২৩ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট ৬ ঘন্টা পূর্বে  
Login   Register        
ADS

দিনভর যানজট ঠেলে চলাচল করে দুই কোটি মানুষ


 দিনভর যানজট ঠেলে চলাচল করে দুই কোটি মানুষ

রাজন ভট্টাচার্য ॥ বিগত ৪৩ বছরে রাজধানীতে গড়ে ওঠেনি উন্নত গণপরিবহন ব্যবস্থা। এ নিয়ে যত পরিকল্পনা হয়েছে তার একটিরও পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন হয়নি। উল্টো বার বার নগর পরিকল্পনাকে কাটাছেঁড়া করা হয়েছে। এতে ভেস্তে গেছে মূল লক্ষ্য। ফলে গণপরিবহন ব্যবস্থা বলতে যা বোঝায়, তার কিছুই নেই এই মেগাসিটিতে! যা আছে তা হলো, কোন রকম পথচলা। দিন দিন রাজধানীর সঙ্কট বেড়েছে। অথচ দিনে প্রায় দুই কোটি মানুষের চলাচল ঢাকায়। বিভিন্ন দেশ থেকে পর্যটকরা ঢাকার ঐতিহ্য দেখতে এলেও তাদের চলাচলে মানসম্পন্ন কোন গণপরিবহন নেই। ফলে নিরুৎসাহিত হন অনেকে। শহরে আধুনিক ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা নেই।

ট্রাফিক ব্যবস্থা হাতনির্ভর। সামান্য বৃষ্টিতে গোটা নগরী নদীতে পরিণত হয়! দিনভর যানজট থাকে গুরুত্বপূর্ণ সড়কে। ঢাকার বেশিরভাগ সড়ক এখন চলাচলের অনুপযোগী। ১০ লাখ পরিবহনের দেখভাল করার কেউ নেই! প্রয়োজনীয় গণপরিবহন সঙ্কটও প্রতিদিনের। বন্ধ হয়ে গেছে এসি বাস সার্ভিসও। নেই বাস কাউন্টার। উঠে গেছে টিকেট পদ্ধতি। সিটিং সার্ভিসের নামে বাড়তি ভাড়া আর প্রতারণার ফাঁদ পথে পথে। লক্কড়ঝক্কড় বাস রাজধানীজুড়ে। ময়লা, আবর্জনা, দুর্গন্ধ মিলিয়ে বাসের ভেতরের পরিবেশ একেবারেই অস্বাস্থ্যকর। দূষণের দিক থেকে রাজধানী ঢাকার অবস্থান বিশ্বের মধ্যে দ্বিতীয়।

এই শহরে এখন মিটারে চলে না ১৩ হাজার অটোরিক্সার একটিও। মিটারে সর্বনিম্ন ভাড়া গুনতে হয় ১২০ থেকে দেড় শ’ টাকা পর্যন্ত। ভাড়া বেশি হওয়ায় দুটি প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে নামানো নতুন ট্যাক্সিতে সাধারণ মানুষের যাতায়াত অসম্ভব। গেল পাঁচ বছরে প্রায় ৫০টি কোম্পানির দেড় হাজারের বেশি বাস বন্ধ হয়ে গেছে। যানজটের কারণে বছরে আর্থিক ক্ষতি ৩০ হাজার কোটি টাকার বেশি। দখল রাস্তা ও ফুটপাথ। ভেস্তে গেছে লেন পদ্ধতি, হয়নি বাস র‌্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি)। নির্মাণ হয়নি সিটি টার্মিনাল। রিক্সা কত লাখ, এর সঠিক পরিসংখ্যান নেই। পাল্লা দিয়ে বাড়ছে অনুমোদনহীন পরিবহন।

এদিকে ২০১০ সালে পরিবহন খাতকে শিল্প হিসেবে ঘোষণা দেয়া হলেও দৃশ্যমান কোন পদক্ষেপ নেই। যানবাহন নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা হিসেবে পরিচিত বাংলাদেশ রোট ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (বিআরটিএ) এখন কাগুজে বাঘ। এই প্রেক্ষাপটে দ্রুত মেট্রোরেল, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্প বাস্তবায়নের পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের। সর্বোপরি স্ট্র্যাটেজিক ট্রান্সপোর্ট প্ল্যান (এসটিপি) তে উল্লেখ করা অগ্রাধিকার ভিত্তিক প্রকল্প বাস্তবায়ন করা ও সমন্বিত পরিকল্পনায় রাজধানীতে আধুনিক গণপরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব বলে মনে করেন তারা।

যাত্রী কল্যাণ সমিতির এক গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছরের বিআরটিএর জুলাই মাসের প্রতিবেদন অনুযায়ী ঢাকায় নিবন্ধিত বিভিন্ন ধরনের গাড়ি রয়েছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার। এর মধ্যে বাস ও মিনিবাস ৩৩ হাজার ২৮টি । কিন্তু পরিবহন সমিতিগুলোর হিসেবে দেখা গেছে, ঢাকায় চলাচল করছে ৪ হাজার বাস। ঢাকায় দিনে অন্তত ৬ লাখ মানুষ নানা প্রয়োজনে আসছে। যুক্তরাজ্যের লন্ডনে একটি বাস ঘণ্টায় ১৮ কিলোমিটার অতিক্রম করে। ঢাকায় গতি ঘণ্টায় মাত্র ৭ কিলোমিটার। ২০১৩ সালের এপ্রিলে প্রকাশিত ঢাকা যানবাহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ পরিচালিত সমীক্ষায় দেখা যায়, ঢাকার জনসংখ্যার ঘনত্ব বেশি। তাই, দিনে অন্তত ২১ লাখ ট্রিপের প্রয়োজন। কিন্তু যানজটে ২১ লাখের তিনভাগের একভাগ ট্রিপও হচ্ছে না।

সমীক্ষা অনুযায়ী, রাজধানীর প্রতি ৩ হাজার যাত্রী যাতায়াতের জন্য বাস ও মিনিবাস আছে মাত্র ১টি। তারা জানান, রাজধানীর অটোরিক্সার এক-তৃতীয়াংশ অচল। গণপরিবহনের সঙ্কটের বিপরীতে ব্যক্তিগত গাড়ির সংখ্যা বাড়ছে। ঢাকায় ৩ লাখ ৬০ হাজার মোটরসাইকেল, ২ লাখ ১৪ হাজার ৯৮৭টি প্রাইভেটকার রয়েছে। মিডিয়া ব্যক্তিত্ব মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর বলেন, একটি টাস্কফোর্স থাকা চাই, যেখানে সবাই নিজেদের মত দেবে। পুলিশসহ সংশ্লিষ্ট সবার দুর্নীতি দমন করতে হবে। বেসরকারীভাবেও বাস নামানো উৎসাহিত করতে হবে। নারীদের জন্য বাস সার্ভিস বাড়াতে হবে। মন্ত্রণালয়ে মনিটরিং সেল থাকতে হবে। ঢাকাকে মডেল ধরে প্রথমে এখানে আধুনিক ব্যবস্থা চালু করে দেখতে হবে।

সেমিনারে ঢাকা যানবাহন সমন্বয় বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, বিআরটিসি দুর্নীতি থেকে বের হতে পারেনি। বিআরটিসির লোক দিয়েই বিআরটিসি পরিচালনা করতে হবে। সংগঠনের মহাসচিব মোঃ মোজাম্মেল হক চৌধুরী লিখিত বক্তব্যে বলেন, ঢাকায় ৫ হাজার, চট্টগ্রামে ৪ হাজার সিএনজিচালিত অটোরিক্সা নামানোর সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন ও মেয়াদোত্তীর্ণ ২৬ হাজার অটোরিক্সা উচ্ছেদ করে ঢাকা-চট্টগ্রামে ২০ হাজার করে ৪০ হাজার সিএনজিচালিত অটোরিক্সা নামালে যাত্রীদুর্ভোগ কিছুটা লাঘব হবে।

সিটি কর্পোরেশন সূত্রে জানা গেছে, ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশন মিলিয়ে মোট রাস্তার পরিমাণ দুই হাজার এক শ’ কিলোমিটারের বেশি। এর প্রায় অর্ধেক রাস্তাই এখন ব্যবহারের অনুপযোগী। বিশেষ করে নগরীর অলিগলির অবস্থা খুবই নাজুক। এই প্রেক্ষাপটে দুই সিটিতে রাস্তা রক্ষণাবেক্ষণ ও উন্নয়নের জন্য এবারের বাজেটে বরাদ্দ হয়েছে প্রায় ৫০০ কোটি টাকা। এছাড়া দক্ষিণের রাস্তা রক্ষণাবেক্ষণে একনেক সভায় ৫২ কোটি টাকার একটি প্রকল্পের অনুমোদন হয়েছে। ২০১৬ সালের মধ্যে এ প্রকল্পের কাজ শুরু হবে।

মহা সমস্যার নাম যানজট ॥ সমন্বিত গণপরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলার ক্ষেত্রে প্রধান অন্তরায় যানজট। গবেষণায় দেখা গেছে, রাজধানীতে ট্রাফিক জ্যামের কারণে বছরে আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ ৩০ হাজার কোটি টাকার বেশি। যাত্রীদের ক্ষেত্রে যা ১২ হাজার কোটি, ব্যবসা-শিল্প ও রফতানি বাণিজ্যের ক্ষেত্রে ৪ হাজার কোটি টাকা। এ ছাড়া পরিবেশগত ক্ষতি দুই হাজার ৫০০ কোটি টাকা। জ্বালানি, দুর্ঘটনা ও মেডিক্যালসহ বিভিন্ন খাতে বাকি অর্থ অপচয় হয়ে থাকে। মহানগরীতে যানজটের কারণে প্রতিদিন ৩২ লাখ ঘণ্টা বাণিজ্যিক সময় নষ্ট হচ্ছে। সম্প্রতি ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন, বাংলাদেশের (আইইবি) পুরকৌশল বিভাগের গবেষণায় এসব তথ্য উঠে এসেছে। এই সময়ে বেসরকারী বিভিন্ন গবেষণা থেকে বলা হচ্ছে, যানজটের কারণে বছরে আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ ৫০ হাজার কোটি টাকার বেশি। রাজধানীতে নগন্য গণপরিবহন ব্যবস্থার কথা উল্লেখ করে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন সমিতির মহাসচিব খন্দকার এনায়েত উল্লাহ জনকণ্ঠকে বলেন, মালিক সমিতি, সরকার ও বিশেষজ্ঞদের পরামর্শসহ সমন্বিত উদ্যোগ নিলে পরিবহন চলাচলে নাগরিক সুবিধা বাড়ানো সম্ভব। বর্তমানে রাজধানীতে উন্নত গণপরিবহন ব্যবস্থা বলতে উল্লেখ করার মতো কিছু নেই। দিন দিন অবস্থা খারাপের দিকে যাচ্ছে। ২০১০ সালে সরকার পরিবহন সেক্টরকে শিল্প হিসেবে ঘোষণা দিয়েছে। তিন থেকে পাঁচ ভাগ অর্থাৎ কম ব্যাংক সুদে বেসরকারীভাবে গাড়ি আমদানির ব্যবস্থা করলে পুরনো লক্কড়ঝক্কড় পরিবহন তুলে দেয়া সম্ভব। বড় বড় এসি ও নন-এসি বাস আমদানি করার পরামর্শ দেন এই পরিবহন নেতা। তিনি বলেন, সম্প্রতি মালিক সমিতির পক্ষ থেকে মন্ত্রণালয়ে নগরীতে চলা মেয়াদ উত্তীর্ণ ও লক্কড়ঝক্কড় বাস তুলে দেয়ার প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। কিন্তু একটি পক্ষ রং দিয়ে বাস নতুন করে চলানোর চেষ্টা করছেন। তিনি জানান, গেল পাঁচ বছরে রাজধানীতে ৫০টি প্রতিষ্ঠানের প্রায় দেড় হাজার বাস বন্ধ হয়ে গেছে।

বিআরটিএ ও ডিটিসিএর ভূমিকা ॥ যানবাহন দেখভালের দায়িত্ব বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটির (বিআরটিএ)। দায়িত্ব পালনে প্রতিষ্ঠানটির ভূমিকা কাগুজে বাঘের মতো। অর্থাৎ হাঁকডাক থাকলেও মাঠ পর্যায়ে তেমন কোন তৎপরতা নেই। জনবল সঙ্কটের কারণে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম চলছে। অনিয়ম আর দুর্নীতির অভিযোগ তো আছেই। রাজধানীর রেজিস্ট্রেশনভুক্ত নয় লাখের বেশি পরিবহন নিয়ন্ত্রণের জন্য মাত্র দুইজন ম্যাজিস্ট্রেট। জেলা প্রশাসন ও ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের সহযোগিতা ছাড়া অভিযানও পরিচালনা সম্ভব হয় না সরকারী এই প্রতিষ্ঠানটির। তবুও বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া অভিযান হয় না। এই প্রেক্ষাপটে প্রশ্ন উঠতেই পারে, পরিবহন নিয়ন্ত্রণের দায় আসলে কে নেবে। পরবর্তীতে আসে পুলিশের প্রশ্ন। সরকারী নিয়মনীতি মেনে পরিবহন চলাচল করছে কিনা তা দেখভাল করতে পারে পুলিশও। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিআরটিএর কার্যক্রম ঢিলেঢালা হওয়ায় প্রশাসনিক তৎপরতাও দুর্বল। এদিকে যানবাহন সম্বয়ের জন্য গঠন করা হয়েছে ঢাকা যানবাহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ (ডিটিসিএ)। যানবাহন সমন্বয়ের ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানটির কার্যত কোন সফল্য নেই। এই প্রেক্ষাপটে যোগাযোগমন্ত্রী নিজেই প্রতিষ্ঠানটি সচল রাখার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।

ভেস্তে গেছে লেন পদ্ধতি ॥ রাজধানীর যানজট নিরসন ও পরিবহনে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনাসহ ট্রাফিক ব্যবস্থার উন্নয়নে ২০০৯ সালের আট ডিসেম্বর থেকে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ সড়কে লেন পদ্ধতিতে পরিবহন চলাচল শুরু হয়। কিন্তু এ পদ্ধতি বেশিদিন কার্যকর হয়নি। মাত্র চার মাসেই লেন পদ্ধতির বিলুপ্তি ঘটে। বর্তমানে এ পদ্ধতি ইতিহাসে ঠাঁই পেয়েছে।

কার্যকর নেই ডিজিটাল ট্রাফিক ব্যবস্থা ॥ ৬১ কোটি টাকা ব্যয়ে গড়ে তোলা ডিজিটাল ট্রাফিক ব্যবস্থা কার্যত ভেস্তে যেতে বসেছে। চলমান ট্রাফিক সিগন্যাল পদ্ধতি রক্ষাণাবেক্ষণে প্রতিবছর কোটি টাকা ব্যয় হলেও কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না। হাতনির্ভর নগরীর ট্রাফিক সিগন্যাল ব্যবস্থা। ২০০৯ সালের শেষেরদিকে পরীক্ষামূলকভাবে প্রকল্পটি শুরু হয়েছিল। এ প্রকল্পের মধ্যে ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা, ডিসপ্লে বোর্ড স্থাপন ছাড়াও পুলিশের গাড়িতে অটোমেটিক ভেহিক্যাল লোকেশন সিস্টেম বসানোসহ ডিজিটাল রেডিও ট্রেকিং পদ্ধতিতে দেড় হাজার ওয়াকিটকি সংযোগের কথা ছিল। এ প্রকল্পের কাজ দেয়া হয়েছিল ব্রুনাইভিত্তিক বাংলাদেশের লোকাল এজেন্ট রাফা ট্রেডিং লিমিটেডকে। নগরীর গুরুত্বপূর্ণ ৩১টি পয়েন্টে স্থাপন করা হয়েছিল ডিজিটাল ডিসপ্লে। এর বেশিরভাগই এখন বন্ধ। প্রকৌশলী মোঃ আব্দুস সবুর বলেন, ঢাকা মহানগরীর সব সমস্যা সমাধানে নগর সরকার গঠনের বিকল্প নেই।

আশার আলো মেট্রোরেল ॥ ২০ দশমিক এক কিলোমিটারব্যাপী মেট্রোরেল প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য জাপান সরকারের দাতা সংস্থা জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা জাইকার সঙ্গে ঋণচুক্তি স্বাক্ষর করেছে বাংলাদেশের সরকার। ২০২১ সাল নাগাদ মেট্রোরেলের নির্মাণ কাজ শেষ হবে। প্রায় ২২ হাজার কোটি টাকার এ প্রকল্প দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম অবকাঠামো নির্মাণ প্রকল্প। চলতি বছরের জুনের মধ্যেই পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের নিয়োগ চূড়ান্ত করার কথা আছে। ২০ কিলোমিটারের বেশি এ রেলপথে ১৬টি স্টেশন থাকবে। মেট্রোরেল প্রতিঘণ্টায় ৮০ হাজার যাত্রী পরিবহন করতে পারবে। ফলে রাস্তায় যাত্রী এবং পরিবহন উভয়ের ওপরই চাপ কমবে। পরিবহন বিশেষজ্ঞ ডক্টর এসএম সালেহ উদ্দিন বলেন, কোন শহরে এক কোটির ওপর জনসংখ্যা থাকলেই মেট্রোরেলের মতো গণপরিবহন বৃদ্ধি করা উচিত, তাতে যাত্রী পরিবহনের চাপ সামলানো সহজ হতে পারে। তবে এখন পর্যন্ত মেট্রোরেল আশার আলো ছড়াতে পারছে না। যদিও সরকারের পক্ষ থেকে বার বার বলা হচ্ছে, চলতি বছরের মধ্যেই এ প্রকল্পের কাজ শুরুর কথা। সর্বশেষ প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে, গণপরিবহন ব্যবস্থার ক্ষেত্রে আমূল পরিবর্তন আসবে বলে মনে করেন নগর বিশেষজ্ঞরা।

এসটিপি ॥ যানজট নিরসন ও উন্নত গণপরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তেলার লক্ষ্যে বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে প্রণয়ন করা হয়েছে স্ট্র্যাটেজিক ট্রান্সপোর্ট প্ল্যান (এসটিপি)। সঙ্কট নিরসনে এসটিপিতে সার্বিক করণীয় উল্লেখ করা হয়। এর মধ্যে দ্রুত যা যা করণীয় তা বাস্তবায়নে সরকারকে আন্তরিক হওয়ার পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের। তারা বলছেন, দ্রুত শেষ করতে হবে মেট্রোরেল ও প্রস্তাবিত উড়াল সড়কের কাজ। এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় আনা উচিত। গণপরিবহন চলাচলে পৃথক লেন, ট্রাফিক ব্যবস্থার উন্নয়ন, রাস্তা ও ফুটপাথ দখলমুক্ত করা, অবৈধ পার্কিং বন্ধ করার পাশাপাশি যানবাহন চলাচলে কঠোর নিয়ন্ত্রণ আনতে হবে। যে কোন মূল্যে যানজট মুক্ত করতে হবে নগরীকে। বন্ধ করতে হবে অনুমোদনহীন পরিবহন চলাচল। প্রাইভেটকার নামানোর ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রণ আনতে হবে। রাস্তা বাড়ানো, ইস্ট-ওয়েস্ট সড়ক ব্যবস্থা জরুরী। দীর্ঘদিনের দাবি থাকলেও নগরীতে সিটি টার্মিনাল গড়ে তোলা হয়নি। ফলে যেখানেসেখানে গাড়ি পার্কিং করা হচ্ছে। চালু করতে হবে বাস কাউন্টার ও এসি বাস। সরকারী ও বেসরকারী পর্যায়ে পর্যাপ্ত বড় বাস, অটোরিক্সা ও টেক্সি আমদানি করতে হবে। সড়ক ও মহাসড়ক বিভাগের প্রকৌশলী জাওয়েদ আলম জনকণ্ঠকে বলেন, পরিকল্পিত উদ্যোগ নেয়া হলেও রাজধানী ঢাকাতেও আধুনিক গণপরিবহন ব্যবস্থা চালু করা সম্ভব। তিনি বলেন, উন্নত শহরগুলোর তুলনায় ২৫ ভাগের কম রাস্তা থাকলেও যা আছে তাও ব্যবহার করা যাচ্ছে না। রাজধানীর রাস্তাগুলোতে সরকারের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে হবে। পুরো রাস্তা গণপরিবহনের জন্য তা নিশ্চিত করার বিকল্প নেই। রাস্তা ও ফুটপাথ দখলমুক্ত করতে হবে। প্রকৌশলগত বিষয়ে তিনি বলেন, গণপরিবহনের জন্য রাস্তায় ডেডিকেটেড লেন করা যেতে পারে। অর্থাৎ পৃথক এই লেনে গণপরিবহন চলাচল করবে। সিঙ্গাপুর-হংকংসহ বিভিন্ন দেশে এই ব্যবস্থা চালু রয়েছে। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের নগর আঞ্চলিক পরিকল্পনা বিভাগের সাবেক অধ্যাপক এএসএম মাহাবুব-উন-নবী বলেন, রাস্তা দখলমুক্ত করা, অবৈধ গাড়ি পার্কিং বন্ধ না করলে গণপরিবহন ব্যবস্থা উন্নত করে কোন লাভ হবে না। ফুটপাথ দখল থাকার কারণে মানুষ বাধ্য হয়ে রাস্তা দিয়ে চলাচল করে। ফলে যানজটের সৃষ্টি হয়।

সর্বাধিক পঠিত:
পাতা থেকে: