মেঘলা, তাপমাত্রা ৩১.১ °C
 
২০ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ৫ আশ্বিন ১৪২৪, বুধবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
সর্বশেষ

শিক্ষকদের বেতন বৈষম্য নিয়ে মন্ত্রিসভা কমিটির প্রথম বৈঠক কাল

প্রকাশিত : ৩১ অক্টোবর ২০১৫

স্টাফ রিপোর্টার ॥ শিক্ষকদের বেতন বৈষম্য পর্যালোচনা সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির প্রথম বৈঠক বসছে আগামীকাল। শুক্রবার বিকেলে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের সঙ্গে তার হেয়ার রোডের সরকারী বাড়িতে দেখা করেছেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ। সেখানেই বৈঠকের সিদ্ধান্ত নেন তারা। দুই মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা শুক্রবার রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এদিকে রাতেই শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে

তার হেয়ার রোডের সরকারী বাড়িতে সাক্ষাত করেছেন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক নেতারা। সঙ্কট নিরসনে শিক্ষামন্ত্রীর আশ্বাসের প্রেক্ষিতে রবিবার থেকে ডাকা ধর্মঘট প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষকরা।

অর্থমন্ত্রীর বাসায় শিক্ষামন্ত্রীর সাক্ষাত প্রসঙ্গে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে শিক্ষকদের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলেন শিক্ষামন্ত্রী। দুই মন্ত্রী দীর্ঘক্ষণ আলোচনার পর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন আগামীকাল রবিবার দুপুর ১টায় অর্থমন্ত্রীর অফিসে বেতন পর্যালোচনা সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠক করা হবে। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ও সরকারী কলেজ শিক্ষকদের আন্দোলনের মধ্যেই বেতন বৈষম্য পর্যালোচনা করে সুপারিশ দিতে গত ৭ সপ্টেম্বর ‘বেতন বৈষম্য দূরীকরণ সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি’কে দায়িত্ব দেয় মন্ত্রিসভা। এরপর গত ১৬ সেপ্টেম্বর অর্থমন্ত্রীকে প্রধান করে এই কমিটি পুনর্গঠন করে সরকার। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বেতন ও মর্যাদা নিয়ে আপত্তি বিবেচনা করে তা মীমাংসার দায়িত্ব দেয়া হয়েছে কমিটিকে। অর্থমন্ত্রী কমিটির প্রধান। অন্য সদস্যরা হলেনÑ শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ, শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু, বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, জনপ্রশাসন মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম, আইনমন্ত্রী আনিসুল হক এবং অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান। মন্ত্রিপরিষদ সচিব, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, অর্থ বিভাগ ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়/বিভাগের জ্যেষ্ঠ সচিব, সচিব বা ভারপ্রাপ্ত সচিব এই কমিটিকে সহায়তা করবেন। আর অর্থ বিভাগ কমিটিকে সাচিবিক সহায়তা দেবে। জাতীয় বেতন স্কেল বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ‘অনিষ্পন্ন বিষয়গুলো’ পর্যালোচনা করা এবং বেতন স্কেলের বিষয়ে ওঠা অভিযোগগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে প্রয়োজনীয় সুপারিশ দিতে বলা হয়েছে এই কমিটিকে। সপ্তম বেতন কাঠামোতে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের সিলেকশন গ্রেডপ্রাপ্ত অধ্যাপকরা সচিবের সমান গ্রেড-১ স্কেলে বেতন পেতেন। জ্যেষ্ঠ অধ্যাপকরা গ্রেড-২ এবং অধ্যাপকরা গ্রেড-৩ এ বেতন পেতেন। অষ্টম বেতন কাঠামোতে ‘সিলেকশনগ্রেডপ্রাপ্ত অধ্যাপক’ পদটি বিলুপ্ত করে সিলেকশনগ্রেডপ্রাপ্ত অধ্যাপক ও জ্যেষ্ঠ অধ্যাপকদের সচিবদের সমান গ্রেড-১ দেয়া হয়েছে। অন্যদিকে জ্যেষ্ঠ সচিবদের জন্য নতুন একটি বিশেষ গ্রেড তৈরি করা হয়েছে। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা বলছেন, আমলারা নিজেদের জন্য বিশেষ গ্রেড তৈরি করলেও শিক্ষকদের সিলেকশনগ্রেডপ্রাপ্ত অধ্যাপক পদটি বিলুপ্ত করা হয়েছে। ফলে অধ্যাপকরা আমলাদের নিচের স্কেলে থাকছেন। বেতন বৈষম্য দূর, মর্যাদা ফিরিয়ে দেয়া ও স্বতন্ত্র বেতন-স্কেলসহ চার দফা দাবিতে দেশের ৩৭টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা কর্মবিরতিসহ বিভিন্ন কর্মসূচীও পালন করে আসছেন। আন্দোলনের এক পর্যায়ে ৭ অক্টোবর শিক্ষকরা ঘোষণা দেন, চলতি মাসের (অক্টোবর) মধ্যে দাবি পূরণ না হলে আগামী ১ নবেম্বর (আগামীকাল) থেকে লাগাতার কর্মবিরতিতে যাবেন তারা।

এ অবস্থায় শুক্রবার শিক্ষামন্ত্রী তার বাসায় বৈঠক করেছেন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সঙ্গে। বৈঠকে শিক্ষক সমিতি ফেডারেশনের সভাপতি অধ্যাপক ড. ফরিদ উদ্দিন আহমেদ ও মহাসচিব অধ্যাপক ড. এএসএম মাকসুদ কামালসহ অন্যান্য নেতা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় শিক্ষামন্ত্রী বেতন পর্যালোচনা কমিটির বৈঠকের কথা জানান শিক্ষকদের। সরকারের উদ্যোগের কথা জানিয়ে ক্লাস, ভর্তিসহ স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার জন্য পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী।

শিক্ষকদের উদ্দেশে শিক্ষামন্ত্রী বলেছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকগণ দেশের সবচেয়ে সম্মানিত ব্যক্তি। দক্ষ জনসম্পদ গড়ে তুলতে তাঁদের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সরকার তাদের মান-মর্যাদা ও স্বার্থ রক্ষায় যা যা করা সম্ভব সব করবে। মন্ত্রী বলেন, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের স্বার্থ রক্ষায় শিক্ষা মন্ত্রণালয় নতুন জাতীয় বেতন স্কেল ঘোষণাকালে গঠিত মন্ত্রিসভা কমিটির সঙ্গে একত্রে কাজ করবে।

প্রকাশিত : ৩১ অক্টোবর ২০১৫

৩১/১০/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

প্রথম পাতা



শীর্ষ সংবাদ: