২৪ জানুয়ারী ২০২০, ১১ মাঘ ১৪২৬, শুক্রবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
 
সর্বশেষ

মিত্রবাহিনীর ঢাকা অবরোধ!

প্রকাশিত : ১১ ডিসেম্বর ২০১৯
  • ১১ ডিসেম্বর, ১৯৭১
  • শাহাব উদ্দিন মাহমুদ

১৯৭১ সালের ১১ ডিসেম্বর দিনটি ছিল শনিবার। বাংলার মেঘাচ্ছন্ন আকাশে আস্তে আস্তে উঁকি দিচ্ছিল স্বাধীনতার রক্তিম সূর্য। ঢাকায় সকাল থেকে প্রচ- লড়াই চলে। ঢাকা বিজয়ের লক্ষ্য নিয়ে চারদিক থেকে ট্যাঙ্কসহ আধুনিক সমরাস্ত্র নিয়ে বাংলার বীর মুক্তিসেনারা এগিয়ে আসছিল। পথে পথে যেসব জনপদ, গ্রাম, শহর-বন্দর পড়ছিল সর্বত্রই মুক্তিসেনারা নতুন স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা উড়াতে উড়াতে সামনের দিকে অগ্রসর হচ্ছিল। গেরিলারা ঢাকার প্রত্যেক এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। পাকিস্তানী বাহিনী হেলিকপ্টারে করে কমান্ডো নামানোর চেষ্টা করেও সফল হয়নি। ঢাকার চার পাশে মিত্রবাহিনী নির্দিষ্ট এলাকায় রাতে ছত্রীসেনা অবতরণ করায়। এই দিন অবরুদ্ধ ঢাকায় পরিচালিত হয় মুক্তিবাহিনীর গেরিলা ইউনিট ক্র্যাক প্লাটুনের শেষ অপারেশন। এ গেরিলা আক্রমণটি পুরো পৃথিবীর কাছে সেই বার্তা পৌঁছে দিয়েছিল, ‘বাংলার মানুষকে আর দাবায়ে রাখা যাবে না’। বঙ্গোপসাগরে মার্কিন সপ্তম নৌবহর প্রেরণের প্রতিবাদে সকাল ১০টায় তোপখানা রোডের আমেরিকান কালচারাল সেন্টার এক্সপ্লোসিভ লাগিয়ে উড়িয়ে দেয়া হয়। ঢাকার প্রাণকেন্দ্রে দুঃসাহসী এ অভিযান পরিচালনা করেছিলেন চারজন অকুতোভয় গেরিলা যোদ্ধা। তাঁরা হলেন যথাক্রমে মানু, ফুলু, স্থপতি জিয়াউদ্দিন ও স্থপতি মোবাশ্বের হোসেন বাবুল। হিলি সীমান্তে যৌথবাহিনী প্রচ- প্রতিরোধের মুখে পড়ে। পাকবাহিনীর সঙ্গে তুমুল লড়াই অব্যাহত থাকে। মিত্রবাহিনীর জয়রথ এগিয়ে চলছে। মৌলভীবাজারের পতন আর নরসিংদীতে যৌথবাহিনীর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হয়। মুক্তিবাহিনী দেশের বিস্তীর্ণ এলাকা মুক্ত করে এবং অধিকাংশ থানায় স্বাধীন বাংলাদেশের সরকারের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়। সন্ধ্যায় সম্মিলিত বাহিনী বগুড়া-রংপুর মহাসড়কের মধ্যবর্তী গোবিন্দগঞ্জে শক্তিশালী পাক ঘাঁটির ওপর সাঁড়াশি আক্রমণ চালায়। সারারাত যুদ্ধের পর পাকবাহিনী ভোরের দিকে আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হয়। জামালপুর গ্যারিসন সম্মিলিত বাহিনীর কাছে অস্ত্র সমর্পণ করে। জামালপুরের পূর্বে হালুয়াঘাট এলাকায় প্রচ- সংঘর্ষের পর পাক বাহিনীর অপর একটি ব্রিগেড প্রচুর ক্ষয়ক্ষতি স্বীকার করে অস্ত্র গোলাবারুদ ফেলে টাঙ্গাইলের দিকে পালিয়ে যেতে শুরু করে। পলায়নের সময় শত্রুবাহিনী রাস্তার সমস্ত বড় বড় সেতু ধ্বংস করে দিয়ে যায়। জামালপুর গ্যারিসনে অবস্থানকারী পাকিস্তানী বাহিনীর ২১ বেলুচ রেজিমেন্টের ৬ জন অফিসার ও ৫২২ জন সেনা সদস্য যৌথ বাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণ করে। হানাদারদের মধ্যে নিহত হয় ২১২ জন আর আহত হয় ২০০ জন। মুক্তিবাহিনী ও মিত্রবাহিনীর ৬ দিনব্যাপী অবরোধ ও প্রচ- যুদ্ধের পর ভোরে জামালপুর হানাদারমুক্ত হয়। সম্মিলিত বাহিনী রাতে বিনা প্রতিরোধে জামালপুর দখলে নেয়। এছাড়াও গাইবান্ধা, চ-ীপুর, টাঙ্গাইল, কুষ্টিয়া, ফুলছড়িহাট ও বাহাদুরাবাদ ঘাটসহ বাংলাদেশের ১২টি গুরুত্বপূর্ণ অবরুদ্ধ এলাকা মুক্ত হয়। অপরদিকে ময়মনসিংহে অবস্থানরত শত্রু বাহিনীর আর একটি ব্রিগেড শহর ত্যাগ করে টাঙ্গাইলে তাদের প্রতিরক্ষামূলক ঘাঁটিতে গিয়ে আশ্রয় নেয়। পাকিস্তানী বাহিনী ব্রাহ্মণবাড়িয়া ত্যাগ করার সময় ভৈরব ব্রিজটি ধ্বংস করে দেয়। এতে মিত্রবাহিনীর ঢাকার দিকে অগ্রসর হওয়ার সড়কপথ বন্ধ হয়ে যায়। উপায় না দেখে মিত্রবাহিনী নরসিংদীতে হেলিকপ্টার দিয়ে ছত্রীসেনা অবতরণ করায়। ওই সময় পাকিস্তানী বাহিনী উল্টো এ্যামবুশ করে আক্রমণ করলে মিত্রবাহিনীর ছত্রীসেনারা বিপাকে পড়ে যান। এ সময় ভারতীয় কর্তৃপক্ষ রেডিওর মাধ্যমে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর সহায়তা চেয়ে পাঠিয়েছিল। সাহায্য করতে এ্যালুয়েট হেলিকপ্টার নিয়ে এগিয়ে আসেন বাংলাদেশের বৈমানিকরা। নিচে নেমে পাকিস্তানী বাহিনীর ওপর আক্রমণ চালাতে গিয়ে বিপদেও পড়েছিলেন এ্যালুয়েটের যোদ্ধারা। শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ বিমানবাহিনী সব বাধা অতিক্রম করে পাকিস্তানী বাহিনীর ওপর সফল অপারেশন চালাতে সক্ষম হয়। বিমান বাহিনীর এ অভিযানে ওইদিন ২০ জন পাকসেনা নিহত ও ২৫ জন আহত হয় এবং বাকিরা নরসিংদী ছেড়ে পালিয়ে যায়। বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর স্বল্প সামর্থ্য নিয়ে এই সফল অভিযান দেখে ভারতীয় সেনারা বিস্মিত হয়ে যান। ইস্টার্ন কমান্ডের প্রধান লে. জেনারেল নিয়াজীর কাছে এক বার্তায় প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান জানান, মার্কিন সপ্তম নৌবহর বাংলাদেশের উদ্দেশে রওনা দিয়েছে। চীনও যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে। লে. জেনারেল নিয়াজী ঢাকা বিমানবন্দর পরিদর্শন করেন। সেখানে তিনি বিমান বিধ্বংসী কামানের অবস্থা সম্পর্কে অবহিত হন। নিয়াজী বলেন, কোনক্রমেই শত্রুকে কাছে ঘেঁষতে দেয়া চলবে না। তিনি আশা প্রকাশ করেন, পাকবাহিনী তাদের ঐতিহ্যকে আরও উজ্জ্বল করবে। পরে বিমানবন্দরে তিনি বিদেশী সাংবাদিকদের সঙ্গে সর্বশেষ যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে আলাপ করেন। ঢাকায় বেলা ৩টা থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য সান্ধ্য আইন জারি করা হয়। ব্রিটিশ বিমান বাহিনীর সহায়তায় ঢাকা থেকে ব্রিটিশ ও অন্য বিদেশী নাগরিকদের সরিয়ে নেয়ার ব্যবস্থা করা হয়। জাতিসংঘের অনুরোধে মিত্রবাহিনীর বিমান হামলা সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয়। ঢাকায় বিদেশী দূতাবাসের কর্মকর্তাদের সরিয়ে নেয়ার জন্য ঢাকা বিমানবন্দরের রানওয়ে মেরামত ও আন্তর্জাতিক বিমান অবতরণের সুযোগ দেয়া হয়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে উত্থাপিত যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব মেনে নেয়ার জন্য জোর দাবি জানায়। হোয়াইট হাউজের মুখপাত্র রোনাল্ড জিগলার বলেন, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের প্রস্তাব মেনে নেয়া ভারত-পাকিস্তান উভয়ের জন্যই অত্যাবশ্যক। তিনি জানান, প্রেসিডেন্ট নিক্সন এ ব্যাপারে নিরাপত্তা বিষয়ক উপদেষ্টা কিসিঞ্জারের সঙ্গে পরামর্শ করেছেন। গবর্নর মালিকের সামরিক উপদেষ্টা কর্তৃক ঢাকায় জাতিসংঘের প্রতিনিধির কাছে প্রদত্ত জরুরী বার্তা প্রত্যাহার করে নেয়া হয়। বস্তুত রাও ফরমান আলীর প্রস্তাবের সংবাদ ওয়াশিংটনে পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গে মার্কিন সরকার এই প্রস্তাব রদ করার পরামর্শসহ ইয়াহিয়াকে জানান যে, পাকিস্তানী বাহিনীকে সাহায্য করার জন্য সপ্তম নৌবহর ইতোমধ্যেই বঙ্গোপসাগরের দিকে রওনা হয়েছে। এর ফলে ইয়াহিয়ার মত পরিবর্তিত হয়। অন্যদিকে নিক্সনের পূর্ববর্তী সতর্কবাণীর জবাবে ৯ ডিসেম্বরে ব্রেজনেভ নিক্সনকে জানিয়েছিলেন যে, উপমহাদেশের সমস্যা সমাধানের জন্য প্রয়োজন পূর্বাঞ্চল থেকে পাকিস্তানী সৈন্য প্রত্যাহারের জন্য ইয়াহিয়াকে সম্মত করানো। রণাঙ্গনের বাস্তব চাপে ১০ ডিসেম্বরে পাকিস্তান নিজেই যখন ‘সম্মানজনক’ভাবে সৈন্য প্রত্যাহারের জন্য উদ্যোগী হয়ে ওঠে, তখন সেই উদ্যোগকে সমর্থন না করে মার্কিন সরকার বরং তা রদ করার ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। অধিকন্তু ভারতকে যুদ্ধবিরতি প্রস্তাবে সম্মত করানোর তাগিদ দিয়ে ৯ ও ১০ই ডিসেম্বরে নিক্সন ব্রেজনেভকে দু’দফা বার্তা পাঠান। ১০ ডিসেম্বরে ভারতীয় বাহিনীর মেঘনা অতিক্রমের সংবাদ লাভের পর যে কোন মূল্যে এই অগ্রাভিযান রোধ করে সপ্তম নৌবহরকে বঙ্গোপসাগরের উপকূলবর্তী করার মত সময় লাভের উদ্দেশ্যে, ভারতীয় সৈন্য ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়ার শর্ত ছাড়াই, যে যেখানে আছে সেই ভিত্তিতে ‘নিশ্চল যুদ্ধবিরতি’ (standstill cease-fire) কার্যকর করার ব্যাপারে ভারতকে সম্মত করানোর জন্য ব্রেজনেভের ওপর চাপের মাত্রা বাড়ানো হয় এবং তাকে জানানো হয় যে, ভারত যদি এর পরেও সম্মত না হয় তবে যুক্তরাষ্ট্র নিজেই এই যুদ্ধে জড়িয়ে পড়বে। নিক্সন প্রদর্শিত এই ভীতি জোরদার করার উদ্দেশ্যে কিসিঞ্জার নিজেও ওয়াশিংটনস্থ সোভিয়েত প্রতিনিধি ভোরেন্টসভকে ‘ভারতীয় আক্রমণের বিরুদ্ধে পাকিস্তানকে সাহায্য করার ব্যপারে যুক্তরাষ্ট্রের অঙ্গীকার-সংক্রান্ত’ ১৯৬২ সালের স্মারকলিপি পড়ে শোনান এবং এই অঙ্গীকার রক্ষার জন্য মার্কিন সরকারের সংকল্প ব্যক্ত করেন। ওইদিন সন্ধ্যায় কিসিঞ্জার নিউইয়র্কে হুয়াং হুয়ার সঙ্গে সমগ্র পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন এবং বিশেষ করে ‘পশ্চিম পাকিস্তানের সশস্ত্রবাহিনী ধ্বংসের জন্য ভারতীয় পরিকল্পনা’ সম্পর্কে সিআইএ কর্তৃক সংগৃহীত ‘নির্ভরযোগ্য তথ্যের উল্লেখ করেন। সম্ভবত এই আলোচনার ফলে তিব্বত ও সিংকিয়াং-এর মতো ভূখ-ের জন্য ‘ভারত-সোভিয়েত আঁতাত’ কোন তাৎপর্য বহন করে কি-না সে সম্পর্কে হুয়াং হুয়ার সন্দেহ গভীরতর হয় এবং হুয়াং হুয়া উপমহাদেশের সংঘর্ষে চীনের সামরিক দায়িত্ব সম্পর্কে যে আবেগপূর্ণ মন্তব্য করেন তা কিসিঞ্জার ‘বিলম্ব হলেও চীনের সামরিক হস্তক্ষেপের আভাস’ হিসাবে গণ্য করেন। ফলে উৎসাহিত কিসিঞ্জার তৃতীয় বারের মতো হুঁশিয়ারিসহ সোভিয়েত ইউনিয়নকে জানিয়ে দেন যে, ভারতকে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত করানোর ব্যপারে শীঘ্রই কোন সন্তোষজনক উত্তর যদি সোভিয়েত ইউনিয়ন না দিতে পারে, তবে যুক্তরাষ্ট্র সপ্তম নৌবহর প্রেরণসহ ‘শক্ত ব্যবস্থা’ গ্রহণ করবে। যুক্তরাষ্ট্রের এমন হুঁশিয়ারি সামান্যতম মনোবল ভাঙতে পারেনি মুক্তি ও মিত্রবাহিনীর অকুতোভয় বীর সেনানীদের। পাকিস্তানের শক্ত ঘাঁটি চট্টগ্রাম বিমানবন্দর ও উপকূলীয় অবকাঠামো, জাহাজ, নৌযান ইত্যাদি সম্পূর্ণ নিষ্ক্রিয় করার জন্য ভারতীয় নৌবাহিনীর বিমান ও যুদ্ধ জাহাজ ব্যাপক তৎপরতা চালায়। একের পর এক বোমা ও রকেট হামলা চালিয়ে বিধ্বস্ত করে দেয় পাক হানাদারদের সবকিছু। আকাশ ও স্থল আক্রমণে দিশেহারা পাক সৈন্যরা নদীপথে পালানোর চেষ্টা করে। কিন্তু সর্বত্র সতর্ক প্রহরা যে আগেই বসানো হয়েছিল, তা জানা ছিল না হানাদারদের। তাই পাক সামরিক পোশাক ছেড়ে সাধারণ বেশে নদীপথে অনেক পাক সৈন্য পালাতে গিয়ে ধরা পড়ে মুক্তিযোদ্ধাদের হাতে। মুক্তিবাহিনী ও মিত্রবাহিনী ঢাকা ঘেরাও করে পাকবাহিনীকে আত্মসমর্পণ করার জন্য আহ্বান করে। গবর্নর হাউজে (বর্তমান বঙ্গভবন) বোমা ফেলার কারণে গবর্নর মালিকের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তান সরকারও ইতোমধ্যে পদত্যাগ করে হোটেল ইন্টার কন্টিনেন্টালে আশ্রয় নেয়। সময় থাকতে শান্তিপূর্ণভাবে আত্মসমর্পণের আহ্বান জানিয়ে আকাশ থেকে অনবরত লিফলেট ফেলা হতে থাকে। ভারতীয় বাহিনী তারাবোর কাছাকাছি এসে পৌঁছায়। এর পরই এসে পড়েন ক্যাপ্টেন মালেক ২নং সেক্টরের ট্রুপ নিয়ে। তিনি সিদ্ধান্ত নেন নারায়ণগঞ্জ রোডের পাশে স্লটার হাউজের শত্রুব্যূহ আক্রমণ করবেন। সন্ধ্যায় মেজর জেনারেল রাও ফরমান আলী যুদ্ধ বিরতি ও পাকিস্তানীদের ঢাকা থেকে অপসারণের ব্যবস্থা করার জরুরী আবেদন জানান। ঢাকায় পাকিস্তান সেনাবাহিনীর একজন মুখপাত্র সাংবাদিকদের জানান, যদিও পূর্বাঞ্চলের যুদ্ধাবস্থা খুব ভাল নয় তারপরও আমাদের আত্মসমর্পণের প্রশ্নই ওঠে না। এদিকে ঢাকায় বিকেল তিনটা থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য সান্ধ্য আইন জারি করা হয়। যশোরের মুক্ত এলাকায় এক জনসভায় অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম ও প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেন। এগুলো হলো-বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক ওয়ার ট্রাইব্যুনাল গঠন, এ ট্রাইব্যুনাল নরহত্যা, লুণ্ঠন, অগ্নিসংযোগ ও নারী নির্যাতনের অভিযোগে যুদ্ধবন্দীদের বিচার করবে। ২৫ মার্চের আগে যিনি জমি, দোকানের মালিক ছিলেন তাদের সব ফিরিয়ে দেয়া হবে। সব নাগরিকের ধর্মীয় স্বাধীনতা থাকবে। জামায়াতে ইসলামী, মুসলিম লীগ, পিডিপি, নিজামী ইসলামী নিষিদ্ধ করা হবে। গুরুত্বপূর্ণ এসব সিদ্ধান্ত ঘোষণা করে প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ বলেন, ইয়াহিয়া খান বাঙালী জাতিকে ধ্বংস করতে চেয়েছিল। কিন্তু তারা তা পারল না। লাখো শহীদের রক্তের বিনিময়ে স্বাধীনতা লাভের জন্য কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, এ শিশু রাষ্ট্রকে গড়ে তোলার দায়িত্ব এ দেশের প্রতিটি নাগরিকের। অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম বলেন, ভারতের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক রয়েছে পরস্পরের সার্বভৌম ও স্বাধীনতা অক্ষুণœ রেখে। বাংলাদেশের অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম ও প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ যশোর সার্কিট হাউসে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘তারা তাড়াতাড়ি সংবিধান রচনা করবেন যা ২৪ বছরে পাকিস্তান করতে পারেনি।

লেখক : শিক্ষাবিদ ও গবেষক

[email protected]

প্রকাশিত : ১১ ডিসেম্বর ২০১৯

১১/১২/২০১৯ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


শীর্ষ সংবাদ: