ঢাকা, বাংলাদেশ   শুক্রবার ০১ মার্চ ২০২৪, ১৭ ফাল্গুন ১৪৩০

মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে পদক্ষেপ

প্রকাশিত: ২০:৩০, ২ ডিসেম্বর ২০২৩

মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে পদক্ষেপ

সম্পাদকীয়

দেশের অর্থনীতিতে ডলার সংকট হৃাস পেতে শুরু করেছে। ইতোমধ্যে দুই দফায় কমেছে ডলারের দাম। সামনের দিনগুলোতে ডলারের সরবরাহ বাড়লে দাম আরও কমার আভাস পাওয়া যাচ্ছে। ডলারের দাম কমায় শক্তিশালী হচ্ছে টাকা। কেন্দ্রীয় ব্যাংকে বেড়েছে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর ডলার জমা রাখার হার। কমেছে বাণিজ্য ঘাটতি। বর্তমানে ব্যাংকগুলোতে বৈদেশিক দায় শোধের চাপও কিছু কম। বাণিজ্য ঘাটতি কমে আসায় রিজার্ভের ওপরও চাপ কমে এসেছে। মূল্যস্ফীতির লাগাম টেনে ধরতে বাংলাদেশ ব্যাংক নানা উদ্যোগ নিয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় ঋণের সুদহার আরও বাড়ানো হয়েছে। একই সঙ্গে চলমান ডলার সংকট কাটাতে ব্যাংক আমানতে প্রবাসীদের জন্য বিশেষ মুনাফা ঘোষণা করা হয়েছে। 
সংশ্লিষ্টদের মতে, বর্তমানে ডলার বাজারের যে চিত্র দেখা যাচ্ছে, সেটি প্রকৃত চিত্র নয়। এখন বাজারে ডলারের দাম বাড়ার যে প্রবণতা, এর যৌক্তিক কারণ নেই। উচ্চ মূল্যস্ফীতিসহ অভ্যন্তরীণ অর্থনীতিতে আজকের যে চক্রাকার সমস্যা তৈরি হয়েছে, তার অন্যতম কারণ দেশে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ঘাটতি। এতে ডলারের দাম বেড়েছে লাগামহীন। ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে ব্যবসা-বাণিজ্য, আর্থিক ভোগান্তির শিকার হচ্ছে ভোক্তা। এমন পরিস্থিতিতে ডলারের দাম কমে আসা দেশের অর্থনীতির জন্য সুখবর। ধারাবাহিকভাবে ডলারের দাম আরও কমলে ব্যবসা-বাণিজ্যে ডলার আতঙ্ক কমবে এবং এলসির গতি বাড়বে। এজন্য বৈদেশিক ঋণের ছাড়, রেমিটেন্স প্রবাহ বৃদ্ধি ও রপ্তানি আয়ে ধারাবাহিক গতিশীলতা ধরে রাখা আবশ্যক। একই সঙ্গে আমদানিতে বিলাস দ্রব্য কিংবা অপ্রয়োজনীয় আমদানি কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা চাই। 

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে জানা গেছে, বাণিজ্য ঘাটতি কমে আসায় বিদেশী ব্যাংকগুলোর কাছে বকেয়াও কমেছে। চলতি মাসে মূল্যস্ফীতি আট শতাংশে নামিয়ে আনার জন্য নেওয়া হয়েছে নানা পদক্ষেপ। সেগুলো ইতিবাচক দিকে যেতে শুরু করেছে। আর্থিক সূচকগুলোও ফিরছে ইতিবাচক ধারায়। চলতি মাসে আইএমএফের ঋণের দ্বিতীয় কিস্তি পাওয়ার সমূহ সম্ভাবনা রয়েছে। একইসঙ্গে রপ্তানি আয় ও রেমিটেন্সেও লেগেছে সুবাতাস। রেমিটেন্সে প্রবৃদ্ধির অব্যাহত ধারা দেশের অর্থনীতির চলতি সংকট কাটিয়ে উঠতে সহায়ক হচ্ছে। আসন্ন নির্বাচনের সময় অর্থনীতির গতিপথ ইতিবাচক না থাকলে, তা জনগণের মাঝে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

সেক্ষেত্রে যথাসময়েই ঘুরে দাঁড়াচ্ছে দেশের অর্থনীতি। ডলারের দাম হৃাস, অব্যাহত রেমিটেন্সের ধারা হয়তো আরও অনেক সুখবর নিয়ে আসবে আগামীতে। আইএমএফের দ্বিতীয় কিস্তির ঋণ ছাড়ও দেশের অর্থনীতির জন্য বড় একটা গ্রিন সিগন্যাল। এই ঋণ হাতে আসার পর বিশ্ব যেমন বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অবস্থা সম্পর্কে ভালো বার্তা পাবে, তেমনি সেটা রিজার্ভের নিরাপত্তার জন্যও হবে সহায়ক।

×