১৪ অক্টোবর ২০১৯, ২৯ আশ্বিন ১৪২৬, সোমবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
 
সর্বশেষ

বিষবৃক্ষের মূলোৎপাটন চাই

প্রকাশিত : ১০ অক্টোবর ২০১৯
  • আমিনূর রশীদ বাবর

ক্ষুধা, দারিদ্র্যমুক্ত, সুখী সমৃদ্ধশালী সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠার চেতনায় মহান স্বাধীনতাযুদ্ধ সংগঠিত হয়েছিল। কিন্তু পঁচাত্ত উত্তর এ চেতনা উবে যায়। বঙ্গবন্ধুর সাড়ে তিন বছরের শাসনামলে চোরাকারবারি, মজুদদার, মুনাফাখোর ও ঘুষখোরদের দৌরাত্ম্য চরম আকার ধারণ করলে বাধ্য হয়ে বঙ্গবন্ধু ৭৪ সালে দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে শুদ্ধি অভিযান শুরু করেন। ওই সময় বঙ্গবন্ধু বলতেন, অপরাধী কে, সে কোন দল করে তা আমার জানা দরকার নেই। সে যদি অপরাধী হয়ে থাকে তাহলে অবশ্য তাকে শাস্তি পেতে হবে। এরই প্রেক্ষিতে বঙ্গবন্ধু চোরাকারবারি, কালোবাজারি, মজুদদার, ঘুষখোর ও দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে সেনা অভিযান শুরু করেন। তখন দেখা গেল এই অভিযানে যাদের গ্রেফতার করা হচ্ছে এদের কেউ কেউ আওয়ামী লীগের ডাকসাইটের নেতা। ওই সময় মৌলভীবাজারে যাদের গ্রেফতার করা হয়েছিল তারা সবাই ছিল আওয়ামী লীগের ডাকসাইটের নেতা। এ সময় অপর এক নেতা এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায়। জীবদ্দশায় বঙ্গবন্ধু দুর্নীতির বিরুদ্ধে অনেক কথা বলেছেন, তিনি দুঃখ করে একবার বলেছিলেন, সাড়ে সাত কোটি কম্বল এসেছে, গোলাম মোস্তফা আমার কম্বল কৈ? আজ একইভাবে তারই সুযোগ্যকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করেছেন। অভিযানের শুরুতেই একইভাবে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদককে তার গুলশানের বাসা থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ সময় তার বাড়িতে পাওয়া যায় চারশ’ পিস ইয়াবা, নগদ দশ লাখ টাকা, ছয় লাখ টাকার ডলার ও তিনটি আগ্নেয়াস্ত্র। স্বাধীনতার পর থেকে এ দেশে দুর্নীতি শুরু হয়েছিল তা অদ্যাবধি অব্যাহত আছে। দেশে সীমাহীন দুর্নীতি চলছে। দেশের সর্বোচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ। তার ওপর বালিশ দুর্নীতি, পর্দা দুর্নীতি, চেয়ার দুর্নীতি। দুর্নীতিতে দেশ আকণ্ঠ নিমজ্জিত হয়ে আছে। আসলে যে চেতনা নিয়ে এদেশ স্বাধীন হয়েছিল সে চেতনা থেকে দেশ অনেকদূর সরে গেছে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ছিল, ক্ষুধা, দারিদ্র্য ও দুর্নীতিমুক্ত সুখীসমৃদ্ধ সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠা করা। কিন্তু দুর্নীতির কারণে সেই সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠা করা ব্যর্থ হয়েছে। কারণ, স্বাধীনতার প্রসব ব্যথা কেউ বুঝেনি। মুক্তিযুদ্ধের দীর্ঘ নয় মাস রাজাকার, আলবদররা আমাদের ধরে নিয়ে হত্যা করেছে। ওই সময় রাজাকার, আলবদর ছিল সাক্ষাত মৃত্যুদূত। রাজাকারদের ভয়ে আমরা নয় মাস বিনিদ্ররজনী কাটিয়েছি। এত কষ্ট, এত ত্যাগ কেন আমরা করেছিলাম? করেছিলাম একটি ক্ষুধা, দারিদ্র্য ও দুর্নীতিমুক্ত সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠার জন্য। কিন্তু যেই তিমির সেই তিমিরেই রয়ে গেলাম। অতএব জনগণ মনে করে, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়ন করতে হলে, ক্ষুধা, দারিদ্র্যমুক্ত সোনার বাংলা গড়তে হলে দুর্নীতিবাজদের দমন করতে হবে, দুর্নীতির মূলোৎপাটন করতে হবে। যদি তাই করা হয় তা হলেই বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠা করা যাবে।

গুর্জাপাড়া, মৌলবীবাজার থেকে

প্রকাশিত : ১০ অক্টোবর ২০১৯

১০/১০/২০১৯ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


শীর্ষ সংবাদ: