের নিত্যদিনকার সবচেয়ে প্রয়োজনীয় উপাদান। অথচ সেই পানির অবস্থাও সুবিধার নয়। ঢাকাবাসীকে পানযোগ্য পানির নিশ্চয়তা দিতে হবে। বিশেষ করে শুষ্ক মৌসুমে পানির চাহিদা তীব্র হয়। ঢাকার আশপাশের নদীগুলোকে আমরা প্রায় মেরে ফেলেছি। খাল ধ্বংস করেছি। বাড়িঘর, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে নিজেদের বিপদ নিজেরাই ডেকে এনেছি। সেগুলো রোধ করতে হবে এবং উদ্ধার করতে হবে। অনেক কাজ ইতোমধ্যেই শুরু হয়েছে। পানির অপচয় রোধ করতে হবে। সেক্ষেত্রে নাগরিক দায়িত্ব রয়েছে। নিজেদের কর্তব্যটুকু নিজেদের পালন করতে হবে। শহরে বাইরে বের হয়েই প্রথম যে সমস্যায় পড়তে হয় তা হলো যানজট। ঢাকার মানুষ দৈনিক রাস্তায় চলতে গিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা পার করছে রাস্তায় গাড়িতে। প্রতিদিন যানজটে পড়ে ঢাকার মানুষের লাখ লাখ কর্মঘণ্টা নষ্ট হচ্ছে। এত কর্মঘণ্টা নষ্ট হওয়ায় বিপুল আর্থিক ক্ষতির মুখোমুখি হতে হচ্ছে। যানজট কেবল ঢাকার সমস্যা নয় বরং এশিয়ার কয়েকটি দেশসহ অনেক বিশে^ই যানজট মারাত্মক সমস্যা হয়ে বসে আছে। বিশেষ করে যেসব শহরের জনসংখ্যা ধারণক্ষমতা অতিক্রম করেছে এবং শহরটি ঢাকার মতো অপরিকল্পিত। যার যেভাবে খুশি বড়বড় বিল্ডিং তৈরি করে রেখেছে। রাস্তার ভেতর গাড়ি পার্ক করে রাখা হয়। তবে ঢাকার মতো এত প্রকট আকার ধারণ করা শহরের সংখ্যা এত নেই। কিছু কিছু এলাকায় তো গাড়ির গতির চেয়ে মানুষের হাঁটার গতিই বেশি। তাহলে একসময় কি ঢাকা স্থবির হয়ে যাবে?

যানজট নিরসনে বহুবার বহু উদ্যোগ নেয়া হলেও কার্যত তা ব্যর্থ হয়েছে। প্রতিদিন ঢাকায় গাড়ির সংখ্যা বাড়ছে। ব্যক্তিগত গাড়ির চাপে ঢাকার ত্রাহি ত্রাহি অবস্থা। দেখা যায় এক পরিবারে একটি গাড়ি হলেই চলছে, সেখানে একাধিক গাড়ি কিনে রাস্তায় নামাচ্ছে। ঢাকার রাস্তায় ব্যক্তি মালিকানাধীন গণপরিবহন, প্রাইভেট কার, মাইক্রোবাস মোটরসাইকেল এসব যানবাহন প্রতিদিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। ঢাকা যেন থমকে আছে। এখানে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সঙ্গে নাগরিকের দায়িত্ব হলো ট্রাফিক আইন মেনে চলা। যারা গাড়ি চালাচ্ছে বা যারা রাস্তা পার হচ্ছে সবাইকে নিয়মের মধ্যে থেকে করতে হবে। নিয়মের ব্যত্যয় ঘটলেই দেখা দেয় বিশৃঙ্খলা। সেই বিশৃঙ্খলা শৃঙ্খলায় ফিরতে অনেক সময় লেগে যায়। যদি আমরা নিজেরাই নিজেদের পরিবর্তন করে নিয়ম মেনে চলার অভ্যাস করি তাহলে নগর উন্নয়নের পাশাপাশি একজন সুনাগরিক হিসেবে নিজেকে নিয়ে গর্বও করতে পারি। উন্নত দেশে প্রতিটি নাগরিক সচেতন নিজের শহর নিয়ে, দেশ নিয়ে। একটি বাদামের খোসা যেখানে সেখানে না ফেলে নির্দিষ্ট স্থানে ফেলে। আমরা কেন পারব না। পরিচ্ছন্ন শহর হলে তো আমরাই লাভবান হবো। পরবর্তী প্রজন্মকে একটি পরিচ্ছন্ন বাসযোগ্য শহর উপহার দিতে পারব। জনগণের কাছে যে প্রতিশ্রুতি তারা এখন দিয়েছেন সেগুলো যেন নেহায়েত মুখের কথা না হয় তা প্রমাণ করতে হবে। এতসব সমস্যা নিয়ে রাজধানীকে তিলোত্তমা নগরীর রূপে ফিরিয়ে দিতে হবে। কাজটি কঠিন। কিন্তু সদিচ্ছা থাকলে সেই কঠিন কাজের অনেক অংশই পূরণ করা সম্ভব। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে নব নির্বাচিত নগরপিতাদ্বয় ঢাকাকে বাসযোগ্য করে তুলবেন। মোট কথা রাজধানীর অস্তিত্ব রক্ষার জন্য এবং মানুষের বসবাসের উপযুক্ত করে তোলার জন্য সঠিক পরিকল্পণা এবং তার বাস্তবায়নের কোন বিকল্প নেই।

পাবনা থেকে

প্রকাশিত : ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০২০

১৩/০২/২০২০ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


শীর্ষ সংবাদ: