১৯ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট পূর্বের ঘন্টায়  
Login   Register        
ADS

হঠাৎ অস্থির রডের বাজার


অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ শেষ মৌসুমে এসে হঠাৎ অস্থির হয়ে উঠেছে নির্মাণের অন্যতম উপাদান রডের বাজার। ১০ দিনের ব্যবধানে এমএস রডের দাম বেড়েছে টনপ্রতি ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা। রড উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে রড উৎপাদনকারী কাঁচামাল বিলেট ও স্ক্র্যাপ জাহাজের দাম বাড়ার কারণে বাজার অস্থির হয়ে উঠেছে।

বিভিন্ন রড উৎপাদনকারী ও পাইকারি প্রতিষ্ঠানে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত সপ্তাহ থেকে সব ধরনের লোহার দাম বাড়তে শুরু করে। তবে সবচেয়ে বেশি বেড়েছে এমএস রডের দাম। সোমবার মিল গেটে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের প্রতিটন ৬০ গ্রেড (৫০০ ওয়াট) এমএস রড বিক্রি হয়েছে ৫০ হাজার ৫০০ থেকে ৫২ হাজার টাকায়।

গত সপ্তাহ পর্যন্ত বাজারে আরএসআরএম, জিপিএইচসহ অন্যান্য ব্র্যান্ডের ৬০ গ্রেডের এমএস রড বিক্রি হয় ৪০ থেকে ৪২ হাজার টাকায়। গত ১০ দিনে বেড়ে সোমবার একই মানের রড হয়েছে ৫০ থেকে ৫২ হাজার টাকায়।

৬০ গ্রেডের রডের দাম বৃদ্ধির পাশাপাশি বেড়েছে সাধারণ গ্রেডের (৪০ গ্রেড) এমএস রডের দামও। ব্যবসায়ীরা জানান, গত সপ্তাহ পর্যন্ত বাজারে বিভিন্ন কোম্পানির সাধারণ গ্রেডের প্রতিটন এমএস রড বিক্রি হতো ৩০ থেকে ৩২ হাজার টাকা দামে। ১০ দিনের ব্যবধানে ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা বেড়ে বর্তমানে সাধারণ গ্রেডের রড বিক্রি হচ্ছে ৩৯ থেকে ৪০ হাজারে। গোল্ডেন আইরন ওয়ার্কস লিমিটেডের পরিচালক সরওয়ার আলম বলেন, শুষ্ক মৌসুমে রডের দাম বাড়তে থাকলেও এবার শুরু থেকেই রডের দাম কম ছিল। ফলে লোকসানে পড়ে অনেক ব্যবসায়ী উৎপাদন কমিয়ে দিয়েছিল। অনেক কারখানায় উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ ছিল। গত সপ্তাহ থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে বিলেট ও স্ক্র্যাপ জাহাজের দাম বাড়ার কারণে রডের দাম বাড়তে শুরু করে। ১০ দিনের ব্যবধানে ৬০ গ্রেডের রডের দাম বেড়েছে প্রায় ১০ হাজার টাকা।

সালেহ স্টিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আনামুল হক ইকবাল বলেন, দীর্ঘদিনের মন্দার কারণে রড উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের বড় ধরনের লোকসান গুনতে হয়েছে। ফলে চট্টগ্রামে মাঝারি মানের বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেছে। তবে রডের দাম বাড়লেও কেমিক্যাল আমদানির ওপর ২৫ শতাংশ ডিউটি আরোপ করার কারণে ঘাটতি পূরণ করা যাচ্ছে না জানিয়ে তিনি আরোপিত ডিউটি প্রত্যাহারের দাবি জানান।

উৎপাদনকারী ও বিপণন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত দুই সপ্তাহে আন্তর্জাতিক বাজারে বিলেটের দাম বেড়েছে টনে প্রায় ৬৫ ডলার। দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিটন বিলেট বিক্রি হতো ২৬০-২৬৫ ডলারে। কয়েক দফায় বেড়ে আন্তর্জাতিক বাজারে বর্তমানে প্রতিটন বিলেট বিক্রি হচ্ছে ৩২৭ ডলারে।