১৭ নভেম্বর ২০১৯, ৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, রবিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
 
সর্বশেষ

আজকের করণীয়

প্রকাশিত : ৭ নভেম্বর ২০১৯
  • শাহীন চৌধুরী ডলি

শিশুদের কাজ কি? তাদের একমাত্র কাজ স্কুলে যাওয়া। কিন্তু দেখা যায় পরিবারে সচ্ছলতা আনতে দরিদ্র পরিবারের অধিকাংশ শিশু কোন না কোন কাজের সঙ্গে জড়িত। অর্থনৈতিক বাস্তবতা এবং পারিবারিক প্রয়োজন শিশুশ্রমের মূল কারণ। বাংলাদেশে শিশুশ্রমের ভয়াবহ চিত্র দেখলে বোঝার উপায় নেই যে এই দেশের আইনে শিশুশ্রম নিষিদ্ধ। বাংলাদেশ শ্রম আইনে সুনির্দিষ্টভাবে বলা হয়েছে ১৪ বছরের নিচে কোন শিশুকে কাজে নেয়া যাবে না। ১৪-১৮ বছরের শিশুদের কাজে নেয়া গেলেও ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নেয়া যাবে না। যারা বাসাবাড়িতে কাজ করে তাদের কল্যাণের জন্যও নীতিমালা আছে। শিশুদের জন্য ৩৮টি কাজকে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ বলে বিবেচনা করা হয়েছে যেগুলোতে কোনভাবেই শিশুকে নিয়োগ দেয়া যাবে না। শিশুশ্রম নিরসনে জাতিসংঘ প্রণীত সব আইনে বাংলাদেশ সরকার অনুস্বাক্ষর করেছে।

যারা কম পয়সায় বেশি লাভ করতে চান তারাই মূলত বড়দের কাজে না লাগিয়ে কম পয়সায় শিশুদের দিয়ে কাজ করান। শিশু শ্রম দিচ্ছে না এমন জায়গা খুঁজে পাওয়া ভার। জাহাজ শিল্প থেকে শুরু করে ওয়েল্ডিং, টিভি, ফ্রিজ, এসির কাজ, শিল্প কল কারখানা, ট্যানারি, কৃষিখাত, রেস্টুরেন্ট, অটোমোবাইল, ওয়ার্কশপ, ব্যাটারি কারখানা, ইটভাটা, কামারের দোকান, ডাইং, মুদ্রণ কারখানা, রিকশা ভ্যান, অটো চালানোসহ বিভিন্ন প্রাতিষ্ঠানিক ও অপ্রাতিষ্ঠানিক ঝুঁকিপূর্ণ কাজে শিশুরা নিয়োজিত রয়েছে। বাসাবাড়ির কাজে শিশুদের বঞ্চনা, শোষণ, নিপীড়ন, যৌন নির্যাতনের শিকার হতে হচ্ছে। কেউ ভিক্ষাবৃত্তি করছে। একশ্রেণীর দালালের দৌরাত্ম্যে শিশুরা পাচার হয়ে মরুভূমির বুকে উটের জকি হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে, যৌন নিগ্রহের ঘটনা তো আছেই। শিশুশ্রমের নেতিবাচক প্রভাব সম্পর্কে আমরা সবাই অবগত। আগামী সুন্দর ভবিষ্যত নির্মাণে শিশুশ্রম নিরসনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে যাতে শিশু কিশোরদের শৈশব ও কৈশোর উৎকণ্ঠাহীন এবং শঙ্কামুক্ত হয়। এই ব্যাপারে সরকারসহ সংশ্লিষ্ট সবার সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। কেবল আইন করে শিশুশ্রম বন্ধ করা যাবে না। শিশুর অভিভাবক, নিয়োগকারী, ট্রেড ইউনিয়ন, সুশীল সমাজ, সংশ্লিষ্ট সরকারী কর্মকর্তাদের সংবেদনশীল হতে হবে। শিশুশ্রম নিরসনে কমিউনিটিভিত্তিক প্রতিরোধ ব্যবস্থা প্রবর্তন ও তাকে শক্তিশালী করতে হবে। সরকারী বেসরকারী প্রতিষ্ঠানকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। দরিদ্র শিশুদের অভিভাবকদের কাজের ব্যবস্থা করলে, কর্মক্ষেত্রগুলোতে তদারকির ব্যবস্থা করলে, যারা শিশুদের কাজে নিয়োগ করে তাদের আইনের আওতায় এনে শাস্তির ব্যবস্থা করলে, শিশুশ্রম নিরসনের আইনগুলো বাস্তবায়ন করলে শিশুশ্রম অনেকাংশে কমে আসবে। ১৪ বছরের নিচে যেন কোন শিশু গৃহকর্মীর কাজ না করে তার জন্য আইন করতে হবে। নিয়োগকারীকে শাস্তি ও জরিমানা প্রদান আইন থাকতে হবে। শিশুশ্রমিকদের নিরাপত্তাবেষ্টনীর অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়সহ সবাইকে কাজ করতে হবে। শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তি প্রদান করা হচ্ছে যা শিশুদের ক্ষেত্রে ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে। আইএলও, ইউনিসেফ, সেভ দ্য চিলড্রেন, ওয়ার্ল্ডভিশনসহ অন্যান্য সবাই মিলে কাজ করলে শিশুশ্রম নিরসনে ব্যাপক পরিবর্তন আসবে। শিশুশ্রমের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে গণমাধ্যমের ভূমিকা অনস্বীকার্য। গণমাধ্যমগুলোকে শিশুশ্রম বন্ধের প্রচারণায় আরও বেশি উদ্যোগী হতে হবে।

দরিদ্র পরিবারগুলোতে আর্থিক সচ্ছলতা এনে দিতে স্বল্প, মধ্য, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে তাদের কাছে যেতে হবে। পরিকল্পনার গুরুত্ব বিবেচনা করে তা বাস্তবায়ন করতে হবে। বাংলাদেশের প্রায় ৪৭ লাখ শিশু শ্রমের সঙ্গে যুক্ত, এদের মধ্যে প্রায় ১৭ লাখ অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ কাজে জড়িত। এদের সকলেই শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত। গৃহীত বিভিন্ন পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ করতে পারলে ২০২৫ সালের মধ্যে শিশুশ্রম নিরসন অসম্ভব নয়। শিশুর শিক্ষা, স্বাস্থ্য, মানসিক বিকাশ যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয় সেদিকে সজাগ দৃষ্টি রেখে শিশুশ্রম নিরসনে ফলপ্রসূ কাজ করে যেতে হবে।

উত্তরা, ঢাকা থেকে

প্রকাশিত : ৭ নভেম্বর ২০১৯

০৭/১১/২০১৯ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


শীর্ষ সংবাদ: