১৯ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

জ্বালানি বিপণনের শতাব্দীর কাহন


এনার্জি পাওয়ার। অর্থাৎ জ্বালানিই হচ্ছে বর্তমান বিশ্বে সবচে’ বৃহৎ শক্তি। এমনকি জ্বালানিসমৃদ্ধ দেশ অর্থনৈতিকভাবেও সমৃদ্ধ। বিশ্বব্যাপী এ নিয়ে হিসাব-নিকাশ আর গবেষণার অন্ত নেই। অথচ আমাদের দেশ এ ব্যাপারে ঠিক উদাসীন না হলেও এ বিষয়ে গবেষকের যেমন অভাব রয়েছে, তেমনি সরকারও এই খাতটিকে স্থায়ীভাবে ভর্তুকির খাত হিসেবে মেনে নিয়েছে। এ অবস্থা থেকে উত্তরণের সুপারিশ প্রণয়নই বর্তমান গবেষণা গ্রন্থের মূল প্রতিপাদ্য।

‘বাংলাদেশে জ্বালানি তেল বিপণনের এক শতাব্দী’ গ্রন্থটি ড. শরীফ আশরাফউজ্জামানের পিএইচ.ডি গবেষণা অভিসন্দর্ভ। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় এই অভিসন্দর্ভ রচনার জন্য তাঁকে পিএইচ.ডি ডিগ্রি প্রদান করেছে। গবেষকের প্রধান কৃতিত্ব এই গ্রন্থে তিনি জ্বালানি তেল সম্পর্কে অনেক প্রচলিত ভুল ধারণার অবসান ঘটিয়েছেন। যেমন, ইউরোপীয়রা এতদিন দাবি করত এডউইন ড্রেইক ১৮৫৯ সালে পেনসিলভেনিয়ায় সর্বপ্রথম খনিজ তেল আবিষ্কার করেন। কিন্তু বর্তমান গ্রন্থের গবেষণায় এটা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে যে, আমেরিকার ড্রেইক খনিজ তেল আবিষ্কারের কয়েক শতক আগেই আমাদের প্রাচ্য দেশ বার্মার টুইঞ্জা সম্প্রদায় খনিজ তেল আবিষ্কার করেছিল এবং ড্রেইকের তেল আবিষ্কারের আগেই বার্মার টুইঞ্জা সম্প্রদায়ের জ¦ালানি তেল আমেরিকাসহ ইউরোপের বাজারে রফতানি হয়েছে। এমনকি ড্রেইক ও টুইঞ্জাদের আবিষ্কৃত পাথুরে তেলের নমুনা ছিল একই ধরনের। গবেষক আরও জানাচ্ছেন, খ্রিস্টপূর্ব ৫০০ সালে দক্ষিণ ইরানে যে খনিজ তেলের সন্ধান পাওয়া গিয়েছিল, ত্রয়োদশ শতাব্দীতে ঠিক একই ধরনের তেল আবিষ্কার করে বার্মার টুইঞ্জারা। অর্থাৎ বিশ্বে জ্বালানি তেল আবিষ্কারের প্রথম কৃতিত্ব বার্মার টুইঞ্জাদের।

বর্তমান গ্রন্থটিতে আরও যেসব বিষয়ে গবেষণা উপাত্ত তুলে ধরা হয়েছে, সেগুলো হচ্ছে ১. জীবাশ্ম-জ্বালানি ব্যবহার ও আবিষ্কার : প্রাচীন থেকে আধুনিক কাল ২. উপমহাদেশে জ্বালানি তেল আবিষ্কার: টুইঞ্জা উপাখ্যান ৩. উপমহাদেশে বিভিন্ন তেল-কোম্পানির আগমন ও তাদের কার্যক্রম ৪. বাংলাদেশে তেল-গ্যাস অনুসন্ধান কার্যক্রম ৫. পেট্রোবাংলা ও অধীনস্ত কোম্পানিসমূহের কার্যক্রম ৬. বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন ও তার অধীনস্ত কোম্পানিসমূহের কার্যক্রম ৭.বাংলাদেশে গ্যাস আবিষ্কার ও মজুদ : সমস্যা ও সম্ভাবনা ৮. বাংলাদেশের তেল ক্ষেত্র : অর্জন ও সম্ভাবনা ৯. বাংলাদেশে কয়লার আবিষ্কার, মজুদ ও ব্যবহার। এছাড়াও গ্রন্থের উপসংহারের পাঁচটি অধ্যায়ে টেবিল তৈরি ও মানচিত্র এঁকে বাংলাদেশে তেল, গ্যাস ও কয়লা উত্তোলন ও আবিষ্কারের ক্ষেত্রগুলো চিহ্নিত করে এ বিষয়ে একটি স্পষ্ট ধারণা তুলে ধরা হয়েছে। এ ধরনের গবেষণা এক অর্থে বিরল। গ্রন্থের শিরোনাম ‘বাংলাদেশে জ্বালানি তেল বিপণনের এক শতাব্দী’ হলেও এই গ্রন্থে বিশ্বব্যাপী খনিজ সম্পদ তথা জ্বালানি তেল উত্তোলন ও বিপণনের ইতিহাস থেকে শুরু করে এর বাজারজাতকরণ প্রক্রিয়ার পাশাপাশি এই তেল-সম্পদ অধিকারী দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং তেলক্ষেত্র দখল নিয়ে দেশে দেশে সংঘাত ও রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের বেদনাদায়ক ইতিহাসও উঠে এসেছে। সরকারের জ্বালানি দফতর এবং তেল বিজ্ঞানীরা এই গ্রন্থ পাঠ ও সুপারিশসমূহের অনুসরণ করলে প্রভূত উপকৃত হবেন। এমন একটি শ্রমলব্ধ ও ব্যয়বহুল গবেষণা গ্রন্থ রচনার জন্য গবেষক ড. শরীফ আশরাফউজ্জামান ধন্যবাদার্হ। গ্রন্থটির বহুল প্রচার কামনা করছি।