ঢাকা, বাংলাদেশ   বৃহস্পতিবার ২০ জুন ২০২৪, ৬ আষাঢ় ১৪৩১

কৃষক দলের সমাবেশে ফখরুল

সরকার খালেদা জিয়াকে হত্যা করতে চায়

স্টাফ রিপোর্টার

প্রকাশিত: ০০:১৫, ৩ অক্টোবর ২০২৩

সরকার খালেদা জিয়াকে হত্যা করতে চায়

ফখরুল ইসলাম আলমগীর

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে সরকার হত্যা করতে চায় বলে মন্তব্য করেছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, গণতন্ত্রের আপোসহীন নেত্রী খালেদা জিয়াকে এই অনির্বাচিত ও অবৈধ সরকার হত্যা করতে চায়। সোমবার বিকেলে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে অনুষ্ঠিত কৃষক সমাবেশে এ মন্তব্য করেন তিনি। সরকারের পদত্যাগের এক দফা দাবি এবং খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে কৃষক সমাবেশের আয়োজন করে কৃষক দল।  নেতাকর্মীদের জেগে ওঠার আহ্বান জানিয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, রংপুরে একজন কৃষক নেতা ছিলেন। তিনি বলতেন, কোথায় আছেন বাহে সবাই, জেগে উঠুন। এবার জেগে ওঠার মধ্যদিয়ে এ সরকারকে পতন ঘটিয়ে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে হবে।
এ সময় কৃষক দলের সভাপতি হাসান জাফির তুহিনের সভাপতিত্বে সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ^র চন্দ্র রায়, ভাইস চেয়ারম্যান শাহজাহান ওমর, বরকত উল্লাহ বুলু, শামসুজ্জামান দুদু, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, খায়রুল কবির খোকন, ঢাকা মহানগর উত্তরের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক অধ্যাপক ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার, সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস সালাম প্রমুখ।
মির্জা ফখরুল বলেন, আজ দেশের মানুষ ক্ষোভে ফেটে পড়েছে। কারণ এ অবৈধ সরকার দেশনেত্রী খালেদা জিয়াকে গৃহবন্দি করে রেখেছে। তার মুক্তির বিষয়ে ভুল ব্যাখ্যা করে যাচ্ছে সরকার। এরা কাপুরুষ। এরা জানে খালেদা জিয়া সুস্থ হলে তাদের ক্ষমতার মসনদ ভেঙে পড়বে। বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘দেশের প্রথম নারী মুক্তিযোদ্ধা হলেন দেশনেত্রী খালেদা জিয়া। তারা তো মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেননি। তারা পাকিস্তানের সরকারের ভাতা খেয়েছিল। সরকার ২৫ হাজার কোটি টাকা লুট করতে সহযোগিতা করে। আর ২৫ হাজার টাকা ঋণ পরিশোধ করতে না পারা একজন কৃষকের কোমরে দড়ি বেঁধে নিয়ে যায় এমন মন্তব্য করে তিনি বলেন, এরা লুটেরাদের সরকার।

এরা টাকা পাচার করে কানাডায় বেগমপাড়া বানিয়েছে। এখন কৃষকদের পক্ষ থেকে বেঁচে থাকা কঠিন হয়ে পড়েছে। আমরা বলেছি, কৃষকদের ভর্তুকি দিতে হবে। কিন্তু তারা সব জায়গায় ভাগবাটোয়ারা করে নেয়। শ্রমিকরা তার ন্যায্যমূল্য পায় না। তারা কাউকে চাকরি দেয় না। চাকরি নিতে ২০ লাখ টাকা ঘুষ দিতে হয়। সমাবেশে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশে বলেন, আমার তো মনে হয়, কারও ২০ লাখ টাকার নিচে চাকরি হয়নি।’
খালেদা জিয়াকে কোনো সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না উল্লেখ করে ফখরুল বলেন, মিথ্যা প্রতারণা করে জনগণকে ভুল বুঝিয়ে, আইনের ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে তাকে বিনা চিকিৎসায় সরকার হত্যা করতে চায়। তারা যে কথাগুলো বলছেন, সেটার উদ্দেশ্য একটাই তারা আসলে কাপুরুষ-ভীতু। তারা জানে খালেদা জিয়া যদি সুস্থ হয়ে যান, আবার জনগণের মধ্যে ফিরে আসেন, তার ডাকে কোটি মানুষ রাস্তায় নেমে আসবে। তখন তারা ধ্বংস হয়ে যাবে। 
খালেদা জিয়া মুক্তিযুদ্ধের সময় ৯ মাস কারাগারে বন্দি ছিলেন উল্লেখ করে বিএনপির মহাসচিব বলেন, আমি সবসময় বলি বাংলাদেশের প্রথম নারী মুক্তিযোদ্ধা হচ্ছেন খালেদা জিয়া। এই কথা বললে তাদের (আওয়ামী লীগ নেতাদের) গায়ের মধ্যে আগুন জ্বলে। কারণ তারা তো মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে জড়িত ছিল না। তারা তো সেদিন পাকিস্তান সেনাবাহিনীর ভাতা খেয়েছিল। বাস্তব  কথা বলছি। অনেকের কষ্ট হতে পারে, কিন্তু কথাটা সত্য। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্তি এবং আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে দেশে ফিরিয়ে আনতে হবে।

×