১৯ অক্টোবর ২০১৯, ৪ কার্তিক ১৪২৬, শনিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
 
সর্বশেষ

আয়কর হিসাব করবেন যেভাবে

প্রকাশিত : ৬ অক্টোবর ২০১৯
  • সুমন্ত গুপ্ত

প্রতি অর্থবছর শেষে যে আয়কর আপনাকে দিতে হচ্ছে দেশে অনেকেই আছেন বেশ দক্ষতার সঙ্গে সেটি সামাল দেন। কিন্তু বহু মানুষ আছেন যারা রীতিমতো হিমশিম খান। তথ্যের অভাবে ভুল করে থাকেন, নানা ঝামেলায় পড়েন। যারা নতুন আয়কর দিচ্ছেন তাদের ক্ষেত্রেই এটি বেশি হয়ে থাকে। আপনি যদি বছরে আড়াই লাখ টাকার বেশি আয় করেন, তবে কর দিতে হবে। করের হিসাব-নিকাশ সরল অঙ্কের মতো নয়। এই হিসাব কিছুটা ভিন্ন। আছে নানা ধরনের ছাড়। সে সব যোগ-বিয়োগ করে আপনাকে কর নির্ধারণ করতে হবে। আবার আড়াই লাখ টাকার বেশি আয় হলেই ওই টাকার ওপর একেক হারে কর আরোপ হবে। যেমন, আড়াই লাখ টাকার বেশি প্রথম ৪ লাখ টাকার ওপর ১০ শতাংশ কর, পরের ৫ লাখ টাকার ওপর ১৫ শতাংশ কর। এভাবে যত আয় বাড়বে, করের হারও বাড়ে। বাড়ি ভাড়া, চিকিৎসা ভাতা, জীবননাশী রোগের চিকিৎসা খরচ, যাতায়াত, প্রভিডেন্ট ফান্ড, শ্রমিক তহবিলসহ বিভিন্ন খাতে একটি নির্দিষ্ট সীমা পর্যন্ত আয়ে কর ছাড় আছে। প্রতিবছর ১ জুলাই থেকে ৩০ নবেম্বর পর্যন্ত কর বিবরণী জমা দেয়া যায়। এরপরে দিলে জরিমানা গুনতে হবে। আয়কর সম্পর্কে প্রথম যেটি জানতে হবে সেটি হলো তার আয় কত, আর সেটি আয়করের আওতায় পড়ে কিনা। ইনকাম ট্যাক্স আইন অনুযায়ী সাত ধরনের আয় করের আওতায় পড়ে। যেমন চাকরি থেকে পাওয়া বেতন, ব্যবসা থেকে আয়, বাড়ি ভাড়া থেকে পাওয়া অর্থ, কোন সম্পত্তি বিক্রি ও হস্তান্তর ফলে প্রাপ্ত অর্থ, জামানতের সুদ (সঞ্চয়পত্র, বন্ড, ব্যাংকের সুদ ইত্যাদি), কৃষি হতে আয়। আর আছে অন্যান্য যার মধ্যে পড়তে পারে অনেক কিছু। একজন চাকরিজীবীর মূল বেতনের ওপর কর বসে। এ ছাড়া বোনাসও করের আওতায় আছে। তবে চিকিৎসা, বাড়ি ভাড়াসহ বিভিন্ন খাতে নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা পর্যন্ত কর রেয়াত মিলবে। নির্দিষ্ট কিছু খাত যেমন সঞ্চয়পত্র, শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানির শেয়ার, ট্রেজারি বন্ড ইত্যাদিতে বিনিয়োগ করলেও কর রেয়াত পাওয়া যায়।

চাকরিজীবী করদাতাদের মূল বেতন, বিশেষ বেতন, বোনাস, মহার্ঘ ভাতা- সবই করযোগ্য আয়। যেমন, কোন চাকরিজীবীর মূল বেতন যদি মাসে ৩০ হাজার টাকা হয়, তা হলে বছর শেষে ওই ১২ মাসের মূল বেতন যোগ হয়ে ৩ লাখ ৬০ হাজার টাকা করযোগ্য আয়। যদি দুটি উৎসব মূল বেতনের সমান হয়, তা হলে আরও ৬০ হাজার টাকা যুক্ত হবে। মহার্ঘ ভাতা থাকলেও কর বিবরণীতে যোগ করতে হবে। চাকরিজীবীদের বাড়ি ভাড়ায় কর ছাড় মিলবে। ওই চাকরিজীবী বাড়ি ভাড়া বাবদ ওই মূল বেতনের ৫০ শতাংশ বা মাসিক ২৫ হাজার টাকার মধ্যে যেটি কম, তা করমুক্ত। যদি আপনার হৃদরোগ, কিডনি, চক্ষু, লিভার ও ক্যান্সারের মতো জীবননাশী রোগে ভোগেন, তবে সার্জারির খরচের জন্য আপনার অফিস যত টাকা দেবেন, তা পুরোটাই করমুক্ত। তবে কোন কোম্পানির শেয়ারহোল্ডার পরিচালক এই সুবিধা পাবেন না। অনেক চাকরিজীবী নিজের অফিসের ওয়ার্কার্স পার্টিসিপেশন ফান্ড থেকে বিপদে-আপদে টাকা পান। এ ধরনের তহবিল থেকে ৫০ হাজার টাকা পেলেও তা করযোগ্য নয়। অনেক প্রতিষ্ঠান নিজেদের কর্মীদের ছুটির বিপরীতে নগদ টাকা দিয়ে দেন। এ ধরনের ছুটি নগদায়নের টাকাও করমুক্ত। তবে তা বছরে ৬০ হাজার টাকার কম হতে হবে। অবসর গ্রহণের পর গ্র্যাচুইটি বাবদ আড়াই কোটি টাকা পর্যন্ত করমুক্ত। বাড়ি ভাড়া বাবদ পুরো আয়ের ওপর কর বসবে না। আবাসিক ভাড়া দিলে বার্ষিক আয়ের ২৫ শতাংশ পর্যন্ত মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণে খরচ দেখিয়ে রেয়াত মিলবে। বাণিজ্যিক ভাড়ার ক্ষেত্রে এই হার ৩০ শতাংশ। কোন মাসে ফ্ল্যাট ভাড়া না হলে তা বাদ দিতে হবে।

এ ছাড়া বাদ যাবে পৌর কর, ভূমি রাজস্ব, গৃহনির্মাণের কিস্তির টাকা। আপনি কত টাকা কর রেয়াত সুবিধা পাবেন, তা নির্ভর করে আপনি সংশ্লিষ্ট অর্থবছরে কত টাকা নতুন বিনিয়োগ করেছেন তার ওপর। কিন্তু এর মানে এই নয় যে আপনি আনলিমিটেড বিনিয়োগ করলেই আনলিমিটেড কর মওকুফ বা রেয়াত সুবিধা পাবেন। আপনি আপনার আয়ের সব টাকাই বিনিয়োগ করতে পারবেন, চাইলে ঋণ নিয়েও বিনিয়োগ করতে পারবেন, কিন্তু একটি নির্দিষ্ট অঙ্কের বাইরে যত টাকাই বিনিয়োগ করেন না কেন, একটি নির্দিষ্ট অঙ্কের বেশি কর রেয়াত সুবিধা আপনি পাবেন না। এ জন্য এই ধাপটির নাম দেয়া হয়েছে- সর্বোচ্চ আয়কর রেয়াত পাওয়ার জন্য সর্বনিম্ন কত টাকা বিনিয়োগ করতে হবে। বর্তমানে ৯টি খাতে বিনিয়োগ করলে কর রেয়াত মিলবে। কর রেয়াত পেতে এসব খাতে একজন করদাতা বছরের মোট আয়ের ২৫ শতাংশ পর্যন্ত বিনিয়োগ বা দান করতে পারবেন। ওই বিনিয়োগকারী করদাতার বার্ষিক আয় ১৫ লাখ টাকার কম হলে মোট বিনিয়োগ ও দানের ১৫ শতাংশ কর ছাড় মিলবে। ১৫ লাখ টাকার বেশি হলে ১০ শতাংশ হারে কর ছাড় পাওয়া যাবে। সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ করলে কর রেয়াত পাওয়া যায়। সঞ্চয়পত্র ছাড়া আরও আটটি খাত আছে, যেখানে বিনিয়োগ করলে আপনি কর ছাড় পাবেন। এগুলো হলো স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত কোম্পানির শেয়ার, স্টক, মিউচুয়াল ফান্ড বা ডিবেঞ্চার কেনা; জীবন বীমার প্রিমিয়াম; সরকারী কর্মকর্তারা প্রভিডেন্ট ফান্ডে চাঁদা; স্বীকৃত ভবিষ্যত তহবিলে নিয়োগকর্তা ও কর্মকর্তা-কর্মচারীর চাঁদা; কল্যাণ তহবিল ও গোষ্ঠী বীমার তহবিলে চাঁদা; সরকার অনুমোদিত ট্রেজারি বন্ডে বিনিয়োগ এবং সুপার এ্যানুয়েশন ফান্ডে চাঁদা। এ ছাড়া ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ডিপোজিট পেনশন স্কিমে বার্ষিক সর্বোচ্চ ৬০ হাজার টাকা রাখলেও কর রেয়াত পাবেন। অর্থাৎ মাসে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত ডিপিএস রাখলে বিনিয়োগজনিত কর ছাড় মিলবে।

প্রকাশিত : ৬ অক্টোবর ২০১৯

০৬/১০/২০১৯ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


শীর্ষ সংবাদ: