২০ জানুয়ারী ২০১৮,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

বিটি প্রযুক্তির ব্যবহার দেশকে কৃষিতে ব্যাপক সাফল্য এনে দিয়েছে


স্টাফ রিপোর্টার ॥ কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী বলেছেন, দেশের কৃষির সাফল্যে বর্তমান সরকারের উদার বীজনীতির অবদান রয়েছে। দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশই সর্ব প্রথম ২০১৩ সালে কৃষিতে বায়োটেকনোলজি (বিটি) প্রযুক্তির ব্যবহার শুরু করে। খাদ্য ঘাটতির দেশ থেকে বাংলাদেশ এখন খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়েছে। কৃষির রূপান্তর এবং প্রযুক্তি ব্যবহারে কৃষকরা সুফল পাওয়াতেই এটি সম্ভব হয়েছে। বিপুলসংখ্যক জনগোষ্ঠীর পুষ্টি নিশ্চিত করা এখন আমাদের সামনে চ্যালেঞ্জ। তাই আমাদের লক্ষ্য হলো যথাযথ পুষ্টিমান সমৃদ্ধ উন্নত বীজের একাধিক জাত উদ্ভাবন এবং প্রান্তিক পর্যায়ের কৃষক পর্যন্ত প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি পৌঁছে দেয়া।

বুধবার ‘ডেভেলপিং দ্য সিড সেক্টর ইন বাংলাদেশ ঃ হোয়াট রোল ফর পলিসি’ শীর্ষক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ইন্টারন্যাশনাল ফুড পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট (ইফপ্রি), ইউএসএআইডি এবং কৃষি মন্ত্রণালয় যৌথভাবে দিনব্যাপী এ কর্মশালার আয়োজন করে। কৃষি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মোহাম্মদ মঈনুদ্দীন আবদুল্লাহর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন অতিরিক্ত সচিব (সিড উইং) আশরাফ উদ্দিন আহমেদ এবং ইউএসএআইডির বাংলাদেশে ডেপুটি মিশন ডিরেক্টর জেইনা সালাহি। বক্তব্য রাখেন এগ্রিকালচারাল পলিসি সাপোর্ট ইউনিটের ডিরেক্টর জেনারেল মোহাম্মদ নাজমুল, ইফপ্রির কান্ট্রি রিপ্রেজেনটিটিভ ড. আকতার আহমেদ প্রমুখ। অনুষ্ঠানে কৃষিমন্ত্রী বলেন, আমরা দেশে সফলভাবে ‘বিটি’ জাতের বেগুন উৎপাদনে সক্ষম হয়েছি। ক্ষুদ্র কৃষকরা এতে লাভবান হচ্ছেন। সরকারী গবেষণা কেন্দ্রগুলো বিভিন্ন শস্যের শতাধিক নতুন জাত উদ্ভাবন করেছে। এসব জাত খরা, বন্যা, লবণাক্ততার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ সহনশীল ও অধিক ফলনশীল। এখন মাঠ পর্যায়ে এসব জাত ব্যবহারে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করতে হবে। প্রয়োজনে গবেষণার মাধ্যমে আরও নতুন নতুন জাত উদ্ভাবন করতে হবে। মন্ত্রী বলেন, বিটি জাতের ব্যাপারে বিদেশী সহায়তাপুষ্ট কিছু এনজিও অহেতুক বিরোধিতা করছে। সরকার প্রতিটি শস্যের আদি বীজ সংরক্ষণের বিষয়ে তৎপর। বর্তমানে সরকার যে পদক্ষেপ নিচ্ছে তাতে ক্ষুদ্র কৃষকরা কম খরচে আধুনিক প্রযুক্তির সংস্পর্শে এসে ফলন আরও বৃদ্ধি করতে পারবে। সভাপতির বক্তব্যে মোহাম্মদ মঈনুদ্দীন আবদুল্লাহ বলেন, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে বীজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষির উৎপাদনে আনতে হবে বৈচিত্র্য (ভ্যারাইটি)। সরকার এসব বিষয়ে কাজ করছে। চলতি বছরেই সংসদে ‘বীজ আইন’ পাস এবং আগামী বছরের শুরুতেই বীজ নীতিমালা প্রণয়ন করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

দিনব্যাপী কর্মশালার টেকনিক্যাল সেশনে মোট চারটি প্রবন্ধ উপস্থাপন করা হয়। বীজ খাতে প্রযুক্তির আবির্ভাব এবং কৃষকের অভিগম্যতা বিষয়ক একটি প্রবন্ধে ইফপ্রির কান্ট্রি রিপ্রেজেনটিটিভ ড. আকতার আহমেদ দাবি করেন, দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ১৬ দেশের মধ্যে চাষযোগ্য জমিতে কৃষিপ্রযুক্তি গ্রহণ সক্ষমতায় বাংলাদেশ শীর্ষে। বাংলাদেশের ৭৬ শতাংশ ভূমি কৃষিপ্রযুক্তি ব্যবহারের অনুকূল (ফেভরড)। এক্ষেত্রে দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা ভারতের মাত্র ৩৫ শতাংশ জমি কৃষিপ্রযুক্তি ব্যবহারের অনুকূল। তবুও গত এক দশকে কৃষিতে প্রবৃদ্ধি ধারাবাহিকভাবে কমছে। ধান উৎপাদনের প্রবৃদ্ধি কমে যাওয়াই এর অন্যতম কারণ। প্রবন্ধে বলা হয়, ধানের উৎপাদন বাড়াতে ধান চাষের ঘনায়ন (ইনটেন্সিফায়েড কাল্টিভেশন) এবং গবেষণা বাড়াতে হবে। গ্রামাঞ্চলের মোট কৃষকের এক তৃতীয়াংশ প্রান্তিক। তাদের নিজস্ব কোন জমি নেই। ফলে কৃষিপ্রযুক্তি ব্যবহারে তাদের পর্যাপ্ত প্রবেশগম্যতা নেই। এছাড়া দেশী জাতের তুলনায় হাইব্রিড জাতের শস্যের দাম প্রায় চার গুণ বেশি। যেমন- এক কেজি স্থানীয় বোরো জাতের ধান বীজের দাম গড়ে ৩৮ টাকা। একই পরিমাণ হাইব্রিড জাতের ধান বীজের দাম ১৬০ টাকা। তাই হাইব্রিড জাতের দাম কৃষকের নাগালের মধ্যে নিয়ে আসতে হবে। আরেকটি প্রবন্ধে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতির অধ্যাপক ড. ফেরদৌসী নাহার বলেন, বীজ খাতের উন্নয়নে সরকারী এবং বেসরকারী উদ্যোগের সমন্বয়ের ঘাটতি রয়েছে। এ কারণে প্রতিবছর ধান, গম, আলুসহ অন্যান্য শস্য বীজের চাহিদার তুলনায় যোগানের ঘাটতি পরিলক্ষিত হয়। তিনি উন্নত জাতের বীজ উদ্ভাবনে বেসরকারী প্রতিষ্ঠানকে সরকারী গবেষণা প্রতিষ্ঠান এবং বিভিন্ন কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করার পরামর্শ দেন।