মেঘলা, তাপমাত্রা ৩১.১ °C
 
২০ আগস্ট ২০১৭, ৫ ভাদ্র ১৪২৪, রবিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
সর্বশেষ

এলাকার উন্নয়নে ২০ কোটি টাকা করে পাচ্ছেন এমপিরা

প্রকাশিত : ৮ জুলাই ২০১৫

অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ গুরুত্বপূর্ণ পল্লী অবকাঠামো উন্নয়নসহ আটটি প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। এসব মাধ্যমে ৩০০ সংসদীয় আসনের মধ্যে সম্পূর্র্ণভাবে সিটি কর্পোরেশনের বাইরে ২৮৪ জন সংসদ সদস্যের (এমপি) সরকারী বরাদ্দ বাড়ানো হবে। প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নে মোট ব্যয় হবে ১০ হাজার ৫৫৩ কোটি ৪২ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারী তহবিল থেকে ৮ হাজার ৭০৯ কোটি ৮৪ লাখ টাকা, সংস্থার নিজস্ব তহবিল থেকে ৩৯৫ কোটি ২৬ লাখ টাকা এবং বৈদেশিক সহায়তা থেকে ১ হাজার ৪৪৮ কোটি ৩২ লাখ টাকা। মঙ্গলবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এ অনুমোদন দেয়া হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপার্সন শেখ হাসিনা। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। এ সময় উপস্থিত ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান, পরিকল্পনা সচিব মোহাম্মদ সফিকুল আযম, ভৌত অবকাঠামো বিভাগের সদস্য আরাস্তু খান এবং পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব কানিজ ফাতেমা প্রমুখ।

ব্রিফিংয়ের সময় পরিকল্পনামন্ত্রী জানান, জাতীয় সংসদ সদস্যদের জন্য বরাদ্দ বাড়িয়ে কাজ বুঝে নেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, টাকা বাড়িয়ে দেয়া হলো, কিন্তু পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় ও আইএমইডির (বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ) দায়িত্ব হবে কাজ বুঝে নেয়া। মঙ্গলবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠকে এ অনুশাসন দিয়েছেন তিনি। এ বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, এই টাকা এমপিরা সরাসরি হাতে পাবেন না। তারা তাদের এলাকার উন্নয়নে প্রকল্প প্রস্তাব করলে তার অনুকূলে অর্থ বরাদ্দ দেয়া হবে। প্রধানমন্ত্রী আর একটি অনুশাসন দিয়েছেন। সেটি হচ্ছে, ভারি যানবাহন যাতে গ্রামে ঢুকতে না পারে সেজন্য ব্যবস্থা নিতে হবে। কেননা রাস্তা নষ্ট করে এসব যানবাহন।

মন্ত্রী বলেন, বর্ডার ম্যানেজমেন্ট ইক্যুইপমেন্ট ফর বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ প্রকল্পের আওতায় বিজিবির জন্য জিএসপি মেশিন উইথ কলিগ পজিশন, থার্মাল ইমেজিং বাইনোকুলার, ফগার মেশিন, নাইট ভিশন গোগলস, স্যাটেলাইট ফোনসহ প্রয়োজনীয় লজিস্টিকস কেনা হবে। ফলে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ, মানবপাচার ও মাদক চোরাচালান কমে আসবে। তিনি আরও বলেন, বর্তমানে মাথাপিছু আয় ১ হাজার ৩০০ টাকা থেকে ৪ হাজার ১২৫ ডলারে নিয়ে যাওয়ার[জঞঋ নড়ড়শসধৎশ ংঃধৎঃ: }থএড়ইধপশ[জঞঋ নড়ড়শসধৎশ বহফ: }থএড়ইধপশ লক্ষ্যে কাজ করা হচ্ছে।

অনুমোদিত প্রকল্পগুলো হচ্ছে, উপজেলা ও ইউনিয়ন সড়কে দীর্ঘ সেতু নির্মাণ (২য় সংশোধিত) প্রকল্প, এর ব্যয় ২ হাজার ২৮৮ কোটি ৩০ লাখ টাকা। হাইটেক পার্কের জন্য মির্জাপুর ও মৌচাক স্টেশনের মধ্যবর্তী কালিয়াকৈর এ একটি বি ক্লাস স্টেশন নির্মাণ প্রকল্প, এর ব্যয় ৪৮ কোটি ৫৯ লাখ টাকা। ছয়টি নতুন জাহাজ ক্রয় প্রকল্প, এর ব্যয় ১ হাজার ৮৪৩ কোটি ৫৮ লাখ টাকা। জাতীয় সংসদ ভবনের পূর্ত কাজ, বৈদ্যুতিক ও যান্ত্রিক সিস্টেমের উন্নয়ন প্রকল্প, এর ব্যয় ১০৩ কোটি ৫২ লাখ টাকা। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে গুরুত্বপূর্ণ পল্লী অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প, এর ব্যয় ৬ হাজার ৭৬ কোটি ৪৪ লাখ টাকা। পুলিশ বিভাগের ১৯টি ইউনিটে ১৯টি অস্ত্রাগার নির্মাণ প্রকল্প, এর ব্যয় ৬১ কোটি ৯৪ লাখ টাকা। সীমান্ত এলাকায় বিজিবির ৬০টি বিওপি নির্মাণ প্রকল্প, এর ব্যয় ৮৩ কোটি ৫৫ লাখ টাকা। বর্ডার ম্যানেজমেন্ট ইক্যুপমেন্ট ফর বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (১ম সংশোধিত) প্রকল্প, ৪৭ কোটি ৫০ লাখ টাকা।

একনেক অনুষ্ঠান শেষে জানানো হয়, প্রত্যেকে সংসদ সদস্য পাবেন ২০ কোটি টাকা করে। আগে তারা পেতেন ১৫ কোটি টাকা করে এখন তা থেকে ৫ কোটি টাকা বাড়ছে। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে গুরুত্বপূর্ণ পল্লী অবকাঠামো উন্নয়ন (দ্বিতীয় পর্যায়) শীর্ষক একটি প্রকল্পের আওতায় আগামী চার বছরে এ বরাদ্দ দেয়া হবে।

সূত্র জানায়, এর আগে প্রথম পর্যায়ের প্রকল্পের অনুকূলে প্রত্যেক সংসদ সদস্য ১৫ কোটি টাকা বরাদ্দ পেয়েছিলেন। মূল্যস্ফীতি ও মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়ার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে এবার বরাদ্দ ৫ কোটি টাকা করে বাড়ানো হয়েছে। ২০১৯ সালের জুন নাগাদ অর্থাৎ বর্তমান সরকারের মেয়াদের শেষ পর্যন্ত প্রকল্পটি বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে। তবে প্রথম দফার প্রকল্প এখনও শেষ হয়নিÑ আগামী ডিসেম্বর পর্যন্ত মেয়াদ রয়েছে। সংসদ সদস্যদের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে প্রথম পর্যায়ে ২০১০ সালের ১০ মার্চ একনেক সভায় এ প্রকল্পটি অনুমোদন দেয়া হয়। এতে ব্যয় ধরা হয়েছিল ৪ হাজার ৬৯১ কোটি টাকা। আলোচ্য সময়ে সংসদ সদস্যরা এলাকার উন্নয়নে সময় মতো অর্থ পাননি বলে অভিযোগ উঠে। অনেক সময় অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের কাছে অনেকে ক্ষোভও প্রকাশ করেন। এ বিষয়ে একাধিক এমপি মনে করেন পুরাতন কিংবা নতুন প্রকল্পই হোক না কেন অর্থ ছাড়ের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। চলমান প্রকল্পে আমরা অনেক সংসদ সদস্য কোন টাকা পাইনি। উন্নয়নের জন্য গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পটি অর্থ সঙ্কট দূর করা জরুরী’।

এ প্রকল্পের আওতায় সারাদেশে উপজেলা পর্যায়ে ৪৬৫ দশমিক ৯১ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণের কথা রয়েছে। এছাড়া ইউনিয়ন পর্যায়ে ১ হাজার ৪৩০ দশমিক শূন্য ৭ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণ করা হবে। গ্রামের সড়ক উন্নয়ন ৬ হাজার ১৭৩ দশমিক ৫৫ কিলোমিটার। উপজেলা পর্যায়ে ১ হাজার ১০৯ দশমিক ৩২ মিটারের কালভার্ট নির্মিত হবে। গ্রাম ও ইউনিয়নে ১৪ হাজার ২৫৪ দশমিক ৩৯ মিটারের কালভার্ট নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে প্রকল্পটির আওতায়। তাছাড়া পল্লী সড়ক রক্ষণাবেক্ষণ করা হবে ৪ হাজার ৫৯৬ দশমিক ৯১ কিলোমিটার, ১১১টি পল্লী মার্কেট এবং ৬৪টি বোট ল্যান্ডিং ঘাট উন্নয়ন করা হবে।

প্রকাশিত : ৮ জুলাই ২০১৫

০৮/০৭/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

শেষের পাতা



শীর্ষ সংবাদ: