মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২২.৮ °C
 
২৪ এপ্রিল ২০১৭, ১১ বৈশাখ ১৪২৪, সোমবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
সর্বশেষ

ব্রেক্সিট: এলিটবিরোধী বিদ্রোহের সঙ্কেত

প্রকাশিত : ২৬ জুন ২০১৬
  • ইইউ ত্যাগের পক্ষে ৫১.৯ শতাংশ ভোট গরিব, কম শিক্ষিত ও বয়স্কদের

নতুন বিশ্ব মেরুকরণের অর্থনৈতিক সুবিধা না পাওয়া ক্ষুব্ধ করেছে ব্রিটেনের গরিব ও কম শিক্ষিত নাগরিকদের। তাদের ভোটই ব্রিটেনকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) থেকে বের করে এনেছে, যা অভিজাত শ্রেণীর জন্য হুমকি হিসেবেই দেখছে বিশ্লেষকরা।

এই গরিব ও কম শিক্ষিতরা হলেন তারাই, যারা অর্থনৈতিক সঙ্কটে শোচনীয় পরিস্থিতির শিকার হয়েছিলেন এবং যারা অর্থনৈতিকভাবে অনিশ্চিত অবস্থানে রয়েছে, ক্রমবর্ধমান অভিবাসন তাদেরকে সবচেয়ে ভীত করে তোলে। আর এর সুবিধা নিয়েছে ইইউর উগ্র চরমপন্থী দলগুলো এবং যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির সম্ভাব্য প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিনভিত্তিক ব্রুকিংস ইনস্টিটিউটের সিনিয়র ফেলো উইলিয়াম গ্যালস্টন বলেছেন, আমি যে দিকেই তাকাই সব জায়গায় একই কাঠামো দেখি। যুক্তরাজ্যের জনসংখ্যার প্রকৃতির মধ্যে যে বিভক্তি রয়েছে, ঠিক একই রকম বিভক্তি রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের এবারের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে আমেরিকান নির্বাচকম-লীর মধ্যে। গ্রামীণ এলাকাগুলোর ব্যাপকসংখ্যক অভিবাসী শ্রমিক, সাবেক শিল্প কেন্দ্র ও শহরের আশপাশের দরিদ্র এলাকাগুলোর অধিবাসীরা যাদের বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষা নেই এবং বয়স্ক ভোটাররা, যাদের ৫১ দশমিক ৯ শতাংশ ব্রেক্সিটের (ব্রিটেনের ইইউ ত্যাগ) পক্ষে ভোট দিয়েছে। গ্যালস্টন বলেন, এই একই ধরনের জনসংখ্যা যুক্তরাষ্ট্রের বিতর্কিত প্রেসিডেন্ট প্রার্থী ট্রাম্পকে সমর্থন করছেন। পাশাপাশি ইইউবিরোধী ও উগ্র-ডানপন্থী দলগুলোর প্রতিও ইউরোপজুড়ে সমর্থন বাড়ছে। তিনি বলেন, জনসংখ্যার এই শ্রেণী রাজনৈতিক এলিটদের বিশ্বাস করে না। কারণ তারা এখন পর্যন্ত দেখেনি যে, কোনও রাজনৈতিক দল তাদের ক্ষোভকে উপলব্ধি করেছে এবং এটি নিয়ে প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে। ব্রিটেনের মতো অন্যান্য দেশেও ইইউ সদস্যপদ প্রশ্নে গণভোট চাওয়া হতে পারে বলে বড় আশঙ্কা ছড়িয়ে পড়ছে। এরই মধ্যে ফ্রান্স থেকে শুরু করে নেদারল্যান্ডস পর্যন্ত সদস্য দেশগুলোর ইইউবিরোধী, বামপন্থী ও উগ্র-ডানপন্থী দলগুলো নিজ নিজ দেশে ব্রিটেনের মতো একই ধরনের গণভোটের দাবি জানিয়েছে।

অস্ট্রিয়ার রাজধানী ভিয়েনাভিত্তিক গো-গবর্নেন্স ইনস্টিটিউটের রাষ্ট্রবিজ্ঞানী মেলানিয়া সুলি হুঁশিয়ার করে বলেছেন, ইউরোপ গণতন্ত্র সঙ্কটের সম্মুখীন। আর এই সুযোগ কাজে লাগাতে পারে উগ্র-স্বাদেশিক ও উগ্র-ডানপন্থী পার্টিগুলো। বিশ্লেষকরা বলেছেন, ইস্টাব্লিশমেন্ট বিরোধী মনোভাবের মূলে রয়েছে ভয়ের অনুভূতি, নিয়ন্ত্রণ হ্রাস এবং ঐতিহ্য ও পরিচিতি হারিয়েছে তারা, যারা অর্থনৈতিকভাবে সংগ্রাম করছে। জার্মানির সেইজেন ইউনিভার্সিটির সমাজবিজ্ঞানী তেতিয়ানা হাভলিন বলেছেন, আমাদের পপুলিজম ও ইস্টাব্লিশমেন্ট বিরোধী মনোভাব নিয়ে কথা বলার আগে এই সব লোকদের সামাজিক অবস্থান নিয়ে কথা বলতে হবে। তারা কিভাবে আয় করেন? কিভাবে তাদের প্রতিদিনের জীবনকে দেখছেন? তিনি বলেন, প্রতিদিনের জীবনে মানুষ বিশ্বায়ন বিরোধী ও ইস্টাব্লিশমেন্টবিরোধী চিন্তা করেন না। তারা শুধুমাত্র তাদের চ্যালেঞ্জকেই দেখেন। -এএফপি

প্রকাশিত : ২৬ জুন ২০১৬

২৬/০৬/২০১৬ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


শীর্ষ সংবাদ: