ঢাকা, বাংলাদেশ   শনিবার ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১১ ফাল্গুন ১৪৩০

বিজয়ের মাস

-

প্রকাশিত: ২০:২১, ৩০ নভেম্বর ২০২৩

বিজয়ের মাস

সম্পাদকীয়

ডিসেম্বর আমাদের জাতীয় ইতিহাসের উজ্জ্বলতম একটি মাস। এটি আমাদের বিজয়ের মাস। নয় মাসের সশস্ত্র রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধে গৌরবজনক বিজয় অর্জনের মধ্য দিয়ে স্বাধীন হয়েছে বাংলাদেশ। এই স্বাধীনতার জন্য জীবনবাজি রেখে হানাদার পাকিস্তানি সেনাবাহিনীকে তাড়িয়ে দেশকে শত্রুমুক্ত করার শপথ নিয়েছিল দেশের বীর সন্তান মুক্তিযোদ্ধারা। বিজয়ের মাসের সূচনার প্রথম দিনটিকে মুক্তিযোদ্ধা দিবস হিসেবে পালনের উদ্যোগ নেওয়া হয় কয়েক বছর আগে। দেশের প্রগতিশীল রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এই উদ্যোগ নেন। তবে সরকারিভাবে উদ্যোগ নেওয়া হয়নি এখন পর্যন্ত। একটা সময় গেছে যখন মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে সঠিক তথ্য ও ইতিহাস নতুন প্রজন্মকে জানানো হতো না। এজন্য বিভিন্ন কূটকৌশল অবলম্বন করা হয়েছিল।
একাত্তর সালে হয়েছে মুক্তিযুদ্ধ। স্বাধীন হয়েছে দেশ। সুদীর্ঘ আন্দোলন, সংগ্রামের পথ বেয়ে এমন এক সময় এসেছিল যেটা ছিল ঐ আন্দোলন-সংগ্রামের চূড়ান্ত পর্যায়। প্রাথমিক পর্যায়ের সূচনাপর্বের বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্যে সর্বাপেক্ষা গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হচ্ছে ভাষা আন্দোলন। ভাষা আন্দোলনের পর সংগ্রামের ধারাটি স্রোতের মতো বাহিত হয়ে পৌঁছেছিল একাত্তরে। এই পথের সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ আন্দোলনের মধ্যে রয়েছে ঐতিহাসিক ছয় দফা আন্দোলন।

এসব আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্যে রয়েছে এদেশের মানুষের বহু ত্যাগ, বহু অশ্রু, অনেক জীবনদানের ঘটনা। ছয় দফার আন্দোলনের সঙ্গে এক পর্যায়ে যুক্ত হয় এগারো দফার আন্দোলন। আসে ১৯৭০ সাল। সে বছর অনুষ্ঠিত হয় সাধারণ নির্বাচন। সে নির্বাচনে দেশের মানুষের বিপুল ভোটে আওয়ামী লীগের নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জনের ঘটনা ঘটে। তারপর আসে একাত্তরের মার্চ। ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ভাষণ এবং তাতে সুস্পষ্ট ঘোষণা- ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।’ এরপর ২৫ মার্চ। পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর সুপরিকল্পিত সশস্ত্র আক্রমণ, বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ঘোষণা। বঙ্গবন্ধুকে গ্রেফতার করে নিয়ে যাওয়া হলো পাকিস্তানে। পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর আক্রমণের সঙ্গে সঙ্গে শুরু হলো সশস্ত্র প্রতিরোধ, মুক্তিযুদ্ধ, স্বাধীনতার জন্য যুদ্ধ।
এই যুদ্ধে রুখে দাঁড়ায় এ দেশের বীর বাঙালি সন্তানরা। বীর মুক্তিযোদ্ধারা বঙ্গবন্ধুর আহ্বানে, তাঁর নামে হাতে তুলে নেন অস্ত্র। ঝাঁপিয়ে পড়েন দেশ থেকে শত্রু বিতাড়নের শপথ নিয়ে। নয় মাসের সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধে এক সাগর রক্তের বিনিময়ে এলো ডিসেম্বরের ১৬ তারিখ। নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ করে পাক হানাদাররা ঢাকা মহানগরীর রেসকোর্স তথা সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে। দেশ হলো শত্রুমুক্ত। নিরঙ্কুশ হলো স্বাধীনতা। অর্জিত হলো মহান বিজয়। এ মাসের প্রথম দিনটি মুক্তিযোদ্ধা দিবস হিসেবে পালনের যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল, সেটা দূরদর্শী সঠিক সিদ্ধান্ত।

আরও ব্যাপকভাবে সরকারী উদ্যোগে দিবসটি প্রতিবছর যথাযোগ্য মর্যাদায় পালন করার উদ্যোগ নেওয়া হোক। ব্যাপক উদ্যোগ নেওয়া হোক দেশব্যাপী মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিগুলো ধরে রাখার। মুক্তিযোদ্ধাদের সামগ্রিক কল্যাণ নিশ্চিত করতে নেওয়া হোক আরও নানা উদ্যোগ। বিজয়ের মাসের প্রথম দিনে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি আমাদের আন্তরিক শ্রদ্ধা, সম্মান ও অভিনন্দন। সুমহান বিজয় দিবস প্রতিবারের মতো এবারও সাড়ম্বরে হবে বলে প্রত্যাশা।

×