২০ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

আক্রান্ত আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী ও ধর্মের দুর্বৃত্তায়ন


নিউইয়র্কের এক অনুষ্ঠানে সম্প্রতি আবদুল গাফ্ফার চৌধুরীর প্রদত্ত বক্তব্যকে ঘিরে হেফাজত, জামায়াত ও বিএনপি তথা হেজাবিরা অহেতুক তুমুল বিতর্ক শুরু করেছে। তথাকথিত ইসলামের ধ্বজাধারী এসব মতলববাজ রাজনৈতিক দল আসলে ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের নামে রাজনৈতিক ইস্যু তৈরি করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। গতকালের পর আজ পড়ুন শেষ কিস্তি-

মানুষ পুড়িয়ে যখন খালেদা নতুন আন্দোলন শুরু করেন তখন পাশ্চাত্য তাকে সমর্থন করেছিল। শেখ হাসিনাকে টলানো যায়নি তার পথ থেকে। হেজাবিদের আন্দোলন ব্যর্থ হয়েছে। উইকিলিকস থেকে জানা যাচ্ছে, খালেদা সৌদিদের কাছে বারবার ধর্ণা দিয়েছেন; কিন্তু তারা সাড়া দেয়নি। এ কারণে বোধহয় ওমরাহ করার আমন্ত্রণ পেয়েও খালেদা সৌদি আরব যাননি।

সৌদি বা যুক্তরাষ্ট্রের হঠাৎ গুটিয়ে যাওয়ার কারণ, বিশ্বব্যাপী মৌল জঙ্গীবাদীরা যা করছে তাতে সৌদি রাজারাই হুমকির মুখে পড়তে পারেন। যুক্তরাষ্ট্রও বিষয়টি অনুধাবন করেছে। তারা এখন চায় না দক্ষিণ এশিয়ায় আইএসের উত্থান ঘটুক।

এ ছাড়া জঙ্গীদের বিরুদ্ধে শেখ হাসিনা যেভাবে কার্যক্রম চালাচ্ছেন তা সারা বিশ্বে প্রশংসিত হয়েছে। পাশ্চাত্য শেখ হাসিনাকে পছন্দ না করলেও নিজ স্বার্থে এই সরকারকে মেনে নিয়েছে। সুতরাং নির্দ্বিধায় বলতে পারি, শেখ হাসিনা আপাতত যে কৌশল নিয়েছেন তার সুফল পাচ্ছেন। কিন্তু, আওয়ামী লীগের প্রতি কেন সবাই সন্তুষ্ট নয়। কারণ, আওয়ামী লীগের নেতারা বিভিন্ন এলাকায় জামায়াত ও বিএনপির অপরাধীদের দলে নিচ্ছেন এবং সাংগঠনিকভাবে এদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়া যাচ্ছে না। এদের ধারণা, এই সব অপরাধী বা হেজাবিরা তাদের ভোট দেবে। জনাব মুহিতের ভাষায় এদের এডুকেটেড বা পলিটিক্যাল ‘ইডিয়ট’ বলতে হয়। এটা কি সম্ভব যারা পাকিস্তান ভেঙ্গেছে তাদের পাকিস্তানপন্থীরা ভোট দেবে? অন্যদিকে খালেদা-নিজামী ক্ষমতায় থাকতে আওয়ামী লীগারদের কখনও দলে নেয়নি, পিটিয়ে তাদের চৌদ্দ পুরুষের নাম ভুলিয়ে দিয়েছে।

আপাতদৃষ্টিতে মনে হবে, হেজাবিরা বুঝি পরাজিত হয়েছে। মোটেই নয়, তারা ফণা নামিয়ে সুযোগের অপেক্ষায় আছে মাত্র। ইন্টারনেটে তাদের অপপ্রচার চলছে মানসিক ক্ষেত্রে আধিপত্য বিস্তারের জন্য। সরকার কিছুই করতে পারছে না। আমাদের হত্যার জন্য নির্বিচারে প্রচার চলছে। যে সরকার প্রতিদিন বমাল জঙ্গীদের গ্রেফতার করছে, সে সরকার আমাদের হত্যায় যারা প্ররোচনা দিচ্ছে, মুরতাদ ঘোষণা করছে, তাদের চিহ্নিত করতে পারছে নাÑ এটি আমাদের বিশ্বাস করতে হবে?

মানসিক আধিপত্য বিস্তার করতে হলে শিক্ষা-সংস্কৃতির ওপর জোর দিতে হয়। শিক্ষা নিয়ে নানা হৈ-চৈ চলছে। পাসের হার সরকারকে উজ্জীবিত করছে। এক দশক পরে বোঝা যাবে শিক্ষার কী ক্ষতি হয়েছে, যখন দক্ষ মানব সম্পদ আমাদের হায়ার করতে হবে। ইতিহাস তুলে দেয়া হয়েছে পাকিস্তানের মতো। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস অনাদৃত। স্বয়ং শিক্ষা সচিব বলছেন, ইতিহাস না পড়ালেও চলে। এগুলো কি শেখ হাসিনার পক্ষে যাচ্ছে, না বিপক্ষে?

মাদ্রাসায় দেশবিরোধী শিক্ষা দেয়া হয়েছে। এমনকি সরকারী মাদ্রাসায়। প্রধানমন্ত্রীর না হয় সময় হয়নি, কিন্তু শিক্ষামন্ত্রী বা সচিবের কি সময় হয়নি ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক শামীম মোহাম্মদ আফজালের ২০০ পৃষ্ঠার ছাপানো রিপোর্টটি পড়ার? এ রিপোর্টের নাম ‘আলিয়া মাদ্রাসার পাঠ্যক্রম’। মাদ্রাসার শিক্ষা নিয়ে এতো ভালো রিপোর্ট এর আগে প্রকাশিত হয়নি। এটি নিয়ে পরে আলোচনা করা যাবে। আমি একটি উদাহরণ দিই।

মাদ্রাসা অনুমোদিত একটি বইয়ে জামায়াতে ইসলামী সম্পর্কে লেখা হয়েছেÑ

‘বাংলাদেশে ইসলামী রাজনীতিতে সর্বাধিক বড় রাজনৈতিক দল জামায়াতে ইসলামী। এ দলের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন সাইয়্যেদ আবুল আলা মওদুদী। তিনি তার লেখনীর মাধ্যমে ইসলামী রাজনীতিকে এ উপমহাদেশের মানুষের সামনে তুলে ধরতে প্রয়াস পেয়েছেন।

‘জামায়াতে ইসলামী রাজনৈতিক কার্যাবলী ছাড়াও সমাজসেবায় উল্লেখযোগ্য অবদান রেখেছে। বাংলাদেশে প্রাকৃতিক দুর্যোগে দুর্গত মানবতার পাশে সব সময়ই জামায়াতে ইসলামী এগিয়ে আসে। এদেশে ইসলামী অর্থনীতি চালুর প্রচেষ্টায় জামায়াতে ইসলামীর বলিষ্ঠ ভূমিকা মুখ্য। জামায়াতে ইসলামী শিক্ষা ক্ষেত্রে অনবদ্য অবদান রেখেছে। পুস্তক প্রকাশনা, ফোরকানিয়া মাদ্রাসার পাঠ্যক্রম ও পাঠ্যসূচি প্রভৃতি প্রণয়নে জামায়াতে ইসলামী পরিচালিত ইসলামিক এডুকেশন সোসাইটি বিশেষ অবদান রেখেছে।’ [পৃ.৬৫] অথচ, আদালত বারবার বলছে, জামায়াত একটি ক্রিমিনাল অর্গানাইজেশন। প্রধানমন্ত্রী বারবার বলছেন, জামায়াতকে কোন ছাড় দেয়া হবে না।

মাদ্রাসায় কিভাবে বিএনপির পক্ষে প্রচার চালানো হয়, তার আরেকটি উদাহরণ দিচ্ছিÑ

“আওয়ামী লীগ সরকার ১৯৭৫ সালে ইসলামিক ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠা করে। কিন্তু ইসলামপন্থী রাজনৈতিক দলগুলোকে কাজ করতে না দেওয়ায় ইসলামপন্থী দলগুলোর সঙ্গে তাদের সম্পর্ক বরাবরই তিক্ত ও বিদ্বেষপূর্ণ ছিল। বিএনপি সরকার মরহুম জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে ১৯৭২ সালের সংবিধানের মূল নীতি সংশোধন করে বিসমিল্লাহ সংযোজিত হয় এবং অন্যতম মূলনীতি ধর্ম-নিরপেক্ষতার পরিবর্তে আল্লাহর ওপর নির্ভরশীলতার কথা লিখিত হয়। বিএনপি সরকারের আমলে স্বায়ত্তশাসিত বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড চালু হয় এবং ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় আইন জাতীয় সংসদে পাস হয়। ইসলামভিত্তিক রাজনৈতিক দলের রাজনীতি স্বীকৃত হয়। বর্তমানে বাংলাদেশ সরকার পরিচালনা করছে চারদলীয় ঐক্যজোট। এ চারদলীয় ঐক্যজোটের অন্যতম দুটি দল হলো জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ঐক্যজোট। তাই বলা যায়, এ দেশে ইসলামকে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠাকরণের ক্ষেত্রে ইসলামী দলগুলো অনেক চড়াই-উতরাই পেরিয়ে সাফল্যের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছে। সময়ের বিবর্তনে এ দেশে হয়ত একদিন তওহীদের পতাকা উত্তোলিত হবে এমন ধারণা এ দেশের ইসলামপ্রিয় জনগণের।” [ পৃ. ৬৫]

বজ্র আঁটুনি ফসকা গেরো একেই বলা হয়।

শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ মধ্য আয়ের দেশের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। এ কৃতিত্ব অস্বীকার করার কোন উপায় নেই। এখন সরকারের ঝোঁক জিডিপি বৃদ্ধির দিকে। অন্য সব কিছু যেন গৌণ। জিডিপি বৃদ্ধির সুফল অন্তিমে সরকার বা দল পাবে না, যদি না শিক্ষা-সংস্কৃতিতেও সমান গুরুত্ব দেয়া হয়। কেননা শেখ হাসিনা জিডিপি বৃদ্ধি করলেন, কিন্তু দেশ চলে গেল মৌল জঙ্গীবাদী বা খালেদাদের হাতে, তাহলে কি লাভ হলো?” শিক্ষা সংস্কৃতি ও মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয় মানস জগতে আধিপত্য বিস্তারের জন্য কোন কর্মসূচীই তৈরি করতে পারেনি। রুটিন কাজেই তারা ব্যস্ত। মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ে প্রায় সময় বিতর্কিত ব্যক্তিদের সচিব করা হয়। এগুলো কেন হবে? জিডিপির সঙ্গে সঙ্গে শিক্ষা সংস্কৃতি মুক্তিযুদ্ধেও বিনিয়োগ করতে হবে। তাহলেই শেখ হাসিনা যেমন দেশটি চেয়েছেন, তাই হবে।

॥ ছয় ॥

আমি আগেই বলেছি, ধর্ম দিয়ে ধর্ম দুর্বৃত্তদের বিরুদ্ধে লিখতে চাইনি। কারণ, তা তাদের কৌশলে আত্মসমর্পণ। কিন্তু, আমি লিখতে বাধ্য হলাম প্রতিবাদ জানানোর জন্য।

আবদুল গাফফার চৌধুরীকে আমাদের অনেকে পছন্দ না করতে পারেন। কিন্তু এটি তো স্বীকার করতে হবে, গত ৬০ বছরে বাংলাদেশের খুব কম লেখকই জাতীয় ক্ষেত্রে তাঁর মতো অবদান রেখেছেন। অনেক রাজনীতিবিদ থেকে তাঁর অবদান এ ক্ষেত্রে কম নয়। এ দেশের প্রতিটি গণতান্ত্রিক সাংস্কৃতিক লড়াই, বাংলাদেশ অর্জনের লড়াইয়ে তিনি প্রথম কাতারের সৈনিক ছিলেন। তিনি বুদ্ধিবৃত্তিক সংগ্রামের প্রতীক। ধর্মের অজুহাত তুলে পাকিস্তান আমলের সঙ্গে কিছু দুবর্ৃৃত্ত তাকে হেনস্থা করবে এবং আমরা কেউ তার প্রতিবাদ করব না, তা হতে পারে না। আমরা প্রতিবাদ না করায় ধর্মের দুবর্ৃৃত্তায়ন বৃদ্ধি পাচ্ছে। ধর্মের দুর্বৃত্তায়ন রোধে সমঝোতা কোন কৌশল নয়। হেজাবিদের বিরুদ্ধে শেখ হাসিনা যে কৌশল নিয়েছিলেন, তাই ছিল সঠিক। কিন্তু, এটি স্পষ্ট হচ্ছে, অনেক ক্ষেত্রে তিনি নিয়ন্ত্রণ করতে পারছেন না বা যাদের নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব দিয়েছিলেন, তারা তা করছেন না।

সরকার কী করবে না করবে আমরা যেন তার ওপর নির্ভর না করি। ধর্মের দুর্বৃত্তায়নের মাধ্যমে হেজাবিরা এ কথা বলতে চাচ্ছে যে, ধর্মীয় ক্ষেত্রে তাদের বক্তব্যই সঠিক এবং সেটিতে গুরুত্ব না দিলে প্রাণনাশ থেকে শুরু করে নানা ধরনের হুমকি দেয়া হয়। আমাদের পরিষ্কারভাবে বলা উচিত, ইসলাম বা বাংলাদেশ হেজাবিদের লিজ দেয়া হয়নি। আমরা বাংলাদেশের পক্ষে ছিলাম। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে আমরা যা বলব সেটিই মানতে হবে। “পাকিস্তানপন্থী হেজাবিরা ৩০ লক্ষ শহীদের হত্যা ও ৬ লক্ষ নারীর অবমাননা সমর্থন করেছে ইসলামের নামে। সেই ইসলাম তারা আবার প্রতিষ্ঠিত করতে চাইবে এখানে তাতো হতে পারে না। তাদের প্রতিটি হুমকি রাজনৈতিকভাবে প্রতিরোধ করতে হবে। প্রতিরোধ না করার অর্থ তাদের প্রশ্রয় দেয়া। আওয়ামী লীগে চরম ডানপন্থা কী করতে পারে তার উদাহরণ খন্দকার মোশতাক। এরা দলে শক্তিশালী হয়ে উঠলে শেখ হাসিনাকে বিপর্যয়ের মুখে ঠেলে দেবেনÑ যারা সত্যিকারভাবে আওয়ামী লীগকে ভালবাসেন তারা এটি করতে দেবেন কিনা তাও সেইসব আওয়ামী লীগারদের অনুধাবন করতে হবে।”

আমাদের কাছে ইসলাম হচ্ছে ধর্মের মূলনীতি মানা এবং মানুষের কল্যাণের জন্য কাজ করা। এর বাইরে গোষ্ঠী দ্বন্দ্ব, ক্ষমতা দখল, হত্যার মাধ্যমে ইসলাম ‘প্রতিষ্ঠা’Ñ এসব দুর্বৃত্তায়ন। হেজাবিরা যে ইসলাম প্রবর্তন করতে চান, সেটি কোন্ ইসলাম? এ বিষয়ে আমাদের পরিষ্কার হতে হবে। ইসলামে ৭১টি ফিরকা পরস্পর পরস্পরের বিরোধী। তা হলে কোন্্ ফিরকার ইসলাম এ দেশে প্রবর্তন করতে চান? মূল ধর্মের বাইরে গেলেই এ প্রশ্ন আসবে এবং রক্তারক্তি বাড়বে।

ইসলাম একেক দেশে স্থানীয় সংস্কৃতির সঙ্গে মিশে একেক রূপ পেয়েছে। জাকার্তায় প্রবেশের মুখে দেখেছিলাম অর্জুনের রথের ভাস্কর্য। মারদেকা স্কোয়ারে স্মৃতিস্তম্ভ দেখিয়ে ইন্দোনেশীয় তরুণী বলছিলেন, এটি লিঙ্গের প্রতীক। বালি শহরে ঢোকার মুখে অর্জুনের সেই রথের ভাস্কর্য। পথে পথে ভাস্কর্যের কারখানা। ইন্দোনেশিয়ার জাতীয় প্রতীক গড়ুর। পৃথিবীর বৃহত্তম মুসলিম দেশ ইন্দোনেশিয়া। সেখানে তো সাধারণ মানুষ এগুলি নিয়ে প্রশ্ন ওঠায়নি। আমাদের দেশে মাজার জেয়ারত করা, পীর মানা ধর্মীয় সংস্কৃতির অঙ্গ। মক্কায় হজে গেলে যে পুস্তিকা ধরিয়ে দেয়া হয় সেখানে এসবকে বিদাআত ঘোষণা করা হয়েছে। শব-ই-বরাত, মিলাদও। বাঙালি মুসলমানরা সেগুলো মানবেন? কারণ, ইসলাম যখন মক্কা থেকে অগ্রসর হয়েছে, তখন প্রতিটি দেশের স্থানীয় সংস্কৃতির সঙ্গে তার সংমিশ্রণ হয়েছে। এটি মেনে নেয়া ভাল। আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী এ কথাই বলেছিলেন। স্থানীয় সংস্কৃতির সঙ্গে ধর্মের সংমিশ্রণ আল কায়েদা, তালেবান বা আইএস মানতে রাজি নয়। আরবেও সংমিশ্রণ ঘটেছিল। রসুল (সা.) সেটি মেনেছিলেন। এর বিরুদ্ধাচরণ করা কেন হবে? আরব ছাড়া অন্যান্য দেশের মুসলমানরা কী নামাজ পড়েন না, আল্লাহ রসুল মানেন না, হজ করেন না? তা হলে কেন অন্যদের এই অভিধা দেয়া হবে বিশেষ মতলব না থাকলে? এর ফলে কী হয়েছে, বাংলাদেশের মুসলমানদের তা ভেবে দেখতে বলব! তারা কি আরেকটি পাকিস্তান, আফগানিস্তান বা সিরিয়া-ইরাক বানাতে চান বাংলাদেশকে? ‘ইসলাম শেষ হয়ে গেল’Ñ এই হাহাকার না করে বিষয়টি ভেবে দেখতে বলব। আল্লাহ-রসুল (সা.) ইসলাম রক্ষার দায়িত্ব যারা ধর্মের দুর্বৃত্তায়নে যুক্ত, তাদের হাতে দেননি।

ধর্মের বিরুদ্ধে আমাদের কিছুই বলার নেই। কারণ, ধর্ম সাধারণের কল্যাণ কামনা করে। ধর্মের নামে ধর্মের দুর্বৃত্তায়ন আমরা চাই না। আজ যদি আমরা সঠিক ধর্ম পালন করতাম মুসলমান বা অন্য ধর্মাবলম্বী হিসেবে, তা হলে কি এতো দুর্নীতি হতো বাংলাদেশে [যা ধর্মবিরোধী], এতো রাজনৈতিক হানাহানি হতো ইসলাম নিয়ে [যা অধর্ম]?