১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১ আশ্বিন ১৪২৬, সোমবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
 
সর্বশেষ

আমিষের সন্ধানে

প্রকাশিত : ৩ সেপ্টেম্বর ২০১৫

সাধারণ মানুষের খাদ্য চাহিদা পূরণে সরকার সচেষ্ট। এ ব্যাপারে সদিচ্ছার অভাব না থাকলেও বিভিন্ন কারণে দেশে আমিষ ও পুষ্টি নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। উন্নয়নশীল বিশ্বের একটি দেশ হিসেবে খাদ্য ঘাটতি নেই। এটা একটি ইতিবাচক দিক। আমিষের চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে যেসব কর্মসূচী রয়েছে তার মধ্যে হাঁস-মুরগি, গবাদি প্রাণী ও মৎস্য চাষে উদ্বুদ্ধকরণ এবং এ খাতে আর্থিক অনুদানসহ সহজ শর্তে ঋণের ব্যবস্থা ইত্যাদি।

দেশের অধিকসংখ্যক মানুষ আমিষের চাহিদা পূরণের জন্য নির্ভর করে গবাদি প্রাণীর মাংসের ওপর। কিন্তু বর্তমান বাস্তবতা এমনই যে, পর্যাপ্ত সংখ্যক গবাদি প্রাণী নিশ্চিত না থাকায় মাংসের চাহিদা পূরণ হচ্ছে না। এ সঙ্কট আরও বাড়ছে বিদেশ থেকে গরু আমদানি নিষিদ্ধ থাকায়। অবশ্য এর একটা ইতিবাচক ফলও পাওয়া যায়- দেশজ সম্পদের ওপর নির্ভরশীলতা বৃদ্ধি এবং প্রয়োজনের তাগিদেই এর উৎপাদনের ব্যাপারে আগ্রহী হয়ে ওঠে সংশ্লিষ্টরা। এখন মাংস বা দুধের মূল্য উর্ধগতি হওয়ায় সাধারণ আয়ের মানুষের অনেকটাই তা ধরাছোঁয়ার বাইরে চলে যাচ্ছে। এ দেশে যেহেতু সাধারণ আয় ও নিম্নবিত্ত মানুষের সংখ্যাই বেশি সেহেতু আমিষ ও পুষ্টি নিশ্চিত হওয়ার বিষয়টি ক্রমান্বয়েই তাদের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। ব্যাপারটি একটু হতাশাজনক হলেও সরকারের ইতিবাচক একটি পদক্ষেপ আশার সঞ্চার করেছে। সরকার গবাদি প্রাণীর লালন-পালন ও উৎপাদন বাড়াতে সহজ শর্তে ঋণ প্রদানের উদ্যোগ নিয়েছে। গত জুনেই বাংলাদেশ ব্যাংক ২শ’ কোটি টাকার ঋণ তহবিল গঠন করেছে। সহজ শর্তে গ্রাহকদের মধ্যে তা বিতরণের মাধ্যমে এ লক্ষ্য নিশ্চিত করবে। মাত্র ৫ শতাংশ সুদে এ ঋণ প্রদানের উদ্যোগে ব্যাপক সাড়া মিলবে বলে আশা করা যায়। কেননা এত কম সুদে ঋণ সাধারণত দেখা যায় না। এটা একটি আশাজাগানিয়া উদ্যোগ তাতে কোন সন্দেহ নেই।

গরু-ছাগল, ভেড়া মূলত মাংসের পাশাপাশি দুধেরও উৎস। এ দেশের জলবায়ু-আবহাওয়া, প্রকৃতি ও ভূ-বৈশিষ্ট্য গবাদি প্রাণী পালনের জন্য অনুকূল। এখানে পর্যাপ্ত পরিমাণে গো-খাদ্যের নিশ্চয়তাও রয়েছে। পৃথিবীর অনেক দেশেই এমন পরিবেশ নেই বললেই চলে। অতএব বলা যায়, গ্রামপ্রধান প্রায় প্রতিটি পরিবারেই গবাদি প্রাণী লালন-পালন ও উৎপাদন সম্ভব। এক্ষেত্রে তো সরকারী সহায়তা আছেই। সবাই এগিয়ে এলেই সরকারের এ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন সম্ভব হবে। পাশাপাশি পুষ্টি, বিশেষত আমিষ নিশ্চিত হওয়ার পথ এগিয়ে যাবে। মৌলিক চাহিদা খাদ্য ও সুস্বাস্থ্য পূরণেও একধাপ এগিয়ে যাবে- এটা ধারণা নয়, অনেকটা নিশ্চিত করেই বলা যায়।

ঋণ প্রদানের ব্যাপারে যে কথাটি বলতেই হয় তা হলো- এক্ষেত্রে অনেক সময় অনিয়ম, দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতির অভিযোগ ওঠে। এ ব্যাপারে কোন কোন ব্যাংক বা অর্থ প্রদানকারী সংস্থার অতীত অভিজ্ঞতা সুখকর নয়। আবার আদায়ের ক্ষেত্রেও অনেক সময় আইন লঙ্ঘন বা অত্যাচারের পর্যায়ে চলে যায়। প্রকল্পের সাফল্য নিশ্চিতও হয় না। এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্টরা সতর্কতা অবলম্বন করবেন বলে আমাদের প্রত্যাশা। গবাদি প্রাণী পালন নিশ্চিত ও পরিকল্পনা সফল হোক- এ আমাদের প্রত্যাশা।

প্রকাশিত : ৩ সেপ্টেম্বর ২০১৫

০৩/০৯/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


শীর্ষ সংবাদ:
আটটি আয়কর আপীল ট্রাইব্যুনালে আট জন জেলা জজ নিয়োগ করা হবে : আইনমন্ত্রী || পুঁজিবাজারে না আসলে বীমা কোম্পানির সনদ বাতিল : অর্থমন্ত্রী || ছাত্রলীগকে ইতিবাচক ধারায় ফেরানোর প্রতিশ্রুতি জয়-লেখকের || যুবলীগ নেতার স্ত্রীকে চাকরি দিলেন প্রধানমন্ত্রী || শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে এই নজিরবিহীন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা ॥ সেতুমন্ত্রী || যশোরে বোমার আঘাতে কব্জি উড়ে গেল র‌্যাব সদস্যের || মাসিক বেতনে চালক নিয়োগের নির্দেশ হাইকোর্টের || আগামীকাল সোমবার আনুষ্ঠানিক দায়িত্ব নেবেন নাহিয়ান-লেখক || মিরপুরে পোশাক কারখানার শ্রমিকদের সড়ক অবরোধ || ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে ফের চিরুনি অভিযান শুরু করল ডিএনসিসি ||