ঢাকা, বাংলাদেশ   মঙ্গলবার ২১ মে ২০২৪, ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১

বেড়েছে চিকিৎসা ব্যয়

-

প্রকাশিত: ২০:৩২, ১৫ এপ্রিল ২০২৪

বেড়েছে চিকিৎসা ব্যয়

সম্পাদকীয়

বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবসে এবারের প্রতিপাদ্য ছিল ‘আমার স্বাস্থ্য, আমার অধিকার’ (মাই হেলথ, মাই রাইট)। বিশ্ব স্বাস্থ্য পরিসংখ্যান মতে, ইউনিভার্সাল হেলথ সার্ভিস কভারেজ সূচক ২০১০ সালে ৪৭ থেকে ২০২১ সালে উন্নীত হয়েছে ৬২-তে। দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলে মেডিক্যাল, ডাক্তার, নার্স এবং মিডওয়াইফদের গড় ঘনত্ব প্রতি ১০ হাজার জনের মধ্যে ২৮ দশমিক শূন্য ৫ এ দাঁড়িয়েছে। যা ২০১৫ সালের পর থেকে ৩০ দশমিক ৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

এই অঞ্চলে ২০০০  থেকে ২০২০ সালের মধ্যে মাতৃমৃত্যু হারের অনুপাত হ্রাস পেয়েছে ৬৮ দশমিক ৫ ভাগ। পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশু মৃত্যুহার ২০০০ সালে প্রতিহাজারে ৮৪ থেকে উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়ে ২০২১ সালে দাঁড়িয়েছে ২৯ জনে। ২০০০ সালে নবজাতকের মৃত্যুহার প্রতিহাজারে ৪১ জন থেকে  হ্রাস পেয়ে ২০২১ সালে দাঁড়িয়েছে ১৭ জন। এতে স্পষ্ট প্রতীয়মান হয় যে, দেশ চিকিৎসা ক্ষেত্রে যথেষ্ট উন্নতি লাভ করেছে। তবে এটাও অস্বীকার করার উপায় নেই যে, একই সঙ্গে বেড়েছে চিকিৎসা ব্যয়।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইউনিটের এক পরিসংখ্যান বলছে, স্বাস্থ্য খাতে সরকারের ব্যয়ের অংশ বছর বছর কমছে। বিপরীতে ব্যক্তির নিজস্ব ব্যয় দিন দিন বাড়ছে। বর্তমানে স্বাস্থ্য ব্যয়ের তিন-চতুর্থাংশ বহন করছেন রোগী নিজেই। দেশে অসংক্রামক রোগের কারণে অপরিণত মৃত্যুও বাড়ছে। দেশে যত মৃত্যু হয়, তার ১০ জনের মধ্যে ৭ জনই অসংক্রামক ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়ে মারা যাচ্ছেন। উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও ক্যান্সারসহ আরও কয়েকটি রোগে ৭০ শতাংশের বেশি মানুষ মারা যায়। এসব রোগে ৩০ থেকে ৭০ বছরের মধ্যে বেশি মৃত্যু হয়, যা বড় বাধা হতে পারে এসডিজি বাস্তবায়নে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার এক বৈশ্বিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশে চিকিৎসা ব্যয় মেটাতে গিয়ে ২৪ শতাংশ মানুষ বিপর্যয়মূলক ব্যয়ের মধ্যে পড়ছেন। চিকিৎসা করাতে গিয়ে প্রতিবছর ৬২ লাখের বেশি মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে চলে যাচ্ছে। স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইউনিটের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মাথাপিছু বার্ষিক স্বাস্থ্য ব্যয় ৫৪ মার্কিন ডলার। ১ ডলার ৮৪ দশমিক ৭৭ টাকা হিসেবে যা ৪ হাজার ৫৭৮ টাকা। ২০১৭ সালে তা ছিল ৩৭ মার্কিন ডলার এবং ২০১৪ সালে ছিল ৩৩ ডলার। অর্থাৎ প্রতিবছরই এ ব্যয় বাড়ছে। স্বাস্থ্য করনীতি আরোপের মাধ্যমে রাষ্ট্রের ও ব্যক্তির চিকিৎসা ব্যয় কমানো দারকার।

এক্ষেত্রে চিনিযুক্ত খাবার, পানীয়, বেভারেজ ও তামাকজাত দ্রব্যের ওপর উচ্চ হারে করারোপ করা জরুরি। একইসঙ্গে একটি স্বাস্থ্য করনীতি প্রণয়ন করতে হবে। চিনিযুক্ত খাবার, পানীয় ও তামাকজাত দ্রব্য ছাড়াও পরিবেশের ক্ষতি করে এমন যেকোনো কোম্পানি ও প্রতিষ্ঠানের ওপর পরিবেশ কর আরোপ করা প্রয়োজন। এখান থেকে উপার্জিত অর্থ জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশ বিপর্যয় রোধেও ব্যয় করা যেতে পারে।

এতে একদিকে পরিবেশ বিপর্যয়ের ঝুঁকি কমে আসবে, অন্যদিকে কমবে অসংক্রামক রোগীর সংখ্যা। চিকিৎসা সেবা অন্যতম মৌলিক অধিকার সত্ত্বেও অতিরিক্ত ব্যয়ের কারণে অনেকেই স্বাস্থ্য সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। তাই স্বাস্থ্য খাতে বাজেট বরাদ্দ বাড়ানোর পাশাপাশি ব্যক্তির চিকিৎসা ব্যয় কমাতে কার্যকরী উদ্যোগ নেওয়া সময়ের দাবি।

×