১১ ডিসেম্বর ২০১৯, ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, বুধবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
 
সর্বশেষ

সমাজব্যবস্থার ছবি

প্রকাশিত : ১৭ অক্টোবর ২০১৯
  • মোহাম্মদ ছরওয়ার কামাল

মানুষ সামাজিক জীব। সমাজের ভেতর মানুষ বেড়ে উঠে। সমাজ একটি প্রতিষ্ঠান। সমাজের ক্ষুদ্রতম একক পরিবার, অন্যান্য প্রাণীর মতো মানব শিশু প্রাকৃতিকভাবে জন্মগ্রহণ করে। মানব শিশুকে মানুষে পরিণত হতে হয়, যা অন্য প্রাণীর বেলায় সেভাবে ঘটে না। তাকে মানুষ হতে হলে মনুষ্যত্ব শিক্ষায় শিক্ষিত হতে হয়।

মানব শিশু শিক্ষাগ্রহণ করে পরিবেশ ও পরিবার থেকে। মা-বাবার প্রাথমিক পাঠ থেকেই শিশুরা পশু হবে কি মানুষ হবে, তার সূচনা ঘটায়। পরিবার, সমাজ, রাষ্ট্র, আন্তর্জাতিক পরিম-ল আমাদের পরিবেশ হিসেবে কাজ করে। একজন মানবশিশু এই পরিবেশেই বেড়ে উঠে, এবং কালক্রমে নানা শিক্ষার মাধ্যমে তার জাত চিহ্নিত করে।

একটি সমাজের মূল চাবিকাঠি হচ্ছে শিক্ষা। যে সমাজে শিক্ষাব্যবস্থা একজন মানবশিশুকে মানুষে পরিণত করার যথাযথ নির্দেশনা প্রদান ও কার্যকর করার সঠিক পদক্ষেপ নিতে সক্ষম, সে সমাজে মানুষের সমস্যা অনেকাংশেই কমে যায়। কুশিক্ষা সমস্যা বাড়ায়, সুশিক্ষা আচরণ নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে বিবেককে স্বচ্ছ কওে তোলে। যে শিক্ষা মানুষকে বেঁচে থাকার বাঁচিয়ে রাখার দীক্ষা থেকে সরে দাঁড়ায় তা কুশিক্ষা। মানুষ মানুষকে হত্যা করে কেন? অন্যায় অত্যাচার দুর্নীতিতে আসক্ত হয় কেন? যথাযথ শিক্ষার অভাব ও তার প্রয়োগের কারণে। ‘যেখানে ডোবাখানা সেখানে কচুরিপানা’ যেখানে কুশিক্ষা ও দারিদ্র্য সেখানে সভ্যতা বিপন্ন। পরিবেশ মানুষকে বিপন্নও করতে পারে, অবস্থাসম্পন্নও করতে সক্ষম। পরিবেশ বলতে প্রাকৃতিক ও সামাজিক পরিবেশ যার ভেতর আমরা নানাবিধ কর্ম করে থাকি এবং জীবন চালাই।

সুশিক্ষা ও সামর্থ্য মানুষকে সুন্দর সতেজ সুস্থ জীবনের পথ দেখায়। শুধু সুশিক্ষা থাকল সামর্থ্যরে অভাবে তার যথাযথ প্রয়োগ সম্ভব হচ্ছে না এমন হলে কেমন হয়? সুশিক্ষা সামর্থ্যবান করে। সামর্থ্য মানুষকে সুুশিক্ষায় দীক্ষিত করার সহায়তা প্রদান করে। সমাজে অন্যায়, অবিচার, অসুস্থধারা স্বাভাবিক রীতি। এ থেকে উদ্ধারের সহজতম উপায় সুশিক্ষা গ্রহণ করা। সুশিক্ষার মাধ্যমে সামর্থ্যবান হয়ে তার যথাযথ প্রয়োগে সক্ষম সমাজই তার উন্নতির দৃষ্টান্ত।

রাষ্ট্র একটি রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান। প্রত্যেক মানুষ রাষ্ট্রের সদস্য। সমাজ ও পরিবার তার ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র সংস্করণ। রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রক সংস্থা। পরিবার ব্যক্তিকে সমাজ পরিবারকে রাষ্ট্র সমাজকে নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে পরিবেশ সৃষ্টি করে। এই নিয়ন্ত্রক সংস্থা পরিচালনায় যারা থাকেন তারা যদি সুশিক্ষায় শিক্ষিত না হন, সামর্থ্যবান না হয়ে অসুস্থ জীবনে অভ্যস্ত হয়ে পড়েন তাহলে তার প্রভাব পড়বে সমাজে, পরিবাওে, একদম শেষ পর্যায়ে ব্যক্তির ব্যক্তিক জীবনে।

রাজনীতি সমাজের শীর্ষ আধার। রাজনীতিতে পচন মানে পুরো সমাজব্যবস্থায় পচন। এ পচন আসতে পারে নিচ থেকে কিংবা ওপর থেকে। মাথায় যদি শিক্ষার অভাব থাকে, পচন রোধে সামর্থ্য না থাকে, তাহলে জীবন বিপন্ন হতে বাধ্য। একজন অসুস্থ ব্যক্তি স্বাভাবিক চিন্তায় অভ্যস্ত হতে পারে না। পরিবেশ যদি যথাযথ না থাকে কিংবা পরিবেশ যদি মানুষের উপযোগী সক্ষমতা অর্জন করতে না পারে তবে সেখানে অনাচার, অন্যায়, রক্তপাত, অসুন্দর জীবন প্রত্যক্ষ হবে।

আবরার হত্যা সমাজব্যবস্থার ফল। আবরার মানুষ, তাকে হত্যা করেছে আরো মানুষ। তারা মানুষ হতে পারেনি কিংবা সমাজব্যবস্থা তাদের মানুষ হতে দেয়নি। রাজনীতিতে দুর্বৃত্তায়ন, শিক্ষায় অশিক্ষা কুশিক্ষা, অনৈতিক সংসর্গ, আধুনিক যন্ত্রপাতির অপব্যবহার, সামাজিক নিয়ন্ত্রণের দুর্বলতা মা-বাবা সমাজ রাষ্ট্র যথাযথ শিক্ষায় ও সামর্থ্যে সামর্থ্যবান না হওয়ার ফল এই হত্যাকা-। এ থেকে উদ্ধারের উপায় সুশিক্ষায় শিক্ষিত করা প্রয়োগযোগ্যতা তৈরিতে সামর্থ্যবান করা। এ কাজে ব্যর্থতা সমাজ জীবনে বয়ে আনবে আরও আবরার হত্য,া যা আমাদের কাম্য নয়।

মহেশখালী, কক্সবাজার থেকে

প্রকাশিত : ১৭ অক্টোবর ২০১৯

১৭/১০/২০১৯ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


শীর্ষ সংবাদ: