মেঘলা, তাপমাত্রা ৩১.১ °C
 
২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ১১ আশ্বিন ১৪২৪, মঙ্গলবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
সর্বশেষ

লেবু চাষে আশার আলো দেখছেন টাঙ্গাইলের চাষীরা

প্রকাশিত : ৩ জুলাই ২০১৬

নিজস্ব সংবাদদাতা, টাঙ্গাইল ॥ দেশে লেবুর ব্যাপক চাহিদা থাকায় এবং দাম ভাল পাওয়ায় টাঙ্গাইলের দেলদুয়ারের কৃষকদের কাছে লেবু চাষ ব্যাপক জনপ্রিয় এবং লাভবান ফসল। প্রতি বছরের মতো এবারও লেবুর আবাদ অনেক ভাল হয়েছে। ধানের ন্যায্য দাম না পাওয়ায় এবং লেবু চাষে ব্যাপক লাভজনক হওয়ায় জেলার দেলদুয়ার উপজেলার কৃষকদের লেবু চাষের দিকে আগ্রহ দিন দিন বাড়তে থাকে। লেবু চাষ করে তাদের সংসারে সচ্ছলতাও ফিরে আসে। ফলে ধান চাষের জমিগুলো ক্রমান্বয়ে লেবু চাষের আওতায় চলে আসে।

উপজেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, দেলদুয়ার উপজেলায় ৮শ’ হেক্টর জমিতে লেবু চাষ হচ্ছে। কিন্তু এ বছর হঠাৎ করে লেবুর চাহিদা কমে যাওয়ায় এবং দাম পড়ে যাওয়ায় ব্যাপক লোকসানের মুখে পড়েছেন লেবুচাষীরা। বাগান থেকে লেবু তুলে বাজারে নিয়ে বিক্রি করে তাদের শ্রমিক ও পরিবহন খরচ উঠছে না। অনেকে বাগান থেকে লেবু ওঠানো বন্ধ করে দিয়েছে। ফলে গাছে লেবু পেকে বাগানে বিছিয়ে পড়ে আছে। উপজেলার সবচেয়ে বেশি লেবু চাষ হচ্ছে ফাজিলহাটী ইউনিয়নের ফাজিলহাটী, পুটিয়াজানী, দেলুয়াকান্দি, সাদারিপাড়া, ফুলতারা, টুকচানপুর, এলাচিপুর, কামান্না এবং লাউহাটী ইউনিয়নের লাউহাটি, তাতশ্রী, স্বল্পগুনটিয়া, বিলসা, হেরেন্দ্রপাড়া, বড়টিয়া, তারটিয়াসহ আশপাশের অনেক গ্রামে। এছাড়া উপজেলার অন্যান্য ইউনিয়নেও ছড়িয়ে ছিটিয়ে লেবু চাষ হচ্ছে। সাদারিপাড়া গ্রামের লাল মিয়ার ছেলে লোকমান মিয়া বলেন, আমি ৫ একর জমিতে লেবু চাষ করেছি। পাইকারি বিক্রি করে প্রতিবছর ৫ লাখ টাকা করে পেয়েছি। কিন্তু এ বছর লেবু বিক্রি করে পেয়েছি মাত্র ৯০ হাজার টাকা। পুটিয়াজানী গ্রামের বাসুদেব চন্দ্র সরকার বলেন, আমি এক একর জমিতে লেবু চাষ করেছি। প্রতি বছর মহাজনদের কাছে পাইকারি লেবু বিক্রি করে ১ লাখ ২০ হাজার টাকার মতো পেতাম। কিন্তু এ বছর ২০ হাজার টাকার লেবু বিক্রি করেছি। লেবু বিক্রি করে শ্রমিক ও পরিবহন খরচও উঠছে না। ৮০ কেজির ১ বস্তা লেবু আগে যেখানে ৪ থেকে ৫ হাজার টাকায় বিক্রি হতো, বর্তমানে তা বিক্রি হচ্ছে ৫শ’ থেকে ৬শ’ টাকায়। প্রতি কেজি লেবু খুচরা বিক্রি হচ্ছে ৮ থেকে ১০ টাকায়। প্রতিকেজিতে গড়ে ৬ হালি (২৪টি) লেবু ধরে। প্রতি হালি লেবু গড়ে খুচরা বিক্রি হচ্ছে ১ টাকা ৫০ পয়সা।

দেলদুয়ার উপজেলার লেবু সুগন্ধযুক্ত এবং খুবই সুস্বাদু হয়। কম টক এবং বিচি নেই। তাই এখানকার লেবু জেলার চাহিদা মিটিয়ে ঢাকা, গাজীপুর, ময়মনসিংহ, জামালপুর, নেত্রকোনা, সিরাজগঞ্জ, মানিকগঞ্জ ছাড়াও বিভিন্ন জেলায় পাঠানো হয়। লেবুর পর্যাপ্ত চাহিদা থাকায় চাষীরা লেবুর পাশাপাশি প্রচুর করল্লার চারা বিক্রি করেছেন। ফলে অতিরিক্ত বাগান হওয়ায় এবং অন্যান্য জেলায় লেবুর সরবরাহ বাড়ায় লেবুর বাজারে এবার ধস নেমেছে বলে বিশেষজ্ঞদের ধারণা। লেবুচাষীদের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল ফাজিলহাটী ও লাউহাটী ইউনিয়নের মাঝামাঝি সরকারী ও বেসরকারী উদ্যোগে একটি লেবু প্রসেসিং কারখানা তৈরির। ইতিপূর্বে বিশ্বব্যাংকসহ অন্যান্য দেশী-বিদেশী প্রতিনিধিদল এসব এলাকা ঘুরে গেছেন। তারা একটি লেমন জুস কারখানা করার প্রস্তাবও দিয়েছিলেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত তা বাস্তবায়ন হয়নি।

এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কানিজ সুরাইয়া সুলতানা বলেন, আমাদের সঠিক পরামর্শ, দিকনির্দেশনা ও সহযোগিতার ফলে দেলদুয়ারে ব্যাপকভাবে লেবু চাষ হচ্ছে। কৃষকরা লেবু চাষ করে লাভবান হয়েছেন। লেবুর চাহিদা কম থাকায় এবং বাজারে লেবুর সরবরাহ বেশি হওয়ায় বর্তমানে দাম কিছুটা কম। কিছুদিন পর বাজারের অবস্থার উন্নতি হবে। তাছাড়া সরকারী ও বেসরকারী উদ্যোগে লেবু প্রসেসিং কারখানা হলে এবং বিদেশে রফতানি করা গেলে কৃষকরা লাভবান হবেন। বিষয়টি উর্ধতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।

প্রকাশিত : ৩ জুলাই ২০১৬

০৩/০৭/২০১৬ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


শীর্ষ সংবাদ: