১৪ নভেম্বর ২০১৯, ৩০ কার্তিক ১৪২৬, বৃহস্পতিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
 
সর্বশেষ

শিশুর বিকাশে সুন্দর পরিবেশ

প্রকাশিত : ৭ নভেম্বর ২০১৯
  • অলোক আচার্য

অনুন্নত, উন্নয়নশীল দেশগুলোর উন্নয়নের জন্য শিশুশ্রম একটি বড় বাধা। শিশুশ্রম বলতে বোঝায় শিশুদের দ্বারা অর্থের বিনিময়ে শারীরিকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ ও কমঝুঁকিপূর্ণ যে কোন কাজ করানো। আমাদের দেশে এটি একটি সাধারণ ঘটনা। আমরা জানি আইনত এটা নিষিদ্ধ। তবুও আমাদের কিছু করার নেই। একটি শিশু যখন শ্রমমূলক কাজে নিয়োজিত থাকে তখন তার ভেতর যে প্রতিভা থাকে তা বিকশিত হওয়ার সুযোগ পায় না। কারণ মেধা বিকশিত হতে উপযুক্ত পরিবেশের প্রয়োজন। আমরা সেই পরিবেশটাই গড়ে তোলার চেষ্টা করছি। আজ যেমন শিশুদের হাতুড়ি দিয়ে লোহা পেটানোর দৃশ্য দেখতে কোন অনূভুতি হয় না তেমনি একদিন এই দৃশ্য যেন আর না দেখতে হয়। এমডিজি অর্জনের পর আমরা এসডিজি অর্জনের লক্ষ্যে এগুচ্ছি। আমাদের কাক্সিক্ষত এসডিজি অর্জন করতে হলে শিশুশ্রম বন্ধ করা অত্যাবশ্যক। কিন্তু বর্তমান আর্থসামাজিক প্রেক্ষাপটে শিশুশ্রম বন্ধ করা একটি সময়সাপেক্ষ এবং দীর্ঘ পরিকল্পনার বিষয়। রাষ্ট্রর একটা দায়িত্ব থাকে এসব শিশুরা যাতে ভারি এবং ঝুঁকিপূর্ণ কাজ না করে এবং সে বিষয়ে আইনও থাকে কিন্তু বাস্তব পরিস্থিতি ভিন্ন। অভাব না আইন দিয়ে আটকানো যায়, আর না উপদেশ দিয়ে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই পেটের জ্বালা মেটানোর জন্যই তারা কাজে নামে। আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে শিশুরা গাড়ি ঠেলা, পাথর ভাঙা থেকে শুরু করে মাল টানা, ওয়েল্ডিং কারখানায় কাজ করে। বাংলাদেশ শিশু অধিকার ফোরামের সেমিনারের তথ্য মোতাবেক বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর সর্বশেষ শিশু শ্রম সমীক্ষা অনুযায়ী, দেশে ১২ লাখ ৮০ হাজার শিশু ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নিয়োজত আছে। অথচ বাংলাদেশ সরকারের টেকসই উন্নয়ন লক্ষমাত্রা অর্জনে ২০২১ সালের মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ শিশুশ্রম এবং ২০২৫ সালের মধ্যে সব ধরনের শিশুশ্রম নিরসনে অঙ্গীকারবদ্ধ। এসব ঝুকিপূর্ণ কাজের অনুমোদন না থাকলেও আসলে এই মুহূর্তে কিছুই করার নেই। সচেতনতাও এক্ষেত্রে তেমন কিছু করতে পারে না যদি অভাব দূর না হয়। আগে পেট তারপর অন্যান্য সুযোগের প্রশ্ন আসে। পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে আমাদের দেশের শিশু শ্রমিকদের এক চতুর্থাংশ দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে। শ্রম দেওয়া কাজ যেখানে কেবল প্রাপ্ত বয়স্কদের জন্য সেখানে আমাদের দেশে শিশু শ্রমিক দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে।

আমাদের দেশের ঝুঁকিপূর্ণ কাজগুলোতে শিশুশ্রমের পেছনে কয়েকটি বিষয় জড়িত রয়েছে। এর মধ্যে দারিদ্র্য, শিশু অধিকারের প্রতি সচেতনতা, পরিবারের অনাগ্রহ এসব বিষয় জড়িত আছে। লেখাপড়া এবং আনন্দপূর্ণ শৈশব ছেড়ে কেন একজন শিশু হাতে হাতুড়ি তুলে নেয় সে প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে হবে আমাদের। কারণ আমাদের উন্নয়নের যে লক্ষ্য তা সম্পন্ন হবে না যতক্ষণ এ অবস্থা থেকে আমরা বের হয়ে আসতে পারি। সবার জন্য শিক্ষা নিশ্চিত করতে সরকারের যে লক্ষ্য তা অর্জন করতে হলে প্রতিটি শিশুর হাতেই বই, খাতা, কলম তুলে দিতে হবে। দেখা যায় বেশিরভাগ শিশুই তাদের এই রোজগারের বড় অংশই পরিবারের প্রয়োজনে ব্যয় করে। যেখনে প্রয়োজনটাই মুখ্য হয়ে দাঁড়ায় সেখানে আইন কোন প্রভাব ফেলতে পারে না। সেক্ষেত্রে সেই শিশুটির ভবিষ্যত কি হবে বা সেই শিশুর দেয়া অর্থের বিকল্প উৎস কি হবে তা স্থির করতে হবে। দারিদ্র্য, যুদ্ধ বিগ্রহ, প্রাকৃতিক বিপর্যয় যাই হোক না কেন শিশুরা তার সবচেয়ে খারাপ প্রভাবের শিকার হয়।

আমাদের সফল কর্মযজ্ঞের একটি হলো বছরের শুরুতেই নতুন বই বিনামূল্যে বিতরণ করা। এই বই দেবার অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল যাতে বছরের শুরুতেই বই কেনার টাকা যোগাড় করতে গিয়ে কোন অভিভাবককে দুশ্চিন্তা করতে না হয়। এবং শিশুও যেন হাসিমুখে বই খাতা কলম নিয়ে স্কুলে যেতে পারে। কিন্তু তা সত্ত্বেও সবাই স্কুলে যায় না। যদিও অনেক সময়ই শিশুর এই অবস্থাকে অনেক কম করে দেখানো হয়। কিন্তু মূল চিত্র চোখে পড়ে বাইরে বের হলে। শ্রমজীবীদের একটি বিরাট অংশই শিশু। আপনি যে রিক্সায় উঠবেন লক্ষ্য করলে দেখা যাবে সেটা হয়তো কোন শিশু চালাচ্ছে। যে গাড়িতে উঠবেন সেটার চালকও কোন শিশু। এমনকি যানবাহন চালাতেও দেখা যায় শিশুকে। আমরা তা দেখতে চাই না। আমরা শিশুর জন্য নিরাপদ বাসযোগ্য পরিবেশ গড়তে চাচ্ছি তা থেকে অনেক দূরে আমাদের অবস্থান।

পাবনা থেকে

প্রকাশিত : ৭ নভেম্বর ২০১৯

০৭/১১/২০১৯ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


শীর্ষ সংবাদ: