ঢাকা, বাংলাদেশ   সোমবার ২২ জুলাই ২০২৪, ৭ শ্রাবণ ১৪৩১

মির্জা ফখরুলের বিবৃতি

তারেককে গ্রেপ্তারের হুমকি গভীর চক্রান্তের অংশ

স্টাফ রিপোর্টার

প্রকাশিত: ০০:১৩, ১৪ জুন ২০২৪

তারেককে গ্রেপ্তারের হুমকি গভীর চক্রান্তের অংশ

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

বর্তমান সরকার চারদিক থেকে ব্যর্থ বলে মন্তব্য করে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, অশুভ উদ্দেশ্যে রাজনৈতিক বিরোধের ছায়াকে প্রলম্বিত রাখতে চায় এ সরকার। বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি এ মন্তব্য করেন। 
ফখরুল বলেন, সুশাসন ও ন্যায়বিচার থাকলে লুটেরা, টাকা পাচারকারী এবং ক্ষমতাঘনিষ্ঠ ঋণখেলাপিদের আইনের আওতায় শাস্তি হতো।

অথচ তারাই আজ দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। সরকার জনপীড়ক ও অত্যাচারী বিচারশূন্য প্রশাসন ও আইন বিভাগ দিয়ে গণতন্ত্রকামী নেতাকর্মীদের নিষ্ঠুরভাবে দমন করছে। যখন সরকারের ঘনিষ্ঠজনদের কলঙ্কিত দুর্নীতি প্রকাশ পাচ্ছে এবং দুর্নীতির মহামারিতে ক্ষমতার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বড় বড় কর্মকর্তাদের অভিনব দুর্নীতির সংবাদ ভাইরাল হচ্ছে তখন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারের হুমকি গভীর চক্রান্তের অংশ।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, বুধবার জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রী প্রশ্নোত্তর পর্বে তারেক রহমানসহ ২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় ১৫ জন সাজাপ্রাপ্ত আসামি পলাতক থাকার যে তথ্য সংসদে তুলে ধরেছেন সেটির প্রতিবাদ ও নিন্দা জানাচ্ছি। তিনি বলেন, ২১ আগস্টের বোমা হামলা মামলায় রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তারেক রহমানসহ বিএনপির কয়েকজন নেতাকে যুক্ত করা হয়েছে। এটি তারেক রহমানের ভাবমূর্তিকে বিনষ্ট করার একটি সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্র।

মির্জা ফখরুল বলেন, জাতীয়তাবাদী নেতৃত্বকে দুর্বল এবং গণতন্ত্রকে বিপন্ন করতে বর্তমান সরকার ২০০৯ সালে ক্ষমতা গ্রহণের পর ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় তারেক রহমানের নাম চার্জশিটে ঢোকানো হয় নিজেদের মতাদর্শের অবসরপ্রাপ্ত একজন কর্মকর্তাকে তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ দিয়ে। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার আগে ওয়ান-ইলেভেনের সরকারের সময়সহ দুই দফা তদন্ত ও চার্জশিটে তারেক রহমানের নাম না থাকার পরও তাঁকে জড়িত করা সম্পূর্ণরূপে আওয়ামী সরকারের চরম আক্রোশের বহির্প্রকাশ। 
ফখরুল বলেন, আওয়ামী লীগ দীর্ঘদিন ধরে সুপরিকল্পিতভাবে তারেক রহমানের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালিয়ে আসছে। আর সেজন্যই চক্রান্তমূলকভাবে ২১ আগস্টের মামলায় জড়িত করা হয়েছে তাঁকে।  দেশে আইনের শাসনের অনুপস্থিতিতে সত্যের জন্য, সম্মানের জন্য, আত্মমর্যাদার জন্য সুশীল ভদ্রলোকদের সমাজে টিকে থাকাকে অসম্ভব করে তোলা হয়েছে। স্বার্থান্ধতা, ঔদ্ধত্য, অসহিষ্ণুতা ও মহাদুর্নীতিকে পর্দার আড়ালে রেখে সরকার এখন তারেক রহমানকে নিয়ে বিষোদ্গার করছে। 
ফখরুল বলেন, জাতীয়তাবাদী শক্তির প্রতীক ও চলমান গণতান্ত্রিক আন্দোলনের প্রধান নেতা তারেক রহমানকে গ্রেপ্তারের হুমকি গণতন্ত্রকামী জনগণের বিরুদ্ধেই যুদ্ধ ঘোষণা বলে আমি মনে করি। তাই আমি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে গ্রেপ্তারের হুমকির নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।
প্রধানমন্ত্রী ভারতে গিয়ে শক্তি সঞ্চয় করে এসেছেন- রিজভী ॥ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারত সফরে গিয়ে শক্তি সঞ্চয় করে এসেছেন বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মুখপাত্র ও সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। বৃহস্পতিবার দুপুরে নয়াপল্টন বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন।
রিজভী বলেন, আমরা সুস্পষ্টভাবে বলতে চাই, জাতীয়তাবাদী শক্তির বিরুদ্ধে ক্রমাগত হুমকি কখনোই রাজনীতির ময়দান শান্ত, নিরাপদ ও সুখময় করবে না। মানুষ এ সরকারের শৃঙ্খল থেকে মুক্তির জন্য রুদ্ধশ্বাস অপেক্ষা করছে। এ মুক্তির আদর্শই হচ্ছে গণতন্ত্র।
রিজভী বলেন, তারেক রহমানের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিহিংসামূলক বক্তব্য প্রায়শই শোনা যায়। যখন তিনি দিশেহারা হয়ে পড়েন, তখনই ক্রোধ মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে। সরকার দেশের অর্থনীতির কাঠামো ভেঙে ফেলেছে। তাদের নানা অঙ্গীকার আজও সূর্যের আলো দেখেনি। ডলার সংকট অব্যাহত, জাতীয় রিজার্ভ তলানিতে চলে গেছে। ব্যাংকগুলো খালি করে আইন বহির্ভূতভাবে ক্ষমতাঘনিষ্ঠ ব্যক্তিরা বিপুল অর্থবিত্তের মালিক হয়েছেন। 
প্রস্তাবিত বাজেটের সমালোচনা করে রিজভী বলেন, এ বাজেটে সাধারণ করদাতা ও উদ্যোক্তাদের সুবিধা দেওয়া হয়নি। গরিবদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা হচ্ছে সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীতে বরাদ্দ বাড়ানো। কিন্তু সেটা করা হয়নি। এই সরকার লুটেরা ও টাকা পাচারকারীদের প্রতিনিধি।

×